Home » বিশেষ নিবন্ধ » মানুষের কোনোই নিরাপত্তা নেই

মানুষের কোনোই নিরাপত্তা নেই

মাহাবুবুর রহমান

crossfire-1-গুপ্তহত্যা, গুম, খুন, অপহরণ, ধর্ষণ ও গণপিটুনিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় নাগরিক জীবন। প্রতিনিয়ত আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটছে। সাধারণ মানুষের কোনো নিরাপত্তা নেই। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে র‌্যাবপুলিশ। নির্যাতকের ভুমিকায় রয়েছে তারা। তাদের হাতে চলছে বিচার বহির্ভুত হত্যা। র‌্যাবপুলিশের পরিচয়ে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর অনেকের লাশ খালেবিলে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকার চারপাশের ঝোপেঝাড়ে এখন অসংখ্য লাশ পাওয়া যাচ্ছে। নতুন বছরের জানুয়ারিতেই এসব এলাকা থেকে অর্ধশতাধিক লাশ উদ্ধার করা হয়। এদের কারো পরিচয় মেলে, অনেক লাশের সমাধি হয় অজ্ঞাত হিসেবে। জানুয়ারিতে রাজনৈতিক হত্যার শিকার হন ১৭ জনের অধিক। প্রতিপক্ষ খুনের আরেক ধরণ গনপিটুনি। এই এক মাসেই গনপিটুনিতে জীবন হারান ১৭ ব্যক্তি। আর ধর্ষণের শিকার হন শতাধিক নারীশিশু। ছাত্রলীগের ‘সন্ত্রাস’ ও ‘নৈরাজ্যে’ দেশজুড়ে বিরাজ করছে আতঙ্ক। তাদের খুন ও হামলা সন্ত্রাসে মানুষ ব্যাপকভাবে উদ্বিগ্ন।

এ পরিস্থিতিতে নাগরিক জীবনে ব্যাপক নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। আর অব্যাহত উদ্বেগ প্রকাশ করে যাচ্ছে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো। জানুয়ারিতে আইনশৃঙ্খলার ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে ১ ফ্রেবুয়ারি প্রতিবেদন পেশ করে ঢাকাভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন অধিকার। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তারা। একইদিনে, ২০১২ সালে বাংলাদেশে মানবাধিকারের অবনতি হয়েছে জানিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে নিউইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। গুমখুন ও বিচার বহির্ভুত হত্যায় র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জড়িত অভিযোগ এনে সরকারের ব্যাপক সমালোচনা করা হয় এ রিপোর্টে।

মানবাধিকার লঙ্ঘণের জানুয়ারির চিত্র তুলে ধরে ‘অধিকার’ দলীয় কর্মীদের দুর্বৃত্তায়ন বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেয়া, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা না দেয়া, অধিকার আদায়ের সংগ্রামে নিয়োজিতদের বিরুদ্ধে সরকারের দমননীতি না চালানো, বিচার বহির্ভুত হত্যা বন্ধ করার সুপারিশ করে। গুম বন্ধ করতে ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন ফর দি প্রোটেকশন অব অল পার্সনস ফ্রম এনফোর্সড ডিজএপিয়ারেন্স অনুমোদন করতে সরকারের কাছে দাবি জানায় এ সংগঠনটি। এছাড়া সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাগুলো অনুসন্ধান করে বিচার, বিএসএফ কর্তৃক মানবাধিকার লঙ্গণের ঘটনায় ভারতকে প্রতিবাদ জানানো ও নারীদের প্রতি সহিংসতা বন্ধে সরকারকে উদ্যোগী হওয়ার সুপারিশ করে অধিকার।

প্রতিবেদনে অধিকার বলেছে, এ সরকারের আমলে রাজনৈতিক সহিংসতা ও দুর্বৃত্তায়নের ফলে ৭৭৫ জন নিহত হন। ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে নিহত হন ১৭ জন। সরকারের ক্ষমতার শুরু থেকেই শিক্ষাঙ্গনসহ দেশজুড়ে ছাত্রলীগের দুর্বৃত্তায়ন শুরু হয়। জানুয়ারিতে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসে ময়মনসিংহে কৃষি বিশ¡বিদ্যালয়ের ১০ বছরের শিশু রাব্বিসহ তিন জন নিহত হয়। এক মাসে ১৪৪ ধারা জারি করে সরকার ৯টি সভাসমাবেশ বন্ধ করে দেয়। গত বছরে এ সংখ্যা ছিল ১০৫টি।

