Home » শিল্প-সংস্কৃতি » বইয়ের দাম বেড়েছে কমেছে বিক্রি

বইয়ের দাম বেড়েছে কমেছে বিক্রি

জাকির হোসেন

boi-mela-1-অমর একুশে গ্রন্থমেলা প্রায় শেষ পর্যায়ে চলে এলেও জমে ওঠেনি মেলা। ব্যবসায়িক দিক বিবেচনায় স্মরণকালে এমন মন্দা মেলা আর আসেনি। প্রকাশকরা জানিয়েছেন, বইয়ের দাম বৃদ্ধি, নিত্যপন্যের উর্ধ্বগতিতে মানুষের ক্রয় ক্ষমতা কমে যাওয়া, ভারতীয় সংস্কৃতির আগ্রাসনের বহিঃপ্রকাশ পাইরেটেড বইয়ের অবাদে বিক্রি, শাহবাগ কেন্দ্রিক আন্দোলন এবং দেশের সার্বিক রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণেই এমনটি হয়েছে। সব মিলিয়ে এবারের মেলার বিক্রি নিয়ে অসন্তুষ্ঠি প্রকাশ করেছেন অধিকাংশ প্রকাশকরা। অন্যদিকে, বইপ্রেমীরা বলছেন, বইয়ের দাম এবার অনেক বেড়েছে, আমাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। কিন্তু তবুও পছন্দের বইটি কিনতেই হচ্ছে। অন্যদিকে এবার সবচেয়ে বেশি বেড়েছে শিশুদের বইয়ের দাম। চার রঙে ছাপা ৮ পৃষ্ঠার একটি বইয়ের দাম এক শ’ টাকা। শিশুরা মেলায় এলে একটি বা দুটি বই পেয়ে তৃপ্ত হয় না। চারপাঁচটি বই কিনে দিলে তবেই তারা খুশি হয়। ফলে মেলায় এসে প্রিয় শিশুসন্তানের হাসি মুখ দেখতে মিলিয়ে যাচ্ছে অভিভাবকদের মুখের হাসি। শিশুদের বইয়ের দাম ব্যাপকহারে বাড়ার কারণেই এমনটি হচ্ছে।

প্রকাশকরা জানান, কাগজ, কালি, প্লেট, কাভার পেপার, পজেটিভ, লেমিনেটিং ফয়েল পেপার, আঠাসহ বই ছাপানোর প্রায় সব দ্রব্য বা কাঁচামালই আমদানিনির্ভর। ফলে ডলারের কারণেও তাদের বইয়ের উৎপাদন খরচ বেড়েছে। কাগজের কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি হওয়াতেই বইয়ের দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন প্রকাশকরা। তারা বইমেলাকে কেন্দ্র করে কাগজের আমদানি শুল্ক প্রত্যাহারের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান।

তারা জানান, এছাড়া বইমেলাকে সামনে রেখে প্রতি বছরই কাগজ ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে কাগজের দাম বাড়িয়ে দেয়। একই সঙ্গে সুযোগ বুঝে বই বাঁধাইকারী শ্রমিকরাও নিজেদের বেতনভাতা বাড়িয়ে থাকেন। এর বাইরে এবার যুক্ত হয়েছে ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন। এজন্যই এবার বইয়ে ফর্মা প্রতি ৭ থেকে ৯ টাকা বা শতকরা প্রায় ৩৫ ভাগ দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থাৎ গত বছর ১৫০ পৃষ্ঠার যে বইটির দাম ছিল ১৫০টাকা। এ বছর এর দাম হয়েছে ২৫০টাকা।

এ ব্যাপারে বিজয় প্রকাশের স্বত্বাধিকারী তপন মাহমুদ বলেন, মেলায় প্রতিদিন খচর হয় প্রায় চার হাজার টাকা। কিন্তু এবার প্রতিদিন বিক্রি হচ্ছে ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা। প্রকাশনা ব্যবসায় টিকে থাকতে হলে প্রতি দিন অন্তত ২০ হাজার টাকা বিক্রি হওয়া প্রয়োজন। বর্তমান অবস্থা চলতে আমাদের পথে বসতে হবে। বইমেলায় এবার বিক্রি কম হওয়ার অন্যতম কারণ বইয়ের দাম বৃদ্ধি এবং পাইরেটেড বইয়ের অবাধ বিক্রি। আর রাজনৈতিক অস্থিরতার বিষয়টি তো আছেই। আমরা জরুরি ভিত্তিতে এ অবস্থার অবসান চাই।

