Home » বিশেষ নিবন্ধ » যুদ্ধাপরাধীর বিচার ও শাহবাগ গণজাগরণ – ১

যুদ্ধাপরাধীর বিচার ও শাহবাগ গণজাগরণ – ১

আনু মুহাম্মদ

Anu_Mohammad-2৪২ বছর পরে কেনো যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি নিয়ে তরুণদের বিদ্রোহ করতে হয় এই প্রশ্নটিই সবার আগে আসে। ২০১৩ সালে এসে শাহবাগে দলবহির্ভূত তরুণদের উদ্যোগ থেকে যে বিশাল গণজোয়ার তৈরি করেছে, তা যুদ্ধাপরাধীর যথাযথ বিচার যে শুধু অনিবার্য করে তুলছে তাই নয়, এটি বাংলাদেশের রাষ্ট্র ও রাজনীতি নিয়েও মৌলিক কিছু প্রশ্ন উত্থাপন করছে, সম্ভাবনা তৈরি করছে বিদ্যমান রাজনীতির দুষ্টবৃত্ত অতিক্রমের। এই লেখায় এই বিষয়ে পর্যালোচনার আগে এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট সংক্ষেপে উপস্থাপন করা জরুরি মনে করি।

যুদ্ধকালে নিরস্ত্র নারী পুরুষ শিশু বৃদ্ধের ওপর সশস্ত্র দখলদার বাহিনীর আক্রমণ, হত্যা, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণ, নির্যাতনই যুদ্ধাপরাধ। ১৯৭১ সালের বাংলাদেশে এইরকম যুদ্ধাপরাধ ঘটেছে অসংখ্য। মূল যুদ্ধাপরাধী পাকিস্তান সেনাবাহিনীর লোকজন পার পেয়ে গেছে প্রথমেই। স্বাধীনতার পর ‘দালাল আইন’ করে এই দেশী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কার্যক্রম শুরু হয়। সেসময় এই আইনে বেশ কিছু রাজাকার আলবদর নেতা আটক হয়, বিচারও হয় কয়েকজনের। অন্যদিকে তখন এই আইনের অপপ্রয়োগ নিয়ে অভিযোগও ওঠে। একপর্যায়ে ১৯৭৩ সালে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বাদে বাকি সকলের জন্য ‘সাধারণ ক্ষমা’ ঘোষণা করা হয়। এর ফাঁক দিয়ে অনেকেই বের হয়ে আসে। ১৯৭৫ এর পর এই বিচার কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। প্রথমে মুশতাক ও পরে জিয়ার শাসনামলে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল বৈধ হবার সাথে সাথে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে সক্রিয় ব্যক্তিরাও সমাজে রাজনীতিতে আবারো ফিরে আসতে থাকে।

এরকম পরিস্থিতিতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে প্রথম আন্দোলন সূচিত হয় ৭০ দশকের শেষে। কর্নেল (অবঃ) কাজী নূরুজ্জামানের নেতৃত্বে তৎকালীন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এই আন্দোলন সারাদেশে বিস্তৃত করে। আন্দোলন বেশ বেগবান হবার পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই বিষয়ে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণের জন্য কাজী নূরুজ্জামানকে প্রতিশ্রুতি দেন। কর্নেল জামান একাধিকবার জিয়াউর রহমানের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের কথা জানিয়ে বলেছিলেন, জিয়াউর রহমান এবিষয়ে বেশ কিছু পরিকল্পনার কথাও তাঁকে জানিয়েছিলেন। কিন্তু ততদিনে জিয়া সরকার তাদের ওপরই নির্ভরশীল হয়ে গেছে, সরকারের ভেতর কিংবা আশে পাশে যুদ্ধাপরাধী বা তাদের সমর্থকদের ভিড়। ঐ বৈঠকের কিছুদিনের মধ্যেই জিয়াউর রহমান নিহত হন।

