Home » সাক্ষাৎকার » সাক্ষাৎকার – ড. মীজানূর রহমান শেলী

সাক্ষাৎকার – ড. মীজানূর রহমান শেলী

.

যদি নির্বাচন অবাধনিরপেক্ষ ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে ক্ষমতাসীন দলের কি অবস্থা হবে, তা অনুমান করা কঠিন’ : . মীজানুর রহমান শেলী

OLYMPUS DIGITAL CAMERA. মীজানূর রহমান শেলী, সমাজবিজ্ঞানী এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক। সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট রিসার্স বাংলাদেশ (সিডিআরবি)-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং ত্রৈমাসিক এশিয়ান এফেয়ার্সের সম্পাদক। সাম্প্রতিক সংঘাতময় রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সরকারের জনপ্রিয়তা, আগামী নির্বাচন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার, বিরোধীদল হিসেবে বিএনপির ভূমিকাসহ নানা বিষয়ে কথা বলেছেন।

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?

. শেলী:আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের চার বছর পূর্তি হলো। একই সঙ্গে পঞ্চম বছরে পদার্পণ করল। রাজনৈতিকভাবে সংঘাতময় পরিস্থিতির মুখোমুখি দেশ। অবশ্য এ অবস্থা একদিনে তৈরি হয়নি। প্রথম থেকেই এ সরকারের যে নীতি বা ঝোঁক, তা জাতীয় ঐক্যমতের পথকে সংকুচিত করেছে। আওয়ামী লীগের একটি প্রবণতা হলো অন্যকে বাদ দেয়া। এখানে থেকে শুরু হয়ে একটি দ্বন্ধময় পরিস্থিতির তৈরি হয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতিটি বাতিল করে এতে ইন্ধন জুগিয়েছে। অথচ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পত্তনের জন্য ১৯৯৬ সালের আগে বা ওই সময়ে প্রধানত দায়ী ছিল আওয়ামী লীগ ও তার মিত্ররা। তারা ক্ষমতাসীন সরকারের ওপর ‘আস্থাহীনতা’র কথা বলে এ ধরনের একটি সরকারের দাবি তোলে। আমরা জানি, তৎকালীন বিএনপি সরকার এ দাবি মানেনি। পরবর্তীতে তা মানতে এক প্রকারে বাধ্য হয়। ১৯৯৬ এবং ২০০১ এর নির্বাচনের পর ২০০৭০৮ সালে এসে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রলম্বিত হওয়ায় এ ব্যবস্থার সরকার সম্পর্কে নানা সংশয়সন্দেহ দেখা দেয়। তবে আওয়ামী লীগ একটু জোরেশোরে বিষয়টি উত্থাপন করে। তারা সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে পঞ্চদশ সংশোধনী এনে তত্ত্ববধায়ক সরকার ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত করে। এতে রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরো জটিল ও সংঘাতের প্রবণতা আরো প্রবল হয়ে উঠেছে । যে যুক্তিতে নব্বইয়ের দশকে তত্ত্বাবধায়ক আনা হয়েছিল। ঠিক একই যুক্তিতে বিরোধী দল ও তার মিত্ররা অর্থাৎ আঠারো দলীয় জোট স্পষ্টভাবে বলেছে, এ ক্ষমতাসীন সরকারের আওতায় যেকোনো অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। এরই মধ্যে তারা আন্দোলনসংগ্রাম শুরু করেছে।

