Home » প্রচ্ছদ কথা » আঁতাত রুখে দিয়েছে তরুণরা

আঁতাত রুখে দিয়েছে তরুণরা

আমীর খসরু

shahbagh-movement-1আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে গত মঙ্গলবার রাতে শাহবাগে শুরু হওয়া তরুণদের স্বতঃস্ফুর্ত প্রতিবাদ এখন সকল যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির দাবিতে পরিণত হয়েছে। এই প্রতিবাদের উদ্যোক্তা তরুণ সমাজ। আর যখন এই প্রতিবাদ ব্যাপকতর রূপ নেয়, তখন এর সঙ্গে সংহতি জানিয়েছেন সব বয়সের শ্রেণী পেশার মানুষ।এমন স্বতঃস্ফুর্ত প্রতিবাদ, বিক্ষোভ এদেশে বহুকাল দেখা যায়নি। এর কৃতিত্ব পুরোটাই তরুণদের। ২০০৮ সালে নির্বাচনের সময়কালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট তরুণদের উদ্দেশ্যে আলাদা করে যে সব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তার মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়া, তরুণদের চাকরি দেয়া এবং যুদ্ধাপরাধের বিচারের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পরে এই তরুণ সমাজই প্রতিশ্রুতিদানকারী আওয়ামী লীগের বদলে, ভিন্ন এক আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারকে প্রত্যক্ষ করেছে। বিভিন্ন কারণে আশাহত হওয়ার পরেও তরুণদের মনে এরপরও একটা প্রত্যাশার প্রদীপ জ্বলছিল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবেই। কিন্তু তাদের দিক থেকে যে আকাঙ্খা, তা আওয়ামী লীগের প্রতিশ্রুত হলেও, তারা আসলে ওই দলটির কাছ থেকে নয়, সার্বিকভাবে রাষ্ট্র ব্যবস্থার কাছ থেকেই প্রত্যাশা করেছিল।

শাহবাগে যে সব তরুণ সমবেত হয়েছেন, তাদের কেউ মুক্তিযুদ্ধ দেখেননি, দেখেননি সে সময়কার হত্যা, খুন, লুণ্ঠন, ধর্ষণসহ নানা ধরনের অমার্জনীয় ও ক্ষমাহীন অপরাধ। কিন্তু তরুণদের মনের মধ্যে ওই বিভীষিকার চিত্রটি আঁকা হয়েছে। তাদের চৈতন্যে, উপলব্ধিতে বিষয়টি এমনভাবে গেথে গেছে যে, এই বিচার তাদের প্রাণের দাবিতে পরিণত হয়েছে। এ কারণেই সামাজিক মাধ্যমের যে প্রবল শক্তি, তাকে কাজে লাগিয়ে এতবড় এক প্রতিবাদ বিক্ষোভের সৃষ্টি করা সম্ভব হয়েছে। এটা নিশ্চিত, সামাজিক মাধ্যমে যারা নিয়মিত, ফাঁসির দাবি নিয়ে তারা প্রথমে আহ্বানটি দিয়েছিলেন, তারাও হয়তো বুঝে উঠতে পারেননি, তরুণদের মনের মধ্যেকার পুঞ্জিভূত ক্ষোভবিক্ষোভ এবং আকাঙ্খার কথা।

এটা বুঝতে কারো অসুবিধা হওয়ার কথা নয়, শাহবাগের বিক্ষোভ এবং প্রতিবাদ শুরু হয় একটি বড় ধরনের শংকা, সংশয় এবং প্রশ্নকে মাথায় নিয়ে। আর সেটি হচ্ছে, কেন যাবজ্জীবন, কেন ফাঁসি নয়? তাহলে কি সরকারের সঙ্গে জামায়াতের আঁতাত হয়ে গেছে, যা কয়দিন ধরে মানুষের মনের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছিল এবং আলাপআলোচনায় প্রকাশ পাচ্ছিল। এই সংশয়, শংকার বিরুদ্ধে তরুণরা শাহবাগকে প্রতিবাদের স্কোয়ারে পরিণত করেছে।

