Home » রাজনীতি » বিএনপিকে জনদাবিতে সোচ্চার দেখা যায়নি

বিএনপিকে জনদাবিতে সোচ্চার দেখা যায়নি

মাহাবুবুর রহমান

BNP-logo-আল্টিমেটামের রাজনীতিতেই চার বছর পার করলো প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা পুর্নবহাল দাবিতে পাঁচ দফার আল্টিমেটাম আর সরকারের দেয়া ইস্যুর পেছনে ঘুরপাক খেয়েই সময় কাটাচ্ছে দলটি। নির্বাচনী ইশতেহারে অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি থাকলেও জাতীয় সংসদ কার্যকরে তেমন আগ্রহ দেখায়নি তারা। জনগণের ভোগান্তি কিংবা দেশের স্বার্থ বিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তেমন সোচ্চার হতে পারেনি। সরকারের ব্যর্থতা ও নিপিড়নের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো প্রতিবাদও গড়ে তুলতে পারেনি একাধিকবার দেশ পরিচালনাকারী এ দলটি। সরকারের ক্ষমতার শেষ বছরেও রাজপথের আন্দোলনে আত্মবিশ্বাসী হতে পারছে না বিএনপি। দলটির নীতিনির্ধারকরা অনেকটা সরকারের ব্যর্থতার সিড়ি বেয়েই ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্নে বিভোর। আর এজন্যই সরকারের দুর্নীতি, লুটপাট, দ্রব্যমূল্যের সীমাহীন উর্ধ্বগতি কিংবা দেশের স্বার্থ বিরোধী চুক্তির প্রতিবাদে দলটি কঠোর কোনো কর্মসূচি দিতে পারেনি। এসব নিয়ে প্রতিবাদ জানাতে সংসদে যাওয়ার কোনো উৎসাহও তাদের দেখা যায়নি। দলীয় ইস্যুতে কিছু কঠোর কর্মসূচি দিলেও তা পালনে তেমন তৎপর ছিলেন না সিনিয়র ও মধ্যম সারির নেতারা। অবরুদ্ধ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বসেই কর্মসূচি ঘোষণা ও পালন করে দুর্বল বিরোধী দলের প্রমাণ রাখছে তারা। এ নিয়ে খোদ বিএনপির তৃনমূল ও মধ্যম সারির নেতাদের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে।

গত চার বছরে জনগণের দাবি নিয়ে মাত্র তিনটি হরতাল আর সংবাদ সম্মেলন ও সভাসমাবেশে প্রতিবাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছে বিএনপি। চার বছরে ২০দিন হরতাল করলেও তিনটি ছাড়া সব ছিল দলের শীর্ষ নেতা ও পারিবারিক ইস্যুকেন্দ্রিক। সংসদে গিয়ে জনগণের সমস্যা ও চাহিদা নিয়ে কথা বলেননি বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্যরা। সামনের আসন, দলীয় নেতাদের বিষোদগারের জবাব এবং পারিবারিক ইস্যু নিয়ে কিছু তৎপরতা দেখালেও এখন কেবল পদ টেকাতে সংসদে অংশ নিচ্ছেন তারা। জাতীয় স্বার্থ বিরোধী চুক্তি, টিপাইমুখে বাঁধ কিংবা ভারতকে ট্রানজিট ও করিডোর প্রদানের মতো রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপুর্ণ বিষয়ে বিএনপি উল্লেখ করার মতো কোনো কর্মসূচি দেয়নি। টিপাইমুখ বাধের প্রতিবাদে কেবল সিলেটে একদিনের একটি হরতাল করেছে বিএনপি। তাও হয়েছে স্থানীয় নেতাকর্মীদের উদ্যোগ ও আগ্রহে।