৮০ দশকে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময়ই রাজনীতির ময়দান, বিশেষত: গণতান্ত্রিক আন্দোলনে জামায়াতে ইসলামী নিজেদের অংশীদারীত্ব প্রতিষ্ঠা করবার চেষ্টা করে। তারা এক্ষেত্রে অনেকখানি সফলও হয়, যুগপৎ আন্দোলনে যুক্ত হতে দেবার কারণে। ৮ দল, ৭ দল, ৫ দল ও জামায়াতে ইসলামী এভাবেই আন্দোলনের কর্মসূচি ও খবরাখবর তখন প্রকাশিত হতে থাকে। সরকারের দমন পীড়ন হত্যা নির্যাতনে ৮ দল, ৭ দল, ৫ দলের সকল দলই আক্রান্ত হলেও জামায়াতে ইসলামী তখন বেশ নিরাপদে ছিল। একদিকে, প্রশাসনের প্রশ্রয় অন্যদিকে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অংশীদারের বৈধতা নিয়ে এই দশকেই জামায়াতে ইসলাম দেশব্যাপী নিজেদের দলের সম্প্রসারণ ঘটাতে সমর্থ হয়। এছাড়া অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও তাদের দক্ষ কৌশলী নানা প্রতিষ্ঠান তৈরি হয়। বিশ্বব্যাংকআইএমএফএর কাঠামোগত সমন্বয় কর্মসূচি অনুযায়ী শিক্ষা ও চিকিৎসা ক্ষেত্রেও বাণিজ্যিক তৎপরতার সুযোগ উন্মুক্ত হয়। ক্রমে শিক্ষা, ব্যাংক, বীমা, কম্পিউটার, এনজিও সবক্ষেত্রে জামায়াত দক্ষতার সঙ্গে নিজেদের অর্থনৈতিক ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করে। সরকারী প্রশাসনবিনিয়োগ খাতএনজিওকয়েকটি দেশের দূতাবাস মিলে জামায়াতের একটি শক্ত নেটওয়ার্ক দাঁড়ায়। একদিকে বিশ্বব্যাংকআইএমএফ অন্যদিকে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি দুপক্ষের জন্যই অনুকূল সময় ছিল এরশাদের স্বৈরশাসন। গণঅভ্যুত্থানের মুখে ধর্মকে বর্ম হিসেবে ব্যবহার করতে এরশাদ আমলেই ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম করা হয়।

জামায়াতের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে সন্ত্রাসী তৎপরতাও শুরু করে এই দশকেই। ৮০ দশকের দ্বিতীয় ভাগে তাই বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিবিরের সন্ত্রাস, রগকাটা, হত্যার বহু খবর সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়। শিবিরের সঙ্গে প্রধানত সংঘাত হয় বাম সংগঠনগুলোর, কিন্তু কোথাও কোথাও ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের সাথেও অনেকগুলো রক্তাক্ত সংঘাত দেখা যায়। ১৯৮৯ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের কর্মীদের হাতে কবির নামে ছাত্রদলের কর্মী নিহত হবার পর সকল ছাত্রসংগঠনের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের মধ্যে দিয়ে তারা ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত হয়। এরপর একাধিকবার সশস্ত্রভাবে ক্যাম্পাস দখলের চেষ্টা করলেও,নিরস্ত্র ছাত্রছাত্রীদের প্রতিরোধের কারণে তারা প্রতিবারই ব্যর্থ হয়।

৮০ দশকের শেষদিকেই ‘মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা কেন্দ্র’ থেকে প্রকাশিত হয় ‘একাত্তরের ঘাতক দালালেরা কে কোথায়?’ যদিও সরকারীভাবে ঘাতকদের তালিকা এখনও তৈরি হয়নি। ১৯৯০ এ এরশাদের পতন ঘটে একটি গণঅভ্যুত্থানের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে। কিন্তু বিজয়ের আনন্দ ম্লান করে টিভিস্ক্রীনে ৮ দল, ৭ দল ও ৫ দল ছাড়াও জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর আব্বাস আলী খান হাজির হন ‘গণতান্ত্রিক আন্দোলনের’ অন্যতম মুখপাত্র হিসেবে।

৮০ দশকে রাজনীতিতে এভাবে পুর্নবাসিত হয়ে, এবং পরে ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপি সরকার গঠনে সমর্থন দিয়ে, নাগরিকত্ব হারানো গোলাম আজমকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমীর ঘোষণার সাহস সঞ্চার করে জামায়াত। ১৯৯১ সালের শেষ দিকে তারা এই ঘোষণা দেয়। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুদলই তাদের রাষ্ট্রপতি প্রার্থীর জন্য গোলাম আজমের দোয়া চাইতে গেলে দেশব্যাপী ক্ষোভ ও হতাশা বেড়ে যায়। এসবের প্রতিক্রিয়াতেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আন্দোলন এক নতুন পর্বে প্রবেশ করে। ১৯৯২ সালের ১৯ জানুয়ারি কাজী নূরুজ্জামানের বাসায় প্রথম এবিষয়ে সভা হয়, সেখানে আমিও উপস্থিত ছিলাম। কয়েকদফা সভার পর গঠিত হয় ১০১ সদস্য বিশিষ্ট ‘একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি’। আহবায়ক হন জাহানারা ইমাম। দ্রুত এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। পরে এই কমিটির সঙ্গে আওয়ামী লীগ থেকে শুরু করে অনেক বাম দল ঐক্যবদ্ধ হয়ে গঠিত হয় ‘একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল জাতীয় সমন্বয় কমিটি’। এরও আহবায়ক হন জাহানারা ইমাম। ৯২ এর মার্চ মাসে যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক গণআদালত অনুষ্ঠিত হয়।

