Home » রাজনীতি » অসহায় মানুষ – নির্যাতন, গুম, ক্রসফায়ার, হয়রানী, যৌনসন্ত্রাস

অসহায় মানুষ – নির্যাতন, গুম, ক্রসফায়ার, হয়রানী, যৌনসন্ত্রাস

আমাদের বুধবার প্রতিবেদন

stop-violence-1-রাজনীতি, মানবাধিকার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমাবনতির মধ্য দিয়ে পার হয়েছে মহাজোট সরকারের চার বছর। গত চার বছরে বিরোধী মতাবলম্বীদের যেমন কোন নিরাপত্তা ছিলো না তেমনি সাধারণ মানুষেরও কোনও নিরাপত্তা ছিল না। ক্ষমতাসীন দল তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির খুব সামান্যই বাস্তবায়ন করেছে।

রাজনৈতিক হয়রানী ও বিরোধীদের নির্যাতন ছাড়াও চার বছরের আলোচিত ও আতঙ্কিত বিষয় ছিলো গুম, গুপ্তহত্যা ও কথিত ক্রসফায়ার। একইসাথে সারা দেশে ভয়াবহ আকার ধারণ করে যৌনসন্ত্রাস। এই সময়ে আইন ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থাহীনতার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে একরের পর এক গণপিটুনীতে হত্যার ঘটণায়। অনেক স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রত্যক্ষ মদদে মানুষকে গণপিটুনীতে উৎসাহিত করা হয়েছে। আবার দলীয় বিবেচনায় দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী ও ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের দণ্ড মওকুফ করা হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে দেশের সর্বত্র দলীয় সন্ত্রাসীদের দাপটে সাধারণ মানুষ ছিলো অসহায়। নিরীহ মানুষের উপর পুলিশী সন্ত্রাসও চলেছে সমানতালে। সরকার বরাবরই থেকেছে পুলিশ ও দলীয় সন্ত্রাসীদের পক্ষে। এই সুযোগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পৌঁছেছে উদ্বেগের পর্যায়ে। প্রায় চার বছর ধরেই সংসদ থেকেছে বিরোধীদল বিহীন, সরকার পক্ষ হয়ে উঠেছে আরো অসহিষ্ণু।

২০০৯ সালের ২৫শে জানুয়ারি নবম জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হয়। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের চার বছরে একেরপর এক সংসদ অধিবেশন বর্জন করেছে বিএনপিসহ চারদলীয় জোটের এমপিরা। মূলত তাদের অনুপস্থিতিতে সংসদ ছিল নি®প্রাণ। বিরোধী দল বারবার এ সংসদকে অকার্যকর বলে অভিহিত করেছে। অপরদিকে সরকারি দল সংসদকে সবচেয়ে বেশি কার্যকর বলে দাবি জানিয়ে এসেছে। এই চার বছরে সংসদে অনেক গুরুত্বপূর্ন বিল পাশ হয়েছে বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতেই। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, সংসদকে কার্যকর করার ক্ষেত্রে সরকারের কোন উদ্যোগ ছিল না। সংসদে বিরোধী দলের উদ্দেশ্যে অশালীন ভাষা প্রয়োগের ঘটনা ঘটেছে একাধিকবার।

