Home » অর্থনীতি » তাহলে বাংলাদেশ কেন পারমাণবিক দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে যাচ্ছে?

তাহলে বাংলাদেশ কেন পারমাণবিক দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে যাচ্ছে?

আমাদের বুধবার প্রতিবেদন

Public domain image, royalty free stock photo from www.public-domain-image.comজাপানের ফুকোসিমা, রাশিয়ার চেরোনবিল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়াসহ বিভিন্ন সময় পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুর্ঘটনা ভয়ঙ্কর ও হৃদয়বিদারক দুর্যোগ দুর্বিপাকের অদৃশ্যপূর্ব ঘটনাবলীর জন্ম দিয়েছে। জাপান,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো প্রযুক্তিগত এবং আর্থিক দিক দিয়ে উন্নত ও এগিয়ে থাকা দেশগুলোতে পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে তারা এখন হিমশিম খাচ্ছে। আর এ কারণে ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে, এমনকি ভারতেও পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের বিপক্ষে জনমত সংগঠিত হয়েছে। পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ব্যবহৃত ইউরোনিয়াম মাইনিং , পরমাণু রিঅ্যাক্টার নির্মাণ, টাওয়ার শিতলীকরণ, পরমাণু বর্জ্যরে পরিবহন ইত্যাদি বিষয়গুলো আমলে নিলে পরমাণূ বিদ্যুৎ কেন্দ্র বায়ুমন্ডল, পরিবেশ ও প্রাণীকূলের ক্ষতি করে সে বিষয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে এখন আর কোনো সন্দেহ নেই। জন উইলিয়াম এবং ফিলিপ স্মিথ ২০০৪ সালে এক গবেষণায় দেখিয়েছেন, একটি আধূনিক প্রাকৃতিক গ্যাস ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের তুলনায় একটি পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরণ করে মাত্র তিন ভাগের এক ভাগ। তাছাড়া পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কার্বন ডাইঅক্সাইড থেকে কয়েক হাজার গুণ ক্ষতিকর সিএফসি অর্থাৎ ক্লোরোফ্লোরোকার্বন নিঃস্বারিত হয়, যাকে মনট্রিল প্রটোকলে পরিবেশ দূষণের দায়ে আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এছাড়াও পরমাণু রিঅ্যাক্টের প্রতিবছর বায়ুমন্ডলে ও পানিতে প্রায় মিলিয়ন কুরি (তেজস্ক্রিয়তার একক) তেজস্ক্রিয়তা ছড়ায়। রিঅ্যাক্টের আশেপাশে বসবাসকারী কোনো মানুষ তার নিঃশ্বাসের সঙ্গে এটা গ্রহণ করলে,তা তার ফুসফুসের মাধ্যমে প্রজনন অঙ্গসহ দেহের চর্বিযুক্ত টিস্যুগুলোতে স্থানান্তরিত হতে পারে। এভাবে ত্বক, ফুসফুস এবং পরিপাকতন্ত্রের মাধ্যমে মানুষের দেহে প্রবেশ করে নানা বিপর্যয়ের সৃষ্টি করতে পারে। ২০০৮ সালে জার্মান সরকার তার বাণিজ্যিক ১৬টি পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আশপাশে বসবাসকারী শিশুদের উপর যে গবেষণা চালায়,তাতে দেখা যায়, পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দিকে যতোই যাওয়া যায়,শিশুদের দেহে ক্যান্সার বিশেষত লিউকোমিয়া আক্রান্তের ঝুঁকি ততো বাড়তে থাকে। গবেষণায় দেখা যায়, পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আশপাশে বসবাসকারী মানুষজনদের স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর হার প্রতি লাখে ২৬ থেকে ২৮ জন। যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি বিভাগের গবেষণায় দেখা গেছে, সবচেয়ে পুরনো পরমাণু কেন্দ্রগুলোর আশপাশে স্তন ক্যান্সারজনিত মৃত্যুহার ১৯৫০৫৪ থেকে ১৯৮৫৮৯ সময়কালে বেড়েছে ৩৭ শতাংশ, যেখানে পুরো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে গড়ে বেড়েছে মাত্র ১ শতাংশ।