১৯৯২ সালের ডিসেম্বর মাসে বাবরী মসজিদ ভাঙার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামী নতুন প্রাণ ফিরে পায়, রাস্তায় নেমে আসে। নিজেদের রক্ষা করবার সুযোগ হিসেবে তারা বিজেপির উগ্র হিন্দু ফ্যাসিবাদী তৎপরতাকে কাজে লাগাতে চেষ্টা করে। আন্দোলনের মধ্য থেকে তখন নতুন শ্লোগান তৈরি হয়েছিল, ‘গোলাম আজম আদভানী, দুই দেশের দুই খুনী’।

আন্দোলনের মধ্যে জাহানারা ইমামকে একবার জিজ্ঞেস করেছিলাম, ‘আপনি কি মনে করেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গেলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবে?’ জাহানারা ইমাম স্পষ্ট ভাবেই বলেছিলেন, ‘এমনি এমনি হবে না। আন্দোলন থাকতে হবে।’ বারবার এই কথা সত্য প্রমাণিত হয়েছে। যখন জাহানারা ইমাম এই বিশাল আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন তখন তিনি ক্যানসার আক্রান্ত। এই ক্যানসারেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন ১৯৯৪ সালে।

তাঁর মৃত্যুতে যে তখন আমরা শুধু আমাদের পথপ্রদর্শক হারাই তাই নয়, তাঁর অনুপস্থিতির সুযোগে এই আন্দোলনকে হজম করে আওয়ামী লীগের পক্ষে কোণঠাসা জামায়াত ইসলামীর সাথে রাজনৈতিক সমঝোতায় আসাও সম্ভব হয়। সমন্বয় কমিটির সভায় আমরা আন্দোলনের পিঠে ছুরি মারবার এই ঘটনার প্রতিবাদ করেছি। বলেছি, যুদ্ধাপরাধীদের সহযোগীদের নিয়ে যুদ্ধাপরাধের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলে না। বরং যারা এই ভূমিকা পালন করে তাদেরও একই সঙ্গে বিচার হওয়া উচিত। ১৯৯৫৯৬ সাল ছিল বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ, জামায়াত ও জাতীয় পার্টির যৌথ আন্দোলনের বছর। বিএনপি একা একা নির্বাচন করতে গিয়ে প্রথমে একটি প্রহসন করলো, তারপর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি মেনে ক্ষমতা ত্যাগ করলো।

১৯৯৬ এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গেলো। যুক্তিযুক্ত কারণেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে সেবারে কোনো কাজ হলনা। ততদিনে জামায়াত ঘাতক দালাল নির্মূল আন্দোলনের আঘাত কাটিয়ে নিজেদের আরও শক্তিবৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছে। একপর্যায়ে অধিকতর দরকষাকষির ক্ষমতা সহ জামায়াত আবারো যুক্ত হল বিএনপির সঙ্গে, গঠিত হল ৪ দলীয় জোট। এবারে তারা অধিকসংখ্যক আসন নিয়ে সরকারের অংশীদার। স্বাধীনতার ৩০ বছর পর, গণআদালত আন্দোলনের ১০ বছর পর যুদ্ধাপরাধী হিসেবে সুনিদিষ্ট অভিযোগ আছে এরকম দুজন ব্যক্তি বাংলাদেশ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দুটো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলো। দুর্নীতি, সন্ত্রাস, বাংলাভাই ইত্যাদি নানাঘটনার অংশীদার হয়ে জামায়াতে ইসলামী ততদিনে স্বরূপে আবির্ভূত, তাদের ‘নৈতিকতা’ ‘আল্লাহর আইন’ এর চেহারাও প্রকাশিত।

অর্থনৈতিক নীতি, দুর্নীতি, দমন, লুন্ঠনে ৮০ দশক থেকে দেশ যেভাবে এগিয়েছে তাতে এসব কাজে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় পার্টির কোন ফারাক করা যায় না। তবে ঐতিহাসিক কারণে আওয়ামী লীগের পক্ষে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে একটি ভিন্ন সমর্থনবলয় তৈরির সুযোগ সবসময়ই থাকে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে এটাই ছিল তার শেষ অবলম্বন। সুতরাং যুদ্ধাপরাধীর বিচারের প্রতিশ্রুতি নিয়েই তাকে জনগণের সামনে যেতে হয়েছে।