১৬ জানুয়ারি পল্টনে বাম দলগুলোর হরতালে এবং ১০ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ননএমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অনশনে বিষাক্ত পেপার স্প্রে ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করা হয়। পেপার স্প্রে’র শিকার শিক্ষক সেকান্দার আলী গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীতে গেলে মারা যান। চিকিৎসকদের মতে, অ্যাজমা রোগীদের জন্য পেপার স্প্রে ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে এবং মৃত্যু ঘটাতে পারে। ‘অবৈধ সমাবেশ ঠেকাতে পেপার স্প্রে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে কথা বলার অধিকার কারো নেই’ বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী মন্তব্য করেন। পেপার স্প্রে’র পক্ষে দেয়া বক্তব্য ও নির্দেশের তীব্র নিন্দা জানায় অধিকার।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এক মাসে বিচার বহির্ভুত হত্যা হয়েছে নয়জন। এদের মধ্যে একজন ঢাকার ৫৬ নং ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য সচিব রফিকুল ইসলামকে র‌্যাব পরিচয়ে ধরে নিয়ে হত্যা করা হয়। অন্য চারজন পুলিশ কর্তৃক ক্রসফায়ার ও একজন বিজিবির গুলিতে নিহত হয়েছে।

এছাড়া জানুয়ারিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে গুম হয়েছেন দুই জন। গণপিটুনিতে মারা গেছেন ১৭ জন। তৈরী পোশাক শিল্পের কর্মীদের পরিস্থিতিও ভয়াবহ খারাপ। এ সময়ে গার্মেন্টে অগ্নিকাণ্ডে সাতজন নারী শ্রমিক নিহত ও ৫০ জন আহত হন। এছাড়া বকেয়া বেতনের দাবিতে এবং কারখানার জিএম কর্তৃক এক নারী শ্রমিককে ধর্ষণের প্রতিবাদে বিক্ষোভসহ বিভিন্ন ঘটনায় আরো ১৮৫ জন গার্মেন্ট কর্মী আহত হন।

সংবাদ মাধ্যমের ওপর আক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। এক মাসে ২০ জন সাংবাদিক আহত ও ২ জন হুমকির শিকার হন। আরো ১ জন লাঞ্ছিত ও ৯ জন বিভিন্নভাবে হয়রাণির শিকার হন। সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও আহত করার নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানায় অধিকার। একইসঙ্গে ২০১২ সালের ১৭ সেপ্টে¤¦র সরকার কর্তৃক বন্ধ করা ইউটিউব খুলে দেয়ার দাবি জানায়। কক্সবাজারের রামুতে প্রশাসনের ক্ষমাহীন নিষ্ক্রিয়তা ও সরকারি দলের স্থানীয় নেতাদের প্রত্যক্ষ মদতে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের শত বছরের পুরোনো বৌদ্ধবিহার ও মন্দিরে হামলা হয় বলেই দুর্বৃত্তদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না বলে মনে করে অধিকার। এ ঘটনায় নিরীহ মানুষকে হয়রাণি করা হচ্ছে অভিযোগ এনে “অধিকার” অবিলম্বে দোষী ব্যক্তিদের গ্রেফতার ও বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানায়।