১৯৮৬ সালে ২৬ এপ্রিল তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের কিয়েব শহরের চেরনোবিলে, ১৯৮৯ সালের ২৮ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রে পেনসিলভেনিয়ার থ্রি মাইল আইল্যান্ডে পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের যে ভয়াবহ বিস্ফোরণ এবং দুর্ঘটনা ঘটেছিল, তার প্রতিক্রিয়া দীর্ঘদিন চলছে। ২০১১এর প্রথমদিকে জাপানের ফুকোসিমায় যে ভয়াবহ বিপর্যয় দেখা দেয় তার প্রতিক্রিয়াও সে দেশটিকে বইতে হবে বহু বছর। ১৯৮৬ সালের চেরনোবিল দুর্ঘটনার পর সবাই ধরে নিয়েছিল পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দিন হয়তো এবার ফুরালো। জার্মানির নতুন পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ শুধু বন্ধই করেনি সঙ্গে সঙ্গে একে একে বন্ধ করে দিচ্ছে মেয়াদউত্তীর্ণ কেন্দ্রগুলো। বেলজিয়াম, তাইওয়ান, জাপানও ক্রমে সরে গেছে পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদন থেকে। এমনকি বিদ্যুতের শতকরা ৭৭ ভাগ পরমাণু শক্তি থেকে পাওয়া ফ্রান্সের জনগণ সে দেশের পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বন্ধ করার জন্য সরকারকে চাপ দিচ্ছে এবং সে দেশের সরকারও এ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। ব্রাজিলের পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ২০০০ সালের মে মাসে হাজার হাজার গ্যালন তেজস্ক্রিয় লোনা পানি প্ল্যান্ট থেকে বাইরে ছড়িয়ে পড়ে। আর এর ফলে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়ে যায় বিপুল সংখ্যক মানুষ। যদিও দুর্ঘটনার খবরটি চার মাস গোপন রাখা হয়েছিল। জাপানের বিপর্যয়ের পর জার্মানি বেশ কিছু পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ করে দিয়েছে। ফ্রান্স, ফিলিপাইনসহ কিছু দেশ পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন বন্ধ করে দিয়েছে। এভাবে পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের যে ঝুকি,সে ঝুকি থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে বিশ্বের বহু দেশ।

পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যগত সমস্যা এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতার প্রশ্নটি উল্লেখযোগ্য। প্রযুক্তিগত এবং আর্থিক দিক দিয়ে উন্নত দেশগুলোর বিপর্যয় দেখার পরেও বাংলাদেশ রাশিয়া থেকে ঋণ নিয়ে পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বাড়তি বিপদ ডেকে এনেছে। আর এর মাধ্যমে দরিদ্র এদেশটি জড়িয়ে পড়লো বিশাল বৈদেশিক ঋণ এবং শর্তের জালে। পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বাড়তি বিপদ হলো এর ক্রমাগত আর্থিক ব্যয়। এ বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য এককালীন বিনিয়োগের পরিমাণ বিশাল। দিনে দিনে এ অর্থের পরিমাণ বাড়তেই থাকবে। পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য বাংলাদেশ সাপ্লাইয়ার্স ঋণ নিয়েছে। এ পর্যন্ত বাংলাদেশসহ যে সব দেশ সাপ্লাইয়ার্স ঋণ বা বিভিন্ন দাতাদের কাছ থেকে ঋণের মাধ্যমে প্রকল্প হাতে নিয়েছে, সেখানেই ক্ষমতাসীনরা বেশি লাভবান হয়েছে, আর জনগণ হয়েছে আরো বেশি ঋণগ্রস্ত। কিন্তু বিনিময়ে জনগণ নিরাপদ, নিশ্চিত বিদ্যুৎ সরবরাহ পেয়েছে, তা কিন্তু নয়। ব্রাজিলের উদাহরণ যদি দেখা যায়, তাহলে দেখা যাবে, ১৯৭০ সালে রিওডি জেনিরোতে তাদের প্রথম পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩২ কোটি মার্কিন ডলার। ১৯৮৩ সালে নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ার পর এর নির্মাণ ব্যয় দাঁড়ায় ২১০ কোটি ডলারে। এভাবে তাদের দ্বিতীয় পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণ ব্যয় ১৬০ কোটি ডলার ধরা হলেও ১৮ বছর পরে এর ব্যয় দাঁড়ায় ১ হাজার কোটি ডলারে। ফিলিপাইনে ১৯৭৬ সালের ফেব্র“য়ারিতে ৭০ কোটি ডলার খরচে দুটি পরমাণু কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। ১৯৯২ সালের শেষে এই প্রকল্পের খরচ দাঁড়ায় ২৫০ কোটি ডলার। সঙ্গে সঙ্গে ফিলিপাইন সরকার একটি তদন্ত কমিশন গঠন করে এবং এ কমিশন বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ৪ হাজার ত্র“টি খুজে পায়। ওই কমিশন বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিকে অপারেশনে যাওয়ার জন্য অনুপযোগী বলে ঘোষণা করে। ফিলিপাইনের আরো একটি প্রকল্পে এভাবে ব্যয় বৃদ্ধির ঘটনা ঘটেছে যা শেষ পর্যন্ত দেশটিকে পাঁচ হাজার কোটি ডলারের ঋণ কাঁদে নিতে বাধ্য করেছে।

ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক এনার্জি এজেন্সির (আইএইএ) ২০০১ সালে এক সমীক্ষায় দেখা যায়, পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রে এক কিলোওয়াটে বিদ্যুৎ উৎপাদনে যেখানে ব্যয় দাঁড়ায় কমপক্ষে ২ হাজার ডলার। সেখানে কয়লাতে পরে ১ হাজার ২শ ডলার। ২০০৩ সালে এমআইটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়লা, ও প্রাকৃতিক গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুতের চেয়ে পারমাণবিক বিদ্যুৎ অনেক গুণ বেশি ব্যয় সাপেক্ষ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন বিভাগ বলছে, যদি নতুন জেনারেশনের পরমাণু চুল্লি তৈরি করা যায়, তার খরচ হবে গ্যাস, কয়লা ও বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চেয়ে ২ থেকে ৪ গুণ বেশি। এছাড়া ইউরেনিয়ামের দাম বাড়ার বিষয়টি তো রয়েছেই।

আরেকটি বিষয় এক্ষেত্রে উল্লেখ করা প্রয়োজন, অত্যধিক খরচ, দুর্ঘটনার ঝুকি ছাড়াও পারমাণবিক বিদ্রুৎ কেন্দ্রের তেজস্ক্রিয় বর্জ্য পদার্থ সংরক্ষণ ক্ষা তা কিভাবে সরিয়ে ফেলা হবে তা একটি বড় সমস্যার বিষয়। ১৯৭৮ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ২০০০ সালের মধ্যে চারশটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। ১৯৭৮ সালের পর থেকে সে দেশে ১২০টি চুল্লি স্থাপনের প্রস্তাব ও পরিকল্পনা বাতিল করা হয়েছে। বাতিল করার কারণ হিসেবে অত্যধিক খরচ ও ঝুকির পাশাপশি তেজষ্ক্রিয় বর্জ্য সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া অত্যন্ত ব্যয় সাপেক্ষ বলে বেশ কয়েকটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

বিভিন্ন তথ্যমতে, সুইডেনে শেষ পরমাণু চুল্লি নির্মাণের কাজ হয়েছিল ১৯৮৫ সালে। স্পেনে ১৯৮৮, জার্মানিতে ১৯৮৯ এবং ইংল্যান্ডে ১৯৯৫ সালে। ১৯৮৯ সালে জার্মান সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, সে দেশের সবকটি চুল্লি পর্যায়ক্রমে বন্ধ করে দেয়া হবে। ২০০০ সালের মধ্যে ফ্রান্সে ২০০টি পরমাণু চুল্লি চালু হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে চালু চুল্লির সংখ্যা ৫০টির বেশি নয়।

২০১২ সালের ২২ মে সায়েন্স ডেইলি এক সংবাদ নিবন্ধে বলেছে, পশ্চিম ইউরোপ বড় মাত্রায় পারমাণবিক দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে রয়েছে। নিবন্ধে আরো বলা হয়, প্রতি ১০ থেকে ২০ বছরে বড় ধরনের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুর্ঘটনার সম্ভাবনা রয়েছে।

