Home » অর্থনীতি » কোন সুখবর নেই অর্থনীতিতে

কোন সুখবর নেই অর্থনীতিতে

আমাদের বুধবার প্রতিবেদন

unstable-economy-1-চার বছর ধরে অর্থনীতিতে টালমাটাল অবস্থা বিরাজ করছে। কমে গেছে বিনিয়োগসহ রফতানি আয়। মূল্যস্ফীতির চাপে মানুষের অবস্থা হয়েছে সঙ্গীন। দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতির কারণে ভোগান্তিতে পড়ছে মধ্যবিত্তরাও। মূল্যস্ফীতি শহরের তুলনায় গ্রামে আরও বেশি। কাক্সিক্ষত বিনিয়োগ না হওয়ায় কর্মসংস্থানও বাড়েনি। সুশাসন না থাকা ও সরকারের অযাচিত ঋণ নেয়ায় ব্যাংক খাতে সৃষ্টি হয়েছে অস্থিরতা। এর সঙ্গে রয়েছে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট। দাম বাড়ানো হচ্ছে অপরিকল্পিতভাবে। এরই মধ্যে বর্তমান সরকারের আমলে পাঁচবার জ্বালানি এবং ছয়বার বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। প্রথম খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ৬ দশমিক ৭ শতাংশ বাড়ানো হয় ২০১০ সালের ১ মার্চ। এরপর ২০১১ সালের ১ ডিসেম্বরে পাইকারি পর্যায়ে বাড়ানো হয় ১১ শতাংশ ও খুচরাপর্যায়ে ৫ শতাংশ। একই বছরের ১ আগস্টে এসে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ে ৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ। এর মাত্র চার মাস পর ২০১১ সালের ১ ডিসেম্বরে পাইকারি পর্যায়ে বাড়ানো হয় ১৬.৭৯ শতাংশ আর খুচরাপর্যায়ে বাড়ে ১৩.২৫ শতাংশ। এ সরকারের আমলে ষষ্ঠবারের মতো বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয় ২০১২ সালের ১ সেপ্টেম্বর। তখন পাইকারি পর্যায়ে বাড়ে ১৬.৯২ শতাংশ ও খুচরাপর্যায়ে ১৫ শতাংশ। আর এখন সপ্তমবারের মতো বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর জন্য সরকার তৈরি হচ্ছে বলে খবর রয়েছে।

শুধু ২০১১ সালেই তেলের দাম বাড়ানো হলো চারবার। অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, এ সময়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো ঠিক হয়নি এবং এই দাম বাড়ানোর কোনো দরকার ছিল না। তাদের মতে, নির্বাচনী বছরে বাজেটের ওপর চাপ কমাতে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারের ভাষ্য, বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যের সাথে অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি তেলের বিক্রয়মূল্যের মধ্যে ব্যবধান কমিয়ে আনতে সরকার তেলের দাম বাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯২৯৫ ডলারের মধ্যে। গত এক বছরে এই দর ছিল ব্যারেলপ্রতি ১০০ থেকে ১২০ ডলারের মধ্যে। গবেষণা সংস্থাগুলো আশা করছে, আগামী এক বছর এ দর ১০৭ ডলারের মধ্যে থাকবে। এমনি পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলে দাম বাড়ানোর যুক্তি নেই বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। তারা মনে করছেন, আগামী গরমের মৌসুমে উচ্চমূল্যের রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র চালাতে যে বাড়তি তেলের অর্থ লাগবে তা জোগাড় করতেই সরকারের তেলের দাম বাড়ানোর এই আয়োজন। তা ছাড়া দেশে তেলের দামের ভর্তুকির চাপ কমানোর ব্যাপারে আইএমএফের চাপটাও অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। আইএমএফের চাপ রয়েছে কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎব্যবস্থা চালু রাখার ব্যাপারে। এই দাম বাড়ানোর নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া এরই মধ্যে আসতে শুরু করেছে। কৃষকেরা বলছেন, আগামী সেচ মৌসুমে তেলের দাম বাড়ায় সেচ খরচ বেড়ে যাবে। বাড়বে ধানের উৎপাদন খরচ। এমনিতেই ধানের উৎপাদন খরচ এখনো বিক্রিদামের চেয়ে বেশি হওয়ায় কৃষক মহাবিপদে। তা ছাড়া এর ফলে যানবাহনের ভাড়া স্বাভাবিকভাবেই আরেক দফা বাড়ানোর প্রতিযোগিতা চলবে।

