Home » সাক্ষাৎকার » সাক্ষাৎকার – রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর

সাক্ষাৎকার – রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর

আওয়ামী লীগ কী কী করছে, জনগণ তা দেখছে এবং তার ফল পাচ্ছে।

আগামী নির্বাচনে জনগণ তার রায় জানাবে

titumir-1রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, গবেষণা প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন অন্বেষনের চেয়ারপারসন। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক গতিপ্রকৃতি, বিনিয়োগ ও অকাঠামো পরিস্থিতি, জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি, সরকারের প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নসহ নানা বিষয়ে আমাদের বুধবারকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন।

আমাদের বুধবার: দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কীভাবে মূল্যায়ন করেন?

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর: শ্রমশক্তির সৃজনশীলতায় ও টিকে থাকার অর্থনৈতিক বাধ্যবাধকতায় গত দু’দশক ধরে ধারাবাহিকভাবেই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ছিল। ইদানিং বাংলাদেশ গড়ে ছয় শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনে সমর্থ হয়েছে। বর্তমানে প্রবৃদ্ধির গতি ধরে রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্বিতীয়ত: বাংলাদেশে প্রতি তিনজনের একজন দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করে। সাম্প্রতিক সময়ে দারিদ্র কমছে কিন্তু দারিদ্র কমার হারও কমে গেছে। সরকারি হিসেবে ৫ কোটি মানুষ দারিদ্রসীমার নিচে বাস করে। তৃতীয়ত: কর্মসংস্থান উপযোগী বিরাট জনশক্তি বাজারে আসছে। কিন্তু সে অনুযায়ী তাদের উপযোগী কর্মের সৃষ্টি হচ্ছে না। এতে বেকারত্ব, বিশেষ করে, ছদ্ম বেকারত্ব বাড়ছে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশে তিনটি কাঠামোগত সমস্যা রয়েই গেছে। সব সময় আমাদের অর্থনীতিতে বৈষম্য বিরাজ করছিল। এটা দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। দ্বিতীয়ত, জোরজবরদস্তি করে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সম্পদ আহরণ করা হচ্ছে। আগেও ছিল, এখনো আছে, বেড়ে যাচ্ছে। তৃতীয় চ্যালেঞ্জ হলো নীতি নির্ধারণগত। বাংলাদেশের অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি যেভাবে পরিবর্তন হয়েছে, এ দেশের নীতিনির্ধারকরা সে হারে এগোতে পারেননি। এটি পুরনো অবস্থায়ই রয়ে গেছে। এখনও যারা দেশের নীতিনির্ধারণ করছেন, তারা ‘বাংলাদেশ ইজ এ বাস্কেট কেস’ আমলের লোক। উদাহরণ স্বরুপ, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ১ বিলিয়ন ডলার বড় বিষয় না হলেও আইএমএফের কাছ থেকে ঋণ নিতে গিয়ে সরকার বার বার হেনস্তা হচ্ছে। নীতি তৈরির স্বাধীনতা হারাচ্ছে। যে সকল নীতি গ্রহণ করছে, তা’ অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা ব্যহত করছে। অথচ এই টাকা এক মাসের রেমিট্যান্স প্রবাহের সমান। রফতানির বিষয়টি চিন্তা করলে, ১৫ দিনের সমপরিমাণ। তারপর আইএমএফ দিচ্ছে প্রতিবার ১৪১ মিলিয়ন ডলার করে। বাংলাদেশ যেভাবে এগোচ্ছে, সেখানে সুদুরপ্রসারী চিন্তাভাবনার ঘাটতি রয়েছে। কিন্তু সম্ভাবনা রয়েছে অনেক। নানা সমস্যার মধ্যেও দেশটি এগিয়ে চলেছে। এ কারণে বিদেশীরা এবং তাদের দোষররা মাঝে মধ্যে আশ্চর্য হন। ইকোনোমিস্টের মতো পত্রিকা লেখে, বাংলাদেশ একটি অমিমাংসিত বিস্ময়। কারণ তাদের মাথায় তো বাস্কেট কেসের বিষয়টি রয়েই গেছে।

আমাদের বুধবার: সাম্প্রতিক অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে আসছে। এর কারণ কি বলে মনে করেন?

