Home » আন্তর্জাতিক » দেশ কি রুয়ান্ডা বা পাকিস্তানের পথে?

দেশ কি রুয়ান্ডা বা পাকিস্তানের পথে?

আমীর খসরু

democracy-1-পূর্ব আফ্রিকার ভূবেষ্টিত দেশ রুয়ান্ডা। দীর্ঘকাল ধরে দেশটির প্রধান দুই জাতিসত্ত্বা হুতু ও তুতসিদের মধ্যে সংঘাত আর সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি চলছিল। ১৯৫০এর দশকে শুরু হওয়া ভয়াবহ সংঘাত এবং দাঙ্গা দীর্ঘকাল ধরে চলতে থাকে। বাড়তে থাকে মৃতের সংখ্যা। শুধু ১৯৬৩ সালেই নিহত হন ১৪ হাজারের বেশি মানুষ। এই পরিস্থিতি চলছিল দীর্ঘকাল। আর এতে মদদ ছিল দেশটির ক্ষমতাসীন শাসকশ্রেণী এবং ক্ষমতাশ্রয়ীদের। বিপুল খনিজ ও প্রাকৃতিক সম্পদে সম্পৃদ্ধ রুয়ান্ডার এই সংঘাতের পেছনে মদদ দিয়েছে পশ্চিমা দেশ এবং তাদেরই কোম্পানি। পরিণতিতে হুতু এবং তুতসিদের মধ্যে আরেক দফায় ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ শুরু হয় ১৯৯০এর মধ্য পর্যায়ে। ১৯৯৪ সালের ভয়াবহ গৃহযুদ্ধে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থার হিসেবে, জাতিগত সংঘাতে নিহত হন কমপক্ষে ১০ লাখ মানুষ, যা ওই দেশটির জনসংখ্যার ২০ শতাংশের মতো। ওই গৃহযুদ্ধে গৃহহীন হয়েছে, স্বজন হারিয়েছে, বিপর্যস্ত ও বিপন্ন অবস্থায় পড়েছে অসংখ্য সাধারণ মানুষ। দেশটির এই রক্তাক্ত সাংঘর্ষিক অবস্থার পরিণতিতে, রুয়ান্ডা এখনও মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি। অর্থনৈতিকভাবে কাটিয়ে উঠতে পারেনি সৃষ্ট নানাবিধ সঙ্কট। স্বজনহারা, গৃহহারা মানুষের কাছে এখনো ওই স্মৃতি বেদনার্থ এবং শোকের। সাধারণ মানুষ ওই গৃহযুদ্ধের শুরু করেনি, এমনকি এতে সক্রিয় অংশগ্রহণও তারা করেনি। যারা করেছিল তারা শাসক এবং ক্ষমতাবান শ্রেণী। আর এটা ছিল ক্ষমতা এবং কর্তৃত্বের লড়াই।

বাংলাদেশে জাতিগত সংঘাত নেই, ধর্মবর্ণনির্বিশেষে নেই সাধারণ মানুষের মধ্যে সম্পৃতির কোনো ঘাটতি। বাংলাদেশের সঙ্গে রুয়ান্ডার এখনো কোনো মিল না থাকলেও, কিন্তু সংঘাত, বিবাদ, বিদ্বেষ সব মিলিয়ে ক্রমাগত সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি বাড়ছে এবং তা পুরো মাত্রায় বিদ্যমান। সমাজে ক্রমশ বিভাজন বাড়ছে। সাংঘর্ষিক অবস্থা, মতদ্বৈততা এবং সমঝোতার অভাবে এই বিভাজন প্রতিদিন বাড়বে বলেই মনে হয়। বাংলাদেশে সাম্প্রতিক যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে তা রীতিমতো উদ্বেগের। মানুষ আতঙ্কিত, শঙ্কিত। ভবিষ্যত নিয়ে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠিত। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সংঘাতসংঘর্ষ ব্যাপকহারে বেড়েছে। এই সংঘাতময় পরিস্থিতির শেষ কোথায়, কেউ তা বলতে পারবেন না।