ইশতেহারের ১.১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘দ্রব্যমূল্যের দুঃসহ চাপ প্রশমনের লক্ষ্যে চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম কমিয়ে জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে স্থিতিশীল রাখার ব্যবস্থা করা হবে। দেশজ উত্পাদন বৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সময়মতো আমদানির সুবন্দোবস্ত, বাজার পর্যবেক্ষণসহ বহুমুখী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মজুতদারি ও মুনাফাখোরি সিন্ডিকেট ভেঙে দেয়া হবে, চাঁদাবাজি বন্ধ করা হবে। ‘ভোক্তাদের স্বার্থে ভোগ্যপণ্য মূল্য নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ’ গড়ে তোলা হবে। সর্বোপরি সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য সৃষ্টি করে দ্রব্যমূল্য কমানো হবে ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করা হবে।’ সরকারের চার বছর মেয়াদের শেষে এসে দেখা যাচ্ছে, খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়ায় জনজীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে। জীবনধারণের জন্য যেটুকু প্রয়োজন, তা মেটাতে তারা হিমশিম খাচ্ছেন। বিলাসী সামগ্রীর ব্যবহার প্রায় ভুলতে বসেছেন। আয়ের সঙ্গে ভারসাম্য রাখতে গিয়ে নিত্য কাটছাঁট করতে হচ্ছে খাদ্যতালিকা। যদিও সরকারের মন্ত্রীরা বিভিন্ন সময়ে বলেছেন, দেশের মানুষ ভালো আছে, দিনে চারপাঁচ বেলা খাচ্ছে। অপরদিকে জাতীয় সংসদে কয়েকটি পণ্যের দাম বেড়ে দ্বিগুণ হওয়ার তথ্য দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। এদিকে দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতিও বেড়েছে। মহাজোট সরকারের চার বছরে মূল্যস্ফীতির হার প্রায়ই ওঠানামা করেছে। আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের সময় ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাসে দেশে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৬ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী ২০০৯১০ অর্থবছরে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৬ দশমিক ৮২ শতাংশ। ২০১০১১ অর্থবছরে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে দাঁড়ায় ১০ দশমিক ৯১ শতাংশ ও ২০১১১২ অর্থবছরে তা ছিল ৮ দশমিক ৬৯ শতাংশ।

ব্যবসায়বান্ধব ও দেশকে বিনিয়োগমুখী করার জন্য চাহিদামতো গ্যাস সরবরাহের বিষয়টিও নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু এ সরকারের আমলে বাসাবাড়ি ও শিল্পকারখানায় নতুন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ কার্যত বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আবাসন খাতের অনেক নির্মাণপ্রতিষ্ঠান তাদের নির্মিত ফ্ল্যাট বিক্রি করতে পারছে না। কারণ বিদ্যুৎগ্যাস সংযোগবিহীন ফ্ল্যাট কিনতে ক্রেতারা আগ্রহী হচ্ছেন না। এ দিকে নগরীর বিভিন্ন এলাকার আগে দেয়া গ্যাস সংযোগ পাওয়া বাসাবাড়ি ও ব্যবসায়প্রতিষ্ঠানেও চাহিদামতো গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে না।পাশাপাশি আর্থিক খাতে দেখা দিচ্ছে নতুন নতুন সমস্যা।

