Home » মতামত » যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং শাসকদের রাজনৈতিক সমীকরণ

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং শাসকদের রাজনৈতিক সমীকরণ

ফারুক আহমেদ

international crime tribunal-1-জনগণের দিক থেকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ৪১ বছরের প্রত্যাশা, যদিও জনগণের দিক থেকে তা শুধুমাত্র নিষ্ক্রিয় প্রত্যাশার ব্যাপার থাকেনি। স্বাধীনতার পর থকেই এদেশের জনগণ যুদ্ধাপররাধীদের বিচারের দাবিতে সক্রিয় থেকেছেন। তাই বর্তমানে যুদ্ধাপরাধীদের যে বিচার চলছে তা জনগণের শুধুমাত্র প্রত্যাশা বা চাওয়ার বিষয়ই নয়, জনগণের পত্যক্ষ আন্দোলনের মধ্যদিয়ে অর্জিত।

৫ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধাপরাধের মামলায় যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা কাদের মোল্লার মানবতা বিরোধী মামলার রায় ঘোষনা করা হয়েছে। মানুষ আগাগোড়াই ন্যায় বিচারের মধ্য দিয়ে তার অপরাধের যে শাস্তি হওয়া উচিৎ সেই দাবিই করে আসছিলেন। কিন্তু রায়ে মানুষের সে দাবি পূরণ হয়নি। এর সপ্তাহ দুয়েক আগে যুদ্ধাপরাধের মামলার রায়ে আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকারকে আদালত সর্বোচ্চ শাস্তির রায় দেয়। বাচ্চু রাজাকার নামে পরিচিত মওলানা আবুল কালাম আজাদ বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগে থেকেই পলাতক।তার পলাতক হওয়ার ঘটনা শুরু থেকেই মানুষের মনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়ে আসছিল। কিন্তু মানুষ অবাক হয়েছেন এবং বিক্ষুব্ধ হয়েছেন, যখন কাদের মোল্লার যুদ্ধাপরাধের মামলার রায় আদালত ঘোষণা করেছে। মানুষের কাছে স্বাভাবিক বুদ্ধিতে হিসাব করা কঠিন হচ্ছে, এমন রায় কি করে হতে পারে।যেখানেই স্বাভাবিকভাবে হিসাব মেলে না, সেখানেই থাকে রাজনৈতিক সমীকরণের হিসাব।তাই এই রায়কে শাসকশ্রেণীর রাজনৈতিক সমীকরণের পরিপ্রেক্ষিতে না দেখলে এর হিসাব স্বাভাবিকভাবে মিলবে না।

১৯৭১ সালে যারা স্বাধীনতার বিরোধী ছিল তারা শুধুমাত্র রাজনৈতিকভাবে বিরোধিতা করে বসে ছিল না বরং সক্রিয়ভাবে জনগণের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তাদের ব্যাপকভাবে হত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণের মত অপরাধতো করেছেই, তার সাথে সাথে আরো যেটা করেছে তা হলো জনগণের সম্পদ লুণ্ঠন।জনগণের সম্পদ তারা কিভাবে লুন্ঠন করেছিল এবং তা এখনও কিভাবে অব্যাহতভাবে চলছে, তা এসব অপরাধীদের অবস্থার দিকে দৃষ্টি দিলেই বুঝা যায়। এসব অপরাধির কেউই গরীবতো নয়ই সাধারণ মধ্যবিত্তের মধ্যেও এরা পড়ে না। বাংলাদেশই পৃথিবীর মধ্যে বুঝি একমাত্র দেশ, যে দেশে স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধীরা জনগণের স্বাধীনতা লাভের পরও জনগণের কাছ থেকে লুন্ঠন করা সম্পদ নির্বিঘ্নে রেখে দিতে পেরেছে এবং লুন্ঠন অব্যাহতভাবে চালিয়ে যাচ্ছে। লাগাতারভাবে জনগণের মাঠের আন্দোলন থাকা সত্ত্বেও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কেন এতদিন হয়নি,কেন চল্লিশ বছর পর বিচার শুরু হলো,কেন বিচার নিয়ে মানুষের মন থেকে সন্দেহ দুর হতে পারছে না, কেন বিচারের রায়ে মানুষের ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ার প্রশ্ন আসে, কেন তারা রাজনৈতিকভাবে এবং অর্থনৈতিকভাবে ক্ষমতাবান,এসব প্রশ্নের প্রকৃত জবাব পেতে হলে তাদের এবং বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকা শাসকশ্রেণীর শ্রেণীগত অবস্থান আর সম্পর্কের মধ্যদিয়ে বুঝতে হবে।

