Home » অর্থনীতি » দেশের জনগণ নয়, ভারতের স্বার্থই যেখানে মুখ্য

দেশের জনগণ নয়, ভারতের স্বার্থই যেখানে মুখ্য

শাহাদত হোসেন বাচ্চু (খুলনা থেকে)

coal power-1কৃষি ও মাছ চাষের স্বর্গভূমি রামপাল, উপকূলের রক্ষা কবচ একক বৃহত্তর ম্যানগ্রোভ সুন্দরবনের ভয়াবহ প্রতিবেশগত সংকটাপন্নতা, সর্বোপরি আড়াই হাজার পরিবারের ভিটামাটি থেকে উচ্ছেদ হওয়া কোন কিছুই বিবেচনায় নিতে রাজী নয় সরকার। কয়লাভিত্তিক বিুদ্যৎ কেন্দ্র নির্মাণে সরকারের অনড় অবস্থান রাষ্ট্রজনগনের সকল স্বার্থের বিপরীতে দাঁড়িয়ে গেছে। সরকার এ বিষয়ে এতোটাই স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে যে, ভারতের বিদ্যুৎ সচিব উমা শংকর’র রামপাল সফরের আগের দিন ২৯ জানুয়ারি চুলকাঠিতে তেলগ্যাসখনিজ সম্পদ ও বিুদ্যৎবন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি এবং স্থানীয় জনগণের প্রতিবাদ সমাবেশ পুলিশী হামলায় পন্ড হয়ে যায়। সমাবেশকারীরা জানান, পুলিশের নির্দয় লাঠিচার্জে ১৬ জন আহত হয়।

৩০ জানুয়ারি ভারতের বিদ্যুৎ সচিব উমা শংকর রামপালের সাপমারী এলাকায় নির্মাণাধীন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এ সময় তার সাথে ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা, জ্বালানী উপদেষ্টা, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী, বিদ্যুৎ সচিব, পরিবশে অধিদপ্তরের মহাপরিচালয়, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশের ভারতীয় হাই কমিশনার।

নির্মানাধীন বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনকালে উমা শংকর সাংবাদিকদের বলেন, ‘এখানে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপিত হলে সুন্দরবনের ওপর কোন ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে না, কারণ এই কেন্দ্রের চুল্লির উচ্চতা হবে ২৫০ মিটার।’ তার মতে, সুন্দরবনের বাফার পয়েন্ট থেকে ১৪ কিলোমিটার দুরে স্তাপিত এই কেন্দ্রে আধুনিক পদ্বতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে, পরিবেশ দূষন হবে কম। ফলে সুন্দরবনের ক্ষতির সম্ভাবনা নেই। প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানী উপদেষ্টা ড. তৌফিকএলাহী চৌধুরী এখানে বলেন, ‘বাংলাদেশভারতের মধ্যে শুধু সুসম্পর্কই নয়,এই তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র একটি বিশাল স্বপ্নের বাস্তবায়ন। এ বছরের এপ্রিল নাগাদ বাংলাদেশভারতের দুই প্রধানমন্ত্রী এর নির্মান কাজ উদ্বোধন করবেন। ২০১৬ সাল নাগাদ এর নির্মান কাজ সম্পন্ন হবার পরে এই এলাকা হবে দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলের প্রাণকেন্দ্র।’

২৯ জানুয়ারি পুলিশী এ্যাকশনে বাগেরহাট জেলার রামপালে কৃষি জমি রক্ষা সংগ্রাম কমিটি, পরিবেশবাদী সংগঠন এবং জনগনের প্রতিবাদ সমাবেশ কর্মসূচি পন্ড হয়ে যাবার প্রতিবাদে পরের দিন গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা রামপাল শহীদ মিনার চত্বরে সমাবেশ করে। নেতৃবৃন্দ পুলিশি লাঠিচার্জের তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে রামপালে কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মান প্রকল্প বাতিলের দাবি জানান। নেতৃবৃন্দ এই প্রকল্প বাতিলের দাবিতে স্থানীয় জনগণকে সাথে নিয়ে আগামী ৯, ১০, ১১ মার্চ রামপাল অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচির ঘোষনা দেন। একই দিন তেলগ্যাসখনিজ সম্পদ ও বিুদ্যৎবন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি রামপালে পুলিশি হামলার প্রতিবাদে খুলনা মহানগরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশে নেতৃবৃন্দ সুন্দরবন ধ্বংস ও কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মানের অসম চুক্তি বাতিলের দাবি জানান।