তরুণদের মনে তো অবশ্যই, সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই শঙ্কা এবং সন্দেহ হওয়াটাই স্বাভাবিক ছিল। কারণ যুদ্ধাপরাধের মামলার প্রথম দিন থেকেই এর প্রসিকিউশন, ইনভেস্টিগেশন টিম, সাক্ষ্য প্রমাণাদি যোগাড়সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন উত্থাপিত হচ্ছিল। আর এটা যুদ্ধাপরাধের বিচারে সহায়তাদানকারী ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, সেক্টর কমান্ডারর্স ফোরামসহ এ ধরনের সংগঠনগুলো থেকে সরকারকে বার বার সতর্ক করা হচ্ছিল। এই দুর্বলতাগুলো সম্পর্কে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের অনেক দলের নেতারাও প্রশ্ন উত্থাপন করেন। রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, শাহরিয়ার কবীরসহ তাদের অনেকের কাছ থেকে এই প্রশ্ন বার বার উত্থাপিত হচ্ছিল যে, সরকার যুদ্ধাপরাধ বিচারের প্রশ্নে সঠিক পথে এগোচ্ছে না। কিন্তু সরকার সেদিকে কি কারণে যে নজর দেয়নি, সে প্রশ্নটি থেকেই বৃহত্তর প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের একজন বিচারকের সাথে ব্রাসেলস প্রবাসী আহমেদ জিয়াউদ্দিনের স্কাইপিতে কথোপকথন সরকার সঠিকভাবে মোকাবেলা করতে পারেনি বলে, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটিসহ এই ধরনের সংগঠনগুলো সোচ্চার হয়েছিল।

সাম্প্রতিক সময়ে সংশয় সন্দেহ আরো ঘনীভূত হওয়ার কারণ, গত দুই বছরে যে জামায়াত রাজপথে দাঁড়াতেই পারেনি, তাদের মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সমাবেশ করতে দেয়া হলো পুলিশের ছত্রছায়ায়, কাদের মোল্লার রায় ঘোষণার ঠিক আগেই। আর সে সমাবেশ থেকে যুদ্ধাপরাধের বিচারে ট্রাইব্যুনালের বিরুদ্ধে জামায়াত নেতারা বক্তৃতাবিবৃতি দিয়ে মিছিল করে চলে গেলেন। সরকার এই দফায় তাদের কোনোই বাধা দিল না। বরং ওই সভা এবং মিছিল যাতে নির্বিঘ্নে হয় তার চেষ্টাই ছিল মুখ্য। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু শিবিরের তরুণ নেতাকর্মীদের তো প্রশংসাই করলেন। এছাড়া, পুলিশকে রজনীগন্ধা দেয়ার মতোও ঘটনা ঘটলো। এমনকি যে জামায়াত হরতাল চলাকালে জ্বালাওপোড়াওসহ নানা কার্যক্রমে বরাবর লিপ্ত ছিল, তারা রায়ের পরে চট্টগ্রামের হরতালে রাজপথেই ছিল না।

এই প্রেক্ষাপটে তরুণদের যে আন্দোলন, যার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল আওয়ামী লীগ ২০০৮এর নির্বাচনের আগে, তারা শেষ পর্যন্ত শংকা এবং সরকার ও জামায়াতের মধ্যেকার আসলে কী সম্পর্ক সে প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে সিদ্ধান্ত নিলেন, ক্ষমতাসীনদের কাছে আর নয়, তারা জাতির সামনে হাজির হবেন তাদের মনের ইচ্ছাটুকু জানানোর জন্য। শাহবাগ তাই সে মনের ইচ্ছা জানানো এবং প্রতিবাদের চত্বরে পরিণত হয়েছে। শাহবাগ পরিণত হয়েছে, যে প্রশ্নের মীমাংসা, শংকা এবং সংশয় দেখা দিয়েছে তা যেন কখনই বাস্তবায়িত হতে না পারে, তার বিরুদ্ধে সতর্ক সংকেত দেয়ার স্থান হিসেবে।