তাহলে প্রাথমিক পর্যায়ে আট হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আরো বহুগুণ টাকা খরচ করে এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কেন পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতো এত বড় একটি অর্থ ব্যয় সাপেক্ষ এবং ঝুকিপূর্ণ পথে যাচ্ছে? যেখানে এক সময়ে জার্মানি পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উপরে অতিমাত্রায় নির্ভরশীল ছিল, সে জার্মানিই ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে যে, তারা ২০৩০ সালের মধ্যে কোন পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র রাখবে না। জাপান সাম্প্রতিক বিপর্যয়ের পরে ২০৫০ সাল নাগাদ সব পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ করার সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে নিয়ে ফেলেছে। ভূমিকম্প ঝুঁকির কারণে জাপানে অবস্থিত বিশ্বের সবচেয়ে বড় পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র একেবারে বন্ধ করে দেয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম। অব্যাহত ভুমিকম্প ঝুঁকির কারণে জাপানের পরমাণু নজরদারি কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক সুপারিশের ভিত্তিতে হুমকির মুখে থাকা এ পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ করে দেয়া হতে পারে।

বিদ্যুৎ বিশেজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় খাতে যে একত্রিশটি কেন্দ্র রয়েছে তার পেছনে মাত্র ১৩শ কোটি টাকা খরচ করলে এবং কিছু লোকবল বাড়ালে ২১শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হতো। বর্তমানে গ্যাসের অভাবে এক হাজার মেগাওয়াট এবং বিদ্যমান বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো মেরামত না করায় ১১শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছে না। বিশেষজ্ঞ বি ডি রহমতউল্লাহ বলেন, সর্বোচ্চ ৩শ কোটি টাকা ব্যয় করে মেরামতী কাজ সম্পন্ন করলে রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো থেকে ১১শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যেতো। আর বাপেক্সকে সর্বোচ্চ ১ হাজার কোটি টাকা এবং লোকবল শ দেড়েক বাড়ালে গ্যাস সরবরাহের মাধ্যমে ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যেতো। অথচ হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে (ভবিষ্যতে যার ব্যয় আরো বাড়বে) মাত্র ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। তিনি বলেন, একই অর্থ ব্যয়ে ডিজেল বা গ্যাসচালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করলে ১ হাজার ৭শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। কিন্তু সরকার সে পথে না গিয়ে ‘সুনির্দিষ্ট কারণেই’ রাশিয়া থেকে ঋণ এনে পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করছে। বি ডি রহমতউল্লাহ আরো বলেন, সরকার কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো স্থাপনের কারণে ইতোমধ্যে ৬০ হাজার কোটি টাকা বেশি গচ্চা দিয়েছে। এই ৬০ হাজার কোটি টাকা রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্যয় করলে কতো মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যেতো?

এ সব প্রশ্নের প্রেক্ষাপটে এ প্রশ্নটি খুবই স্বাভাবিক কি মতলব হাসিলের জন্য পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন সরকারের জন্য জরুরি হয়ে পড়লো? এছাড়া আরেকটি বিষয় মনে রাখতে হবে যে, বাংলাদেশের ভৌগোলিক এবং জনসংখ্যা ঘনত্বের কারণে পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য মোটেই উপযোগী নয়। বাংলাদেশের মতো একটি দরিদ্র দেশে পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কোন দুর্ঘটনায় যে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটতে পারে তা সামাল দেয়া এ দেশটির পক্ষে কোনোক্রমেই সম্ভব নয়। যেখানে জার্মানি, ফান্স, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ আর্থিক এবং প্রযুক্তির দিক থেকে এগিয়ে থাকা দেশগুলো পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ করে দিচ্ছে এবং নতুন কোন স্থাপনার দিকে যাচ্ছে না, সেখানে বাংলাদেশ কেন এক ভয়াবহ ঝুঁকির দিকে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ আমাদের প্রয়োজন এটা ঠিক, কিন্তু তা মানুষের জীবনের বিনিময়ে নয়।।