Home » শিল্প-সংস্কৃতি » হোটেল রুয়ান্ডা – সংঘাত সংঘর্ষ গৃহযুদ্ধে বিধ্বস্ত একটি দেশের কাহিনী

হোটেল রুয়ান্ডা – সংঘাত সংঘর্ষ গৃহযুদ্ধে বিধ্বস্ত একটি দেশের কাহিনী

ফ্লোরা সরকার

hotel rwanda-1-জাতিগত বিদ্বেষের ইতিহাসের শিকড়ের গভীরে থাকে ঔপনিবেশিক শাসনের রাজনীতিকুটনীতি। অন্তত রুয়ান্ডার ইতিহাস আমাদের সেই শিক্ষাই দেয়। “হোটেল রুয়ান্ডা” ছবির প্রত্যেকটা মুহূর্ত্ত তাই দর্শক এক স্থিরঅচঞ্চল উত্তেজনা থেকে রেহাই পায়না। স্তব্ধ দৃষ্টিতে ছবির পর্দায় একের পর এক জাতি বিদ্বেষের নৃশংসতা দেখে দর্শক বিস্ময়ে হতবাক হতে থাকেন। হোটেলের লবিতে বসে জাতিসংঘ থেকে আগত সাংবাদিক যখন রুয়ান্ডার সাংবাদিক বেনেডিক্টের কাছে হুতুতুতসি দুই জাতির মধ্যে বিদ্যমান পার্থক্য জানতে চান, তখন বেনেডিক্ট মাত্র কয়েটি সংলাপে এর উত্তর দিয়ে দেন। বেনেডিক্ট বলেন “ বেলজিয়ান কলোনির মতে তুতসিরা লম্বা, সুরুচিপূর্ণ। এই বেলজিয়ানরাই মূলত এই পার্থক্য তৈরি করেছে”। সাংবাদিকের প্রশ্ন “কীভাবে” ? বেনেডিক্টের উত্তর “আমাদের ভেতর থেকে তারা সেসব মানুষদের তুলে নিত, যাদের নাক সরু, গাত্র বর্ণ কিছুটা উজ্জ্বল। সেই সরু নাকের অধিকারী তুতসিদের দিয়ে তারা প্রশাসন চালাতো। কিন্তু দেশ ছেড়ে যাবার সময় হুতুদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে গেলে তুতসিদের ওপর দীর্ঘদিনের শোষণের প্রতিশোধ নিতে হুতুরা ব্যস্ত হয়ে পড়লো”। এরপর সাংবাদিক তার পাশে বসা দুটো মেয়ের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলে জানতে পারে তাদের একজন হুতু আরেকজন তুতসি। সাংবাদিক স্বগতোক্তি করেন “আশ্চর্য, যেন দুটো যমজ বোন”। ঠিক তাই। রুয়ান্ডার পেছনের ইতিহাস অন্তত তাই বলে। এই ইতিহাসের দিকে তাকালে হোটেল রুয়ান্ডা ছবিটা আমাদের কাছে আরও পরিষ্কার হয়ে ওঠে।