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকে এই সরকার রাজনৈতিক অরাজনৈতিক সবধরনের সংগঠনের কর্মকাণ্ডের উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে চলেছে। সরকার ইউটিউব, ফেসবুকের মতো সামাজিক মাধ্যমের উপরেও দফায় দফায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং বাংলাদেশে তা দেখা বন্ধ করে দেয়। সরকারের অগণতান্ত্রিক ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী কর্মকান্ডের সমালোচকদের ওপরে দমনপীড়ন অব্যহত রয়েছে। এই দমনপীড়ন প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ছাড়াও তেলগ্যাসখনিজসম্পদসহ জাতীয় সম্পদ রক্ষায় সোচ্চার প্রতিবাদী নাগরিকদের বিরুদ্ধেও চলেছে। নিপীড়ন চলছে নিজেদের ভূমি দখলের বিরুদ্ধে সোচ্চার আড়িয়াল বিল, রূপগঞ্জ এবং বাগেরহাটের রামপালের জনগণের বিরুদ্ধেও। পানি, গ্যাসবিদ্যুত সংকটে নাজেহাল মানুষ এর সুরাহার জন্য ন্যায়সঙ্গত দাবিদাওয়া নিয়ে রাস্তায় নেমে চরম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। নারী নির্যাতনের প্রতিবাদে আয়োজিত সচেতন নারীদের সভাসমাবেশ এবং মিছিলেও দমনপীড়ন চলেছে। র‌্যাবের নির্যাতনে পঙ্গুত্ববরণকারী কলেজ ছাত্র লিমনের প্রতি সমব্যথীদের প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের উপরও চালানো হয়েছে হামলা নির্যাতন। বিরোধী রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি পালনে পুলিশী বাধা এবং নির্যাতন ছিল স্বাভাবিক রুটিনের আওতায়। বিরোধী দলের একটি হরতাল কর্মসূচি চলাকালে জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় চীফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুকের উপর রাজপথে অকথ্য পুলিশী নির্যাতন চালানো হয়। সরকার বারাবরের মত পুলিশের পক্ষেই অবস্থান নেয়। ঢাকা সিটি করপোরেশন ভাগের প্রতিবাদে বিএনপি আহুত হরতাল চলাকালে পুলিশী হেফাজতে সরকার দলীয় কর্মীদের অস্ত্রাঘাতে আহত হন বিদায়ী মেয়র সাদেক হোসেন খোকা। এর বাইরে বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের গণগ্রেফতার ও ভ্রাম্যমান আদালতের নামে গণসাজার প্রক্রিয়া ছিল আলোচিত। রাজনৈতিক দলের বাইরে তেলগ্যাস সম্পদ ও বিদ্যুতবন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির কর্মসূচিতে পুলিশী আক্রমণ চলেছে ধারাবাহিকভাবে। তেল গ্যাস সম্পদ রক্ষা কমিটির সমাবেশে হামলা চালিয়ে তারা অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মোহাম্মদের উপরে হামলা চালায় এবং তার পা ভেঙে দেয়। সরকার বিরোধী বক্তব্য আসতে পারে এমন কোন দল ,গোষ্ঠি বা ব্যক্তিকে রাস্তায় দাঁড়াতেই দেয়া হয়নি। তবে ক্ষমতাসীন দল ও তার অঙ্গসহযোগী সংগঠনের সব ধরনের কার্যক্রম চলেছে বাধাহীন ভাবেই আইন শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর সহযোগিতায় ‘সফল’ হয়েছে।

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে গত চার বছর রাজনৈতিক সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। রাজনৈতিক এই সহিংসতা নতুন মাত্রা পায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিলের মধ্য দিয়ে। উচ্চ আদালতের রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হলেও আরো দুই মেয়াদে এই ব্যবস্থায় নির্বাচন করা যেতে পারে বলে আদলত মত দেন। দেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজ আরো দুই মেয়াদে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান নেন। কিন্ত কোন মতামতকে গ্রাহ্য না করে সরকার এই ব্যবস্থা বাতিল করে দেয়। যা প্রধান দুই দলের রাজনৈতিক সংঘাতকে আরো বাড়িয়ে তুলেছে।

একাধিক মানবধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত চার বছরে ১৩৮৪৯ জন হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। অপহৃত হয়েছেন ১৩৪৩, গুম হয়েছেন ১১৩ ও ক্রসফায়ারে মারা পড়েছে ৪৯৫ জন মানুষ। এ সময়কালে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ৭৭৫ জন।

চার বছরে ৪৯৫ জন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। র‌্যাব ও পুলিশ সহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন সংস্থার গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন তারা। মানবাধিকার সংস্থার তথ্যমতে ২০০৯ সালে ১৫৪ জন, ২০১০ সালে ১৬৫ জন ক্রসফায়ারে মারা যান। ২০১১ সালে ৮৫ ও সবশের্ষ ২০১২ সালে ৯১ জন নিহত হয়েছেন।