রামপাল কৃষি জমি রক্ষা সংগ্রাম কমিটির সভাপতি সুশান্ত দাস জানান, স্থানীয় জনগনের হাজার হাজার বিঘা কৃষি জমি খাস দখল করে তাপ বিদুৎ কেন্দ্র বাতিলের দাবিতে তারা ২০১১ সাল থেকে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে আসছেন। জমি রক্ষায় তারা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলে আবেদননিবেদন জানিয়ে আসছিলেন। সরকার জনগনের এসব দাবিনিবেদন অগ্রাহ্য করে ভূমি আগ্রাসনে সব রকম তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। তারা আরো বললেন,এটি তাদের জীবনমরন প্রশ্ন। যে কোন মূল্যে জমি তারা রক্ষা করবেন। সেজন্য তারা রক্ত দিতেও প্রস্তত বলে জানালেন। তিনি আরে বলেন, সুন্দরবন ধ্বংস ও কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মানের অসম চুক্তি বাতিলের দাবিতে তারা এখন এলাকার জনগণ এবং সকল শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষদের নিয়ে গণ আন্দোলন গড়ে তুলবেন।

কৃষি জমি রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ আরো বলেছে, সরকার দক্ষিন আফ্রিকায় জমি লিজ নিয়ে কৃষি কাজ করার উদ্যোগ নিয়েছে। অথচ দেশের হাজার হাজার একর আবাদী জমি অধিগ্রহন করে প্রকল্প স্থাপনের করছে। এটি সরকারের জনগনের বিপক্ষে দ্বৈতনীতির বহি:প্রকাশ বলে তারা মনে করছেন। তারা আরো দাবি করেন, আমরা উন্নয়নের বিপক্ষে নই। বিমান বন্দর, রেল লাইন স্থাপনের জন্য জমি দিলেও বছরের পর বছর এসবের বাস্তবায়ন ঝুলে রয়েছে। অন্যদিকে এলাকাবাসীর দেয়া জমিতে হাইওয়ে এবং ইপিজেড স্থাপিত হলেও ক্ষতিগ্রস্তদের পূনর্বাসন না করায় বহু পরিবার উদ্বাস্ত হয়ে গেছে।

ধান ও চিংড়ি সমৃদ্ধ রামপাল উপজেলার গৌরম্ভা ইউনিয়নে ১৮ হাজার একরের মধ্যে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মানে ইতিমধ্যেই ১৮৩৪ একর জমি অধিগ্রহন করা হয়েছে। এর মধ্যে খাস জমি মাত্র ৮৬.১৬ একর বাদে বাকী সবটাই ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি। সহস্রাধিক মানুষ ছিল এই জমির মালিক। আলাপকালে কৃষকদের পক্ষ থেকে মইনুল হক বাবু, শামীম শেখ, সিরাজ গাজী প্রমুখ জানান, আড়াই হাজার পরিবার উদ্বাস্ত হয়ে গেছে। কারণ হিসেবে তারা জানান, প্রস্তাবিত প্রকল্পের বিশাল এলাকার মধ্যে ছিল বসতবাড়ি, ধানী জমি, চিংড়ি প্রকল্প, গরুমোষ প্রজনন খামার, দুগ্ধ খামার, মসজিদ, মাদ্রাসা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ নানাবিধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। তারা দাবি করেন, রুটিরুজির সংস্থানসহ বাপদাদার ভিটেমাটিসহ সব হারিয়েছেন তারা।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মৌসুম ধরে এখানে আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। বিঘা প্রতি এর পরিমাণ ১৮ থেকে ২০ মন। মইদারা ও পশুর নদীর কারণে এখানে ধান ও মাছের বাম্পার উৎপাদন হয় প্রতিবছর। রামপাল উপজেলা কৃষি অফিসের দেয়া তথ্যানুযায়ী, গত ১০ বছরে এখানে আমন ধানের গড় উৎপাদন একর প্রতি ২২ মন এবং একর প্রতি বাগদা চিংড়ি উৎপাদন ২৮৬ কেজি এবং গলদা ৫৭৪ কেজি। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে যা একটি বড় ভূমিকা রাখছে।