বরফ যুগের শেষে প্রায় দশ হাজার বছর আগে নিওলিথিক সময়ের শুরু থেকে অথবা হিউমিড যুগের দীর্ঘ সময় থেকে প্রায় ৩০০০ খ্রিস্টপূর্ব থেকে রুয়ান্ডায় জনবসতি গড়ে উঠতে থাকে। এখানকার আদিম শিকারি গোষ্ঠী তাওয়া জাতিকে আদিবাসী হিসেবে পরিগণিত করা হয় যারা এখনও সংখ্যালঘু হয়ে এখানে বসবাস করছে। পরবর্তীতে এই তাওয়া গোষ্ঠী থেকে উচ্ছেদকৃত একদল গোষ্ঠী,বানতু নামক অভিবাসীদের সঙ্গে একত্রিত হয়ে পুরুষানুক্রমে কৃষিকর্মে লিপ্ত হয়। নতুন এই গোষ্ঠী আজকের হুতু জাতি নামে পরিচিত। তারা বনজঙ্গল পরিষ্কার করে রুয়ান্ডার ভূমিকে বসবাসের যোগ্য করতে থাকে। তৃতীয় আরেকদল অভিবাসী আসে, যারা মেষপালক হিসেবে অধিক পরিচিত তারাই বর্তমানের তুতসি জাতি হিসেবে পরিচিত। পনর শতাব্দীর মধ্যে বানতু ভাষী যাদের ভেতর হুতুতুতসি উভয়ই আছে, তারা একত্রে মিলে বৃহত্তর রুয়ান্ডা ভূমি গড়ে তোলে। ঊনিশ শতাব্দীতে রাজা রুয়াবুগুরির শাসনামলে ক্রমান্বয়ে গিসাকা, বুগেসেরা এবং বুরুন্ডি পর্যন্ত রুয়ান্ডার রাজ্যবিস্তার ঘটে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় এই সময়কাল পর্যন্ত হুতুতুতসি জাতি একত্রে মিলেমিশে শুধু বসবাসই করেনি, উভয় জাতির ভেতর বিবাহ, পরিবার ইত্যাদি গড়ে উঠতো। বিভেদ শুরু উপনিবেশ স্থাপনের পর।

প্রথম যে ঔপনিবেশিক গোষ্ঠী রুয়ান্ডায় প্রবেশ করে তারা হলেন জার্মান, সাল ১৮৯৪। তবে জার্মানদের পরোক্ষ শাসন রুয়ান্ডার অধিবাসীদের ওপর খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারেনি এবং ১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে তারা সেখান থেকে হাত গুটিয়ে নেয়। ঔপনিবেশিক প্রভাব বিস্তারিত হয়, যখন বেলজিয়াম ১৯২৩ সালে লিগ অফ নেশানস এর ম্যানডেট নিয়ে সমগ্র রুয়ান্ডাউরুন্ডি এবং পশ্চিমের কঙ্গো পর্যন্ত উপনিবেশ স্থাপন করে। উল্লেখ্য, তুতসিরা ঔপনিবেশিক শাসক গোষ্ঠীর সহযোগীরূপে এবং হুতুদের শাসকে পরিণত হয়। উরুন্ডির চেয়ে রুয়ান্ডায় সংখ্যগুরু হুতুদের প্রতিবাদ শুরু হয় অধিক পরিমাণে। ১৯৫৭ সালে হুতু নেতাদের হাতে নির্মিত হয় বিখ্যাত ‘হুতু মেনিফেস্টো’। নানা উত্থাপতনের পর ১৯৬২ সালে রুয়ান্ডাউরুন্ডি স্বাধীনতা অর্জন করে। জাতিসংঘ দুই জাতির একত্রিকরণের মাধ্যমে একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা গঠন করতে চাইলেও তা সম্ভব হয় না। ফলে রুয়ান্ডায় রিপাবলিক ধরণের শাসনের প্রবর্তনের মাধ্যমে পূর্বের জঁধহফধ নাম পরিবর্তন করে করা হয় জধিহফধ এবং উরুন্ডি পৃথক হয়ে নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্রে পরিণত হয়ে নতুন নামকরণ করা হয় বুরুন্ডি। রুয়ান্ডার প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট গ্রেগয়ের কায়িবান্দার (যিনি ছিলেন ১৯৫৭ র মেনিফেস্টোর অন্যতম স্থপতি) সময় থেকে হুতুতুতসি বিদ্বেষ আরও ঘনিভূত হয়। বিদ্বেষ এমন পর্যায়ে যায় যে তুতসিরা ‘তেলাপোকা’ নামে তিরস্কৃত হতে থাকে হুতুদের কাছে।১৯৬৩ র ডিসেম্বরে বুরুন্ডি থেকে তুতসিরা রুয়ান্ডায় প্রবেশ করলে প্রায় ১৪ হাজার তুতসিকে নৃশংস ভাবে হত্যা করা হয়। ১৯৭৩ এ কায়িবান্দাকে সরিয়ে জেনারেল জুভেনাল হেবিয়ারিমানা ক্ষমতা গ্রহণ করেন। পশ্চিমাদের সমর্থনে বিশেষত ফরাসিদের সহায়তায় হেবিয়াররিমানা প্রায় একুশ বছর সেনাশাসন করেন। কিন্তু তার হুতু পক্ষপাতিত্ব সমস্যার জাল বিস্তার করে, বিশেষত সীমান্ত এলাকায় যেখানে হাজার হাজার তুতসি আশ্রয় গ্রহণ করে। দলচ্যুত একদল হুতু ১৯৯০ এর ১ অক্টোবর সীমান্ত তুতসিদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে গঠন করে রুয়ান্ডান পেট্রিয়টিক ফ্রন্ট। এই পেট্রিয়টিক ফ্রন্ট এবং জেনারেল হেবিয়ারিমানা ও বুরুন্ডির রাষ্ট্রপ্রধানের হত্যার মধ্য দিয়ে শুরু হয় রুয়ান্ডার বৃহত্তম জাতিগত বিদ্বেষ যা ১৯৯৪ সালে ‘জেনোসাইড’ এ রূপান্তরিত হয়, মৃত্যু হয় লক্ষ লক্ষ হুতুতুতসির। “হোটেল রুয়ান্ডা” ১৯৯৪ সালে সংঘঠিত এই ঐতিহাসিক ‘জেনোসাইড’ এর ওপর নির্মিত ছবি।