ক্ষমতা গ্রহণের পর এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে গেছে আওয়ামী লীগ, ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়েছে। চিহ্নিত কয়েকজন যুদ্ধাপরাধীর বিচার শুরু হয়েছে। কিন্তু প্রথম থেকেই বিভিন্ন কারণে জনগণের সংশয় কাটেনি। প্রথমত, এই আশংকা বরাবরই থেকেছে যে, যেহেতু আওয়ামী লীগ একবার জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে রাজনৈতিক ঐক্য করেছে, বারবার নানা আপোষপ্রবণতা দেখিয়েছে, তাদের একটি মহাবিপর্যয় থেকে রক্ষা করেছে, সেহেতু যেকোন সময় ভোট বা অন্য কোনো বিবেচনায় আবারও এরকম কিছু করতে পারে। দ্বিতীয়ত, শুধু ১৯৭১ নয় এর আগে থেকেই জামায়াত বরাবরই যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রশক্তি। যেসব ইসলামপন্থী রাজনীতি মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের পক্ষে বরাবর ভূমিকা পালন করেছে জামায়াত তার অন্যতম। যুক্তরাষ্ট্রের চাপ, লবিং ইত্যাদি এখনও যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে নানাভাবে সক্রিয়। তৃতীয়ত, গত তিনদশকে বাংলাদেশে যে লুটেরা শ্রেণীর বিকাশ হয়েছে, ধনিক শ্রেণী গঠনের সেই প্রক্রিয়ায় মুক্তিযুদ্ধে পক্ষ বিপক্ষ মুছে দখললুন্ঠনজালিয়াতির একটি শক্তিশালী চক্র তৈরি হয়েছে দেশে। এখানে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত জাতীয় পার্টি একাকার। এই শ্রেণীমৈত্রীর শক্তি যে মুক্তিযুদ্ধের শত্রুমিত্র বিভাজন রেখা মুছে দেয় তার প্রমাণ অসংখ্য। ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’র কথা বললেও আওয়ামী লীগের পিছুটান এখানেই।

এটা নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে, এই বিচারের ন্যায্যতা এবং জনমতের যে শক্তি তাতে কারও পক্ষে এই বিচার ঠেকানো সম্ভব নয়। কিন্তু প্রথম থেকেই এই বিচার কাজে সরকারের অদক্ষতা, অযতœ, শৈথিল্য, দুর্বলতা নানাভাবে প্রকট হয়েছে। মন্ত্রীরা যথেচ্ছা বাচালতা করে বিচার প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন। ছাত্রলীগযুবলীগ রামদা হামলাহত্যাজখমসন্ত্রাসচাঁদাবাজী করে যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে কাজ করেছে। খুনীসন্ত্রাসীদের ক্ষমাপ্রশ্রয় ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী নানা চুক্তি করে সরকার ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’ বিরোধী অবস্থান নিয়েছে। দখল নির্যাতন, দুর্নীতি, লুন্ঠন, জাতীয় স্বার্থবিরোধী অপকর্মের বিরুদ্ধে জনগণের নানা আন্দোলনের সামনে না দাঁড়াতে পেরে, যখন তখন যে কোনো আন্দোলনকে ‘যুদ্ধাপরাধী বিচার নস্যাতের আন্দোলন’ বলে সরকারী লোকজন প্রকৃতপক্ষে যুদ্ধাপরাধীদের শক্তি জুগিয়েছেন। পুলিশের সঙ্গে জামায়াত শিবিরের সংঘাত ও ফুলনিবেদন, পুলিশের মার খাওয়া কারও কাছেই স্বাভাবিক মনে হয়নি।

বাচ্চু রাজাকারের ফাঁসি হলো, কিন্তু বিচারের আগেই তার পালিয়ে যাওয়া নিয়ে কোনো সদুত্তর পাওয়া গেলো না। এরপর কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে গণহত্যাসহ অনেকগুলো অপরাধ প্রমাণিত হবার পরও যখন সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়া হল না তখনই ঘটলো বিস্ফোরণ। সমাজের ভেতরে নানা সংশয় ও প্রশ্ন নিয়ে প্রতিবাদের যাত্রা শুরু করলো সজাগ তরুণেরা। তৈরি হতে থাকলো নতুন ইতিহাস।।

(চলবে…)

১টি মন্তব্য

  1. Ek kothai ottonto shomoyopojogi ebong bastobdhormi lekha. Jodio Oddapok Anu muhammad ekjon Awamileague biddeshi boleyi edaning shuporisito. Tobuo lekhata k awamileague-er possitively niye shamne egiye jawata-e mongoljonok.