স্বাধীনতার পর থেকেই স্বজন হারানো এবং সর্বস্ব হারানো মানুষেরাতো বটেই, দেশের সকল মানুষই তাদের লড়াই, সংগ্রাম আর আত্মত্যাগের মধ্যদিয়ে প্রাপ্ত রাষ্ট্রের কাছে যারা মানবতার বিরূদ্ধে অপরাধ করেছিল, মানুষের সর্বস্ব লুন্ঠন করেছিল, ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছিল, তাদের বিচার চেয়েছিলেন।এসব অপরাধ এমন ছিল যে, জনে জনে স্বাক্ষী নিয়ে এগুলো প্রমাণের কোন ব্যাপার ছিল না। এসব অপরাধীর অপরাধের প্রমাণ তখন দেশের সর্বত্র বিরাজ করছিল।তাই এদের বিচারের জন্য কালক্ষেপনের কোন প্রয়োজন ছিল না।কিন্তু মানুষ অবাক বিস্ময়ে সেদিন লক্ষ্য করেছিলেন তখন সেই বিচার হয়নি। যাঁরা সর্বস্ব হারিয়েছিলেন তারা তাঁদের সম্পত্তি ফিরে পাননি।১৯৭৫ সালে শেখ মুজিবুর রহমান স্বপরিবারে নির্মমভাবে নিহত হন। শেখ মুজিবের নিহতের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় যারা থেকে গিয়েছিল তারা সেসময়ের শাসকশ্রেণীর দলের বাইরের কেউ ছিল না। এর পর জিয়াউর রহমান সামরিক আইনের মধ্যদিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন। পরবর্তিতে আওয়ামীলীগ দলীয়ভাবে এবং আওয়ামীলীগের বুদ্ধিজীবীরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গ আসলেই সবসময় বলে থাকেন, ১৯৭৫ সালে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজ পরিপূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। তাঁদের এসব কথার অর্থ এটাই দাঁড়ায় যে, ৭৫ এর পট পরিবর্তন না হলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হতো। তাঁদের এসব কথার মধ্যদিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠে আসে যে, অন্ততঃ শীর্ষস্থানীয় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শেখ মুজিবের শাসনামলে অর্থাৎ ১৯৭৫এর আগেই হয়নি কেন? শেখ মুজিবের সাধারণ ক্ষমার প্রসঙ্গে বলা হয়ে থাকে, তিনি নির্দিষ্ট অভিযোগে অভিযুক্তদের ক্ষমা করেননি। সেখানে প্রশ্ন থেকে যায়, নির্দিষ্ট অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও এবং গোটা দেশবাসীর সাক্ষ্য থাকা সত্ত্বেও এসব অপরাধীর বিচার কেন সাড়ে তিন বছরের মধ্যেও হতে পারেনি? জিয়াউর রহমান সে সময় অন্য কোন রাজনৈতিক অবস্থান হতে আসেননি। তিনি কোন্ ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে এসব অপরাধীদের মুক্ত করে দিয়েছিলেন? সেই ভিত্তি কখন কিভাবে নির্মান করা হয়েছিল?

দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে যদি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন হতো, তাহলে জিয়াউর রহমানের পক্ষে স্বাধীনতা বিরোধীদের আশ্রয়প্রশ্রয় দেয়ার কোন প্রশ্নই উত্থাপিত হতে পারতো না এবং তার পক্ষে এটা সম্ভবও ছিল না এবং তার পক্ষে সাহস করাটাও কঠিন ছিল। জিয়াউর রহমান জামায়াতে ইসলামিকে রাজনীতি করার অনুমতি দিয়েছিলেন এটা ঠিক। কিন্তু তখন, এতে রাজনৈতিকভাবে আওয়ামীলীগ কোন আপত্তি বা আন্দোলন সংগ্রাম গড়ে তোলেনি অথবা চেষ্টাও করেনি। কারণ আওয়ামী লীগতো তখন বা পরবর্তীকালে রাজনৈতিকভাবে অস্তিত্বহীন ছিল না। যে আওয়ামীলীগ স্বাধীনতা যুদ্ধের একচ্ছ্বত্র দাবিদার, সেই আওয়ামীলীগ তখন কি করেছিল? যখন যুদ্ধাপরাধীদের জিয়াউর রহমান স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াতকে রাজনীতি করার সুযোগ দিচ্ছিলেন, তখন আওয়ামীলীগ কি কোন রকমের প্রতিবাদও করেছিল? জিয়াউর রহমানের শাসনামলে স্বাধীনতা বিরোধীদের তিনি আশ্রয়প্রশ্রয় দিয়েছিলেন। কিন্তু ১৯৯১ সালের পরে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রশ্নে আওয়ামী লীগ জামায়াতকে নিয়ে তীব্র আন্দোলন করেছিল। সুযোগ বুঝে আওয়ামীলীগ যুদ্ধাপরাধীদের রাজনীতির সঙ্গে কখনো আপোষ এবং কখনো মুখর থেকেছে এ কারণে যে, যখন যা করলে ক্ষমতায় যাওয়ার রাজনীতির সমীকরণে বেশি সুবিধা পাওয়া যায়, আওয়ামীলীগ তখন তাই করেছে এবং এখনও করে চলেছে। বিএনপি এবং এরশাদের জাতীয় পার্টিও সুযোগ বুঝে জামায়াতকে সঙ্গে নিয়েছে। যুদ্ধাপরাধী এবং বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে পরাজিত এবং রাজনৈতিকভাবে প্রায় নিঃষেশিত হয়ে যাওয়া ধর্মভিত্তিক রাজনীতিকে এই পুষ্ট করে তুলবার কাজ শাসকশ্রেণী স্বাধীনতার পর থেকেই শুরু হয়েছে। এটা শাসকশ্রেণীর কোন একক দলের কাজ নয়। পরবর্তীতে সামরিক স্বৈরাচার এরশাদের আমলে এরা পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছে। আওয়ামীলীগ, বিএনপি সবার কাছ থেকেই শ্রেণীগত এবং রাজনৈতিক কারণে এরা আনুকূল্য পেয়ে এসেছে।