বিদায়ী বছরের শেষ মাসে গত ৯ই ডিসেম্বর বিরোধী দলের অবরোধ কর্মসূচির দিন পুরান ঢাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ কর্মীরা প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করে বিশ্বজিতকে। আলোচিত এ হত্যার ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘হামলাকারীরা ছাত্রলীগের কেউ না’ বলে দাবি করলেও গ্রেপ্তার হওয়া সাতজন নিজেদের ছাত্রলীগ কর্মী বলে দাবি করেছে। কিন্তু পরক্ষর্তীকালে সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত ছবিই স্পষ্ট করে দেখিয়ে দিয়েছে আসলে ছাত্রলীগই এই ঘটনার জন্য দায়ী।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে থাকাকালে ক্রসফায়ারের কঠোর বিরোধিতা করলেও ক্ষমতায় এসে তা সমর্থন করে। গত চার বছর ধরেই প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের দায়িত্বশীল মন্ত্রীরা কখনো ক্রসফায়ারের পক্ষে আবার কখনো ক্রসফায়ার হচ্ছে না বলে বক্তব্য দিয়েছেন। ক্রসফায়ারের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নামে অপহরণ ও গুমের ঘটনা শুরু হয় ২০১০ সাল থেকে। যা ২০১১ সাল পর্যন্ত এসে জনমনের আতঙ্ককে চরম পর্যায়ে নিয়ে যায়। যা চলেছে ২০১২ সাল জুড়ে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে ওঠা অসংখ্য অপহরণ ও গুপ্ত হত্যার সাথে কারা জড়িত তার একটিরও কোন সুরহা হচ্ছে না। কিন্তু এটা সবাই জানেন যে, আসলে কারা এর পৃষ্ঠপোষক। আতংকের শেষ সীমায় চলে যাওয়া এই পরিস্থিতির জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করার বদলে সরকারের পক্ষ থেকে দায়ী করা হয়েছে বিরোধীদলকে। মানবাধিকার সংস্থার তথ্যমতে ২০০৯ সালে ১৫৪ জন, ২০১০ সালে ১৬৫ জন ক্রসফায়ারে মারা যান। ২০১১ সালে ৮৫ ও সবশের্ষ ২০১২ সালে ৯১ জন নিহত হয়েছেন।

বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার দলীয় বিবেচনায় খুনের আসামি থেকে শুরু করে নানা অপকর্মের সঙ্গে যুক্তদের দায়মুক্তির সংস্কৃতি চর্চা করেছে। রাজনৈতিক বিবেচনায় হাজার হাজার দলীয় নেতা কর্মীর মামলা প্রত্যাহার ছাড়াও মওকুফ করা হয়েছে খুনীদের ফাঁসির দণ্ডাদেশ। একই সাথে গত বছরের ১৪ই ডিসেম্বর গাজীপুরের কাশিমপুর২ কারাগার থেকে গোপনে মুক্তি পায় শীর্ষ সন্ত্রাসী বিকাশ কুমার বিশ্বাস। এ সরকারের আমলেই রাজনৈতিক বিবেচনায় ৭ হাজার ১শ’ জন আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীর নাম বিভিন্ন মামলা থেকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। চাঞ্চল্যকর তিনটি হত্যা মামলার ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ২৩ আসামিকে দণ্ডাদেশ মওকুফ করে দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি।

রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক এখতিয়ারকে ব্যবহার করে নাটোরের চাঞ্চল্যকর গামা হত্যা মামলায় ২০ ফাঁসির আসামিকে ক্ষমা করে দেয়া হয়। ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে লক্ষ্মীপুরে অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম হত্যা মামলার ফাঁসির আসামি দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী বিপ্লবকে। জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও আইনজীবী আবদুর রাজ্জাক হত্যা মামলার ফাঁসির আসামি উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আহসান হাবীব ওরফে টিটুকেও ক্ষমা করে দেয়া হয়। ২০১০এর সেপ্টেম্বরে গামা হত্যাকারীরা মুক্তি পাওয়ার কয়েক সপ্তাহ পরে নাটোরেই প্রকাশ্য দিবালোকে ক্ষমতাসীনরা পিটিয়ে হত্যা করে স্থানীয় বিএনপি নেতা ও উপজেলা চেয়ারম্যান সানাউল্লাহ নূর বাবুকে।

খুনের আসামি থেকে শুরু করে নানা অপকর্মের সঙ্গে যুক্তদের দায়মুক্তির ফলে মানুষ আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও বিচার ব্যবস্থার ওপর অনেকটা আস্থা হারিয়ে ফেলে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় বেপরোয়া গণপিটুনীর মধ্য দিয়ে তারই প্রতিফলন লক্ষ্য করা যায়। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হিসাব অনুযায়ী গত চার বছরে দেশে গণপিটুনিতে পাঁচ শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। একদিকে মানুষ আইনের শাসন বঞ্চিত হয়েছে অন্যদিকে আইন হাতে তুলে নিয়েছে। এমনও অভিযোগ আছে যে, প্রশাসন ও প্রভাবশালীদের কেউ কেউ গণপিটুনিকে হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহার করছে। কোনো হত্যাকান্ডের আগে ‘গণপিটুনি’ শব্দটি ব্যবহার হলেই তার আর বিচার হবে না এমন ধারণা এখন প্রতিষ্ঠিত। সাভারের আমিনবাজারে গণপিটুনিতে ৬ ছাত্র হত্যাসহ বিভিন্ন স্থানে গণপিটুনীর ঘটনায় পুলিশের প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকার প্রমান পাওয়ার পর বিচার ব্যবস্থা ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার গ্রহণযোগ্যতার বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। সংবিধান অনুযায়ী আইনের আশ্রয় লাভ, আইন অনুযায়ী ব্যবহার লাভ, বিচার লাভ, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ লাভ অপরাধীনিরপরাধী নির্বিশেষে সব নাগরিকের অধিকার। কিন্তু রাষ্ট্র ও প্রশাসন থেকে নাগরিকের এই অধিকার সংরক্ষণ করা হয়নি।