ব্যাংক ঋণের সুদের হার বেড়ে গেছে। তারল্য সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সরকারি ব্যাংকগুলোর লুটপাট। এক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। ২০১২ সালের আলোচিত নজিরবিহীন হলমার্ক ও ডেসটিনির মতো কেলেংকারি পুরো আর্থিক খাতকে ঝুঁকিতে ফেলেছে। যার বিরূপ প্রভাব পড়েছে উদ্যোক্তাদের ওপরও। ঋণ আদায় করতে না পারায় বড় অংকের নিরাপত্তা সঞ্চয় সংরক্ষণ, শেয়ারবাজারে দরপতন, নিত্যপণ্য আমদানির অর্থায়নের টাকা আটকে পড়া, শিল্প ও ব্যবসা খাতের মন্দা, আমানত সংগ্রহে অসুস্থ প্রতিযোগিতা এবং নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ না থাকায় চ্যালেঞ্জে রয়েছে ব্যাংকগুলো। এদিকে কমতে শুরু করেছে সঞ্চয়, বিনিয়োগ ও রফতানি আয়। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে অর্থনীতিতে। ফলে সংকুচিত হয়ে পড়ছে দেশের ব্যবসাবাণিজ্য। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। অর্থবছরের শেষ সময়ে তাড়াহুড়া করে অর্থের অপচয় এবং দুর্নীতির খবরই প্রাধান্য পেয়েছে।

গত চার বছরে সরকারের ভুল নীতির কারণে অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি স্বাভাবিক ছিল না। পাশাপাশি দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয়ায় দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্লান্টে কোটি কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে গিয়ে অর্থনীতিকে সংকুচিত করা হয়েছে, চাপ বেড়েছে বাজেটে। একইভাবে ব্যাংক খাতে সুশাসন নষ্ট করা হয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করা হয়েছে। কাক্সিক্ষত প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হয়নি। এদিকে বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতার ক্ষেত্রে ১০ ধাপ পিছিয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। ১৪৪টি দেশের মধ্যে ২০১১ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ১১৮তম। ২০১০ সালে এই অবস্থান ছিল ১০৮তম। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের রিপোর্টে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০১১ সালে বাংলাদেশে সবচেয়ে বিপর্যয় হয়েছে আর্থিক খাতে। এ খাতে ভর্তুকি ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম, দুর্নীতি, ব্যাংকিং খাতে দুর্বল নজরদারির কারণে এ খাত বিপর্যস্ত হয়েছে। ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে কাক্সিক্ষত হারে শিল্প ঋণের জোগান পাওয়া যায়নি। এছাড়াও মূল্যস্ফীতি এবং উচ্চ সুদের কারণে ব্যবসাবাণিজ্যের ব্যয় বেড়েছে। আর্থিক খাতে দক্ষতার অভাব রয়েছে। এদিকে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে। এডিবি বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে সর্বশেষ ত্রৈমাসিক রিপোর্টে ওই পূর্বাভাস দিয়ে প্রত্যাশিত বিনিয়োগ না হওয়াকে এর মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সম্প্র্রতি বিশ্বব্যাংক পরিচালিত এক জরিপেও দেখা গেছে, দেশের ব্যবসাবাণিজ্যের পরিবেশ ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ব্যবসাবাণিজ্য সহজ করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ গত বছরের তুলনায় ৫ ধাপ পিছিয়ে গেছে। এমনকি বিদ্যুৎ সংযোগ পেতে সবচেয়ে খারাপ অবস্থার দেশ হয়েছে বাংলাদেশ। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান ১৮৫তম। পৃথিবীর ১৮৫টি দেশের ব্যবসাবাণিজ্য পরিবেশের ওপর বিশ্বব্যাংক ও এর অঙ্গ সংস্থা আইএফসির ‘ডুয়িং বিজনেস রিপোর্টে’ এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। একইভাবে আন্তর্জাতিক ঋণমান নির্ণয়কারী প্রতিষ্ঠান মুডিস মনে করে, নতুন গৃহীত পদক্ষেপগুলোর বাস্তবায়নের ঝুঁকি, রফতানিতে দুর্বল বিশ্ব প্রবৃদ্ধির প্রভাব, শ্রমিক অসন্তোষ ও ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে বিশৃংখলা অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে গ্যাসবিদ্যুতের সংযোগ দেয়া হয়নি। যাদের সংযোগ আছে তারা তীব্র লোডশেডিংয়ে পড়েছেন। গ্যাসও ঠিকমতো পাওয়া যাচ্ছে না। রেশনিং ও দিনের একটি সময় সিএনজি স্টেশন বন্ধ রেখেও পরিস্থিতির উন্নতি করতে পারেনি সরকার। বাসাবাড়িতে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া পুরোদমে এখনো শুরু হয়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্যাসবিদ্যুতের সংকটের কারণে শিল্পকারখানাগুলোতে উৎপাদন ক্ষমতার প্রায় ৩০ শতাংশ উৎপাদন করা সম্ভব হয়নি। এদিকে দফায় দফায় জ্বালানির দাম বাড়ায় উৎপাদন খরচ ও সরবরাহ খরচ বেড়ে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়তে হয়েছে। আন্তর্জাতিক মন্দার পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব ব্যয় বাড়ার কারণে ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা নিয়েছে। এতে ব্যাংকগুলোতে তারল্য সংকট দেখা দেয়। ফলে শিল্পোদ্যোক্তারা প্রয়োজনীয় ঋণ পায়নি। আবার কুইক রেন্টালের পেছনে কয়েক হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে গিয়ে আর্থিক খাতকে চাপের মধ্যে ফেলে দেয়া হয়েছে।