কিন্তু এদেশের জনগণ হাল ছাড়েননি। লাগাতারভাবেই জনগণ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবী করে এসেছেন।স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের সময় প্রগতিশীল ছাত্র সমাজ যুদ্ধাপরাধী এবং রাজাকার বিরোধি আওয়াজ সংগঠিতভাবে তুলতে থাকে। জনগণের রাজনৈতিক নেতৃত্বের অভাবে এদেশের জনগণের বহু গণতান্ত্রিক আন্দোলন শাসকশ্রেণীর লোকেরা দখল করে নিষ্ক্রিয় করে দিয়েছে। নব্বুইয়ের দশকে গড়ে ওঠা ঘাতকদালাল, যুদ্ধাপরাধী বিরোধী আন্দোলনকেও শাসকশ্রেণীর লোকেরা ভিতর থেকে এবং বাইরে থেকে দখল করে নিষ্ক্রিয় করেছিল। তা করতে পেরেছিল জনগণের কোন রাজনৈতিক সংগঠনের অভাব এবং শক্তভাবে আন্দোলনের নেতৃত্ব ধরে রাখার সামর্থ্যহীনতার কারণে। পরবর্তীকালে, যুদ্ধাপরাধীদের সাথে আওয়ামীলীগের মহা সখ্যতায় তারা ক্ষমতায় আসবার পর এ আন্দোলন ভিতর থেকেই নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়।ঘাতকদালাল নির্মূল কমিটি সম্পূর্ণরূপে আওয়ামীলীগের দখলে থাকায় তারা আওয়ামীলীগের ক্ষমতার মেয়াদ কালে দুই একটি বিবৃতি দেওয়া ছাড়া আর কিছুই করেনি। ২০০১ সালে বি.এন.পি জামায়াতের সাথে জোট বেঁধে ক্ষমতায় আসে। চুক্তি আনুযায়ী যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রীও বানানো হয়। জোট সরকার জনস্বার্থ বিরোধি কর্মকান্ডে পূর্ববর্তী আওয়ামীলীগকে ছাড়িয়ে যায়,আওয়ামীলীগ যেমন ছাড়িয়ে গিয়েছিল তার পূর্ববর্তী বি.এন.পি কে।

আওয়ামীরীগের মত একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষে জনগণের মানসিকতা বুঝতে অসুবিধা হয় না।মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির দায় দিয়ে তারা আরো একবার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করবে বলে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দেয়। জনগণ বরাবরই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবী করে এসেছেন। কিন্তু বিচার যেহেতু জনগণের কাজ নয়, তাই বিচার করতে হবে শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রকেই। তাই রাষ্ট্র ক্ষমতার কাছাকাছি কোন দল যদি এ বিচার করার প্রতিশ্রুতি দেয়, তবে জনগণ তার পক্ষে রায় দিতেই পারে।গত সংসদ নির্বাচনে জনগণ আওয়ামীলীগকে নির্বাচিত করেছিল যে সকল কারণে, তার মধ্যে এটি ছিল অন্যতম প্রধান কারণ। আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসবার পরও জনগণের চাপ অব্যাহত থেকেছে।জনগণের চাপের মুখে আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে মহাজোট সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনাল গঠন করে। এই্ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে যেভাবে বিচার কার্য চালানোর কথা ছিল সরকার প্রথম থেকেই সে পথে যাওয়ার দিকে নিষ্পৃহ থেকেছে। উপরন্তু জনগণের যে কোন দাবীর পক্ষে যে কেউই গণতান্ত্রিক আন্দোলনে গেছে সরকার তাকেই চিহ্নিত করে এসেছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচালকারীর ষড়যন্ত্রকারী হিসাবে। সরকারের এ সমস্ত আচরণে প্রথম থেকেই জনমনে প্রশ্ন তৈরী হয়, সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করবে নাকি বিচারের নামে প্রহসন করবে।