শিকড় প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী এম আর মিলন বলেন, বইয়ের দাম বৃদ্ধি মানুয়ের ক্রয় ক্ষমতা কমে যাওয়া এবং পাইরেটেড বইয়ের কারণে গোটা প্রকাশনা শিল্পই একটি বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়েছে। তিনি বলেন, পাইরেটেড বইয়ের ব্যাপারে একটি নীতিমালাও করা হয়েছে। কিন্তু বাংলা একাডেমীর কিছু অসৎ কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং প্রশাসনের প্রচ্ছন্ন সহযোগিতায় চলছে এই পাইরেটেড বই বিক্রি। পাইরেটেড বইয়ের আগ্রাসন বন্ধ না হলে প্রকাশনার ব্যবসা ছেড়ে দেওয়া ছাড়া আর কোনো গত্যন্তর থাকবে না।

শুধু সাধারণ প্রকাশক নয়বাংলা একাডেমী থেকে প্রকাশিত বইয়ের বিক্রিও এবার ব্যাপক হারে কমেছে। বাংলা একাডেমীর সমন্বয় ও জনসংযোগ উপবিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী এবারের মেলার প্রথম ২০ দিনে বিক্রি হয়েছে ৪৭ লাখ ২১ হাজার ১৫৬ টাকা। গত বছর ২০ দিনে বিক্রির পরিমাণ ৫৩ লাখ ৭২ হাজার টাকা। গত বছরের চেয়ে এবার ২১ দিনে বিক্রি কম হয়েছে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টাকা।

নতুন বই: বাংলা একাডেমীর সম্বনয় ও জনসংযোগ উপবিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ২১ দিনে মেলায় ২৩৪৭টি নতুন বই প্রকাশিত হয়েছে। গতবার এ সময়কালে প্রকাশ পেয়েছিল ২৭৯২টি। সে হিসেবে গতবারের তুলনায় এবার ৪৪৫টি বই কম প্রকাশ পেয়েছে। এছাড়া ২০১১ সালে ২২৭৩টি, ২০১০ সালে ২৬৩০টি, ২০০৯ সালে ২১৯৭টি, ২০০৮ সালে ১৯৫৫টি, ২০০৭ সালে ১৪৬৪টি ও ২০০৬ সালে ১৬৬০টি।

এ বছর প্রকাশের দিক থেকে এখন পর্যন্ত এগিয়ে রয়েছে কবিতার বই (৫৭৫টি)। এছাড়া গল্প ৩০৮, উপন্যাস ৪২৪, প্রবন্ধ ১৫৯, গবেষণা ৩২, ছড়া ৭৩, শিশুসাহিত্য ৮২, জীবনী/ স্মৃতিচারণ ৭৩, রচনাবলি ১, ভাষা আন্দোলন/ মুক্তিযুদ্ধ ৪৭, নাটক ১৪, গণিত/ বিজ্ঞান ৪২, ভ্রমণ ৪১, ইতিহাস ৩২, রাজনীতি ১৬, চিকিৎসা/স্বাস্থ্য ২১, কম্পিউটার ২, রম্য/ধাঁধা ৪৯, ধর্মীয় ১৭, অনুবাদ ২৭, অভিধান ১, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী ও গোয়েন্দা ১৯ এবং অন্যান্য বিষরের উপর ২৮৭টি বই প্রকাশ পেয়েছে।

পাঠকপ্রিয়তায় এগিয়ে উপন্যাস: গত বেশ কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় এবার মেলাতেও ঔপন্যাসিকদেরই জয়জয়কার। সংখ্যাগত দিক থেকে অন্যান্য বিষয়ের চেয়ে মেলায় আসছে ব্যাপক সংখ্যক নতুন উপন্যাসের বই। এর বিক্রিও অন্যান্য বিষয়ের বইয়ের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে পাঠকের গতিপ্রকৃতি খুব একটা পাল্টাচ্ছে না। উপন্যাসের প্রতি পাঠকদের ঝোঁক বেশি। আর এই উপন্যাস বিক্রির দৌড়ে এবারও এগিয়ে প্রয়াত জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ। গত ২০ ফেব্রুয়ারি মেলায় এসেছে হুমায়ূন আহমেদের সর্বশেষ উপন্যাস ‘দেয়াল’। অন্য প্রকাশ থেকে প্রকাশিত বইটির কাটতি এবার সবচেয়ে বেশি। হুমায়ূন আহমেদের পরই পাঠকের আগ্রহ ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল ও ইমদাদুল হক মিলনের উপন্যাসের উপর। এরপরই ঝোঁক সৈয়দ সামসুল হক, রাবেয়া খাতুন, সেলিনা হোসেন, আনিসুল হক, নাসরিন জাহান প্রমুখের প্রতি।