বিগত বছরগুলো পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ২০১০১১ অর্থবছরে জিডিপির ৬ দশমিক ৭ শতংশ ও রফতানি আয়ে ৪০ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু তার পরের অর্থাৎ ২০১১১২ অর্থবছরের একেবারে শেষ প্রান্তে এসে পুরো চিত্র পাল্টে যায়। অর্থনীতির প্রায় সব সূচক খারাপ অবস্থায় এসে দাঁড়ায়। ২০১২১৩ অর্থবছরে এসে একই অবস্থায় দাঁড়ায়। চলতি অর্থবছরের ৫ মাসে রফতানির যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল তা পূরণ হয়নি। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১১ দশমিক ৩৫ শতাংশ রফতানি কম হয়েছে। জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত রফতানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৯৯১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। কিন্তু রফতানি আয় হয়েছে ১ হাজার ৭৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিও কমে যাচ্ছে। এতে আমদানি খরচ কমে যাওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়লেও তা দেশের খুব বেশি উপকারে আসছে না। বৈদেশিক মুদ্রা উৎপাদনশীল খাতে ব্যবহার না হওয়ায় তা মূল্যস্ফীতিকেও অনেকাংশে উস্কে দিচ্ছে। অথচ সেই সঙ্গে তাল মিলিয়ে মজুরি না বাড়ায় মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। এ কারণে মূল্যস্ফীতিও রয়েছে সরকারের লক্ষ্যমাত্রা থেকে অনেক দূরে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে বার্ষিক গড় মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশ হবে বলে ধরা হয়েছিল। কিন্তু পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে অক্টোবরের তুলনায় নভেম্বরে দশমিক ২৮ শতাংশ হারে বেড়েছে খাদ্য মূল্যস্ফীতি। একইভাবে খাদ্য বহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতিও রয়েছে ডাবল ডিজিটে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষার তথ্য বিশ্লেষণ থেকে দেখা যায়, ২০০৬০৭ অর্থবছরে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড সব থেকে ভালো অবস্থানে পৌঁছেছিল। সে সময় মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার প্রথমবারের মতো ৬ দশমিক ৭ শতাংশ অর্জন করা সম্ভব হয়েছিল। এর ধারাবাহিকতায় পরবর্তী ক’বছরের মধ্যে বাংলাদেশের নিম্নআয়ের দেশ থেকে মধ্যম আয়ের সচ্ছল দেশে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছিল। বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক এবং দেশীয় উদ্যোক্তারাও এমনটাই মনে করছিল। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে এর পর থেকেই প্রবৃদ্ধির হার না বেড়ে বরং কমতে থাকে। ২০০৬ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো শিল্পখাতে (ম্যানুফ্যাকচারিং) ১০ দশমিক ৪৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছিল। ২০০১ অর্থবছরে এই খাতে প্রবৃদ্ধির হার ছিল সাড়ে ৪ শতাংশ, ২০০৯ অর্থবছরে ৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং ২০১০ অর্থবছরে তা নেমে আসে ৫ দশমিক ৯২ শতাংশে। ৫৬ বছর বছর আগে শিল্পখাতে ব্যাপকহারে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ আসতে শুরু করেছিল। সে সময়ে ধাবি গ্র“পের ১ বিলিয়ন, জ্বালানি খাতে ৫০০ মিলিয়ন, টেলিযোগাযোগ খাতে ৬০০ মিলিয়ন, আজিমাত কনসোর্টের ৯০০ মিলিয়ন, বেলহাসার ৭০ মিলিয়ন ডলারের সরাসরি বিনিয়োগ আসার অবস্থা তৈরি হয়েছিল। এছাড়াও বিভিন্ন বিদেশী কোম্পানির আরও প্রায় আড়াই বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব সরকারের বিবেচনার জন্য জমা ছিল। কিন্তু গেল কয়েক বছরে বিনিয়োগের গতি ছিল মন্থর। এমনকি সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ প্রস্তাবগুলো একে একে চলে গেছে। বিনিয়োগ বোর্ডের হিসাব অনুযায়ী, ২০১১ সালে ১৯৭৪টি প্রকল্পে দেশীবিদেশী মোট বিনিয়োগ নিবন্ধের পরিমাণ ছিল ১০৩১,০৭৫ মিলিয়ন টাকা। আর চলতি বছরে (অক্টোবর পর্যন্ত) ১৬০১টি প্রকল্পে মোট বিনিয়োগ নিবন্ধের পরিমাণ ৪৯৮,১৮৭ মিলিয়ন টাকা।

