Home » অর্থনীতি » দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিতে অসহায় মানুষ

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিতে অসহায় মানুষ

আমাদের বুধবার প্রতিবেদন

unstable-economy-1-চাল, ডাল, রসুন ও আদার দাম বেড়েছে। এদিকে, শীতের শেষ পর্যায়েও বেশির ভাগ মৌসুমি সবজির দাম কমেনি। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় চালসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে বলে জানান বিক্রেতারা। তবে ক্রেতারা মনে করেন, তেলের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে বিক্রেতারা ইচ্ছে করেই দাম বাড়িয়েছে। মহাজোট সরকারের চার বছরে কোনো কোনো খাদ্যপণ্যের দাম চারগুণ পর্যন্ত বেড়েছে। কারওয়ান বাজার, মগবাজার, ফার্মগেট বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে প্রায় একই চিত্র মেলে। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, চালের দাম বাড়তি। এক সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি মিনিকেট চালের দাম ৪৩৪৪ টাকা থাকলেও এখন বিক্রি হয় ৪৭৪৮ টাকায়। নতুন নাজিরশাইল চাল আসতে শুরু করলেও দাম কমেনি। সবচেয়ে ভালো মানের নাজিরশাইল চালের দাম প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৫২ টাকা এবং সাধারণ মানের নাজিরশাইল বিক্রি হচ্ছে ৪৪ থেকে ৪৭ টাকায়। ব্রি২৮ চাল এক কেজি ৩৬ থেকে ৩৮ টাকা এবং হাসকি জাতের চাল ৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের সময় মোটা চালের কেজিপ্রতি মূল্য ছিল ২৫ থেকে ২৭ টাকার মধ্যে।

গত এক মাসের ব্যবধানে ডালের দাম বেড়েছে কেজিতে পাঁচ টাকা। ভালো মানের ডালের (ক্যাঙারু ডাল) দাম কেজিপ্রতি ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা। সাধারণ মানের ডাল বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়। আমদানি করা ডালের দাম কেজিপ্রতি ৭৫ থেকে ৮০ টাকা। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে কেজিপ্রতি রসুনের দাম বেড়েছে ২০ টাকা। এক কেজি বড় দানার রসুনের দাম ১১০ টাকা এবং ছোট দানার দেশি রসুনের দাম কেজিপ্রতি ৭০ টাকা। কোম্পানিভেদে পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ৬৫৫ থেকে ৬৬৫ টাকা। প্যাকেটজাত এক কেজি দুধের দাম কোম্পানিভেদে ৫৬০ থেকে ৫৮০ টাকা। এক কেজির প্যাকেট ময়দা বিক্রি হচ্ছে ৪৯ টাকায়। খোলা আটা কেজিপ্রতি দাম ৩৬ টাকা। নতুন আলু প্রতি কেজি আলু ১৮ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আমদানি করা পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৪৫ থেকে ৪৮ টাকায় এবং দেশি পেঁয়াজ ৩৮ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