রামপাল উপজেলার সাপমারী কাটাখালি ও কৈগরদাসকাঠি এলাকায় যে কৃষি জমির কয়লাভিত্তিক বিুদ্যৎ কেন্দ্র নির্মিত হচ্ছে সেখানে বিগত ১০ বৎসরের বার্ষিক ধান উৎপাদনের পরিমাণ

বছর

কৃষি জমির পরিমাণ

আমন/বোরো

চাউল উৎপাদন

মন্তব্য

২০০০২০০১

২০০০ একর

৩৭০০ মে. টন

২০০১২০০২

২০০০ একর

৩৬৭২ মে. টন

২০০২২০০৩

২০০০ একর

৩৬১৮ মে. টন

২০০৩২০০৪

২০০০ একর

৩৫১০ মে. টন

২০০৪২০০৫

২০০০ একর

৩২৪০ মে. টন

২০০৫২০০৬

২০০০ একর

৩০২৪ মে. টন

২০০৬২০০৭

২০০০ একর

২৭০০ মে. টন

২০০৭২০০৮

২০০০ একর

২৮০৮ মে. টন

২০০৮২০০৯

২০০০ একর

২২৬৮ মে. টন

সিডরের কারণে উৎপাদন হ্রাস

২০০৯২০১০

২০০০ একর

১৬২০ মে. টন

আইলার কারণে উৎপাদন হ্রাস

সূত্রঃ উপজেলা কৃষি অফিস

এলাকার কৃষকদের সাথে আলাপকালে তারা অভিযোগ করেন, প্রকল্প সম্পর্কে তাদের বা এলাকার সাধারণ মানুষদের সরকারি পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানানো হয়নি। প্রকল্প প্রস্তাবনা অথবা কোন টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি আজ অবধি পত্রিকা বা কোথাও প্রকাশ করা হয়নি। ফলে হাজার হাজার একর দোফসলী কৃষি জমি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। প্রসঙ্গত: দোফসলী জমি হওয়ায় এখানে স্থাপিত প্রকল্পটি স্থানীয় ও জাতীয় স্বার্থ বিরোধী।

সরকার ইতিমধ্যেই জেল জরিমানার বিধান রেখে “কৃষি জমি সুরক্ষা ও ভূমি জোনিং আইন” তৈরি করেছে। নতুন এ আইনে কৃষি জমিতে বসতবাড়ি বা শিল্প কারখানাসহ যেকোন প্রতিষ্ঠান স্থাপনে সরকারের অনুমতি বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আইন অমান্যকারীর বিরুদ্ধে দু’বছরের কারাদন্ড এবং ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক দন্ডের বিধান থাকছে। খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা ও ভূমির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকার আইনটি প্রনয়ন করছে।

ভূমি সচিব পত্রিকান্তরে আশ্বস্ত করেছিলেন যে, সরকার কৃষি জমি সুরক্ষা ও ভূমি জোনিং আইনে দেশের যে এলাকা যে কাজের উপযোগী তাকে সেই জোনের আওতাভূক্ত করে সংরক্ষন করবে। তিনি আরো বলেছিলেন, সারাদেশে মোট ১১ টি বিষয়ের ভিত্তিতে ভূমি জোনিং করা হয়েছে। এগুলি সংরক্ষনের জন্য কমিটিও থাকবে। এরপর থেকে শুরু হবে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম। ভূমির বহুমাত্রিক ব্যবহার, প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য, এর অন্তর্নিহিত ক্ষমতা ও গুনাগুন অনুযায়ী কৃষি, মৎস্য, পশুসম্পদ, বন, চিংড়ি চাষ, শিল্পাঞ্চল, পর্যটন এবং প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র এলাকা ইত্যাদির ক্ষেত্রে পরিকল্পিত ও সুষ্ঠ ব্যবহার নিশ্চিত করতে এ আইনটি প্রনয়ন করা হয়েছে।