জানা গেছে, গ্যাস ও বিদ্যুতের অভাবে বর্তমানে প্রায় অর্ধেক মিলকারখানায় উৎপাদন কমেছে। পাঁচ বছর ধরে দেশে গ্যাস ও বিদ্যুতের অভাবে নতুন কোন কারখানা গড়ে ওঠেনি। বিদেশী বিনিয়োগ বর্তমানে স্বদেশে নেই বললেই চলে। অন্যদিকে সরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের চিত্র আরও করুণ। বেশির ভাগ রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান লোকসানে চলছে। বস্ত্র ও পাট এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা ৩৯ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩৪টিই লোকসানে চলছে। ১৩টি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। এসব প্রতিষ্ঠানের লোকসানের পরিমাণ ৪ হাজার কোটি টাকার মতো। দায়দেনার পরিমাণ সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকার ওপর। সম্প্র্রতি প্রকাশিত প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের সমীক্ষা প্রতিবেদন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। বর্তমান সরকারের সময় টাকার অবমূল্যায়ন হয়েছে রেকর্ড পরিমাণ। ২০১০ সালে ১ মার্কিন ডলারের দাম ছিল ৬৯ টাকা ৪৩ পয়সা, বর্তমানে এটি ৮১৮২ টাকার আশপাশে অবস্থান করছে। ৮৫ টাকায় উঠে যায় এটি।

দেশের রফতানি আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশ আসে যে খাত থেকে, সেই তৈরি পোকাশ শিল্পের জন্য ২০১২ সার চিহ্নিত হয়ে থাকবে শোকের বছর হিসাবে। ২৪ নভেম্বর আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে তাজরীন ফ্যাশনস লিমিটেডে স্মরণকালের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শতাধিক শ্রমিকের মুত্যুর ঘটনা শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং কারখানার কাজের পরিবেশ নিয়ে পুরনো অভিযোগগুলোই আবার সামনে নিয়ে এসেছে। শ্রমিক নেতা আমিনুল ইসলামসহ নানা কারণে যুক্তরাষ্ট্র জিএসপি সুবিধা বাতিলের সিদ্ধান্তও নিতে যাচ্ছে। তাজরীন ফ্যাশন্সের ঘটনায় এখনো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের শিরোনাম হচ্ছে বাংলাদেশ ও তৈরি পোশাক খাত। ওয়ালমার্টের মতো বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশ থেকে সস্তায় পোশাক বানিয়ে নিলেও শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যাপারে তাদের ‘গাফিলতির’ কথা এসব প্রতিবেদনে উঠে আসছে।

