Home » মতামত » সরকার কি আসলেই পরিস্থিতি সামাল দিতে চায়?

সরকার কি আসলেই পরিস্থিতি সামাল দিতে চায়?

আমীর খসরু

bd-situation-2-সংঘাত, সংঘর্ষ, রক্তপাতে দেশ এখন এক কঠিন সঙ্কটের মধ্যে। সঙ্কটটি এতই প্রকট এবং গভীর যে, দেশের মানুষ আতঙ্কিত, উদ্বিগ্ন। আতঙ্কিত তার নিজের, পরিবারপরিজনসহ নিকটজনের জীবনের স্বাভাবিক নিরাপত্তার কথা ভেবে। আর উদ্বিগ্ন এ কারণে, যে অবস্থা চলছে এবং দিনে দিনে যার অবনতি হচ্ছে, তাতে দেশের ভবিষ্যত, গণতন্ত্রের উপরে সাময়িক ও দীর্ঘস্থায়ী প্রতিক্রিয়া, ব্যবসাবাণিজ্যএক কথায়, অনিশ্চিত গন্তব্যের কথা ভেবে। এ তো গেল দেশের অভ্যন্তরে আমরা যারা আছি, তাদের মনের, মনোজগতের এক মহাসঙ্কটের কথা। এমনিতেই বাংলাদেশের জনগণ নানাবিধ সমস্যা, সঙ্কট মোকাবেলা করে থাকে নিত্যদিন। এর উপরে এই যে বাড়তি দুশ্চিন্তা এবং উদ্বেগ, তা সারাদেশের মানুষকে বড় সঙ্কটে ফেলেছে, পাহাড়সহ ভারী এই চাপ তাদেরকে করে ফেলেছে দিশেহারা। অন্যদিকে, বহির্বিশ্বে এই সংঘাত, রক্তপাত আর চলমান নৈরাজ্যের কারণে দেশের ভাবমূর্তির সঙ্কট একেবারে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। এই কারণেই জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ বড় বড় দেশ এবং প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে বাংলাদেশের হিংসাহানাহানিতে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বিশ্বের বড় বড় সংবাদমাধ্যমে, যেখানে স্বাভাবিক অবস্থায় বাংলাদেশের খবর বছরেও একবার প্রচার বা প্রকাশ হয় না, সেখানে এবারের সংঘাতহানাহানি, রক্তপাতের খবর এমন ফলাও করে প্রচার করা হচ্ছে এবং এতে দেশটি যে গভীর ও অতল সঙ্কটে নিমজ্জিত প্রায়, তারই ইঙ্গিত বহন করে। এই ইঙ্গিত আকারে ইঙ্গিতে বিশ্বে যেসব দেশে এমন হানাহানির অবস্থা চলছে, তাদের সঙ্গে এই দেশটিকে এক কাতারে ফেলে দেয়া হবে কিনা, তারই সঙ্কেত। এই ইঙ্গিত আর সঙ্কেত দেশের, এর জনগণসহ সামগ্রিকভাবে চরম নেতিবাচক এক ভাবমূর্তির সঙ্কট তৈরি করেছে। জঙ্গি রাষ্ট্র, ব্যর্থ রাষ্ট্র এসব আনুষ্ঠানিকভাবে তারা এখনো বলতে শুরু করেননি। কিন্তু যে অবস্থা চলছে, আর তা যদি বিদ্যমান থাকে তাহলে, ভবিষ্যতে কি হবে তা বলা মুশকিল।