সরকারের মেয়াদ প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। এরই মধ্যে সরকার নানা রকমের জনবিরোধী কাজে, যে সকল সংকটের মধ্যে পড়েছে, তার একটি মীমাংসা এখনই প্রয়োজন। এ সরকারের মেয়াদকালে এ পর্যন্ত দেখা গিয়েছে জনগণের দাবি নিয়ে যারাই মাঠে নেমেছে সরকার তাদের উপরই নির্মম দমন পীড়ন চালিয়েছে। তেলগ্যাসবন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আন্দোলন থেকে শিক্ষকদের আন্দোলন কোনটিই সরকারের নির্মম নির্যাতনের হাত থেকে রেহাই পায়নি। সরকার যে কোন আন্দোলনকে যখন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচালের আন্দোলন হিসাবে প্রচার করেছে, সেখানে যখন খোদ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাতিলের দাবিতে এবং ট্রাইব্যুনাল বাতিলের দাবিতে জামায়াতশিবির হরতাল করেছে, তান্ডব করছে তখন সরকারই তাদের জায়গা করে দিয়েছে। অবস্থানগত কারণে মতিঝিলের শাপলা চত্ত্বর এমনই একটি জায়গা যেখানে নিরাপত্তার কারণেই কাউকে কোন সমাবেশ করতে দেওয়া হয় না। সেই মতিঝিলে সরকারের পুলিশ বাহিনী সমস্ত রাস্তা আটকিয়ে জামায়াতশিবিরকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাতিল এবং ট্রাইব্যুনাল বাতিলের দাবিতে সমাবেশ করতে দিয়েছে। সরকার জনগণের স্বার্থরক্ষার আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের প্রতি কথায় কথায় রাষ্ট্রদোহিতার অভিযোগ আনেন।অথচ রাষ্ট্রের বিচার ব্যবস্থা বন্ধের দাবি যারা উত্থাপন করছে, তাদের সমাবেশ করার জন্য জায়গা করে দিচ্ছে। কাদের মোল্লার মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের মামলার যে রায় দেওয়া হয়েছে তাকে সরকারের এসব কর্মকান্ডের মধ্য দিয়েই দেখতে হবে।

জনগণ একচল্লিশ বছর ধরে আন্দোলন করে এমন অপরাধীর এ লঘু শাস্তি মেনে নেবে না বলেই রাজপথ দখল করেছে। কাদের মোল্লার রায়ের পর থেকেই আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের কোন কোন নেতা থেকে শুরু করে অনেকেই আঁতাতের কথা বলছেন। যার জবাবও দিতে হয়েছে সরকারকে। আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলামকে তো বলতেই হয়েছে, সরকার কোনো আঁতাত করেনি। এ অবস্থায় সুষ্ঠু বিচার কার্য না হলে জনগণের আন্দোলন চলবে এবং দাবী উঠতেই থাকবে। এই দাবী উঠতে হবে অবশ্যই সরকারের বিরুদ্ধে। বিচারের নামে পর্দার অন্তরালে যদি কোনো নাড়াচাড়া হয় তাহলে অবশ্যই সরকারকে দায়ী করে দাবী তুলতে হবে। সরকারী দল আওয়ামীলীগ এবং তাদের সাথে সম্পর্কিতরা কার কাছে দাবী তুলবে? তাদের দাবী তোলা কি আরেক প্রহসন নয়? যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সরকারকে করতে হবে এই কারণে যে, জনমনে যে সন্দেহ দেখা দিয়েছে, জামায়াতশিবিরের সাথে নির্বাচনকে সামনে রেখে আঁতাতের মাধ্যমে বিচার নিয়ে প্রহসন করলে তার পরিণতি কখনই ভালো হতে পারে না। আর এমনটা যদি হয়ই তবে এই সরকারের বিরুদ্ধে এখন এবং অদূর ভবিষ্যতে জনগণকে সোচ্চার থাকতে হবে।।