গত বছরের এপ্রিলে নয়টি ব্যাংকের অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। সাবেক গভর্নরসহ দেশের অধিকাংশ অর্থনীতিবিদের মতামত উপেক্ষা করে রাজনৈতিক বিবেচনায় নতুন ব্যাংকের অনুমোদন দেয়া হয়। এই মুহূর্তে প্রবাসী আয় ও রাজস্ব আদায় পরিস্থিতি ছাড়া তেমন কোন সুখবর নেই অর্থনীতিতে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ১২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেলেও বিদেশে বাংলাদেশের শ্রমবাজার নিয়ে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তাতে সামনে প্রবাসী আয়ও হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে শঙ্কা রয়েছে। এছাড়া ইউরোপীয় অঞ্চল ও আমেরিকার অর্থনৈতিক মন্দা স্থায়ী হলে রফতানি আয় আরও কমে যেতে পারে। এ কারণে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তারা রয়েছেন দুশ্চিন্তায়। দ্রব্যমূল্য বাড়ার পাশাপাশি একই হারে আয় না বাড়ায় সঞ্চয় প্রবণতা কমে গেছে। এর নেতিবাচক প্রভাবে কমতে শুরু করেছে ব্যাংকের আমানত প্রবৃদ্ধি। পাশাপাশি সঞ্চয়পত্র বিক্রিতেও দেখা দিয়েছে ধ্বস। ২০১১১২ অর্থবছর থেকেই সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে ধ্বস নামতে শুরু করে। গত অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র বিক্রির মাধ্যমে সরকার ৬ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করার লক্ষ্য ঠিক করলেও বছর শেষে এ খাতে বিনিয়োগ এসেছিল মাত্র ৪৭৮ কোটি টাকা। চলতি ২০১২১৩ অর্থবছরে সরকার সঞ্চয়পত্র বিক্রির মাধ্যমে ৭ হাজার ৪শ’ কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য ঠিক করেছে। জাতীয় সঞ্চয় পরিদফতরের তথ্যে দেখা গেছে, সঞ্চয়পত্র কিনে বিনিয়োগকারীরা যা জমা করছেন সঞ্চয়পত্র ভাঙিয়ে উঠিয়ে নিয়েছেন প্রায় তার সমান। ফলে নিট সঞ্চয় হয়েছে খুব কম। চলতি ২০১২১৩ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়ে নিট জমা হয়েছে ৫১১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। এ সময়ে ৭ হাজার ৯৩৪ কোটি টাকা জমার বিপরীতে উত্তোলন হয়েছে ৭ হাজার ৪২২ কোটি টাকা। এদিকে সঞ্চয়পত্র বিক্রির মাধ্যমে সরকার জনগণের কাছ থেকে ঋণ নিতে পারে। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী সঞ্চয়পত্র বিক্রি না হওয়ায় সরকার বাধ্য হয়ে ব্যাংক থেকে ঋণ করছে। ফলে ব্যাংকের তহবিলে টান পড়ছে। চলতি ২০১২১৩ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাইঅক্টোবর) পণ্যবাণিজ্যে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৫১ কোটি ৭০ লাখ ডলার। এটি গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ২১ শতাংশ কম। ২০১১১২ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে পণ্যবাণিজ্যে ঘাটতি ছিল ৩১৮ কোটি ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ করা লেনদেনের ভারসাম্য সারণির পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা নেয়ার আগে পুঁজিবাজারে সাধারণ সূচক ছিল প্রায় ২ হাজার ৭০০। এর পর থেকেই সূচক এবং লেনদেন বাড়তে থাকে দেশের পুঁজিবাজারে । ২০১০ সালের শেষের দিকে সূচক গিয়ে দাড়ায় ৮ হাজার ৯০০ পয়েন্ট। কৃত্রিমভাবে ফোলানো বাজারে এর পরই শুরু হয় পতন। ডিএসই সাধারণ সূচক ২০১১ সালের জানুয়ারিতে নেমে আসে ৮ হাজার ১০০ পয়েন্টে। জানুয়ারিতে ৭ হাজার ১০০, ফেব্রুয়ারিতে ৬ হাজার, নভেম্বরে ৫ হাজারে এবং বছর শেষে নেমে আসে পাঁচ হাজারের নিচে। শেষ পর্যন্ত অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের কথা এবং পুঁজিবাজার সংশ্লিস্ট সবার কথা মিথ্যা প্রমানিত করে বাজারে ১৯৯৬ সালের চেয়ে বড় পতন ঘটে। পুঁজি হারিয়ে এই বিনিয়োগকারীরাই ২০১১ সালের বেশিরভাগ সময় ঢাকায় ডিএসই ভবনের সামনের সড়কে বিক্ষোভ করেছে।