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর: প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে বা এর হার বাড়াতে হলে বিনিয়োগ অনেক বাড়াতে হবে। বিনিয়োগ বাড়ছে না এবং সঞ্চয় ও বিনিয়োগের মধ্যে এখনো বড় ব্যবধান রযেছে। সঞ্চয় যদি বিনিয়োগে না যায়, তবে প্রবৃদ্ধি হবে না। মুদ্রানীতিতে সমস্যা থাকায় বিনিয়োগ বাড়ছে না। সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির কারণে সুদের হার বেড়ে যাচ্ছে। এতে বিনিয়োগযোগ্য তহবিলের খরচ বাড়ছে। স্বাভাবিকভাবে বিনিয়োগ কমে, প্রবৃদ্ধি কমে আসছে।

আমাদের বুধবার: প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে রাজস্ব নীতি কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখছে?

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর: বর্তমানে অদূরদর্শী নীতির কারণে রাজস্ব ঘাটতি বাড়ছে। অর্থনীতির অনেক অপ্রয়োজনীয় জায়গায় ভর্তুকির নামে অর্থের অপচয় হচ্ছে। কুইক রেন্টালে ব্যাপক ভর্তুকি দেয়া হচ্ছে। এতে সরকারি ব্যাংক ঋণ বাড়ছে এবং ঋণ বাবদ অনেক টাকা পরিশোধ করতে হচ্ছে। এতে সামাজিক খাতে বিনিয়োগ কমে আসছে। অন্যদিকে, বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ কমছে। এতে সামষ্টিক অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা কঠিন হয়ে পড়ছে।

আমাদের বুধবার: মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি ও রফতানি কমে এসেছে। এর কারণ কি হতে পারে?

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর: আইএমএফের ঋণ পেতে তিন বছরের সংস্কার কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংক সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি হাতে নিয়েছে। এতে আমদানি হ্রাস পাচ্ছে। বিশেষ করে, কাঁচামাল, মধ্যবর্তী পণ্য ও মূলধনী যন্ত্রংশের আমদানি কমে এসেছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বিনিয়োগে। একইভাবে, রফতানির গন্তব্য সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে। রফতানি পণ্যের তালিকাও তেমন বড় নয়। সে কারণে কাঙ্খিত হারে রফতানি বাড়ছে না। যুক্তরাষ্ট জিএসপি নিয়ে আর্থরাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেতে নানারকম তদবির চালানো হলেও কোনো কাজে আসছে না, বরং তারা বিদ্যমান জিএসপি সুবিধা বাতিলের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে ।

আমাদের বুধবার: বিনিয়োগ পরিস্থিতিকে কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর: বিদ্যুৎগ্যাস সংকটের সঙ্গে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা যুক্ত হওয়ায় বিনিয়োগ কমে গেছে। সংকোচনমূলক মুদ্রানীতিও এক্ষেত্রে বড় প্রভাব ফেলছে। দেশীবিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য সুষ্ঠু পরিবেশ একটি বিষয়। উচ্চ প্রবৃদ্ধির জন্য উচ্চ বিনিয়োগ দরকার। বিনিয়োগ হতে হবে উৎপাদনশীল ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিনির্ভর খাতে। শিল্প এক্ষেত্রে প্রাধান্য পাবে।

আমাদের বুধবার: বিদ্যুতে সরকারের সাফল্য কতটা?