গত চার বছরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমাগত অবনতিতে মানুষের মধ্যে উদ্বেগউৎকণ্ঠা বেড়েছে। ডাকাতিদস্যুতাসহ অন্যান্য সন্ত্রাসী কর্মকান্ড সন্ত্রাস ও নির্যাতনের শিকার সাধারণ মানুষের আইনি আশ্রয় লাভের অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। একের পর এক অপরাধ কর্মকান্ডের পর সরকারের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে বলে নিরন্তর দাবি করা হয়েছে। গত চার বছরে আলোচিত ঘটনা সাংবাদিক দম্পতি সাগররুনি হত্যাকাণ্ড, বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর গুম, শ্রমিক নেতা আমিনুল ও সৌদি কূটনীতিক খালাফ হত্যা, ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনের পিস্তলের গুলিতে যুবলীগ নেতা ইব্রাহিম খুন, নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলা চেয়ারম্যান সানাউল্লাহ নুর বাবুকে পুলিশের সামনেই পিটিয়ে হত্যা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মেধাবী ছাত্র আবু বকর হত্যা, নরসিংদীর পৌর মেয়র লোকমান হত্যা, যশোরের ঝিকরগাছা বিএনপির সভাপতি নাজমুল ইসলাম হত্যা, আমিনবাজারে পুলিশের মদদে ছয় ছাত্রকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যাকাণ্ড এবং গত বছরের ২৯শে সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের রামুর বৌদ্ধবিহার ও বসতিতে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা।

এছাড়া ২০১০ সালের ২৩ই মার্চ ঝালকাঠির রাজাপুরে র‌্যাবের গুলিতে কলেজছাত্র লিমন হোসেন আহত ও পঙ্গু হয়। ২০১১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবদুল কাদেরকে ধরে নিয়ে খিলগাঁও থানায় আটক রেখে নির্যাতন কওে মিথ্যা মামলা দেয় পুলিশ।

বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে হত্যা, সন্ত্রাস ও অপরাধ কর্মকান্ডের উৎসব শুরু হয়। একের পর এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যেতে থাকে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ, রাজশাহী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী মেডিকেল কলেজসহ দেশের কমপক্ষে ৩৫টি বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নানা সময়ে বিভিন্ন মেয়াদে বন্ধ হয়ে যায়। ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর, জগন্নাথ, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ, ঢাকা পলিটেকনিকসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্ত্রাসসংঘর্ষ ছিল নিয়মিত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা একজন ছাত্রকে ছাদ থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করেছে। গত ৯ জানুয়ারি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র জুবায়ের আহমেদ ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে নিহত হন। গত ৮ ফেব্র“য়ারি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগছাত্রশিবিরের সংঘর্ষে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ছাত্র মোহাম্মদ মুজাহিদ ও ইংরেজি বিভাগের ছাত্র মাসুদ বিন হাবিব নিহত হন। গত ৮ জুলাই রাতে সিলেটের প্রাচীনতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি এমসি কলেজের হোস্টেলে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গত ২ অক্টোবর ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হন।

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর হঠাৎ করেই দেশব্যাপী যৌন সন্ত্রাস ভয়াবহ রূপ লাভ করে। সরকার সমর্থক বা কোন না কোন ভাবে সরকার দলের সাথে সম্পৃক্তরাই এর সাথে জড়িত হয়ে পড়ে। যৌন সন্ত্রাসের কারণে শুধু নারী ও কিশোরীরাই নয় প্রাণ দিয়েছেন শিক্ষক ও অভিভাবক পর্যন্ত। যৌন উৎপীড়ক সন্ত্রাসীরা এতটাই বেপরোয়া হয়ে ওঠে যে, তাদের হাতে জীবন দিতে হয় বহু প্রতিবাদকারীকে। অধিকারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১২ সালে ৯ শতাধিক ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ২০১১ সালে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৭১১ জন। ২০১০ সালে ৫৫৬ জন ধর্ষণের শিকার হয়।

গত চার বছরে পাহাড়ী মানুষের উদ্বেগ পৌঁছেছে চরমে। এই সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটির বিভিন্ন এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে খুন হয়েছে শতাধিক।।