কাদের মোল্লার রায়ের মধ্যদিয়ে যে লক্ষণটি প্রকাশিত হলো তা নিয়ে যে শুধু তরুণদের মধ্যে শংকা এবং প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে শুধু তাই নয়, এমনকি জাতীয় সংসদেও সরকারদলীয় এমপিদের মধ্যেও ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। মহাজোটের শরীক দল ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন রায়ের দিনই সংসদে সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘এই রায়ে সবার মন ভেঙ্গে গেছে। আমরা সাপ নিয়ে খেলছি, সাপের মুখে চুমু দিতে নেই। সুযোগ পেলে সে সাপ ছোবল দেবে।’ অন্যতম শরীক জাসদের সভাপতি এবং তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু সংহতি জানাতে গিয়ে বললেন, ‘জনতার রায় আমার কাছে শিরধার্য। আমি সে রায়ের পক্ষে। আমি একজন মন্ত্রী হই আর যাই হই, আমিও জনগণের পক্ষে। আমিও এই রায় মানি না।’ এভাবে ক্ষমতাসীন দল ও জোট এবং তাদের পক্ষের ব্যক্তিরা শাহবাগের সমাবেশে বক্তব্য দেন। অসন্তোষ প্রকাশ করে সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম, বিস্মিত হয় ১৪ দল। গত বুধবারে একটি প্রভাবশালী সংবাদপত্রের খবরেও রায়ের দিনই বলা হয়, ‘সরকারদলীয় এমপিরা জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীদের ঘিরে ধরে তাদের হতাশা ও অসন্তোষ্টির কথা জানান।রায়ের পর নানা মহলে আলোচনা হয়, সরকার ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে কোন গোপন সমঝোতা হয়েছে কিনা, বিশেষ করে গত দুই দিনে জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবির পুলিশের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে রাজপথে মিছিল সমাবেশ করায় মানুষের মধ্যে এই সন্দেহ বাড়তে থাকে।’ আওয়ামী লীগের নেতা ও মন্ত্রীরা বিভিন্ন মহল থেকে এ রকম প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। একজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী প্রথম আলোকে জানান, তার কাছে অন্তত ২০ জন এমপি ‘রায়ের ব্যাপারে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।’

আঁতাতের প্রশ্নটি এতই বড় হয়ে উঠেছে যে, আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলামসহ মন্ত্রীদেরও এখন বলতে হচ্ছে, কোন আঁতাত হয়নি।

প্রথম থেকেই তরুণদেও স্বতঃস্ফুর্ত প্রতিবাদ, বিক্ষোভকে ক্ষমতাসীন দল নিজেদের ঘরে নেয়ার বা কুক্ষিগত করার চেষ্টা করেছিল। তরুণরা যখন এটা টের পেয়েছে, তখন সাজেদা চৌধুরী, সাহারা খাতুন, মাহবুবুল আলম হানিফসহ সরকারি দলের অনেকেই শাহবাগে তুমুল প্রতিবাদের মধ্যে পড়েছেন। সাজেদা চৌধুরী স্বল্প সময়ের জন্য মঞ্চে উঠতে পেরেছিলেন বটে, কিন্তু সাহারাহানিফ মঞ্চের ধারে কাছেও ঘিষতে পারেনি। ক্ষমতাসীনদের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, ছাত্রলীগ দিয়ে এই প্রতিবাদকে নিজেদের পক্ষে টানার চেষ্টা এখনও চলছে। প্রতিবাদ, আন্দোলন রাজনৈতিক, তবে কোন দলের নয় তরুণদের মনের এই কথাটি বুঝতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে।