কৃষি জমিকে অকৃষি জমিতে পরিনত করার বিপক্ষে সরকারের কৃষি মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর রয়েছে কঠোর হুশিয়ারি। জানা গেছে, কৃষি জমি ব্যবহারের ওপর নীতিমালা তৈরি হয়েছে। একাধিক দৈনিকে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, ৫০ বিঘার উর্ধ্বে জমি অধিগ্রহন করতে হলে প্রধানমন্ত্রীর অনুমতির প্রয়োজন হয়। নিজ জমিতে কোন স্থাপনা করতে চাইলে স্থানীয় সরকারের অনুমতি নিতে হবে। এসব খবরে স্থানীয় জনসাধারনের মধ্যে উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।

ভারতীয় রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি এনপিটিসি’র ওয়েবসাইট ও বিভিন্ন গণমাধ্যম সূত্র জানাচ্ছে, মধ্যপ্রদেশের নরসিংহপুর জেলার ঝিকলি ও তুমরা গ্রামে এনপিটিসি রামপাল কেন্দ্রের মতোই ১০০০ একর জমির ওপর ৬৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ২টি ইউনিট নির্মানের প্রস্তাব দিয়েছিল। ভারতের পরিবেশ মন্ত্রনালয়’র এক্সপার্ট এ্যাপ্রাইজাল কমিটি’র এ প্রসঙ্গে দেয়া প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির জন্য নির্ধারিত স্থানটি মুলতঃ কৃষিপ্রধান এবং এ বিষয়ে প্রকল্পের স্বপক্ষের লোকদের দেয়া তথ্য গ্রহনযোগ্য নয়। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, শহরের এত কাছে এরকম বিদ্যুৎ কেন্দ্র কাঙ্খিত নয়। এছাড়াও নর্মদা নদী থেকে প্রকল্পের জন্য প্রতিদিন ৩২ কিউসেক পানি টেনে নেয়াও বাস্তবসম্মত নয়। তাছাড়া প্রস্তাবিত ঐ প্রকল্পের ১৫ কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে সংরক্ষিত বনাঞ্চাল। ভারতীয় পরিবেশ আইনে সংরক্ষিত বনের ১৫ কিলোমিটারের মধ্যে কোন তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র করা যাবেনা।

অথচ বাংলাদেশে সেই একই কোম্পানিকে একই ধরনের ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মানে বাংলাদেশভারতের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এতে বাংলাদেশে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে সবচেয়ে বেশি। কোন রকম পরিবেশপ্রতিবেশগত বিবেচনা ছাড়াই সুন্দরবনের কোলের মধ্যেই নির্মান করা হচ্ছে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র।

সরকার নিজেই তার প্রনয়াধীন আইন, অঙ্গীকার ও জনমতকে থোড়াই তোয়াক্কা করে দক্ষিনপশ্চিমাঞ্চলের রামপালের কৃষি জমিতে ১৩২০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন দেশের সর্ববৃহৎ কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করতে যাচ্ছে। বছরে ৩৭০০ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন এই কৃষি জমির ওপর বিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন বিষয়ে এলাকার দায়িত্বশীল মহল মনে করছেন মাছ চাষের উন্মুক্ত আধারকে দীর্ঘদিন ধরে যারা দখলে রেখেছিলো তাদের পরামর্শে সরকার এ আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছে।

কয়লাভিত্তিক বিুদ্যৎ কেন্দ্র স্থাপনে সুন্দরবনের আসন্ন বিপর্যয় নিয়ে পরিবেশবিদরা তাদের আশংকা প্রকাশ করে বারবার এই এলাকা থেকে প্রকল্পটি সরিয়ে নেয়ার আহ্বান জানালেও সরকার এ বিষয়ে অনড় রয়েছে। অন্যদিকে, ভূমি আগ্রাসনের শিকার রামপালের আড়াই সহাস্রাধিক পরিবারের ভবিষ্যৎ একেবারেই অনিশ্চিত। সরকার পক্ষ থেকে বার বার আশ্বাস দেয়া হলেও সব হারানোর আশংকা থেকে জমি রক্ষার আন্দোলন গড়ে তুলছেন এলাকার জনসাধারণ। তারা বলছেন, বুকের রক্ত দেবেন কিন্তু এই এলাকায় কয়লাভিত্তিক বিুদ্যৎ কেন্দ্র হতে দেবেন না। ভূমি আগ্রাসন এবং বিুদ্যৎ কেন্দ্র প্রতিরোধে বিগত বছরমাসগুলিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন আরেকটি গণবিস্ফোরনে রূপ নিতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।।