বিরোধী দলের সঙ্গে কেবল আওয়ামী লীগ সরকারই নয়, সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনরজ্জীবিত হওয়ার পরে যে দলই ক্ষমতায় এসেছে তারা বিরোধী দলকে পিষ্ট করার, সব কিছু থেকে বাইরে রাখা, নানাভাবে হয়রানি করার একটা বৈশিষ্ট্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বৈশিষ্ট্য আরো প্রবল আকারে ধারণ করেছে গত চার বছরে (বিশেষ করে গত দুই বছরে)। রাজনৈতিক হত্যা, গুম, নানা রকম অত্যাচারের পেছনে সরকারের প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে। এর ফলে আমরা দেখছি নানা সংঘাতবিবাদ, মানুষের স্বাভাবিক জীবন যাপনে বাধাবিঘ্ন সৃষ্টি করা, কখনো সরকারি ইন্ধনে পুলিশের অযাচিত হস্তক্ষেপের ফলে, কখনো বা বিরোধী দলের হরতালকর্মসূচির কারণে নানা ধরনের সহিংসতা হচ্ছে। নানা ধরণের বাধা জনদুর্ভোগ বাড়িয়ে তুলছে।

সমঝোতার কোনো পরিবেশ তৈরি হবে বলে মনে করেন কি?

. শেলী:দ্বন্ধমূলক অবস্থা বিরাজ করলে আলোচনার মজবুত ভিত্তি কখনোই রচিত হবে না। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী অনেক বারই বলেছেন, এখানে আলোচনার কিছু নেই, তত্ত্বাবধায়ক সরকার তো বিলুপ্ত হয়ে গেছে। বিরোধী দল একে অগ্রহযোগ্য মনে করে এবং এটাই স্বাভাবিক। আমাদের দেশের বাস্তবতা হলো, ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্য অনেক ক্ষমতাশালী থাকেন, তার প্রভাব থাকে বিপুল, সেখানে আরেকজন তার বিপক্ষে নির্বাচন করে সুবিধা করতে পারবে, তা মনে হয় না। এমন কি নিজ দলের লোকও সুবিধা করতে পারবে না। সংসদ সদস্যদের ক্ষমতা অনেক থাকায় সেখানে সুষ্ঠু নির্বাচন করার অবস্থা থাকে না। কিন্তু আসল কথা হলো, এখানে সমঝোতার পথ সহজেই তৈরি হওয়ার উপায় নেই। সেখানে জাতীয় নির্বাচনকে দেখা হয় এক পদ্ধতি বা পন্থা হিসেবে। সেই নির্বাচনে ক্ষমতায় থেকে যদি কেউ নির্বাচন করেন, তাকে পরাজিত করা কত দুরুহ, সে কথা নতুন করে বলে দিতে হবে না।

মীমাংসা কি রাজপথেই হবে? সমাধানের পথ কি?

. শেলী:রাজপথে সংগ্রামআন্দোলন প্রবল হয়ে উঠলে ক্ষমতাসীনদের ওপর স্বাভাবিকভাবে বড় চাপ পড়ে। এ চাপের ফলে তারা অনেক সময় ছাড় দেন, যাতে মোটামুটি গ্রহনযোগ্য একটি সমাধানে উপনীত হওয়া যায়। ইতিহাসে এর বহু উদাহরণ রয়েছে। ২০০৭ সালেও এমন ঘটনা ঘটেছিল যেখানে রাজপথে বিক্ষোভ এবং ক্ষমতাসীনদের ক্ষমতায় ঠিকে থাকার নানা পদক্ষেপ সব মিলে এমন একটি অবস্থা তৈরি হয়েছিল, যেখানে সমঝোতা কোনো কাজে লাগেনি, কোনো আলোচনা ফলপ্রসু হয়নি। তখন যাকে তৃতীয় শক্তি বলা হয়েছিল তার আর্বিভাব হয়। বাংলাদেশে ২০০৭ সালে যা ঘটেছিল, তার পেছনে আন্তর্জাতিক সমর্থনও ছিল। উন্নয়ন সহযোগী বা বহুজাতিক সংস্থা অথবা জাতিংসংঘের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সে সময়ে ভূমিকা পালন করেছিল। বিশেষ মুহূতে এ জাতীয় ঘটনাগুলো ঘটে। বর্তমানেও একই রকম ঘটনা ঘটবে সেটি হলফ করে কেউ বলতে না পারলেও শঙ্কা কিন্তু রয়েছে। এরই মধ্যে অনেকে আরও শঙ্কা ব্যক্ত করেছেন।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিপূরণে সরকারের সফলতা কতোটুকু?