মেলায় বাড়ছে গণমাধ্যমের তৎপরতা: গত কয়েক বছর ধরে বইমেলায় নানাভাবে বাড়ছে গণমাধ্যমের প্রভাব। আজ থেকে একযুগ আগে মেলায় দেখা মিলত শুধু রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বিটিভি’র ক্যামেরা, আর হাতেগোনা কয়েক জন পত্রিকার সাংবাদিক। দীর্ঘ এই এক যুগের ব্যবধানে মেলার পরিসর বাড়েনিবরং এবার মেলার পরিসর একটু সংকুচিত হয়েছে। তবে ব্যাপক আকারে তৎপর হয়েছে গণমাধ্যম। কালের যাত্রায় মেলার সঙ্গী হয়েছে বৃহৎ পুঁজির বেশ কয়েকটি পত্রিকা এবং প্রায় ২৩টি টেলিভিশন চ্যানেল। কয়েক বছর ধরে মেলার একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্ত চষে বেড়াচ্ছেন এসব টিভি চ্যানেল এবং পত্রিকার সাংবাদিক। বেসরকারী টেলিভিশন ‘চ্যানেল আই’, ‘জি টিভি’, ‘বাংলা ভিশন’ এবং ‘সময়’সহ আরো কয়েকটি চ্যানেল বিকালে মেলাচত্বর থেকে সরাসরি অনুষ্ঠান সম্প্রচার করছে। আর পত্রিকায় প্রতিদিন প্রকাশিত হচ্ছে বইমেলা নিয়ে নানা প্রতিবেদন। অর্থাৎ বইমেলার পাঠক, লেখক ও প্রকাশকের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত হয়েছে গণমাধ্যম। অন্যদিকে, এই গণমাধ্যমের নানা স্তরের কর্মীরা শুধু মেলার খবর প্রকাশের মধ্যেই নিজেদের সম্পৃক্ত রাখেননি; তারা মেলায় নিয়ে আসছেন নানা ধরনের সৃজনশীল ও মননশীল বই। এক্ষেত্রে বিষয় নির্ধারণে অনেকে বেছে নিচ্ছেন খোদ ‘গণমাধ্যম’কেই। এরই মধ্যে এ বিষয়ে মেলায় এসেছে বেশ কয়েকটি বই। এবার মেলায় আসা গণমাধ্যম বিষয়ক বইগুলোর মধ্যে রয়েছে, শ্রাবণ থেকে এসেছে মুসতাক আহমেদ সম্পাদিত ‘গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজ: আধিপত্যের লোকপরিসর’, এবং ড. প্রদীপ কুমার পাণ্ডে ও আমিনুল ইসলামের ‘ বাংলাদেশে সাংবাদিকতা: সংবাদ লেখা শৈলী ও কাঠামো’, তুষার আব্দুল্লাহ্র ‘গণমাধ্যম কার মাধ্যম?’ মুসতাক আহমেদের ‘টেলিভিশন সাংবাদিকতা’ এবং ‘কর্পোরেট মিডিয়ার সাংস্কৃতিক আগ্রাসন’, নাজমুল আশরাফের ‘গণমাধ্যমের দলীয়করণ’, তুষার আবদুল্লার ‘মিডিয়ার পোস্টমর্টেম’, বাধন অধিকারী’র ‘ক্ষমতা মিডিয়া ও মানুষ’, প্রসূন রহমানের ‘সৃজনশীলতা সংকটে স্যাটেলাইট চ্যানেল’ ইত্যাদি। সুর্বণ থেকে এসেছে মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর সম্পাদিত ‘বিষয়: গণমাধ্যম’, আগামী থেকে এসেছে ফাহমিদুল হক ও আল মামুন সম্পাদিত ‘মিডিয়া সমাজ সংস্কৃতি’ এবং আশেক মাহমুদের ‘কর্পোরেট গণমাধ্যম ও বিশ¡ায়ন’, গতিধারা থেকে এসেছে সজীব সরকারের ‘সংবাদ লেখা ও সম্পাদনা’, ঐতিহ্য থেকে এসেছে প্রভাষ আমিনের ‘ স্বাধীনতা আমার ভালো লাগে না’, জাগৃতি প্রকাশনী থেকে এসেছে তুষার আব্দুল্লাহ্’র ‘অফএয়ার: সিএসবি থেকে যমুনা’ এবং সঞ্জীব রায়ের দর্শকের চোখে টেলিভিশন’, অনন্যা থেকে এসেছে এ কে এম মহসীনের ‘আধুনিক ফটো সাংবাদিকতার কলাকৌশল’, বিভাস থেকে এসেছে হাসান শান্তনুর ‘গণমাধ্যম নিপীড়ন ১৯৭২ থেকে ২০১২’, মৃদুল প্রকাশনী থেকে এসেছে ‘ সাংবাদিকতা ও জনযোগাযোগ’।