পুঁজিবাজারের ধসের কারণ খুঁজতে কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান খন্দকার ইব্রাহিম খালেদকে প্রধান করে সরকার গঠন করা চার সদস্যের কমিটি ৩০ দফা সুপারিশসহ ৩২০ পৃষ্টার তদন্ত প্রতিবেদন অর্থমন্ত্রী মুহিতের কাছে জমা দেন। এতে শেয়ারবজার ধসের জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার ক্ষমতার অপব্যবহার, আইনি দুর্বলতা, প্লেসমেন্ট ব্যবসার নামে দুর্নীতি, একদল সংঘবদ্ধ বিনিয়োগকারীদের কারসাজি, আইনের মধ্যে থেকে কিছু সংখ্যক উদ্যোক্তা ও কোম্পানি মালিকদের অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপকে দায়ী করা হয় । দরপতন ঠেকাতে শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। ২০১১ সালের নভেম্বরে এসইসি, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বাজার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে শেখ হাসিনা দীর্ঘ বৈঠক করেন । এই বৈঠকের পর এসইসি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদী ২২ দফা প্রণোদনা ঘোষণা করে । ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ও স্বল্প পুঁজির বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি মেটানোর উপায় বের করতে আইসিবি ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফায়েকুজ্জামানকে প্রধান করে ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। পুঁজিবাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রণোদনা প্যাকেজের ঘোঘণায় এ কমিটি গঠন ছাড়াও ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে একক গ্রাহক ঋণসীমা সমন্বয়ের সময়সীমা ২০১২ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়। ২০১২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাধারন সূচক নামে আসে ৩ হাজার ৬১৬ সূচকে। এর পর বছরে আরও কয়েকবার সূচক চার হাজারের নিচে নামে। বছর শেষে সূচক দাড়ায় ৪ হাজার ২১৯ পয়েন্টে ।

গত চার বছর ধরে আবহাওয়া কৃষি অনুকূল ছিল। সরকার কৃষকদেরকে ভর্তুকি, ঋণসহ বিভিন্ন সহায়তা দেয়ার মাধ্যমে কৃষকদের উৎসাহ ধরে রেখেছে এবং অনুকূল পরিস্থিতির পূর্ণ সদ্ব্যবহার করেছে। তাই দেশ শুধু চাল উত্পাদনেই স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে তা নয়, শাকসবজি, মসলা, ফল ইত্যাদি উৎপাদনও বেড়েছে। কৃষিজাত পণ্য উত্পাদন বেড়েছে। কৃষি অর্থনীতি চাঙ্গা হয়েছে। গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে সরকার গ্রাম উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।জনশক্তি রপ্তানি ও রেমিটেন্স প্রাপ্তিতেও বাংলাদেশ রেকর্ড করেছে। ২০১২ সালে ১৪ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স এসেছে। প্রায় ৬ লাখ জনশক্তি বিদেশে গেছে। ২০১৩ সালে মালয়েশিয়ার বাজারটি উন্মুক্ত হয়েছে। কুয়েত ও কাতারের বাজারেও বাংলাদেশি শ্রমিকের চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে।

নতুন বছর নির্বাচনী সময় হওয়ায় রাষ্ট্রীয় অর্থের অপব্যবহারের শঙ্কা দেখা যাচ্ছে। এ সময়ে রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রকল্প নেয়া ও অর্থ ব্যয়ের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার উদাহরণ রয়েছে। ফলে অর্থনীতিতে মুদ্রা সরবরাহ বাড়লেও পরিস্থিতি ভালো হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।।