. শেলী:যেসব অভিযোগ বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে আনা হয় সেগুলো হচ্ছে চার বছরে তাদের প্রশাসনিক ক্ষেত্রে ব্যর্থতা, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা দেশকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সরকারের যেসব নির্বাচনী ওয়াদা ছিল, তার মধ্যে বেকারত্ব নিরসন, দারিদ্র বিমোচন, অবকাঠামো উন্নয়ন, ডিজিটালাইজেশন এগুলোর ক্ষেত্রে যা বলা হয়েছে তার বেশির ভাগ অর্জিত হয়নি। নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত প্রথম পাঁচটি ওয়াদা অর্থাৎ দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি রোধ, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া, দারিদ্রবিমোচন, বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি খাতের উন্নয়ন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা কোনোটিই সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। যার ফলে সাধারণ মানুষের মনে সরকারের দক্ষতা ও সক্ষমতা সম্পর্কে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। যদি নির্বাচন অবাধনিরপেক্ষ ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে ক্ষমতাসীন দলের কি অবস্থা হবে, তা অনুমান করা কঠিন। পত্রিকার জরিপে দেখা যাচ্ছে, সরকারের জনপ্রিয়তা কমছে। এ জন্য সরকার নিরলসভাবে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে যাতে ক্ষমতায় থেকে কোনো না কোনোভাবে দলীয় সরকারের অধীন নির্বাচন করা যায় এবং ক্ষমতায় পুনরায় আসা যায়।

যদি রাজপথেই সমস্যার সমাধান হতে হয় তাহলে পরিস্থিতি কি দাঁড়াবে?

. শেলী:আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের একটি কথা গভীর মনোযোগের দাবি রাখে। তিনি বলেছেন, যে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আলোচনা চলছে। যদিও বিএনপি চেয়ারপারসন পরিস্কারভাবে বলেছেন, এ ধরনের কোনো গোপন কথাবার্তা চলছে না। এগুলো ক্ষমতাসীনদের ছলচাতুরি এবং ক্ষমতায় ঠিকে থাকার পদ্ধতি মাত্র। এটা ছাড়া সামনাসামনি কোনো কিছু দেখছি না, পেছনেও যদি এমন কোনো ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে মানুষের মনে যে শঙ্কা, সহিংসতাসংর্ঘষ বাড়বে এবং এর মাধ্যমে অন্য কোনো পক্ষ যেটি সংগঠিত কোনো পক্ষ নাও হতে পারে, তারা ক্ষমতা নিতে পারে। এমন অবস্থাও হতে পারে যেটি ইউক্রেন ও জর্জিয়ায় হয়েছিলযাকে গণঅভ্যুত্থান বা গণ বিস্ফোরণ বলা যায়,সে জাতীয় অবস্থা হলে, তার ফলাফল কী দাঁড়াবে তা আমরা নিশ্চিত করে বলতে পারব না। যে অবস্থা বিরাজ করছে এবং পরিস্থিতি যে দিকে যাচ্ছে তাতে নানা শঙ্কা ভিড় করবে এবং সেগুলো অমূলক মনে না করাটাই সংগত।

চার বছরে বিএনপির ভূমিকাকে কীভাবে মূল্যায়ণ করেন?