ছবির শুরু থেকেই এই ‘জেনোসাইড’ এর পূর্বভাষ আমরা পাই রেডিওর ধারাভাষ্যে -“ যখন মানুষ আমাকে জিজ্ঞেস করে, তোমরা তুতসিদের এতো ঘৃণা করো কেনো ? আমি তখন বলি ইতিহাস পড়ো। তুতসিরা ছিলো বেলজিয়ানদের সহযোগী, তারা আমাদের হুতু ভূমি চুরি করেছিল, আমাদের মুছে ফেলতে চেয়েছিলো। আবার সেই দস্যুরা এসেছে। তারা তেলাপোকার দল। খুনির দল। রুয়ান্ডা হুতুদের ভূমি। তুতসিরা হলো সংখ্যালঘু বিশ্বাসঘাতক, দখলদার বাহিনী। আমরা আর.পি.এল. (রুয়ান্ডান পেট্রিয়টিক ফ্রন্ট) দের সমূলে বিনাশ করবো —–”। ছবির প্রধান চরিত্র পল রোসেসবেগিনাকে তাই দেখা যায়, সবদিক সামলে বড় বেশি সাবধানে চলাফেরা করতে। সে নিজে হুতু হওয়া সত্ত্বেও তুতসি স্ত্রী তাতিয়ানাকে রক্ষার জীবন সংগ্রামে নেমে যেতে হয়। যে পল হোটেল মিলে কোলিনেসেতে ম্যানেজারের চাকরি করেন। এই হোটেল মিলে কোলিনেসে যেন ‘হোটেল রুয়ান্ডা’, যে হোটেলটি সমগ্র দেশের প্রতীক হয়ে দর্শকের সামনে এসে হাজির হয়। জেনোসাইড শুরুর প্রাক্কালে হোটেলের বেলজিয়ান মালিক পলকে হোটেলের দায়িত্ব দিয়ে নিরাপদ স্থানে সরে পড়ে। হোটেলটি যখন হুতু সেনাদের দ্বারা আক্রান্ত হয়, তখন পল টেলিফোনে সেই বেলজিয়ান মালিকের সহায়তা চাইলে মালিক তাকে প্রশ্ন করে, কার সহায়তা হুতু সেনাদের শান্ত করতে পারবে। উত্তরে পল যে দেশটির নাম বলে তা হলো ফ্রান্স। ছবির চরম আইরনি এখানে। হোটেলটির (অর্থাৎ রুয়ান্ডা ভূমি) আসল মালিক বিদেশি, তাকে (রুয়ান্ডা ভূমি) বিপদ থেকে রক্ষা করার জন্যে আরেক বিদেশির প্রয়োজন পড়ে। অর্থাৎ রুয়ান্ডার মতো দেশগুলির কোন আসল মালিকানা নেই, নেই কোন সার্বভৌমত্ব। তাই রুয়ান্ডা ভূমি রক্ষা পেলেও ভূমির অধিবাসীরা রক্ষা পায়না। হুতুরা যখন তুতসিদের সমূলে বিনাশের মত্ততায় মেতে ওঠে হোটেলটিতে জাতিসংঘের ডেলিগেশান সহ অনেক বিদেশি টুরিস্ট এবং হুতুতুতসির লোকজন আশ্রয় নেয়। পল তার সাধ্যমতো চেষ্টা করে যায় তুতসিদের রক্ষা করতে। তার বিশ্বাস জাতিসংঘের প্রতিনিধি এবং পশ্চিমা টুরিস্টদের সহায়তায় সে তার দেশের জনগণ হুতুতুতসিদের রক্ষা করতে সক্ষম হবে। এই বিদেশিদের সে হাভানা সিগার থেকে শুরু করে দামি দামি হুইস্কি দিয়ে আপ্যায়নে ব্যতিব্যস্ত থাকে। কিন্তু তার স্বপ্নভঙ্গ ঘটে যখন জাতিসংঘের নিযুক্ত কর্নেল ওলিভারের কাছ থেকে বুঝতে পারে, জেনোসাইডের সেই দুর্যোগ ঘনঘটা দিনে তাদের রক্ষা করার জন্যে পশ্চিম বা জাতিসংঘ কেউ তাদের পাশে নেই। তাদের সেই কথপোকথন চমৎকার ভাবে ফুটে ওঠে যখন কর্নেল পলকে বলে “ আমার গালে থুতু ছিটিয়ে দাও। আমরা (অর্থাৎ পশ্চিমারা) তোমাদের নোংরা মনে করি। যাদের তোমরা অন্ধের মতো