চার বছরেই

ইশতেহারের অগ্রাধিকারের পাঁচটি বিষয়ের প্রথমটিতে বলা হয়চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম কমিয়ে জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে স্থিতিশীল রাখার ব্যবস্থা করা হবে। প্রধান এ প্রতিশ্রুতি পূরণে তারা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। সরকার ক্ষমতা গ্রহণের সময় মোটা চালের কেজিপ্রতি মূল্য ২৫ থেকে ২৭ টাকার মধ্যে থাকলেও বর্তমানে এর দাম ৩৫ থেকে ৩৭ টাকার মধ্যে। ২৩ টাকা কেজির আটা এখন ৩০ টাকা। ৩০ টাকা কেজির চিনি হয়েছে ৬৫ টাকা। ৯০ টাকা দরের সয়াবিন তেলের দাম বেড়ে হয়েছে ১৪০ টাকা। আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের দিন ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি এক হালি মুরগির ডিমের দাম ছিল ২৩ থেকে ২৫ টাকা। চার বছরের ব্যবধানে একই ডিমের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮ থেকে ৪০ টাকা। অর্থাত্ প্রতি হালিতে ডিমের দাম বেড়েছে ১৫ টাকা। একইভাবে ১৪২০ টাকার লবণ বিক্রি হচ্ছে ১৮৩০ টাকায়, অর্থাত্ প্রতি কেজি লবণে ৪১০ টাকা বেড়েছে। ২৩২৫ টাকার খোলা আটার দাম চার বছরের ব্যবধানে ৩৫৩৬ টাকা, ৩২৩৮ টাকার ময়দা বেড়ে ৪২৪৮ টাকা, খোলা সয়াবিন ৮৮৯৪ টাকা থেকে বেড়ে ১২০ টাকা এবং মানভেদে ৭৬ থেকে ১০৫ টাকার মসুর ডালের দাম বেড়ে ১৪৫ টাকায় পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। ২০০৯ সালে অন্যান্য পণ্যের মধ্যে প্রতি কেজি ভালো মানের নাজির/মিনিকেট ৩৩৩৮ টাকা, সাধারণ মানের নাজির/মিনিকেট ৩৩৩৮, ভালো মানের পাইজাম/লতা চাল ৩৩৩৪ ও সাধারণ মানের পাইজাম/লতা চাল ৩২৩৩, মোটা চাল স্বর্ণা/চায়না ২৯২৯, মসুর ডাল ৭৬১০৫, ছোলা ৩৫৪০, পেঁয়াজ ৩০৩৬, রসুন ২৪৩২, শুকনা মরিচ ৯০১১০, হলুদ ৯৫১১০, গরুর মাংস ২১০২২০ ও খাসির মাংস ৩২০৩৪০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। অন্যান্য জিনিসপত্রের দামও সমান হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইশতেহারে জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে জড়িত সিন্ডিকেট ভেঙ্গে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকলেও ওই সিন্ডিকেট এখন খোলস পাল্টে সরকারের ছত্রছায়ায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। চাল ও সারের এ মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সাধারণ কৃষক ও স্বল্প আয়ের মানুষের দিন কাটছে উৎকণ্ঠায়।

এক বছরেই

এক বছরে আলু ও পিয়াজের দাম দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। এছাড়া রসুন, ছোলা, মসুর ডাল, লবণ, আদা, সয়াবিন, খেজুর, চাল ও ডিমের দাম ৩ থেকে ৬৩ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের দেয়া প্রতিবেদনে এ তথ্য পাওয়া গেছে। কমিটি এসব পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে তদারক বাড়ানোর সুপারিশ করেছে। ১৯শে ডিসেম্বর সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের দেয়া প্রতিবেদনে বলা হয়, এক বছরে আলুর দাম বেড়েছে ১২৭ শতাংশ। গত বছরের ১২ই ডিসেম্বর যে আলুর কেজিপ্রতি দাম ছিল ৮ থেকে ১৪ টাকা, চলতি বছরের ১২ই ডিসেম্বর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪ থেকে ২৬ টাকায়। একইভাবে এক বছর আগে যে পিয়াজের দাম ছিল ২০ থেকে ২৮ টাকা, এখন সেই পিয়াজের দাম ৪০ থেকে ৬০ টাকা। আর রসুনের দাম বেড়ে হয়েছে ৪০ থেকে ৯০ টাকা, মসুর ডাল ৩৮ দশমিক ৭১ শতাংশ বেড়ে ৭৫ থেকে ১৪০ টাকা, খেজুর ৩৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেড়ে ৯০ থেকে ১৫০ টাকা, লবণ ২৬ দশমিক ৩২ শতাংশ বেড়ে ১৮ থেকে ৩০ টাকা, ছোলা ২১ দশমিক ৪৩ শতাংশ বেড়ে ৮০ থেকে ৯০ টাকা, আদা ১০ শতাংশ বেড়ে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, সয়াবিন ৫ দশমিক ৪১ শতাংশ বেড়ে ১১৬ থেকে ১১৮ টাকা এবং মাঝারি চাল প্রায় ৩ শতাংশ বেড়ে ৩৪ থেকে ৩৬ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ফার্মের ডিম প্রতি হালি ৩৫ দশমিক ২৯ শতাংশ বেড়ে ৩৪ থেকে ৩৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এক বছরে হলুদের দাম সবচেয়ে বেশি কমেছে। এক বছর আগে যে হলুদের কেজি ছিল ১৫০ থেকে ২০০ টাকা, এখন তার দাম ৯০ থেকে ১৪০ টাকা। এছাড়া প্রতি কেজি মোটা চাল ৯ দশমিক ২৩ শতাংশ কমে ২৭ থেকে ৩২ টাকা, সরু চাল ১১ দশমিক ৮৩ শতাংশ কমে ৩৪ থেকে ৪৮ টাকা, খোলা পাম অয়েল ১৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ কমে ৭৬ থেকে ৭৮ টাকা, চিনি ১৩ দশমিক ২৭ শতাংশ কমে ৪৮ থেকে ৫০ টাকা এবং শুকনা মরিচ ১০ শতাংশ কমে ১২০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