অনুবাদে সমৃদ্ধ মেলা: গত ক’বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও এসেছে ব্যাপকসংখ্যক অনুবাদের বই। যা আমাদের প্রকাশনা শিল্প এবং বইমেলাকে ক্রমান্বয়ে সমৃদ্ধ করছে। অনুবাদ প্রকাশনার তালিকায় একের পর এক যুক্ত হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, আফ্রিকা, ল্যাটিন আমেরিকাসহ বিশে¡র বিভিন্ন প্রান্তের কালজয়ী সাহিত্যিকদের আলোড়ন সৃষ্টিকারী রচনা। হোমার, সফোক্লিস থেকে শুরু করে উইলিয়াম শেক্সপিয়র, শেলি, কিটস, বায়রন, মার্ক টোয়েন, সমারসেট মম, ম্যাক্সিম গোর্কি, মায়াকোভাস্কি, পাবলো নেরুদা, ইমরুল কায়েস, কাহলিল জিবরান, নাজিম হিকমতসহ সমকালীন গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস, মারিও ভার্গাস ইয়োসা, অরুন্ধুতি রায়, ঝুম্পা লাহিড়ির রচনার অনুবাদ গ্রন্থ এখন পাওয়া যাচ্ছে একুশের বইমেলায়। এতে একদিকে যেমন বিশ¡সাহিত্যের সঙ্গে আমাদের একটি সেতুবন্ধন সৃষ্টি হচ্ছে, অন্যদিকে, মেলায় আগত বইপ্রেমীদের যারা মনে করছেন আমাদের লেখকদের রচনার মান ভালো নয়, তাদের একাংশের চাহিদাও পূরণ হচ্ছে এই অনুবাদ গ্রন্থের মাধ্যমে। তাই মেলায় প্রতিদিন বিক্রি হচ্ছে ব্যাপকসংখ্যক অনুবাদের বই। আর এতে প্রকাশকরাও ভীষণ খুশি। এ ব্যাপারে ঐহিত্য’র বিক্রয় কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন কাজল বলেন, বইপ্রেমীদের চাহিদার কথা ভেবেই এবারও বেশক’টি অনুবাদের বই মেলায় এনেছি। অনুবাদের ক্ষেত্রে আমরা খ্যাতিমান লেখক এবং বিশ¡জুড়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী বইগুলোকে প্রাধান্য দিয়ে থাকি। ফলে বইপ্রেমীরা সহজেই এতে আকৃষ্ট হন।এবার মেলায় এসেছে শতাধিক অনুবাদের বই।

