Home » মতামত » যুদ্ধাপরাধের রায়ে প্রতিক্রিয়া

যুদ্ধাপরাধের রায়ে প্রতিক্রিয়া

আমাদের বুধবার প্রতিবেদন

international crime tribunal-1-যুদ্ধাপরাধ বিচারে গঠিত ট্রাইব্যুনাল জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুর কাদের মোল্লার ব্যাপারে যে রায় ঘোষণা করেছে, তাতে অসন্তোষ এবং হতাশা ব্যক্ত করেছে খোদ সরকার, ক্ষমতাসীন দল ও জোট এবং যারা এই বিচার দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছিলেন তারা। আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম সাংবাদিকদের কাছে প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, ‘এই রায়ের ফলে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি, আমরা হতাশ হয়েছি।’ তিনি এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করারও ইঙ্গিত দেন। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘আওয়ামী লীগ এবং দেশের জনগণ মনে করে যে, আমাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী এই রায় হয়নি। আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম, তার সর্বোচ্চ শাস্তি হবে।’ অ্যার্টনি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, ‘রায়ে আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম তাকে চরম শাস্তি মৃত্যুদন্ড দেয়া হবে কিন্তু সেটা দেয়া হয়নি।’ এছাড়াও বিভিন্নজন নানা প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। অপরদিকে, জামায়াতও এই রায়ে সন্তুষ্ট নয় বলে জানিয়েছে।

এই রায়ের ব্যাপারে সাংবাদিক আবেদ খান আমাদের বুধবারকে বলেন, ‘এই ধরণের রায় প্রত্যাশিত ছিল না। আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে দেশটিকে স্বাধীন করেছি, আমরা আলবদররাজাকারসহ হানাদারদের নির্যাতননিপীড়নের কথা জানি। সে সময়ের আলবদরের ভূমিকা, বুদ্ধিজীবী নিধনসহ সব কিছুর মধ্যে তাদের পরিষ্কার সম্পৃক্তি পাওয়া যায়। সেক্ষেত্রে অবশ্যই কাদের মোল্লার রায়টি অনেক বেশি ভালো হতে পারতো, যদি সেটি বাচ্চু রাজাকারকে যে ধরনের শাস্তি দেয়া হয়েছে, সে মাত্রার সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়া হতো। তবে আমার কাছে মনে হয়েছে, মামলা সাজানোর ব্যাপারে মনে হয় দুর্বলতা ছিল। আমরা আগেও এটা দেখেছি এবং বার বার বলার চেষ্টা করেছি যে, প্রসিকিউশনের ক্ষেত্রে, মামলা সাজানো ক্ষেত্রে যে অনভিজ্ঞতা এবং দীর্ঘসূত্রিতাসহ যে সব দুর্বলতা ছিল, তা যে কতো ভয়ঙ্কর, ভয়ানক এবং কষ্টদায়ক পরিণতি নিয়ে আসতে পারে এবং সকলের জন্য হতাশার কারণ হতে পারে। এই রায় থেকে আমরা তা উপলব্ধি করেছি। আবদুর কাদের মোল্লার ব্যাপারে যে পাঁচটি অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে তার মধ্যেই তো তার সম্পৃক্ততা প্রতীয়মান হয়। কিন্তু মামলা সাজানো এবং এক্ষেত্রে কোন কোন দুর্বল দিক আদালত নিশ্চয়ই বিবেচনা করেছে। তবে আমি এখনও আশাবাদী যে, আপিল করার যে সুযোগ রয়েছে সেটি সরকার নিশ্চয়ই গ্রহণ করবে।

মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক তার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, যে সাজা দেয়া হয়েছে, তার সামঞ্জস্য নিয়ে একটি প্রশ্ন জাতির সামনে থেকেই যাবে।

ফেসবুকে এক প্রতিক্রিয়ায় অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ লিখেছেন, ওদের অপরাধের জন্য যথেষ্ট শাস্তি পৃথিবীতে এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। কিন্তু অপরাধীর অপরাধের ভয়াবহতা এবং তার প্রতি মানুষের ঘৃণার অভিব্যক্তি ছাড়া ন্যায় বিচার কি করে হয়? শুধু এই রায় দেখে নয়, মানুষ ক্ষুব্ধ কারণ এটি একটি লক্ষণ উপস্থিত করছে। সাথে গত কয়েকদিনের ঘটনাবলী। পর্দার পেছনে নানা ধরনের নাড়াচাড়া বোঝা যায়। আপস, সমঝোতা? ১৯৯৫এর পুনরাবৃত্তি?

এদিকে, রায়ের ব্যাপারে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর হতে শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় জড়ো হয়েছেন অনেকেই। তারা মোমবাতি জ্বালিয়ে, মশাল মিছিল করে, শ্লোগান দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।।