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর: রেন্টাল ও কুইক রেন্টালের মাধ্যমে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের সুযোগ জোগাতে গিয়ে বিদ্যুৎ খাতে সরকারের বিনিয়োগ বাড়ছে না। সাম্প্রতিক সময়ে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী বাস্তবায়নেও পিছিয়ে রয়েছে এ খাত। ভর্তুকি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। আবার উচ্চদামে এসব কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কিনছে সরকার। এর চূড়ান্ত অভিঘাত জনসাধারণের ওপর পড়ছে । সরকার বিদ্যুতের দাম দফায় দফায় বাড়াচ্ছে। জনসাধারণ বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনতে বাধ্য হচ্ছে। কৃষি থেকে শিল্প সব পণ্যের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় দামও বাড়ছে। এতে মূল্যস্ফীতি চাঙ্গা হচ্ছে। প্রশ্ন হলো, কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র কেন স্থাপন করা হলো? তার ফলেই এখন মূল্যস্ফীতি হচ্ছে ,এর ফলেই বাজেট ঘাটতি বাড়ছে। যারা বলেছিল, এটি স্বল্পমেয়াদী সংকট মেটানোর মাধ্যম, তারা আসলে কাঠামোগত বিষয় জনগণকে জানাননি। বেসরকারি খাতকে উচ্চ মুনাফার লোভ দেখিয়ে বিনিয়োগ আকর্ষণ করানো হলে রেন্টসিকিং বন্ধ হবে না, বরং তা চলবে। এটা শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বের সব জায়গায়ই হয়। ফিলিপাইন ও পাকিস্তানে এমন উদাহরণ রয়েছে। রেন্টসিকিং একবার শুরু হলে, তা চলবে ।

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী বাস্তবায়নে পিছিয়ে রয়েছে বিদ্যুত খাত। যেখানে ছোট পাওয়ার প্লান্ট স্থাপন করে অধিক মুনাফা লাভ করছে, সেখানে কম মুনাফা পাওয়া যায় এমন বড় পাওয়ার প্লান্ট নির্মাণে উদ্যোগী না হওয়াটাই স্বাভাবিক। সরকার একটি চক্রের মধ্যে পড়ে গেছে। ফলে সবগুলোর রেন্টাল পাওয়ার প্লান্ট ও কুইক পাওয়ার প্লান্টের মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে।

আমাদের বুধবার: কৃষিখাতে সাফল্য দাবি করে আসছে সরকার। বিষয়টিকে একটু ব্যাখ্যা করবেন কি?

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর: বাংলাদেশ বর্ধিষ্ণু অর্থনীতির দেশ। বাংলাদেশের শ্রমশক্তি প্রতিনিয়ত বাড়ছে। শ্রমিকদের ওপর নির্ভর করেই প্রবৃদ্ধি অর্জিত হচ্ছে। বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করার নীতিমালা, সংকোচন, আমদানি কমানোর নীতিমালা কাম্য নয়। জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে, কৃষকের কষ্ট বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে । জ্বালানির দাম বাড়ায় উৎপাদন খরচ আরো বেড়ে যাবে। গত বছর ফসল ভালো হলেও, দাম ভালো না হওয়ায়, কৃষকের উৎপাদন খরচ ওঠেনি। চলতি বছর তেলের দাম বাড়িয়ে দেয়ায় সেচের অভাবে কৃষিজমিতে চাষাবাদ কমে যেতে পারে। এর ফলে খাদ্য নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়তে পারে।

আমাদের বুধবার: সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করা। এক্ষেত্রে অগ্রগতি কেমন?