বুকের আধিপত্যে কমেনি ছাপা বইয়ের আবেদন: ইন্টারনেটের নানা সুবিধার কল্যাণে অনেক কিছুই যখন হাতের মুঠোয়, তখন ইচ্ছে করলেই পড়ার কাজটিও সেরে নেয়া যায় সহজেই। হাতে থাকা স্মার্টফোন, ট্যাবলেট বা ল্যাপটপ কম্পিউটারে সাবলীলভাবে পড়া যায় ইবুক। কিন্ডেলের মতো ইবুক রিডার থাকলে তো আরও ভালো। আঙুলের ছোঁয়ায় ওল্টানো যায় পৃষ্ঠা। শুধু পড়াই নয়, চাইলে নিজেও তৈরি করা যায় ইলেকট্রনিক বই (বুক)। কাগজে ছাপা বইয়ের বিকল্প ইবুক নামিয়ে (ডাউনলোড) পড়ার কাজটিও করেন অনেকেই। ইংরেজির পাশাপাশি বাংলা ইবুকও প্রকাশিত হচ্ছে এখন। এমন বাস্তবতায় কাগজে ছাপা মোটা একটা বইয়ের কদর কি আছে?- গত কয়েক বছর ধরে এ প্রশ্নটি বারবার ফিরে ফিরে আসছে। সম্প্রতি ইবুকের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় প্রশ্নটির উত্তর পাওয়াও জরুরি হয়ে পড়েছে। উত্তরে জানা গেছে, মানুষের শ্রেষ্ঠ বন্ধু বইয়ের আবেদন এখনো ফুরায়নি। আর সেজন্যই অমর একুশে বইমেলায় সকলে ছুটে আসছেন প্রিয় বন্ধুর সান্নিধ্যে। এ বিষয়ে প্রকাশক ও মেলায় আগত পাঠকদর্শনার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বইয়ের আবেদন সবসময়ই অন্য রকম। যত কিছুই আবিষ্কার হোক না কেন, বইয়ের স্থান কেউ নিতে পারবে না। একই তারা জানান, বই শুধু পড়ার জন্যই শ্রেষ্ঠ নয়, উপহারের ক্ষেত্রেও সেরা।

পাইরেটেড বইয়ের আগ্রাসন: এ বছর অমর একুশে গ্রন্থমেলা শুরুর বেশ কিছু দিন আগ থেকেই বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান বলে আসছিলেন ‘এবারের মেলা হবে শুধুই প্রকাশকদের। একাডেমীর চত্বরের বাইরে কোনো স্টল বরাদ্দ দেয়া হবে না। একই সঙ্গে রাস্তায় বসতে দেয়া হবে না কোনো হকার এবং নেট বই বা পাইরেটেড বই ব্যবসায়ীদের । কারণ এর ফলে বই মেলা বারোয়ারী মেলায় পরিনত হয়।’ বার বার এমন কথা বললেও পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে পারেননি। বাংলা একাডেমীর চত্বরের বাইরে এবং মেলার চৌহদ্দির মধ্যেই রাস্তায় দু ধরে বসেছে শতাধিক নেট বই বিক্রেতা। অনেকটা হাকডাকের মাধ্যমে তারা বিরামহীমভাবে বিক্রি করছে সমকালীন ভারতীয় লেখকদের বইসহ বিদেশী লেখকের বিভিন্ন ধরনের বই। এখানের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে সমরেশ মজুমদারের উপন্যাস কালবেলা, কাল পুুরুষ, উত্তরাধিকার, বালিকার প্রথম প্রেম, সিংহ বাহিনী, যাযাবরী ইত্যাদি। শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের উপন্যাস দূরবীণ, পার্থিব, বিন্দু থেকে সিন্ধু প্রভৃতি। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের পূর্ব পশ্চিম, অর্ধেক জীবন, দর্পনে কার মুখ, প্রকাশ্য দিবালোকে, চন্দ্র কিরণ, তোমার আমার, স্বর্গের নিচে মানুষ, ময়ূর পাহার, উড়নচণ্ডী, ভালোবাসার দু:, অভিমান, গভীর গোপন, প্রথম নারী ইত্যাদি। সুচিত্রা ভট্টচার্যের কাছের মানুষ, শূন্য থেকে শূন্যে, ঢেউ আসে ঢেউ যায়, জ্বালা, শেষ বেলায় ইত্যাদি। এ ছাড়াও বিক্রি হচ্ছে সত্যজিৎ রায়, বিমল মিত্র, সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়, শরদিন্দু বন্দোপাধ্যায়, নিমাই ভট্টাচার্য এবং তসলিমা নাসরিনের লেখা নেট বই। এসব বই বিকি হচ্ছে মাত্র ৫০ থেকে ৬০ টাকা দামে। এ সব বইয়ের দাম ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে হওয়ায় ক্রেতার অভাব নেই। ফলে মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন প্রকাশকরা।।