গত এক মাসে অর্থাৎ জামায়াত নেতা কাদের মোল্লার রায় ঘোষণা করা হয় ৫ ফেব্র“য়ারি সেই থেকে এই মঙ্গলবার পর্যন্ত কমপক্ষে ১১০ জন নিহত হয়েছেন। দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর রায়ের পরে প্রথম পাঁচদিনেই নিহত হন ৮০ জনের মতো। এদের মধ্যে নারীশিশুদের সংখ্যা কম নয়। যারা নিহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে পুলিশ সদস্যও রয়েছেন। রয়েছেন অসংখ্য সাধারণ মানুষ। জামায়াত আর শাসকগোষ্ঠীর রক্ত নিয়ে হোলি খেলার শিকারএসব সাধারণ মানুষ। কিন্তু প্রতিদিন যে জানমালের ক্ষতি হচ্ছে, বিনাশ হচ্ছে সম্পদের, নিহত হচ্ছে মানুষ সে ব্যাপারে সরকারের কোনো বক্তব্য নেই। ফেব্র“য়ারির প্রথমদিকেই পুলিশের একেবারে ঊর্ধ্বতন পর্যায় থেকে সাংবাদিকদের সামনে বলা হলো, দেখামাত্র গুলি করার কথা। কিন্তু বাস্তবে ওটাই যে ছিল নির্দেশনা, ছিল সরকারি সিদ্ধান্ত, তা বুঝতে আমজনতার সময় লেগেছে। আমজনতা বুঝতে পেরেছে জীবনের বিনিময়ে কিংবা গুলিতে আহত হয়ে। জামায়াতশিবির যে সহিংস পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে, তা কল্পনাতীত। কারণ, এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি তারা করতে চেয়েছিল, তাদের স্বার্থেই। কিন্তু রাষ্ট্র নামক যন্ত্রের ম্যানেজার হিসেবে সরকার এভাবে হত্যার পূর্ণ বৈধতা পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীকে দিতে পারে না। এর পরিণাম ভয়াবহ হতে বাধ্য। যুক্তি নয়, যুক্তি নির্ভর চিন্তার বাইরে, আজ যে হত্যার অধিকার তাদের দেয়া হলো যাতে নিহত হলো অসংখ্য সাধারণ মানুষ, তার ভবিষ্যত কি একবারও সরকার তা চিন্তা করেছে? অস্ত্র এমনই এক যন্ত্র, যার ব্যবহার শুধুমাত্র জীবননাশ করতে জানে, জীবনকে হরণ করতে পারে। ভবিষ্যতে এর অপব্যবহার হতে বাধ্য। আর তখন পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে? জামায়াতশিবির সন্ত্রাসী, হিংসাত্মক, সহিংস ঘটনা চালালে, সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী যদি অসহায় হয়ে পড়ে, তবে আত্মরক্ষার্থে তারা ব্যবস্থা নেবে, এটাই কাম্য। কিন্তু সাধারণ মানুষযারা কিনা জীবনজীবিকা নিয়ে প্রতিনিয়ত চিন্তিত, তারা কেন এর অসহায় শিকার হবেন? অবস্থাটা এমন যে, জামায়াত আর সরকার মিলে মানুষের জীবন হরণের বৈধ অধিকার পেয়ে গেছে। এটা সরকারের জন্য নিঃসন্দেহে বড় সঙ্কট। এই সঙ্কটই জামায়াত তৈরি করতে চেয়েছিল এবং তারা সফলও হয়েছে। সরকার জামায়াতেরই সেই ফাঁদে পা দিয়েছে অথবা জেনেশুনেই এমনটা করছে।

যে সংঘাত, নৈরাজ্য, রক্তাক্ত পরিস্থিতি চলছে, তা সরকার কিভাবে সামাল দিবে? সরকার কি আসলেই এই ভয়াবহ পরিস্থিতি সামাল দিতে চায়, নাকি যে পরিস্থিতি চলছে, তা চলুক এবং এ নিয়ে তারা ফায়দা লুটছে চায়? স্বাধীনতার পর শেখ মুজিবের সাধারণ ক্ষমা ও জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক পুনর্বাসন থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত সব শাসকই জামায়াতসহ ধর্মাশ্রয়ী রাজনৈতিক দলগুলোকে আশ্রয়প্রশ্রয় দিয়ে এতো দূর নিয়ে এসেছে। এবারেও সরকার হত্যা, ভাংচুরসহ যে নৈরা জ্যিক পরিস্থিতি চলছে, তা নিয়ে আগামী নির্বাচনে যদি ফায়দা নিতে চায়, সমাজের বিভাজনকে আরো বাড়িয়ে দিয়ে, অধিকতর সংঘর্ষের দিকে দেশকে নিয়ে যায়, তার পরিণাম ভয়াবহ হতে বাধ্য।