বর্তমান ক্ষমতাসীন দল এবং বিরোধী দলের মধ্যকার বৈরী সম্পর্ক কমবে এমনটা আশা করা হয়েছিল ১৯৯০এ স্বৈরশাসক এরশাদের বিদায়ের মধ্যদিয়ে। কারণ দীর্ঘকাল বেসামরিক ও সামরিক স্বৈরশাসন চলার কারণে, বাংলাদেশে উন্নয়ন, অগ্রগতি, সম্পৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। ওই সময় সবার প্রত্যাশা ছিল, এবার সংঘর্ষের অবসান হবে, দেশটি এগিয়ে যাবে এর অসীম সম্ভাবনা নিয়ে। কিন্তু দীর্ঘকালের সামরিকবেসামরিক স্বৈরশাসনের পরে, মানুষের প্রত্যাশার বিপরীতে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি আরো বেড়ে গেছে। প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে যতোই দিন যাচ্ছে, ততই বিরোধ, বৈরিতা এবং সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি বাড়ছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপের মধ্যদিয়ে এই পরিস্থিতি আরো গাঢ় হয়েছে। বিশ্বাসের লেশ মাত্র নেই দুই দলের মধ্যে। যখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপ করা হয়, তার আগে প্রবীণ ও অভিজ্ঞ আইনজ্ঞ, সমাজের বিশিষ্টজন, সম্পাদকসিনিয়র সাংবাদিকসহ প্রায় সবাই সংঘাতের অবস্থার চিন্তা করেই সমঝোতা চেয়েছিলেন দুই দলের মধ্যে। যে সমঝোতার দাবি এখনো বিদ্যমান। ক্ষমতাসীনরা সেদিকে তো গেলই না, বরং তারা বিরোধী মত পথকে সহ্য করতে না পেরে চরম নির্যাতন, নিপীড়নের পথ বেছে নেয়। ভিন্নমতের কথা বললে, রাস্তায় পর্যন্ত দাঁড়াতে দেয়া হয়নি। ফেসবুক, ইউটিউব বন্ধ হয়েছিল,বন্ধ হয়েছিল সংবাদপত্রও। মনে রাখতে হবে, সংঘর্ষ বড় ধরনের সংঘর্ষের জন্ম দেয়, প্রতিহিংসা অধিকতর প্রতিহিংসার সৃষ্টি করে। এই দুষ্টচক্রের মধ্যে আমরা পড়েছি। এ থেকে বের হওয়ার উপায় খুজছেন শহর গ্রাম নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ। কিন্তু ক্ষমতাসীনদের অনঢ় অবস্থান থেকে নড়ানোর কোনো পথ আছে কি?

এই সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি বিদ্যমান থাকা অবস্থায়ই জামায়াত শিবিরের সঙ্গে সাংঘর্ষিক অবস্থার সৃষ্টি হয়। জামায়াতশিবিরের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, তাদের ভাংচুর, অগ্নিসংযোগসহ নানা কর্মকাণ্ড জনমনে আতঙ্কের সৃষ্টি করে। ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে জামায়াতশিবিরকে নিষিদ্ধ করার দাবি উঠলে কাদের মোল্লার রায়ের মধ্যদিয়ে পরিস্থিতি এক ভিন্ন মাত্রা পায়। জামায়াতশিবিরকে নিষিদ্ধ করার দাবিটি তরুণদের কারণেই জোরালো হয়েছে।

পাকিস্তানে ইসলামী জঙ্গিবাদের ক্রমাগত উত্থান ঘটেছে। আর এই উত্থানের পেছনে সে দেশটির সাধারণ মানুষ নয়, শাসক ও ক্ষমতাসীন এবং ক্ষমতার বলয়ের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের স্বার্থ বরাবর জড়িত ছিল। ক্ষমতার স্বার্থে তারা ধর্মভিত্তিক দলগুলোকে বার বার ব্যবহার করেছে একবার এ পক্ষ, আরেকবার আরেক পক্ষ। পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন রাজনীতিকদের কারণেই, তাদের চেয়ে বেশি ক্ষমতাধর সে দেশের সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দাদের প্রশ্রয় পেয়েছে ধর্মাশ্রয়ী দলগুলো। তাদের দিক থেকেও এই দলগুলোকে ব্যবহার করা হয়েছে বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্ন উদ্দেশ্যে। বহু দশক আগে থেকে ক্ষমতায় যাওয়া ও টিকে থাকার পথ হিসেবে ধর্মাশ্রয়ী দলগুলোকে লালনপালনের মধ্যদিয়ে, শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানকে পরিণত হয়েছে এক জঙ্গিবাদী রাষ্ট্রে। পাকিস্তানকে জঙ্গি রাষ্ট্র বানানোর দায়দায়িত্ব যদি কারো উপর বর্তায়, তারা হলো সে দেশের শাসকশ্রেণী এবং ক্ষমতার মোহে অন্ধ রাজনীতিকরা। অবস্থা এখন এমন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে যে, সে দেশের সংবাদমাধ্যম এবং ওয়েবসাইটের হিসাব অনুযায়ী, জঙ্গি হামলায় ২০১০ সাল পর্যন্ত মাত্র তিন বছরে পাকিস্তানে নিহত হয়েছেন ১০ হাজারের বেশি, যাদের অধিকাংশই সাধারণ বেসামরিক মানুষ। ২০১১ সালে নিহত হয়েছেন ৬ হাজার ১৪২ জন এবং ২০১২ সালের প্রথম সাত মাসে নিহত হয়েছেন ৪ হাজারের বেশি মানুষ। শুধুমাত্র বেলুচিস্তানে ২০০৪ থেকে ২০১২ পর্যন্ত সময়ে নিহত হয়েছেন ২৪০৬ জন সাধারণ মানুষ, আর মোট নিহতের সংখ্যা ৩৬৭৯ জন। আত্মঘাতী বোমা হামলাসহ জঙ্গিবাদীরা কোনো কিছুই বাদ দিচ্ছে না। এমনকি কিশোরী মালালা পর্যন্ত তাদের হাত থেকে রেহাই পায়নি।

