Home » আন্তর্জাতিক » সীমান্ত হত্যা – একটি ভিন্ন চিত্র

সীমান্ত হত্যা – একটি ভিন্ন চিত্র

আমাদের বুধবার প্রতিবেদন

bsf_logo-1-বারবার ভারতের প্রতিশ্রুতি সত্বেও সীমান্তে বিএসএফ এর গুলিতে বাংলাদেশি নিহতের ঘটনা বন্ধ হচ্ছে না। গত বছরও সীমান্তে বিএসএফ এর গুলিতে ৩৮ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। বিএসএফ ধরে নিয়ে যায় ৭৪ জনকে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ৫ জন এবং ফেব্রুয়ারির ১৫ তারিখ পর্যন্ত ৩ জন বাংলাদেশি বিএসএফ এর হাতে নিহত হয়েছেন।

বাংলাদেশের সাথে ভারতের কোন বৈরি সম্পর্ক নেই। ভারতীয় নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশ সফরে এসে বারবার বাংলাদেশকে প্রতিশ্রুতি দেন সীমান্ত হত্যা শুন্যে নামিয়ে আনা হবে। ভারত বাংলাদেশ শীর্ষ পর্যায়ে বৈঠকে সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যার প্রসঙ্গ উঠলে এ আশ্বাস দেওয়া হয়। গত রোববার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী সালমান খুরশিদ বাংলাদেশ সফরে এসে আমাদের প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ কালে বলেন, সীমান্তে হতাহাতের ঘটনা শুন্যে নামিয়ে আনতে নয়াদিল্লী সচেষ্ট। এর কয়েকদিন আগে ভারতের স্বরাষ্ট্র সচির বাংলাদেশ সফরে এসেও একই কথা বলে গেছেন। ভারতীয় শীর্ষ নের্তৃত্ব ও কর্মকর্তারা এ আশ্বাস অনেক দিন যাবত দিয়ে আসলেও সীমান্তে বিএসএফ এর হাতে বাংলাদেশি হত্যা বন্ধ হচ্ছে না বা শুন্যে নেমেও আসছে না। তাদের সীমান্ত হত্যা বন্ধের প্রতিশ্রুতি অসার প্রমাণিত হতে চলেছে। এদিকে যখন ভারত প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কাজ করছে, ঠিক তার দেশে করছে তার বিপরীত ঘটনা।

১১ ফেব্রয়ারির সকাল। ঠাকুরগাঁ জেলার হরিপুর উপজেলার চাপাশার সীমান্তের গোবিন্দপুর গ্রাম দিয়ে কয়েক জন ভারতীয় চোরাচালানী সার ও ফেনসিডিল নিয়ে বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা করে। বিজিবি’র টহল দল তাদের চ্যালেঞ্জ করে। বিজিবি’র ভাষ্য মতে, ভারতীয় চোরাচালানীরা বিজিবি’র উপর চড়াও হয় এবং তাদের কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। বিজিবি জোয়ানেরা গুলি ছুঁড়তে বাধ্য হয়। এতে দু’ জন ভারতীয় চোরাচালানী আহত হয়। ভারতের উত্তর দিননাজপুর জেলার মকরহাট মুসলিম পাড়ার আব্দুল ফরিদ নামে এক জন পরে মারা যান। তার ভাইপো আহত হয়।

পরের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকার প্রকাশিত খবরে জানা যায়, সীমান্তে একটি হত্যার খবর পেয়ে ইটাহারের বিধান সভা সদস্য (বিধায়ক) অমল আচার্য পশ্চিমবঙ্গের মূখ্য মন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সাথে তাৎক্ষনিকভাবে কথা বলে নিহতের পরিবারকে দু’ লাখ টাকা অনুদান ঘোষনা করেন। এছাড়াও রাজ্যার জনস্বাস্থ্য ও গ্রন্থাগার মন্ত্রী আব্দুর করিম, জেলা পরিষদের সভাপতি মোক্তার আলি সরদার ও জেলা কংগ্রেস সভাপতি মোহিত সেন গুপ্ত এলাকায় ছুটে যান এবং সীমান্ত হত্যার শিকার আব্দুল ফরিদের পরিবারের পাশে দাড়ান। এলাকাবাসি দাবি জানান, নিহতের পরিবারের এক জনকে সরকারি চাকরি দিতে হবে। নইলে বন্ধ ডাকারও হুমকি দেয় স্থানীয় মানুষ।

কিন্তু আমাদের দেশে চিত্রটি ভিন্ন। প্রায়ই বিএসএফ গুলিতে বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়। মিডিয়াতে খবর প্রকাশিত হয়। বিজিবি’ ঘটনার জন্য ্িবএসএফ এর কাছে প্রতিবাদ জানায়। পতাকা বৈঠক বসে বিজিবি বিএসএফ। লাশ ফেরত দেয় বিএসএফ। আবার কোন কোন ক্ষেত্রে লাশও ফেরত দেওয়া হয় না। এখানেই শেষ। নিহত পরিবারকে সাহায্য দেওয়া হয় না। সরকারসহ কেউই সামান্য সমবেদনা জানাতে নিহতের বাড়িতে যায় না। এমনকি বিএসএফ এর হাতে ফেলানী নিহতের ঘটনা ছিল হৃদয় বিদারক ও মর্মস্পর্সী। সেই ফেলানীর লাশ নিহতের পর কাটাতারের বেড়ার সাথে ঝুলতে থাকে। এ ক্ষেত্রেও দোষি বিএসএফ এর জওয়ানদের সাজা হয়েছে বলে জনা যায়নি। আর বাংলাদেশের ক্ষমতাসীনরা সীমান্ত হত্যাকে মনে হয় ভারতীয়দের দিক থেকে বৈধ একটি কাজ বলেই ধরে নিয়েছে।।