অতীতের মতো ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবারেও চেয়েছিল, জামায়াতের সঙ্গে আঁতাত করতে। কিন্তু সে আঁতাত রুখে দিয়েছে সাধারণ তরুণরা যাদের অধিকাংশেরই কোনো সক্রিয় রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নেই। যখন সে আঁতাত ভেঙে দেয়া হলো, তখন ফায়দা লোটার পথে নেমে পড়লো ক্ষমতাসীনরা। আর তারই পরিণাম হচ্ছে, আজকের সহিংসতা, সংঘর্ষ, অসংখ্য মানুষের নিহত হওয়াসহ বিদ্যমান রক্তাক্ত পরিস্থিতি।

কিন্তু পরিস্থিতি যে পর্যায়ে গেছে, তা কি এখন আর সরকারের পক্ষে সামাল দেয়া সম্ভব? সন্দেহটা এখানে যে, সরকার কি আদৌ এই পরিস্থিতি সামাল দিতে চায়? যদি ধরেও নেয়া হয়, সরকার চায়, কিন্তু চাইলেও যতোই দিন যাচ্ছে, ততোই পরিস্থিতি তাদের নাগালের বাইরে এবং হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। সরকার কি হলফ করে বলতে পারবে, এখন পরিস্থিতি তাদের আয়ত্বের মধ্যে আছে? জবাব, না। জাতীয় সংসদে রাশেদ খান মেনন প্রথমদিকেই বলেছিলেন, ‘সাপ নিয়ে খেলতে নেই, সাপের গালে চুমু দিতে নেই, যেকোনো সময় দংশন করবে।’ সাপ এখন আরো বিষধর হয়ে স্বমূর্তিতে আবির্ভূত এবং এটা হাতছাড়া, নিয়ন্ত্রণহীন। আর এটাই হচ্ছে, আঁতাত করতে যাওয়ার কারণে দেশবাসীর জন্য সীমাহীন খেসারত।

এই আঁতাতের যে নিভু নিভু বাতিটি যে এখনো সরকার জ্বালিয়ে রেখেছে, তা তাদের কর্মকাণ্ডের মধ্যদিয়েই প্রমাণিত হয়। কয়েকদিন আগেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তার মন্ত্রী এবং ক্ষমতাসীন দলের নেতারা হুংকার দিয়ে বলতেন, জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা সময়ের ব্যাপার মাত্র। সন্ত্রাসী আইনেই তাদের নিষিদ্ধ করা যায় বলেও কেউ কেউ মন্তব্য করেছিলেন। কিন্তু আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ, আমাদের বুধবারকে দুই সপ্তাহ আগে এক সাক্ষাতকারে বলেছিলেন, ‘জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার কোনো সিদ্ধান্ত তারা নেননি, এমনকি এ নিয়ে কোনো আলোচনাও হয়নি।’

গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী বললেন, জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা হবে আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়েই। ২০০৯ সালে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার একটি রিট উচ্চ আদালতে রয়েছে। ২০০৯এ ক্ষমতাসীন হওয়া আওয়ামী লীগ এখন পর্যন্ত কি ওই রিটটি নিয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ বা প্রক্রিয়া শুরু করেছে? এখনও এতো প্রাণহানি, এতো সম্পদের বিনাশ, এতো আতঙ্ক, উদ্বেগের পরেও ক্ষমতাসীনদের মুখ থেকে একটি কথাও শোনা যায় না। এমনকি সরকারের দিক থেকে নেই কোনো প্রেসনোট বা বক্তব্য। উল্টো, অন্য ইসলামী দলগুলোকে কাছে টানতে সরকার নানা ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে।