শীত মৌসুম শেষ দিকে এলেও শীতের সবজির দাম তেমন কমেনি। এক কেজি শিমের দাম এখনো ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। মাঝারি আকারের ফুলকপি কিংবা বাঁধাকপি ২৫ থেকে ৩০ টাকার নিচে মিলছে না। লাউয়ের দাম ৬০ থেকে ৭০ টাকা। এ ছাড়া মুলা ২৫ থেকে ৩০ টাকা, গোল বেগুন ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং কাঁচা টমেটো ২৫ থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে সব ধরনের মাছের দাম বেড়েছে। প্রতি কেজি রুই মাছ ২৫০ থেকে ২৭০ টাকা, বড় আকারের চিংড়ি ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা, মাঝারি চিংড়ি ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা এবং বিভিন্ন আকারের তেলাপিয়া ১৩০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি আকারের একটি ইলিশের দাম ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা।

বিশেষজ্ঞদের মতামত

দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের পুষ্টিতে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (বিআইডিএস)’র গবেষণা পরিচালক ড. জায়েদ বখত বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যমূল্য বেড়ে যাওয়া ও অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয়ের কারণে মূল্যস্ফীতি বাড়তে বাড়তে দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছেছে। পরে যদিও সরকার সংঙ্কোচনমূলক মুদ্রা নীতির মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি কমিয়ে এনেছে। কিন্তু তা এখনো বেশি। বর্তমান সরকার ২০০৮০৯ অর্থবছরের দ্বিতীয় ভাগে দায়িত্ব গ্রহণ করে। ওই অর্থবছর শেষে বার্ষিক গড় মূল্যস্ফীতি দাঁড়ায় ৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ। এরপরের অর্থবছর ২০০৯১০ এ এসে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৭ দশমিক ৩১ শতাংশ। ২০১০১১ অর্থবছরে ৮ দশমিক ৮০ শতাংশ এবং ২০১১১২ অর্থবছরে আরো বেড়ে দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছায় মূল্যস্ফীতির হার। ২০১১১২ অর্থবছরের গড় বার্ষিক মূল্যস্ফীতি ছিলো ১০ দশমিক ৬২ শতাংশ। চলমান অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি কমার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। নভেম্বরের শেষে গড় মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ২৪ শতাংশ। অর্থনীতিবিদদের মতে, ৫ থেকে ৬ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যস্ফীতি সহনীয়। তা ১০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেলে অর্থনীতির সঙ্কট বেড়ে যায়। সরকার দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর স্থাপনের পাশাপাশি ট্রেডিং কর্পোরেশন অফ বাংলাদেশকে (টিসিবি) আরো কার্যকরের উদ্যোগ নিলেও তাতে ফল আসেনি। পণ্যের দাম বাড়লেও তার সুফল উৎপাদক পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে না। সরকার মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখার কথা বললেও দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে।

ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবে বাজারে পণ্যমূল্য আকস্মিকভাবে বাড়া ছাড়াও বেশি ব্যবহার করা পণ্যগুলোর দাম কয়েক দফায় বেড়েছে। খাদ্যপণ্যের পাশাপাশি খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের দাম বেশি বেড়েছে। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে বিভিন্ন কোম্পানি ইচ্ছামতো দাম বাড়িয়েছে। পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক গুণ বেড়ে গেছে। এ সময়ে বাড়িভাড়া, পরিবহন, শিক্ষা ও অন্যান্য ব্যয় কয়েকগুণ বেড়েছে। দাম বাড়ার কারণ হিসেবে টিসিবিকে কার্যকর না করা, বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেয়া, সিন্ডিকেট কারসাজি, পণ্য সরবরাহ কম থাকা, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধিসহ আরেক কয়েকটি কারণকে দায়ী করেছেন সংশ্লিষ্টরা। বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারের বড় হাতিয়ার টিসিবি। সিন্ডিকেট ভাঙা ও পণ্যের কৃত্রিম সঙ্কটে টিসিবি বড় ভূমিকা রাখে। অথচ সিন্ডিকেটের কবলে পড়েছে টিসিবি। পণ্য আমদানি, ডিলার নিয়োগসহ সবকিছু দলীয় নেতাকর্মীদের হাতে জিম্মি। ফলে নিত্যপণ্যের দাম বাড়লেও টিসিবি নিষ্ক্র্রিয় ছিল।

ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবে বাজারে পণ্যমূল্য আকস্মিকভাবে বাড়া ছাড়াও বেশি ব্যবহার করা পণ্যগুলোর দাম কয়েক দফায় বেড়েছে। খাদ্যপণ্যের পাশাপাশি খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের দাম বেশি বেড়েছে। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে বিভিন্ন কোম্পানি ইচ্ছামতো দাম বাড়িয়েছে। পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক গুণ বেড়ে গেছে। এ সময়ে বাড়িভাড়া, পরিবহন, শিক্ষা ও অন্যান্য ব্যয় কয়েকগুণ বেড়েছে। দাম বাড়ার কারণ হিসেবে টিসিবিকে কার্যকর না করা, বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেয়া, সিন্ডিকেট কারসাজি, পণ্য সরবরাহ কম থাকা, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধিসহ আরেক কয়েকটি কারণকে দায়ী করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাজার তদারকের জন্য মন্ত্রণালয় ও সংসদীয় কমিটি থাকলেও প্রকৃত পক্ষে সংশ্লিষ্টদের মাঝে এর খুব একটা উৎসাহ কিংবা প্রচেষ্টা দেখা যায়নি। তবে একাধিকবার বাজার পরিদর্শন করেছে মনিটরিং কমিটিগুলো। পৃথক ও যৌথভাবে নানা সময় তৎপরতা দেখালেও বাজারে এর কোন ইতিবাচক প্রভাব পড়েনি। বরং দেখা গেছে, মনিটরিং কমিটির সামনেই নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে পণ্য বিক্রি হতে। আবার মূল্য তালিকা টাঙানোর বাধ্যবাধকতা বেঁধে দিলেও বাজারে তার কোন প্রমাণ মেলেনি। আইন না মানার অপরাধে তেমন কোন শাস্তি না দেয়ায় ব্যবসায়ীদের মাঝে এই আইন মানার কোন বাধ্যবাধকতার সৃষ্টি হয়নি।

লাফিয়ে লাফিয়ে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের বক্তব্য হচ্ছে, বাঁচার তাগিদে বেশির ভাগ ভোক্তা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনার পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন। অনেকে অতিকষ্টের সঞ্চয় ভেঙে ফেলছেন। ফলে বাডছে ধারকর্জ নির্ভর জীবন। সাধারণ মানুষের মধ্যে আগেই বাড়া হতাশা এমন এক পর্যায়ে পৌছেছে যে, তারা এখন নিদারুনভাবে অসহায়।।