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর: মধ্যম আয়ের দেশ নয়, আমাদের উচ্চ আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোতে হবে। তবে তার সামর্থ্য আমাদের রয়েছে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে হলে, প্রায় ৮১০ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজনীয় নীতি নির্ধারণ সামর্থ্য আছে কিনা, তা ভাবতে হবে। কারণ, কাঙ্খিত প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে জিডিপির প্রায় ৩৫৪০ শতাংশ অর্থ বিনিয়োগ করতে হবে। সেই হিসাবে, আগের হার অর্জন করতে পারছে না। বর্তমানে প্রবৃদ্ধির হার না বেড়ে, বরং কমে আসছে। সরকার চলতি অর্থবছরের জন্য ৭ দশমিক ২ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধির যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, তাও অর্জন হবে না। তাছাড়া স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে অনেক দেশেই আমরা রফতানির ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেয়ে থাকি। স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বিশ্বব্যাংকের আইডিএ থেকে নামমাত্র সুদে ঋণ পাওয়া যায়। সরকার এই আপৎকালীন অবস্থা কিভাবে ম্যানেজ করবে, তা নিয়ে কোন প্রয়োজনীয় ভাবনা চিন্তাও লক্ষ্য করছি না। পরিপ্রেক্ষিত পরিকল্পনা বা পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় এ বিষয়ে কোন ভাবনাচিন্তা বা দিকনির্দেশনা নাই। এ পরিস্থিতি নিয়ে প্রয়োজনীয় চিন্তা ভাবনা, দিকনির্দেশনা, কার্যপরিকল্পনা না নিয়ে এবং দেশের সত্যিকারের উন্নয়ন না হলে, নিজেদের মধ্যম আয়ের দেশ ঘোষণা দেয়া ঠিক হবে না।

আমাদের বুধবার: রাশিয়ার কাছ থেকে অস্ত্র কেনার বিষয়টিকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করেন?

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর: চিন্তা করতে হবে, আসলে আমাদের কী ধরণের নিরাপত্তা ব্যবস্থা দরকার। একটি দেশে প্রতিরক্ষা নীতি ও নিরাপত্তা কাউন্সিল থাকে। এর আলোকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বাংলাদেশে প্রতিরক্ষা নীতি ও কাউন্সিল নাই। অর্থাৎ কাঠামোগত এ সমস্যা দূর করতে হবে। দেশে পরিবর্তন হয়েছে। বাংলাদেশ স্বাধীন একটি দেশ। তাই এখানে অনেক কিছু লাগবে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, আমাদের শিল্প গোয়েন্দা কোথায়? জলবায়ু পরিবর্তন, এসব বিষয়ের কী হবে? যদিও আমরা মনে করছি এটি পরিবেশগত ব্যাপার। বাস্তুচ্যুতি তো এটি কৌশলগত ব্যাপারও। প্রতিরক্ষা কাঠামো যদি দাঁড়িয়ে যায়, তাহলে স্বচ্ছতা এমনিই আসবে। প্রতিরক্ষা বিষয়ের স্বচ্ছতার ধরণ আলাদা। সে ব্যবস্থা মানা উচিত। সেটা ইন ক্যামেরা বা ক্লাসিফাইড, যে কোনোটি হতে পারে। তবে সেখানে স্বচ্ছ প্রক্রিয়া থাকতে হবে। অন্যদিকে সরবরাহকারীদের অর্থায়ন প্রক্রিয়া নিয়েও ভাবতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, অস্ত্র কেনার সময় এটি যেন জাঙ্ক না হয়ে যায়। অস্ত্র চালানোর জন্যও তো যন্ত্রপাতি লাগবে, মেরামত সহায়তা কে জোগাবে প্রভৃতি। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কোত্থেকে আসবে? এ ব্যাপারে কোনো হিসাবনিকাশ করা হয়েছে কিনা, আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।

আমাদের বুধবার: সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পরিস্থিতিকে কীভাবে মূল্যায়ণ করবেন?

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর: আগের নির্বাচন থেকে বর্তমান নির্বাচনের একটা গুণগত পার্থক্য আছে। তা’ হলো, অতীতে নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলো জনগণকে কথামালার প্রতিশ্রুতি দিত, ক্ষমতায় গেলে তারা কী করবে। এবার আওয়ামী লীগ তার মেনিফেস্টোতে বলেছে, কোন সালে কী কী বাস্তবায়ন করবে। অর্থাৎ সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। এটিকে যে যেভাবেই দেখুক, আওয়ামী লীগ কী কী করছে, জনগণ তা দেখছে এবং তার ফল পাচ্ছে। আগামী নির্বাচনে জনগণ তার রায় জানাবে।।