এমন একটি রাজনৈতিক দলবিহীন আন্দোলনে তাহলে মন্ত্রীরা গেলেন কেন? প্রথমত: ওই আশায় যাতে আন্দোলন নিজেদের পক্ষে নেয়া যায়। বর্তমান সরকারের দ্বিতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয় সংসদ উপনেতা সাজেদা চৌধুরীকে। তিনি গিয়ে যখন সমাবেশে বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এসেছি’, যখন মন্ত্রীরা সংহতি প্রকাশ করে রায়ের সমালোচনা করেন কিংবা অ্যার্টনি জেনারেল রায়ের ব্যাপারে সমাবেশে বক্তব্য দেন, তখন এটা মনে করা স্বাভাবিক যে, সরকার তাদেরই গঠন করা ট্রাইব্যুনালের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলেছে এবং সরকার এর প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করেছে। এটা সরকারের জন্য বড় এক ধরনের সঙ্কট সৃষ্টি করেছে। তাহলে কী সরকারের দিক থেকেই সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে ট্রাইব্যুনালের বিশ্বাসযোগ্যতায়? এছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোববার জাতীয় সংসদে তরুণ আন্দোলনকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘বৃদ্ধ বয়সে আমারও মন ছুটে যায়, ইচ্ছে করে তাদের সঙ্গে যোগ দিতে। তরুণ প্রজন্মকে বলতে চাই, আমি তোমাদের সঙ্গে একমত, আমিও সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।’

শাহবাগে প্রতিবাদ, বিক্ষোভের ব্যাপকতার পরে ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে এখন এমন একটি প্রচার প্রচারণার চেষ্টা চালানো হচ্ছে যে, জামায়াত এতো বড় শক্তি হয়ে গেছে, আওয়ামী লীগের একার পক্ষে একে সামাল দেয়া সম্ভব নয়। এ কারণে তাদের পেছনে ব্যাপক জনসমর্থন প্রয়োজন। কিন্তু আওয়ামী লীগ এ কথাটা ভুলে গেছে যে, রাষ্ট্র ক্ষমতার চেয়ে অন্য কোনো শক্তি যদি বড় হয়েই যায়, তা রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসীনদের জন্য দুর্বলতার পরিচয়ই বহন করে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য জনসমর্থনের এমন প্রচারপ্রচারণা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে একটি ‘নির্বাচনী কৌশল’ ভিন্ন কিছু নয়। আর এটা তরুণদের প্রতিবাদ বিক্ষোভকে নিজেদের পকেটে রাখারও এক্ষেত্রে একটি পন্থা মাত্র। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার একটা মহৎ কাজ, এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু কূটকৌশলের আশ্রয় নিয়ে কোনো মহৎ কাজ করা যায় না।

সরকার এই যে কূটকৌশলের আশ্রয় নিয়েছে, তার মধ্যদিয়ে দেশে আরো সহিংসতা এবং অস্থিরতা দেখা দেবে বলেই মনে হচ্ছে। যার প্রমাণ মঙ্গলবারের সহিংস ঘটনা, গুলি, বোমা, আগুন, ভাংচুর। আর এর অসহায় শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

শাহবাগের সমবেতদের পক্ষ থেকে দাবি জানানোর পরে দেখা গেল, আপিল আইনে পরিবর্তন করতে হবে। আইন প্রতিমন্ত্রী, অ্যাটর্নি জেনারেলসহ পুরো সরকার কী ইচ্ছাকৃতভাবে এই আইনটিকে এভাবেই রেখেছিল। পরে তরুণদের চাপে, তাড়াহুড়ো করে আপিল আইন পরিবর্তন করে মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেয়া হয়, যা পরবর্তীকালে জাতীয় সংসদে পাস করতে হবে।