কৌশলে রাজনৈতিক ফল পাওয়ার চেষ্টা ছাড়া দলটি সময় পার করেছে দায়সারাভাবে। কর্মসূচি গ্রহণ এবং বাস্তবায়নে শীর্ষ নেতা থেকে তৃণমূলের কর্মী পর্যন্ত সবার মাঝে দ্বিধাদ্বন্দ্ব বিরাজমান। পারস্পরিক আস্থাবিশ্বাসের অভাব ও সম্পদ রক্ষায় রাজপথের আন্দোলনে অনাগ্রহ দেখাচ্ছেন সিনিয়র নেতারা। দলটির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গণসংযোগ, সমাবেশ ও রোডমার্চে জনজোয়ারে তৃনমূলের নেতাকর্মীরা মানসিক দৃঢ়তা পেলেও রাজধানী ঢাকায় ঘুরে দাড়াতে পারছে না বিএনপি। কমিশনার নির্ভর মহানগর বিএনপি এখন অনেকটা নিষ্ক্রিয়। অঙ্গদলগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়েই পালিত হচ্ছে ঢাকার বড় কর্মসূচি। প্রধান বিরোধী দল হয়েও দেশের কোথাও পুলিশী বাধা অতিক্রম করে কর্মসূচি পালনের সক্ষমতা দেখাতে পারছে না।

আল্টিমেটামের রাজনীতিতে সময় পার:

সেনাসমর্থিত একএগারোর তথাকথিত তত্তাবধায়ক সরকারের আমলে সৃষ্ট অনাস্থাঅবিশ্বাস ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে ব্যাপক ভরাডুবির ধাক্কা কাটাতে বিএনপি সময় নেয় প্রায় দুই বছর। ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বরের কাউন্সিলের মাধ্যমে সংস্কারবাদী ও ত্যাগী নেতাদের সমন্বয় করে নতুনভাবে বিএনপিকে সামনে এগিয়ে নেয়ার উদ্যোগ নেন বেগম খালেদা জিয়া। কিন্তু নতুন এ সমন্বিত পথচলা তৃনমূলে গ্রহণীয় হতে সময় লেগে যায় আরো প্রায় এক বছর। এরইমধ্যে ২০১০ সালের ১৩ নভেম্বর বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে ক্যান্টনমেন্টের বাসভবন থেকে উচ্ছেদ করে সরকার। বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তাঁর ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোকে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। এসময়ে এসব ইস্যু ঘিরেই বিএনপির রাজনীতি আবর্তিত হয়।

এরই মধ্যে সরকার ২০১১ সালের জুন মাসে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিল করে। বিরোধী দলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ওই বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ করে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবি জানান। জানুয়ারি, ২০১২ পর্যন্ত আল্টিমেটাম দিয়ে তিনি দেশজুড়ে রোডমার্চ কর্মসূচি পালন করেন। ব্যাপকভাবে সফল রোডমার্চকে সরকার পাত্তা না দেয়ায় ৯ জানুয়ারি চট্টগ্রামে ঐতিহাসিক এক জনসভা থেকে বেগম জিয়া দাবি মানতে দ্বিতীয় বারের মতো ১২ মার্চ পর্যন্ত সরকারকে সময় বেধে দেন। এতেও কোনো ফল না হওয়ায় সরকারের পাহাড়সম বাধা উপেক্ষা করে ঢাকায় বিশাল জনসভা করেন খালেদা জিয়া এবং তৃতীয়বারের মতো সরকারকে সময় দিয়ে ১১ জুন ঢাকায় ফের সমাবেশ করেন। ওই সমাবেশ বেগম জিয়া কিছু কর্মসূচি ঘোষণা করেন এবং চতুর্থ ও পঞ্চম দফার আল্টিমেটামের মাধ্যমে গত দু’টি ঈদ কাটান। এরইমধ্যে তিনি চীন ও ভারত সফর করেন। সর্বশেষ গত ২৮ নভেম্বর ঢাকায় সমাবেশ শেষে একই দাবিতে দু’দফায় কর্মসূচি ঘোষণা করেন। নতুন বছরে জানুয়ারি জুড়ে তাদের কর্মসূচি রয়েছে। তবে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার ফিরে পেতে চুড়ান্ত আল্টিমেটাম নিয়ে বিএনপি সিদ্ধান্তহীনতায় রয়েছে। গত ৩০ ডিসেম্বর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভায় এ নিয়ে আলোচনা হলেও নীতিনির্ধারকরা দ্বিধাবিভক্ত মতামত দেন।

নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিশ্রুতি থাকলেও সংসদ কার্যকরে অনাগ্রহী:

২০০৮ সালের ২৯ ডিসে¤¦রের নির্বাচনে মহাজোটের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে প্রশ্নবিদ্ধ দাবি করলেও বিরোধী দল হিসেবে সংসদ কার্যকর ও সহযোগিতা প্রদানের ঘোষণা দেন বেগম খালেদা জিয়া। নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি ছিল ‘বিরোধী দলে গেলেও সংসদ যোগ দেয়ার।’ ২০০৯ সালের ২৫ জানুয়ারি নবম সংসদের প্রথম অধিবেশনে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে যোগ দেয় বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্যরা। কিন্তু স্পিকারের বাম পাশের প্রথম সারিতে দশটি আসন ও খালেদা জিয়ার নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন দাবি উত্থাপন করেন তারা। এ দাবি নিয়ে তারা দ্বিতীয়, তৃতীয়, ষষ্ঠ ও সপ্তম, নবম, দশম ও এগারোতম অধিবেশন বর্জন করেন। বারোতম অধিবেশনে গত বছরের ১৮ মার্চ তারা সংসদ যোগ দেন। এসময় সংসদে দেশ ও জনগণের কিছু কথা বললেও তাদের স্থায়ীত্ব ছিল মাত্র এক সপ্তাহ। এরপর তের, চৌদ্দ ও পনেরতম অধিবেশন তারা বর্জন করেন। আগামী ২৭ জানুয়ারি ষোলতম অধিবেশনে যোগ দেবেন কিনা তাও নিশ্চিত নয়। এ বিষয়ে বিরোধী দলীয় চীফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক জানান, দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি বিবেচনায় বিরোধী দলীয় নেতা সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে সরকার নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা পুনর্বহালের ঘোষণা দিলে তা নিয়ে আলোচনা করতে তারা সংসদে যোদ দেবেন বলে জানান তিনি।

সংসদের রেকর্ড অনুযায়ী, গত চার বছরে নবম জাতীয় সংসদের দুই শতাধিক কার্যদিবসের মধ্যে মাত্র নয় দিন বিরোধী দলের নেতা বেগম খালেদা জিয়া উপস্থিত ছিলেন। সংবিধানের ৬৭() অনুযায়ী স্পিকারের অনুমতি ছাড়া কোনো সংসদ সদস্য একটানা ৯০ দিন অনুপস্থিত থাকলে তাঁর সদস্যপদ বাতিল হয়ে যায়। সংসদ সদস্য পদ রক্ষায় বিএনপি দলীয় এমপিরা সংসদ অধিবেশনে যোগ দিচ্ছেন। আর যোগ দিয়ে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে কটুক্তির প্রতিবাদে ওয়াকআউট এবং সংসদ বর্জন করেন। সর্বশেষ ২০১২ সালের ১৮ মার্চ যোগদান করে মাত্র এক সপ্তাহ তারা সংসদ অধিবেশনে ছিলেন। সেটাকেও অনেকে নিয়ম রক্ষার জন্য যোগদান বলে অভিহিত করেন।

জনইস্যুতে সোচ্চার ছিল না বিএনপি:

২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার নানাক্ষেত্রে জনগণের অধিকার রক্ষায় সফলতা দেখাতে পারেনি। প্রধান বিরোধী দল বিএনপি জোরালো কোনো প্রতিবাদও করতে পারেনি। শেয়ারবাজারে লাখ লাখ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর অর্থ লুটপাটে বিএনপি লোক দেখানো তদন্ত, বিক্ষোভ, সংবাদ সম্মেলন ও সমবেদনা জানিয়েছে। সব হারিয়ে একাধিক যুবক আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেও ক্ষুব্ধ মানুষগুলোর দাবি নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে বড় প্রতিবাদ করেনি। জ্বালানী তেলের মূল্য বৃদ্ধিতে মাত্র দু’দিন হরতাল পালন করেই দায় সেরেছে তারা। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির অন্যতম চালিকা জ্বালানী তেল ও বিদ্যুতের দাম ছয় দফা বাড়ালেও গঠনমূলক কোনো পরিকল্পিত প্রতিবাদ গড়ে তুলতে পারেনি বিরোধী দল। রাস্তাসহ যোগাযোগ অবকাঠামোর বেহলা দশা, প্রকল্পের অর্থ লুটপাট, দুর্নীতি, বেকারত্বসহ জনগণের অসহায়ত্বে পাশে দাড়ায়নি তারা। পদ্মা সেতু প্রকল্প দুর্নীতি, হলমার্কের মতো হাজার হাজার কোটি টাকা লুটের বিরুদ্ধে একটি বড় কর্মসূচিও দিয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনগণের ঘৃণার অংশীদার হতে পারেনি বিএনপি। ভারতকে দেয়া করিডোর প্রশ্নেও বিএনপি সোচ্চার ছিল না।

পারিবারিক ইস্যুতে আন্দোলন:

গত চার বছরে ১৪ দফায় ২০ দিন হরতাল পালন করেছে বিএনপি। এরমধ্যে ১৯ দিনই ছিল দলীয় ও পারিবারিক ইস্যু। সরাসরি জনগণের মৌলিক দাবি নিয়ে মাত্র তিনদিন হরতাল করা হয়। জ্বালানী তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে গত ৬ জানুয়ারি ও ২০১১ সালের ২২ সেপ্টেম্বর এবং ঢাকা বিভক্তির প্রতিবাদে ৪ ডিসে¤¦র সকালসন্ধ্যা হরতাল করে বিএনপি। এছাড়া সবক’টি হরতালের মূখ্য দাবি ছিল বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মামলা, বাড়ি থেকে উচ্ছেদ, ইলিয়াস আলী গুম, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক পুনর্বহালসহ রাজনৈতিক ইস্যুর হরতাল। এসব দাবি নিয়ে ২০১০ সালের ২৭ জুন, ১৪ ও ৩০ নভেম্বর এবং ২০১১ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি, , ১২ ও ১৩ জুন, ৬ ও ৭ জুলাই এবং ২০১২ সালের ২২, ২৩, ২৪, ২৯ ও ৩০ এপ্রিল, ১৭ মে, ১১ ও ১৩ ডিসেম্বর হরতাল পালন করা হয়। সরকারের ক্ষমতার দেড় বছরের মাথায় নানা ক্ষেত্রে ব্যর্থতা ও রাজনৈতিক নিপিড়নের প্রতিবাদে ২০১০ সালের ২৭ জুন বিএনপি হরতাল পালন করে। এরপর ক্যান্টনমেন্টের শহীদ মইনুল রোডের বাসা থেকে বেগম খালেদা জিয়াকে উচ্ছেদের প্রতিবাদে ১৪ ও ৩০ নভেম্বর হরতাল করে বিএনপি। পরের হরতালগুলোতেও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মামলা, সংবিধান সংশোধণ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের ইস্যুকে সামনে রাখে তারা। আর ২০১২ সালের প্রথম ছয়টি হরতাল দেয়া হয় বিএনপির জনপ্রিয় সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীকে ফিরিয়ে দেয়ার দাবিতে। এসব হরতালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্তি, সংবিধান থেকে আল্লাহর ওপর আস্থা উঠিয়ে দেয়া, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি, আইন শৃঙ্খলার অবনতি, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জালানি তেলের সংকট, শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারীর প্রতিবাদ শব্দগুলো জুড়ে দেয়া হয়েছিল।

জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় নিরব:

জাতীয় স্বার্থ ইস্যুতে বিএনপি এখন অনেকটা নিরবতা পালন করছে। গত বছরের ২৮ অক্টোবর থেকে বেগম খালেদা জিয়ার সপ্তাহব্যাপী ভারত সফরের পর টিপাইমুখে বাধ, ট্রানজিট, করিডোরের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বিএনপির বক্তব্য থমকে গেছে। এমনকি সরকার এসব ইস্যুতে তাদের করা চুক্তি বাস্তবায়নে এগিয়ে গেলেও তা নিয়েও বিএনপির নীতিনির্ধারকদের তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া নেই।

২০১০ সালের ১১ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে ৫০ দফা দিল্লি ঘোষণা এবং অপ্রকাশিত নানা চুক্তির বিষয়ে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির ভুমিকা এখন খুবই নড়বড়ে। ওই চুক্তির পথ ধরে ২০১১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা সফরে আট দফা চুক্তি স্বাক্ষর ও ৬৫ দফা ঢাকা ঘোষণার আড়ালে প্রতিবেশীকে করিডোর দেয়া হয়। এতে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়েছে অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন ও আলোচনা সভায় প্রতিবাদ জানায় বিএনপি। কিন্তু জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দল হিসেবে দেশের অস্তিত্ব বিনাশী করিডোরের বিরুদ্ধে সোচ্চার না হওয়ায় সর্বমহলে সমালোচনা ওঠে। ভারতের টিপাইমুখে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনে বাঁধ দেয়ার উদ্যোগের প্রতিবাদে দেশের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে সিলেটবাসী রাজপথে নামলওে দলগতভাবে বিএনপির বড় কোনো প্রতিবাদ দেখা যায়নি। সিলেট বিএনপির ডাকে একদিনের হরতাল ছাড়া বাংলাদেশের মানুষের জন্য মরণফাঁদ রুখতে সংসদে গিয়ে বা রাজপথে কঠোরতা প্রদর্শন করার সাহসটুকু করেনি তিনবারে ক্ষমতায় থাকা বিএনপি। সমুদ্রের গ্যাস ব্লক ইজারার বিরুদ্ধে অনেকটা নিরবতাই পালন করছে এ দলটি। জাতীয় স্বার্থ বিরোধী এ চুক্তি রুখে তেলগ্যাস জাতীয় কমিটিসহ কয়েকটি বাম দল রাজপথে থাকলেও বিএনপির কোনো শক্ত প্রতিবাদ বা কর্মসূচি নেই। বেগম খালেদা জিয়ার ভারত সফরকালে তার উপদেষ্টা সাবিহউদ্দিন আহমেদের ট্রানজিট নিয়ে ‘বিএনপি কখনো ট্রানজিটের বিরুদ্ধে ছিল না’ উক্তি নিয়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। দলটির রাজনৈতিক অতীত রাজনীতি নিয়ে গণমাধ্যমে প্রশ্ন ওঠে। পরে এ বক্তব্যের বিরুদ্ধে খোদ বেগম জিয়া ও স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করেন। দ্বিপাক্ষিক কোনো ট্রানজিটের পক্ষে বিএনপি কখনো ছিল না এবং ভবিষ্যতেও মানবে না বলে তারা জানিয়ে দেন। ভারতবাংলাদেশমিয়ানমারচীন হয়ে দূরপ্রাচ্য পরর্যন্ত সংযোগ প্রতিষ্ঠার মত দেন তারা। এভাবে নানা বিতর্ক, দূর্বল অবস্থান ও জনগণের আকাঙ্খার বিপরীতে নিজস্ব রাজনৈতিক কৌশলে চার বছর কাটিয়েছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি।।