. শেলী:বিএনপি যে কাজটি করেছে তা কিছুটা তার নিজের মনোভাব বা চিন্তাধারার ফল। আবার অনেকটা দলের বাইরে যেসব ঘটনা ঘটছে ক্ষমতাসীন দলের ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া এগুলো তার জন্য দায়ী। যতই তারা দলিত ও উপেক্ষিত মনে করছে ততই তাদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে। যে পথে গেলে তাদের সুফল লাভ হবে সেদিকে তারা অগ্রসর হচ্ছেন। অর্থাৎ প্রতিবাদপ্রতিরোধ, মিছিল ও হরতালের পথ। কিন্তু তাদের যুক্তি হলো, যেখানে সরকার নির্যাতনমূলকভাবে বিরোধীদলকে দমননিপীড়ন করে, তাকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে চায়, তাকে নানা ধরনের বদনাম দেয়, যার ভাগী তারা নন যেমনমুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে বলা হয়েছে। এটা সবাই জানেন, আওয়ামী লীগের মধ্যে যেমন তেমনি বিএনপির মধ্যেও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে অনেকেই রয়েছেন। সুতরাং তাকে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তি হিসেবে একত্র করে ফেলা ঠিক নয়। নানা ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ, তা সত্য হোক বা না হোক অন্যান্য অভিযোগে বিরোধীদলকে নানাভাবে ব্যবসাপেশা থেকে বহিস্কৃত করা নানা ভাবে চাপে রাখা হয়েছে। আমাদের এখানে দলীয়করণটা গেল এক দশকে মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। বিরোধী এবং সরকারী দলের মধ্যে বৈপরিত্য থাকতে পারে, তবে সেটিকে যখন দলীয়করণের মাধ্যমে সামগ্রিকভাবে সমাজে ছড়িয়ে দেয়া হয় সেটি বিপজ্জনক । এখানে সরকারি কর্মকর্তাকর্মচারীদেরকেই শুধু দলীয়করণ করা হয়নি, বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণের প্রয়াস চালানো হয়েছে। এর সঙ্গে আরো এসেছে সমাজের সব পেশাজীবিকে দুই ভাগে ভাগ করার খারাপ প্রবণতা। কাজেই আন্দোলনের প্রশ্নে সঠিক পথটি কি তা বিএনপিকে ঠিক করতে হবে। নিজেদেরই খুঁজে নিতে হবে, কীভাবে কাজ করলে তারা স্বার্থক বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে পারেন। এখানে যেমন ক্ষমতাসীনরা বলে থাকেন, বিরোধী দল সংসদে যান না কেন? বিএনপি বলে, আমাদের সংসদ সদস্য সংখ্যা কম। তারপরও সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দল যে মনোভাব দেখান বা বিরোধী দলকে কোনঠাসা করে রাখা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে সেখানে গিয়ে লাভ হয় না বা হবে না। এটিও পরীক্ষার বিষয়।

ভারত সফরের পর অনেকেই দাবি করছেন, বিএনপির নীতি নির্ধারণে পরিবর্তন এসেছে। আপনি কী মনে করেন?

. শেলী:বিএনপির নীতিতে পরিবর্তন অবশ্যই কাম্য। যে আশাআকাঙ্খা ও নীতি নিয়ে বিএনপির যাত্রা হয়েছিল এবং দলটির নেতৃত্ব যে পথে হেটেছিল, সে জায়গায় ফেরত যেতে হবে। সেখানে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের কথা আছে, সেখানে উন্নয়নের রাজনীতির কথা আছে। বিএনপির রাজনীতির জন্য চীন সফরের চেয়েও বিএনপি চেয়ারপারসনের ভারত সফর গুরুত্বপূর্ণ। তাদেরকে সব সময় ভারত বিরোধী হিসেবে গণ্য করা হয়। এক্ষেত্রে ভারত বিরোধী বা ভারতপ্রেমী হওয়ার প্রয়োজন নেই, বাংলাদেশের স্বার্থে যিনি কাজ করবেন তাকেই প্রয়োজন। অর্থাৎ ভারত যদি বাংলাদেশের কোনো কাজে লাগে সেটি ব্যবহার করা। যদি তারা আমাদের উপরে শাসনশোষণ ও আধিপত্য বিস্তার করতে চায়, তাহলে যাকে নিয়ে কাজ হবে তাকে নিয়ে দাড়ানো। এ ধরনের মনোভাব জাতীয় স্বার্থের অতন্ত্র প্রহরীর কাজ করে। ভারত সফরটাকে বিএনপি মনোভাবের পরিবর্তন হিসেবে আমি দেখি না। এটাকে ভারতের দিক থেকেও দেখতে হবে। ভারত কোনো না কোনো কারণে চেয়েছে,বাংলাদেশের সঙ্গে তার যে সখ্যতা সেটাকে যেন এক দলনির্ভর মনে না করা হয়। এ জন্য বিএনপি চেয়ারপারসনকে আমন্ত্রণ করে এত মর্যাদা দেয়া হয়েছে। এটি প্রকাশ্যে দেয়া হয়েছে। ভারত কিছুটা না বদলালে বিএনপিকে তারা ইতিবাচক হিসেবে নিত না।