অন্যদিকে, ক্ষমতার লড়াইয়ে ভোটের রাজনীতিতে বিএনপি জামায়াতের পক্ষ নিয়েছে। এই পক্ষ নেয়ার মধ্যদিয়ে বিএনপি আগামী নির্বাচনে আদৌ লাভবান হবে কি? কারণ, জামায়াতকে কতোটা বিশ্বাস করা যায়? জামায়াতের সামনে এখন কোনো জোটের চিন্তা নেই, রাজনীতি নেই, নির্বাচন নেই, তাদের একটিই এজেন্ডা যুদ্ধাপরাধের বিচার। এক্ষেত্রে, আগামী নির্বাচনে জামায়াত কি করবে, কোন পক্ষে যাবে, তা কি বিএনপির জানা আছে? নেই। জামায়াত কৌশলগত মিত্র হিসেবে এখন বিএনপিকে ব্যবহার করছে মাত্র। এই বিষয়টি বিএনপিকে বার বার চিন্তা করে দেখতে হবে। চিন্তা করতে হবে এই কারণে যে, মাত্র কয়েকদিন আগে যারা ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে আঁতাত করতে গিয়েছিল, তারা শেষ বিচারে বিএনপির সঙ্গেও যে শেষ পর্যন্ত ওই আচরণ করবে না, তার নিশ্চয়তা কোথায়? কিন্তু জামায়াতের সঙ্গে সখ্যতায় বিএনপি বিরাট অংশের তরুণদের তার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দিল। প্রথম থেকেই তরুণদের আবেগকে বিএনপি ভুল ব্যাখ্যাবিশ্লেষণ করেছে। শাহবাগের সমাবেশ প্রথম কয়েকটি দিন কোন দলের ছিল না, ছিল তরুণদের দখলে। কিন্তু বিএনপি যখন ওই সমাবেশকে সাময়িক একটি ঘটনাসহ নানা ব্যাখ্যা দিল, তখনই ক্ষমতাসীনরা শাহবাগ সমাবেশকে নিজেদের দখলে নেয়ার সুবর্ণ সুযোগ পেয়ে গেল। তরুণরা হয়ে পড়লেন, হতাশ। মনে রাখা দরকার, সরকারের নানা দুষ্কর্মের কারণে তরুণরা যে বিক্ষুব্ধ ছিল, শাহবাগে সমবেত হওয়া ছিল তার বিরুদ্ধে এক তীব্র প্রতিবাদ এবং বিস্ফোরণ। কারণ, যে কোনো ঘটনার জন্য একটা উছিলা থাকতে হয় যুদ্ধাপরাধের রায় ছিল সে ধরনেরই একটি উছিলা মাত্র, একমাত্র কারণ নয়। বিএনপি তরুণদের মনোস্তত্ব বুঝতে অক্ষম একটি রাজনৈতিক দলের নাম। বিএনপি ফেসবুক, টুইটার এবং সামাজিক মাধ্যমসহ আধুনিক দুনিয়ার অগ্রগতির খোঁজ খবর না রাখার পশ্চাৎপদতার একটি উদাহরণ।

ক্ষমতাসীনদের পরিস্থিতি সামাল দেয়ার শক্তিও নেই বলেই মনে হয়। এ কথাটি মনে রাখতে হবে, ক্ষমতাসীন থাকার তত্ত্ব এবং এ বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। স্বাভাবিক ভাবেই ক্ষমতাসীনদের প্রতি জনগণ ক্রমাগত বিরূপ মনোভাব পোষণ করতে থাকে। আর সেটি যদি হয় অগণতান্ত্রিক এবং স্বৈরতান্ত্রিক, তাহলে তো কথাই নেই। ক্ষমতাসীন সরকার গত চার বছর ধরে এবং এখনো যে সব জনবিরোধী কর্মকাণ্ড করছে, তাতে তাদের জনপ্রিয়তায় নিদারুন ধ্বস নেমেছে। এখন সরকার বিভাজন সৃষ্টি করে রক্তপাত, সহিংসতাকে চলতে দিয়ে ফায়দা লুটতে চাইবে, এটাই স্বাভাবিক।