বিশ্বাস করো। তারা তোমাদের নোংরা, যাচ্ছেতাই মনে করে। —- আর তাই ওপর থেকে নির্দেশ এসেছে এই হোটেল থেকে কেবল বিদেশিরা চলে যেতে পারবে। তোমরা থেকে যাবে। এই নরকে। কারণ তোমরা কালো নও, নও নিগার। শুধু আফ্রিকান বলে। —- তারা কোনদিন তোমাদের রক্ষা করবে না। কখনই না”। পল বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যায়। তারপরের দৃশ্যেই দেখা যায় তুমুল বৃষ্টির ভেতর সব পশ্চিমারা বিদায় নিচ্ছে, পল বুঝে যায় তাদের নিজেদেরকে নিজেদেরই রক্ষা করতে হবে। দর্শক এবং ছবির অসহায় হুতুতুতসিরা নির্বাক চোখে দেখতে থাকে পশ্চিমাদের চলে যাওয়া, যে দৃশ্যে দর্শকের চোখের জল, রুয়ান্ডাবাসির চোখের জল আর বৃষ্টির জল একাকার হয়ে যায়। আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয়না, জাতিবিদ্বেষ তৈরি করে বিদ্বেষের সময় দেশগুলো যখন বিপদাপন্ন হয়, তখন পৃথিবীর কোন দেশ এগিয়ে আসেনা। তারা নিজেরা যদি নিজেদের রক্ষা করতে না পারে তাদের রক্ষা করার কেউ থাকেনা। আর তাই শত শত লোকের মৃত্যুর হাহাকারের ভিডিও ফুটেজ বিদেশি ফটোসাংবাদিক দাগলিশ তুলে রাখলেও তা বাইরে প্রচার করেনা। পল তাকে কারণ জিজ্ঞেস করলে বলে -“ কী হবে পৃথিবীকে এসব ফুটেজ দেখিয়ে। ফুটেজ দেখার পর আবার সবাই যার যার ডিনার খেতে বসে পড়বে”। এমনকি পল নিজেও যখন শত শত রুয়ান্ডাবাসীর লাশ পড়ে থাকতে দেখে সে নিজেও তার সহকারি গ্রেগোয়ারকে বলে, “আজ যা দেখলে তা কাউকে বলবে না। আমরা কিছু দেখিনি”। ঠিক তখন মার্কেজের “ওয়ান হান্ড্রেড ইয়ার্স অফ সলিচ্যুড’ এর সেই কলাশ্রমিকদের হত্যার ঘটনা মনে পড়ে। হাজার হাজার কলাশ্রমিকদের হত্যার পর বলা হয়, একজনও মারা যায়নি, মাকন্দোয় কোন ঘটনা ঘটেনি। তবে এতো মন্দের মাঝেও কিছু ভালোত্ব থাকে। যা মানবতাবাদের হাত ধরে আসে। কর্নেল অলিভার সেরকম একজন। ছবির আরেক চরিত্র জাতিসংঘের নিযুক্ত প্রতিনিধি মাদাম আর্চার। মানুষ যে শুধুই মানুষের জন্যে, কোন অফ্রিকান, আমেরিকান বা ইউরোপিয়ানের নয়, তাদের চরিত্রে তা চমৎকার ভাবে ফুটে ওঠে। পলের বুদ্ধিমত্তা এবং মাদাম আর্চার আর অলিভারের চেষ্টায় শেষ পর্যন্ত পল ও তার পরিবার এবং হোটেলে আশ্রয়রত আট শ রুয়ান্ডাবাসি সীমান্তে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। সত্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্মিত হলেও গল্পের প্রয়োজনে তাই আমরা ছবির প্রধান চরিত্রকে বেঁচে যেতে দেখি। কিন্তু বাস্তবে ১৯৯৪ সালের মে থেকে জুলাই এই তিনমাসে যে দশ লক্ষ রুয়ান্ডাবাসীর মৃত্যু ঘটেছিল, বিশ্বের কাছে সেই খবর অনেক দেরিতে যেয়ে পৌঁছেছিল, তা বলাইবাহুল্য।