সরকারের জনপ্রিয়তা সম্পর্কে আপনার মন্তব্য কি?

. শেলী:এর প্রধান কারণ রাজনৈতিক ও অর্থনীতি। প্রধানত অর্থনৈতিক কারণ হলেও রাজনৈতিক কারণে সরকার বেশি অজনপ্রিয় হয়ে পড়ছে। এর মধ্যে রয়েছে নিত্যপণ্যের দামের ঊর্ধগতি। নানা ধরনের ভুল বা অবিন্যস্ত পদক্ষেপ নেয়ায় জ্বালানি ও বিদ্যুতের বারংবার মূল্য বৃদ্ধি। যার অভিঘাত পড়ে জনগণের ওপর। জ্বালানির দাম এক টাকা বাড়লে সব ক্ষেত্রে এর তিনগুণ প্রভাব পড়ে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মানুষ। দুর্নীতির বিষয়টি এর সঙ্গে জড়িত। গণতন্ত্র পুঁজিবাদ দুটো পাশাপাশি চলে। দুটোরই মূল কথা সুবিন্যস্ত, সুশৃংখল ও সুগঠিত ব্যবস্থা। রাজনৈতিক পৃষ্টপোষকতা দিতে গিয়ে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান করতে এমন এক শ্রেণীর উদ্ভব ঘটে বা বিকাশ হয় অথবা তার শক্তি বাড়ায়, যে শ্রেণী আসলে ব্যবসা করে না বা জানে না। সেখানে লুটপাটের সংস্কৃতি চালু হয়। সরকারি ও ব্যবসায়ীক সব জায়গায় দুর্নীতি ব্যাপক মাত্রা লাভ করেছে। এটি শুধু টিআইয়ের সূচকে নয়, মানুষ চোখ মিললেই দেখতে পারে। এটিকে অস্বীকারের উপায় নেই। ফলাফল খুবই খারাপ। দুর্নীতি মানে আমাদের প্রবৃদ্ধির হার কমে যায়, মানুষের জীবনযাত্রা ব্যহত হয়। রাজনৈতিক দিক দিয়ে ক্ষমতাসীনরা ছাত্রলীগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। সমাজ ঊশৃংখল ও ভোগবাদী হয়ে উঠে। রাজনৈতিকভাবে যারা ক্ষমতাশালী এবং প্রশাসনিকভাবে যারা উচ্চ পদে রয়েছেন, তাদের একমাত্র আরোধ্য হয়ে দাড়ায় সম্পদ, এখানে মেধা সৃজনশীলতা সহজে প্রকাশিত হয় না। যা যেকোনো সমাজের জন্য মারাত্মক। এখানেই বর্তমান সরকারের বড় ব্যর্থতা। ভবিষ্যতের সরকার সচেতন হয়ে কিছু করতে পারবে কি না, সেটিই এখন প্রশ্ন।

আপনাকে ধন্যবাদ।।