Home » মতামত » সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি – প্রফেসর তালুকদার মনিরুজ্জামানের বিশ্লেষণ

সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি – প্রফেসর তালুকদার মনিরুজ্জামানের বিশ্লেষণ

politics-1-শাহবাগের সমাবেশ চলছে। এ সমাবেশ ও তাদের আন্দোলন শুরু হয়েছিল কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে। তার সঙ্গে যোগ হয়েছে সব যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি এবং জামায়াত ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান নিষিদ্ধকরণের দাবিও। অন্যদিকে, বর্তমান সময়ে যোগ হয়েছে, সংবাদপত্রের স্বাধীনমত প্রকাশের উপর হস্তক্ষেপ বন্ধ করা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তার বিষয়। বিএনপি তরুণদের সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, শাহবাগ মঞ্চ তাদের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিটি প্রধান বিষয় হিসেবে সরিয়ে দিচ্ছে এবং নির্বাচন নিয়ে সঙ্কট সৃষ্টি করছে। দেশের প্রধান প্রধান সমস্যা জাতিকে দু’ভাগে বিভক্ত করেছে। সমাজে স্পষ্ট বিভাজন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আর এটি হয়েছে সঙ্কট প্রকট থেকে প্রকটতর হয়েছে বলেই।

প্রধান প্রধান ইস্যুতে দেশের প্রধান দুই দল একদিকে, বিপরীতমুখী অবস্থান নিয়েছে, অন্যদিকে, তারা তাদের অবস্থান স্পষ্ট করছে না। আর এ কারণেই সাংঘর্ষিক অবস্থা বাড়ছে। এটা মোকাবেলার জন্য প্রয়োজন দুই দলের মধ্যে সমঝোতা। দেশকে চরম সঙ্কট থেকে বাঁচাতে হলে দেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক দলকে বর্তমানে সৃষ্ট সমস্যা, জাতীয় সঙ্কট এবং অন্যান্য সমস্যাবলী নিয়ে সংলাপে বসতেই হবে। আর এ মুহূর্তে সংলাপের এজেন্ডা হবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে গঠিত ট্রাইব্যুনাল নিয়ে প্রধান দুই দলের মধ্যকার মতপার্থক্য নিরসন, জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা হবে কিনা এবং কোন পদ্ধতিতে অর্থাৎ কারো অধীনে, না তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হবে, তা স্থির করা। দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে এসব বিষয়ে সমঝোতা হলে বিদ্যমান সঙ্কটের সমাধান এবং সাংঘর্ষিক রাজনীতির অবসান হবে। দুই দলের মধ্যেকার অনৈক্য, মতদ্বৈততা এবং সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি যে পর্যায়েই থাকুক না কেন এই চ্যালেঞ্জ তাদের গ্রহণ করতেই হবে এবং এক্ষেত্রে সমঝোতা ছাড়া পথ নেই। এটা করতে পারলেই রাজনীতিবিদদের রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার বিষয়টি স্পষ্ট হবে যা জনগণ দেখতে চায়।

আমাদের দেশে চ্যালেঞ্জ ও সঙ্কট মোকাবেলা নতুন কোনো ঘটনা নয়। এর আগেও সঙ্কটের সৃষ্টি হয়েছিল, সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি বিদ্যমান ছিল। কিন্তু আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব যেকোনো ভাবেই হোক সে সব সঙ্কট ও সমস্যাগুলো মোকাবেলা করেছেন, এমন অভিজ্ঞতা তাদের আছে। যদি খোলা মন নিয়ে সংলাপে বসা যায়, তাহলে ব্যর্থ হবার কোনো কারণ নেই।

তবে আমার কাছে মনে হয়, সাংঘর্ষিক অবস্থা পরিস্থিতিকে আরো সাংঘর্ষিক করে ফেলছে। এতে দেশ অরাজগতা, নৈরাজ্যের দিকে চলে যাবার সম্ভাবনা আছে। আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়েও সন্দেহ, সংশয়, শঙ্কা এবং নির্বাচন হবে কিনা এমন বিষয় নিয়েও নানা দুর্ভাবনার সৃষ্টি হতে পারে। রাজনীতিবিদরা যদি পরিস্থিতি মোকাবেলায় ব্যর্থ হন, তবে অগণতান্ত্রিক ব্যবস্থার দিকেও দেশ চলে যেতে পারে। তবে আমি বিশ্বাস করি, সে সম্ভাবনা এ মুহূর্তে কম।

পুরো পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে এ কথা বলতে পারি, যে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা গণতন্ত্রের জন্য বিরাট হুমকির সৃষ্টি করেছে। যে বিষয়গুলো নিয়ে সমঝোতা হওয়া প্রয়োজন বলে বলা হলো, তা পিছিয়ে যাচ্ছে। সমঝোতা না হলে গণতন্ত্রের ভবিষ্যত নিয়ে উদ্বিগ্ন হতেই হয়।

সমঝোতা না হলে দেশে বিভাজন বাড়বে, নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে সঙ্কট হবে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া ব্যহত হলে দেশ দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আর এ কারণে জনগণের মনে দেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যত নিয়ে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।।