এভাবেই শাসক গোষ্ঠী জাতি বিদ্বেষের বীজ বপন করে আর সেই বীজের বিষাক্ত ফল ভক্ষণ করতে হয় নাগরিকদের। যে বিভক্তির জাল তৈরি করে দেশিবিদেশি শাসক, ক্ষমতা বলয়ের লোকজন এবং ক্ষমতালিপ্সুরা, সেই জালে জড়িয়ে পড়ে রুয়ান্ডাবাসীর মতো অন্যান্য দেশের মানুষদের জন্যও ধ্বংস ডেকে আনে। অন্যদিকে, সেই বিদ্বেষের সুযোগ নিয়ে যত সমৃদ্ধ সম্পদ থাকে তা লুঠের মালে পরিণত হয়।

জাতি বিদ্বেষের পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে, “হোটেল রুয়ান্ডা” আমাদের চোখের দৃষ্টি খুলে দেখিয়ে দেয়। আমরা সচেতন হয়ে উঠি নিজেদের বিষয়ে। হোটেল রুয়ান্ডা আমাদের শিখিয়ে দেয়, নিজেরা নিজেদের রক্ষা করতে না পারলে পৃথিবীর কোন শক্তিই রক্ষা করবে না। আর এই কারণেই বিদ্বেষ সংঘাত আর সাংঘর্ষিক রাজনীতিতে বিপর্যস্ত প্রত্যেকটি দেশের নাগরিকদের তাই ‘হোটেল রুয়ান্ডা’ দেখা উচিত সাবধান হবার জন্যে। তাই ‘হোটেল রুয়ান্ডা’র মতো আরও অনেক ছবি নির্মিত হওয়া এই সময়ে বড় প্রয়োজন।।

3 টি মন্তব্য

  1. Likhati pore onak kichu na jana jinish jantta parllam.onak donnobad ae likhatir jonno 🙂

  2. অজিত দাশ

    দিদি অনেক দিন পর আপনার লেখা পড়েছি

  3. Apa,bortoman rajnoitik prekkhapote ottonto shomowupojogi abong oshadharon ekti lekha!khub valo laglo!