নারীর প্রতি সহিংসতা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে মন্তব্য করে অধিকার বলেছে, সহিংসতার শাস্তি না হওয়ায় অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে ও সম্ভাব্য সহিংসতাকারীরা প্রকৃত সংহিসতাকারীতে পরিণত হচ্ছে। জানুয়ারি মাসে ৫ জন এসিডদগ্ধ হয়েছেন। এদেও মধ্যে তিন জন নারী ও দুইজন পুরুষ। ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৯৬ জন। এদের মধ্যে ৬১ জনই শিশু। ১৪ জন শিশু গণধর্ষণের শিকার হন। এছাড়া যৌন হয়রাণির শিকার হন ৪২ জন ও যৌতুক সহিংসতার শিকার ২৩ জন। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর ও অধিকারের নিজস্ব অনুসন্ধানে জানুয়ারি মাসে আইনশৃঙ্খলার এমন অবনতির চিত্র উঠে এলেও বাস্তব পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ। একটি জাতীয় দৈনিকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, জানুয়ারিতে শুধু ঢাকার আশপাশ এলাকা থেকে অর্ধশতাধিক লাশ উদ্ধার করা হয়। এদের মধ্যে ২০ জনের পরিচয় মিলেনি। অনেক সময় দেখা যায় ঢাকার মানুষকে খুন করে ফেলে রাখা হচ্ছে মুন্সীগঞ্জ কিংবা সাভারের আশুলিয়ায়। ময়মনসিংহের ফুলপুরে খুন করার পর লাশ ফেলা হয় ঢাকার কেরানীগঞ্জে। রহস্য উদঘাটনে পুলিশ উদাসীন বলেই এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ।

অপরাধীরা লাশ বহনকারী গাড়িকেই নিরাপদে নির্বিঘ্নে ব্যবহার করলেও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নামে যেসব ঘটনা ঘটে সেক্ষেত্রে দামি গাড়িও ব্যবহার করা হয়।

র‌্যাবের হাতে গুম হওয়ার এক বছর পর ফিরে আসা গাইবান্ধার একজন গৃহশিক্ষক রফিকুল তার পরিবারের সঙ্গে আলাপ করেছিলেন, দামি গাড়িতে করেই তাকে নিয়ে চারদিকে ঘুরে বেড়ানো হয়েছে। সর্বশেষ গত বছর তিনি জীবিত ফিরলেও এখনও তিনি আতংকে দিন কাটাচ্ছেন। কিন্তু র‌্যাবের হাতে গুম হয়েছে এমন অনেককে এখনও ফিরে পাওয়া যায়নি।

জানুয়ারিতে শুধু নারায়ানহঞ্জে ১২টি, সাভারে ৯টি, গাজীপুরে ৮টি, কেরানিগঞ্জে ৭টি, আশুলিয়ায় ৫টি, মুন্সীগঞ্জে ৪টি লাশ পাওয়া যায়। মুন্সীগঞ্জে ২০১১ সালে ২২টি, ২০১২ সালে ৮টি ও চলতি বছরে ৪ লাশ নিয়ে গত ২৫ মাসে মোট ৩৪টি লাশ উদ্ধার হয়। এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় একাধিক হত্যা মামলা দায়ের করা হলেও কোন ঘটনারই রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। বেশিরভাগ মামলাই ঝুলে রয়েছে। এছাড়া উদ্ধার হওয়া কিছু লাশের ঘটনায় হত্যা মামলার পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট থানায় অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় হতভাগ্য বেশ কয়েকজনের লাশ দাফন করা হয়েছে বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে।

এ বিষয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হাসান মাহমুদ খন্দকার সাংবাদিকদের বলেন, ‘যেসব লাশ উদ্ধার হয়েছে সেসবের তদন্ত চলছে। অতীতে যেভাবে তদন্ত হয়েছে এখনও হচ্ছে।’।

এ পরিস্থিতি নিয়ে একটি জাতীয় দৈনিককে মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আদিলুর রহমান খান বলেন, নিখোঁজ এবং অপহরণের পর হত্যার ঘটনা বেড়ে গেছে। যা চরম উদ্বেগের বিষয়। এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে সরকারের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জড়িত থাকার যে অভিযোগ বরাবরই পাওয়া যায়, তা রোধ করা জরুরি। তিনি বলেন, আমরা সব সময় বলে আসছি গুম বা অপহরণ মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল। এ ধরণের ঘটনায় রাষ্ট্রীয় বাহিনীর পৃষ্ঠপোষকতা থাকে বলে কোন কূলকিনারা হয় না। যেমনটা বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর ক্ষেত্রে ঘটেছে। এখন নতুন করে শুরু হয়েছে অজ্ঞাত লাশ।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পরিচালক মো. নূর খান সাংবাদিকদের বলেন, অপহরণের পর যে জিডি দায়ের হয় তা সঠিকভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। পুলিশ জিডি নিয়ে বসে থাকে তদন্তে গাফিলতি করে। এর ফলে অনেককে জীবিত উদ্ধার করতে তারা ব্যর্থ হন। তিনি বলেন, প্রতিদিন ঢাকার আশপাশ থেকে অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার হচ্ছে। অথচ পুলিশ এসব খুনের রহস্য উদঘাটনে ব্যর্থ হচ্ছে। এ কারণে বারবার একই ঘটনা ঘটছে।