বাংলাদেশেও শাসকশ্রেণী, ক্ষমতাসীন এবং ক্ষমতা বলয়ের সঙ্গে সম্পৃক্তরা এই শক্তিকে নিজ রাজনীতি, ক্ষমতায় যাওয়া না যাওয়া এবং নির্বাচনী স্বার্থে ব্যবহার করেছে দীর্ঘকাল। স্বাধীনতার অব্যবহতির পরে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ক্ষমা পেয়ে গেছে। সে সময় মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা এবং যুদ্ধাপরাধের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে কিছু সংখ্যককে আটক করা হয়। ১৯৭৩ সালে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হয়। কাজেই এই কথা বলার প্রয়োজন নেই যে, ১৯৭৫ সালেই মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী এবং যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে যুক্তদের বিচার বন্ধ হয়ে গেছে। তেমন কোনো বিচার ওই সময় পর্যন্ত হয়নি, যথাযথ কোনো উদ্যোগও ছিল না। যদি ওই সময়ের মধ্যে বিচার কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হতো, তাহলে পরবর্তীকালে বিচার করা না করা, পক্ষেবিপক্ষে টানার প্রশ্নই আর উঠতো না। কারো পক্ষে জামায়াতসহ মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারীদের সঙ্গে নেয়ার দুঃসাহস দেখানোর সুযোগও সৃষ্টি হতো না। ১৯৭৫ সালের পর জিয়াউর রহমান ধর্মভিত্তিক দলগুলোকে রাজনীতি করার সুযোগ দেন। আর বিচার কাজ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ওই শক্তিটি যেমন সবসময় সামরিক শাসকদের কাজে লাগিয়েছে, তেমনি সামরিক শাসকদের দিক থেকেও তাদের ব্যবহার করা হয়েছে, কখনো দল গঠন, আবার কখনো দল ভারী করার জন্য। ধর্মকে ব্যবহারের অন্যতম উদাহরণ স্বৈরশাসক জেনারেল এরশাদ। এরশাদের সময়ও জামায়াতসহ ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোকে, বর্তমানে যারা বিবাদমান রাজনীতিতে যুক্ত বড় দল, তারা যুগোপৎ আন্দোলনে শামিল করেছিল। কিন্তু জামায়াত তখন শক্তি সঞ্চয়ে ব্যস্ত ছিল, যতোটা না ব্যস্ত ছিল স্বৈরশাসন বিরোধী আন্দোলনে।

এরশাদের পতনের পরে পালাক্রমে বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ জামায়াতসহ ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলকে ব্যবহার করেছে। আর এর কারণ, ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে সঙ্গী করে শক্তি বৃদ্ধি এবং ভোটের রাজনীতির হিসাবনিকাশ। ১৯৯৫৯৬ সালে আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি বিরোধী আন্দোলন করেছে, এক সঙ্গে বৈঠক করেছে, যৌথ ঘোষণা দিয়েছে।

১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়ী হলেও সে সময় কিন্তু যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কোনো ব্যবস্থা তারা নেয়নি। বরং নির্বাচনের আগে জয়ী হওয়ার জন্য গোলাম আযমের দোয়া চাওয়ার প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেশবাসী দেখেছে। ২০০৬ সালে আরেকটি ধর্মভিত্তিক দলের সঙ্গে এই আওয়ামী লীগই চুক্তি করেছিল।

১৯৯৬ সালের অভিজ্ঞতার পরে ক্ষমতার রাজনীতিতে জামায়াতকে আরো কাছে পেতে ২০০১ সালে বিএনপি জোট বেধে নির্বাচন এবং সরকার গঠন করে। স্বাধীনতার পরে এই প্রথম জামায়াত মন্ত্রিত্বও পায়।

দুই বছরের সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় জামায়াত আবার যথারীতি নিশ্চুপ ছিল। এর পরে বিএনপি স্বল্প কিছুদিনের জন্য একলা চলো নীতি গ্রহণ করলেও, শেষ পর্যন্ত আবার জামায়াতকে ঘনিষ্ঠ সাথী করে আন্দোলন সংগ্রাম করতে থাকে।