মন্ত্রিসভায় আপিল আইন পরিবর্তন, প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসের পরেও তরুণরা তাদের প্রতিবাদবিক্ষোভ চালিয়েই যাচ্ছেন। এই প্রতিবাদবিক্ষোভ থেকে সরকার কতোটা লাভ নিতে পারবে তার হিসাবনিকাশ তারা এখন করছে। তবে সরকার এই প্রতিবাদবিক্ষোভ দীর্ঘকাল চলুক তা চাচ্ছিল না বলেই প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে মনে হয়। প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে প্রতিবাদকারীদের ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি পড়াশোনায় মনোযোগী হবার আহ্বান জানিয়েছেন। সরকার প্রথমে মনে করেছিল, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি যারা তুলেছে, ক্ষমতাসীনরা তাদের পক্ষে টানতে পারবে এবং প্রতিবাদ স্বল্পস্থায়ী হবে। কিন্তু বাস্তব অবস্থা ভিন্ন। সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবির এই প্রতিবাদ যাতে হাতছাড়া হয়ে না যায়, সে কারণে ঢাকাসহ দেশব্যাপী দলীয় উদ্যোগে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে সভাসমাবেশ করার নির্দেশ দিয়েছে এবং সে অনুযায়ী ক্ষমতাসীনরা নির্দেশনা পালন করছে।

যেহেতু তরুণরা পিছু হটছে না, সরকার তাই এখন চাচ্ছে, রায় নিয়ে সৃষ্ট সন্দেহ, সংশয়, শংকার প্রশ্ন জনমন থেকে পুরোটা কিভাবে মুছে ফেলা যাবে। কিন্তু তা কি সরকারের জানা আছে? স্পষ্ট জবাব, নেই। তরুণদের এ আন্দোলন কোন পর্যায়ে কি ঠেকবে, কতদূর পর্যন্ত যাবে, এর জবাব কি সরকার দিতে পারবে? না, পারবে না। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়ে যে, সরকার এই আন্দোলন, প্রতিবাদ, বিক্ষোভকে না পারছে গিলতে, না পারছে ফেলে দিতে।

এ অবস্থায় ক্ষমতাসীনরা নতুন এক কৌশলের আশ্রয় নিয়েছে। তারা এই আন্দোলন প্রতিবাদকে পুঁজি করে নির্বাচনের কাজে খাটাতে চাইছে। আর এ কারণেই ভিন্ন এক কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। আর সে কৌশলটি হচ্ছে, যেভাবেই হোক, জনমন থেকে সন্দেহ, অবিশ্বাস দূর করার যাবতীয় চেষ্টা করা। অনেক বিশ্লেষক বলছেন, এমন অবস্থার সৃষ্টি করা হয়েছে, যাতে জনমনে একটা ধোয়াটে অবস্থার সৃষ্টি করতে তারা সক্ষম হয় । কিন্তু বাস্তবে কী তাই হয়েছে?

তরুণদের পক্ষ থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে কাজটি করা হয়েছে তাহলো, সমঝোতা, আঁতাতের বিষয়টি যাতে বাস্তবে পরিণত হতে না পারে, তার বিরুদ্ধে সরকারের উপরে প্রবল চাপ সৃষ্টি করা এবং অব্যাহত রাখা। তরুণরা সেখানে শতভাগ সফল হয়েছেন। এখন কোন শক্তির পক্ষেই আর সমঝোতাআঁতাতের বিষয়টি চিন্তা করা কঠিন। আর এটাই হচ্ছে, তরুণদের আন্দোলন প্রতিবাদের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ দিক এবং বড় সাফল্য। কারণ, তরুণদের পুঞ্জিভুত ক্ষোভ যখন একবার দাবিতে পরিণত হয়, তারা রাজপথে নামে, রুখে দাঁড়ায়, তখন কোনো শক্তির ইচ্ছায়অনিচ্ছায় তারা নির্দেশিত হয় না। ইতিহাস এটাই সাক্ষ্য দেয়।।