দেশে আইনশৃঙ্খলা ও মানবাধিকারের চরম অবনতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। মানবাধিকার প্রশ্নে বাংলাদেশ পিছু হটেছে জানিয়ে সংস্থাটি ২০১২ সালের মানবাধিকার চিত্র তুলে ধরে গত ১ ফেব্রুয়ারি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, বাংলাদেশের জন্য ২০১২ সাল চিহ্নিত হবে ত্রুটিপূর্ণ বিচার, গুম, হত্যাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিচারবহির্ভুত হত্যার দায়ুমক্তি, রাজনৈতিক ও সুশীল সমাজের কাজের ক্ষেত্র সংকুচিত করা এবং বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) ও মানবাধিকার কর্মীদের ওপর কড়াকড়ির বছর হিসাবে। সরকারের সমালোচনা করে আরো বলা হয়, বিচার প্রক্রিয়া, এনজিওর কার্যক্রম, শিল্পে দুর্ঘটনা ও শ্রমিকদের অধিকারের ক্ষেত্রে সরকারের আচরণ অনেকটা ‘হয় আমাদের সঙ্গে থাকো, নইলে বিরুদ্ধে’।

পদ্মা সেতুতে দুর্নীতি, ইলিয়াস আলী গুম, রোহিঙ্গা ইস্যু, শ্রমিক নেতা আমিনুল ইসলাম হত্যাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে আন্তর্জাতিক মহল বিশেষ করে দাতা সংস্থাগুলো পরামর্শ দিলেও তা সরকার গ্রহণ করেনি। বরং পরামর্শ ও সমালোচনাকে ষড়যন্ত্র বলে সরকার অভিহিত করেছে।

৯০টিরও বেশি দেশের গত বছরের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ শেষে প্রকাশিত ৬৬৫ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনের এশিয়ার বাংলাদেশ অংশে এ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে সংস্থাটি।

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়নকে (র‌্যাব) ‘দুর্ধর্ষ’ অভিহিত করে প্রতিবেদনে বলা হয়, এই বাহিনীর হাতে বিচারবহির্ভুত হত্যাকাণ্ডের (ক্রসফায়ার) ঘটনা আগের চেয়ে কমলেও হত্যার ঘটনা এখনো অনেক বেশী চলছে। র‌্যাবের অন্যায় ও বেআইনী কর্মকান্ড অনুসন্ধানে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ২০১২ সালে অভ্যন্তরীণ একটি শাখা স্থাপন করা হলেও অপরাধে জড়িত র‌্যাব সদস্যদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। র‌্যাবের কর্মকাণ্ডের বর্ণনায় ১৭ বছর বয়সী লিমনের ওপর নিপিড়নের চিত্র তুলে ধরা হয়। বিএনপির সিলেট বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীর গুমের ঘটনা তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়, ইলিয়াস আলীকে খুঁজে বের করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুলিশকে নির্দেশ দিলেও সরকারকে অপবাদ দিতে দলের সিদ্ধান্তে তিনি লুকিয়ে আছেন এমন অুজহাত দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিষ্ক্রিয় আছেন।

দেশের অনেক বিরোধী ও রাজনৈতিক দলের কর্মী নিখোঁজ রয়েছেন। ২০১২ সালে ২০ জনের অধিক নাগরিক গুম হয়েছে। পাশাপাশি নিখোঁজের পর খুন হয়েছেন একজন শ্রমিক নেতাও। এছাড়া আরও অনেক শ্রমিক নেতাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

মানবাধিকার সংস্থাটির প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, কঠোর আইন থাকলেও তার বাস্তবায়ন না থাকায় নারীর প্রতি সহিংসতা বাড়ছে। বাড়ছে ধর্ষণ, যৌতুক এবং অন্যান্য সহিংসতা। এসিড সন্ত্রাস, ‘ফতোয়া’র নামে ‘অবৈধ’ শাস্তি প্রদানের ঘটনা বেড়েই চলেছে।।