আগেই বলা হয়েছে, বিদ্যমান শাসক এবং ক্ষমতালিপ্সু দলগুলো জামায়াত এবং ধর্মীয় রাজনৈতিক দলকে পক্ষে নেয়ার রাজনীতিতে সদাব্যস্ত থাকে। এ কারণে, এই দফায় বিএনপির কাছ থেকে জামায়াতকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা ছিল ক্ষমতাসীনদের টার্গেট। জামায়াত নিজ স্বার্থে কখন কোন দিকে যাবে, তা বলা মুশকিল। এ কারণে, অতিসাম্প্রতিক ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে জামায়াতের অঁাঁতাত যা রুখে দিয়েছে শাহবাগের তরুণরা।

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট ২০০৯এ ক্ষমতায় আসার পরে সংবিধান সংশোধন করা হলো। কথা ছিল, ১৯৭২এর সংবিধানে ফিরে যাবার। কিন্তু তা হতে দেয়া হলো না। পঞ্চদশ সংশোধনীতে ধর্মভিত্তিক দলসহ এ জাতীয় বিষয়গুলো বহাল রাখা হলো। তাহলে একথাটি বলা যায়, নির্বাচন, ক্ষমতা এসবই বর্তমান ক্ষমতাসীনদের চিন্তাচেতনার মধ্যে আছে। তা না হলে, ওই সংবিধান সংশোধনীর সময়ই আজকে যে সব প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে, তার সবগুলোরই নিষ্পত্তি সম্ভব হতো।

এখন সরকারের মন্ত্রী, ক্ষমতাসীন দলের উচ্চপর্যায়ের নেতারা বলছেন, জামায়াতকেই শুধু নিষিদ্ধ করা হবে, অন্য ধর্মভিত্তিক দলগুলোকে নয়। তারা বলছেন, এটা করতে কোনো অসুবিধা নেই। অপরদিকে, আবার বলা হচ্ছে এবং সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে, জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার একটি রিট মামলা ২০০৯ সাল থেকে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন। সরকার আদালতের নির্দেশনার বাইরে কিছু করবে না। আওয়ামী লীগ ক্ষমতা গ্রহণ করে ২০০৯এ। ২০০৯এর রিট মামলা নিয়ে সরকারের তাহলে এতোদিন কি করেছে ? এদিকে, আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমদ গত সংখ্যায় আমাদের বুধবারকে বলেছেন, ‘জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার কোনো সিদ্ধান্ত সরকার নেয়নি, এমনকি কোনো আলোচনাও হয়নি।’

সরকারের এখন অবস্থান হচ্ছে, ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করার চিন্তাভাবনা তাদের মধ্যে নেই। বরং ধর্মভিত্তিক দলগুলোর সঙ্গে তারা আলোচনায় বসবেন। এ ব্যাপারে একজন মন্ত্রীকে দায়িত্ব দেয়ার কথাও বলা হচ্ছে। এখানেও ক্ষমতার কূটকৌশলের রাজনীতি। এ কথা দ্বিধাহীনভাবে মনে হচ্ছে, ক্ষমতাসীনদের এই নিষিদ্ধ নিষিদ্ধ খেলা, এ সব হচ্ছে, আগামী নির্বাচন এবং ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখাকে কেন্দ্র করেই।

বাংলাদেশের ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, যতই আদর্শ, চেতনার কথা বলা হোক, শাসকশ্রেণী, ক্ষমতালিপ্সু দল, ক্ষমতায় যাবার মাধ্যম হিসেবেই ধর্মভিত্তিক শক্তিকে বার বার ব্যবহার করেছে, এখনো করছে এবং পক্ষে টানার প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। এদের উত্থানের পেছনে কেউ যদি দায়ী হয়, তাহচ্ছে শাসক ও ক্ষমতাশ্রয়ী দলগুলো, কোনোক্রমেই সাধারণ মানুষ নয়। সাধারণ মানুষ নিজেদের বেঁচে থাকার লড়াইয়ে ব্যস্ত। কারণ, তারা নিত্যদিনের দিনযাপনের সমস্যাবলীতে ব্যস্ত। এর উপরে শাসকদের এই লড়াই, সংঘাত, বিবাদ, সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তাদের বিপর্যস্ত, আতঙ্কিত এবং ভীষন্ন করছে। তারা দেশকে রুয়ান্ডাও হতে দিতে চায় না, চায় না বাংলাদেশ পাকিস্তানের মতো জঙ্গি ভাগ্য বরণ করুক। কিন্তু শাসক এবং ক্ষমতালিপ্সুরা সে আত্মঘাতী পথেই যাচ্ছে যার খেসারত ও মাশুল সাধারণ মানুষকে গুণতে হচ্ছে, আর কতোকাল, কতো বেশি মাত্রায় এই মাশুল তাদের দিতে হবে, সে প্রশ্নের উত্তরও তাদের জানা নেই।।