দেশে যে সংঘাত, নৈরাজ্য, রক্তারক্তি চলছে, তাতে ব্যবসাবাণিজ্য দারুনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, দেশীবিদেশী বিনিয়োগ। এসব সরকারের বিবেচনায় না থাকারই কথা।

কয়েকমাস পরেই জাতীয় নির্বাচন। এ নির্বাচন নিয়ে বড় ধরনের মতভেদ, মতদ্বৈততা রয়ে গেছে প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে। এতোদিন ধরে, সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি ছিল এই প্রশ্নেই। এই প্রশ্নটি এখন চাপা দেয়া হয়েছে। যেমনটি চাপা দেয়া হয়েছে, অন্যান্য নানা ইস্যুর। এখন পদ্মা সেতুর দুর্নীতি, হলমার্ক, শেয়ারবাজারসহ নানা বিষয় চাপা পড়ে গেছে। চাপা পড়ে গেছে, দ্রব্যমূল্যসহ জনজীবনের নানাবিধ সঙ্কট। চাপা দেয়া হয়েছে, ছাত্রলীগযুবলীগসহ ক্ষমতাসীনদের নানা কুকর্মের কথা। কিন্তু এগুলো মানুষের মনের গভীরে আছে, থাকবে, থাকতে বাধ্য। কিন্তু সরকার যদি এমনটা মনে করে, এই সংঘাতসংঘর্ষ, রক্তপাতের মধ্যে তারা ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করে ফেলবে তা হবে এক ঐতিহাসিক ভ্রান্তি। এই ভ্রান্তি বিলাস কখনই বাস্তবায়িত হয়নি, হয় না, হতে পারে না। তাহলে ইতিহাস মিথ্যা হয়ে যায়।

দেশ ক্রমাগত যে পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে, তাতে কোনো কিছুই স্পষ্ট করে বলা সম্ভব হচ্ছে না। সম্ভব হচ্ছে না, দেশ কোন দিকে যাচ্ছে তা বুঝতে পারার বিষয়টিও। সরকার একটি অস্পষ্টতা সৃষ্টি করে রেখেছে। এই অস্পষ্টতাই হচ্ছে, দেশের জন্য বড় সঙ্কট। কারণ, সংঘাতসংঘর্ষ, হানাহানির পরিস্থিতিতে অস্পষ্টতা, যেকোনো অঘটনের জন্ম দিতে পারে, সৃষ্টি করতে পারে দেশকে আবার বহু বছর পিছিয়ে দেয়ার পরিস্থিতির। কিন্তু দেশ, এই দেশের মানুষ এবার আর পেছনে ফিরে যেতে চায় না, যাবে না। হবে না, কারো কাছে জিম্মি। মনে রাখতে হবে, আতঙ্কভীতি কাটিয়ে ওঠার, কূটকৌশল মোকাবেলার অভিজ্ঞতা জনগণের অর্ন্তনিহিত শক্তি। এই শক্তি সীমাহীন। এই শক্তিকে জামায়াত, সরকার বা বিএনপির কারো খাটো করে দেখার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। জনগণের সীমাহীন হিম্মতের বিষয়টি স্বৈরাচার, অগণতান্ত্রিক শক্তি বা ষড়যন্ত্রকারীদেরকেও বিবেচনায় নিতে হবে। কারণ, অতীতের অভিজ্ঞতা তাদের জন্য নিদারুন বেদনাদায়ক।।