Home » বিশেষ নিবন্ধ » জনগণের প্রতিক্রিয়া – হানাহানি থেকে রেহাই মিলবে কবে?

জনগণের প্রতিক্রিয়া – হানাহানি থেকে রেহাই মিলবে কবে?

আমাদের বুধবার প্রতিবেদন

hortal-2-সাংঘর্ষিক রাজনীতি তো লেগেই ছিল। এর উপরে সাম্প্রতিককালে হিংসাহানাহানি, রক্তারক্তি পরিস্থিতির কারণে সাধারণ মানুষ এখন আতঙ্কের শেষ সীমানায় পৌছে গেছেন। জনমনে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে এমন কোনো সুসংবাদ কেউই দিতে পারছেন না। প্রতিদিনই সহিংসতা বাড়ছে। সৃষ্ট সংকট সমাধানে সরকারবিরোধী দলের কার্যকর উদ্যোগও লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। টানা হরতালজ্বালাওপোড়াও, গুলিতে সাধারণ মানুষ ও পুলিশ নিহত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সাধারণ মানুষ কি ভাবছেন আমাদের বুধবারএর কাছে তা তুলে ধরেছেন তাদেরই কয়েকজন।

নূর আলম, মিরপুর, ঢাকা

সহিংস পরিস্থিতির কারণে পণ্যের দাম বেড়ে গেছে কয়েক গুন। আমরা যারা ঢাকায় থাকি তাদের অবস্থা ত্রাহি। এক সপ্তাহের ব্যবধানে সবজির দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে গেছে। চালডালতেলের দাম তো আগে থেকে বাড়ছিল হরতালসহিংসতায় সেটি আরো বেড়েছে। এতে জনদুর্ভোগ বাড়লেও এদিকে নজর দিচ্ছে না সরকার। অন্যদিকে, বিদ্যুতের লোডশেডিং শুরু হয়েছে। বলা হচ্ছে, এবার নাকি এর পরিমাণ গেল বছরের চেয়ে বাড়বে। কেন বাড়বে, তার ব্যাখ্যা কিন্তু মিলছে না। গ্যাসের চাপও স্বল্প, রান্না করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

জিয়াউল ইসলাম টিপু, বনশ্রী, ঢাকা

সহিংসতা কারো কাম্য নয়। সেখানে নিরিহ মানুষ প্রাণ হারালে তা মেনে নেয়া যায় না। পুলিশও মারা গেছে এসব সহিংসতায়। এতে কোটি কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি নষ্ট হয়েছে। বিআরটিসি গাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। পল্লীবিদ্যুতের ট্রান্সফরমার পুড়িয়ে দেয়ায় কয়েকটি গ্রাম এখন বিদ্যুৎ শুন্য। বোরো মৌসুমে বিদ্যুৎ না পাওয়ায় উৎপাদন ব্যহত হবে সেখানে। এছাড়া সাতক্ষীরাসহ অনেক এলাকায় হাজার হাজার গাছ কাটে রাস্তা অবরোধ করা হয়েছিল। কক্সবাজারে পর্যটকরা আটকে পড়েছিল তিনদিন। এতে অর্থনীতির ক্ষতি হয়েছে বটে। তবে জনদুর্ভোগ বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। এখান থেকে পরিত্রাণ লাভের সম্ভাবনা নেই বললে চলে। আমরা সাধারণ জনগণ কতদিন এভাবে মার খাব?

ফরিদুল ইসলাম, পাবনা

গত ৪১ বছরে কোন সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে পারেনি। এখন মহাজোট সরকার যদি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কাজ স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন করতে পারে, তাহলে তা সবার জন্য ভালো। আর এ ব্যাপারে নতুন প্রজন্ম যদি কোন গোপন সমঝোতা হলে তার প্রতিবাদ করে এবং আলোচ্য বিচার স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন করার দাবি জানায়, তাহলে সে দাবি কে না সমর্থন করবে? কিন্তু যদি এ প্রজন্মকে ব্যবহার করে কোন বিশেষ রাজনৈতিক দল লাভলোকসানের অংক কষে, তাদের রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চায়, তাহলে হিতে বিপরীত হতে পারে। সাধারণ মানুষকে খুব বেশি আন্ডারইস্টিমেট করা ঠিক হবে না। জনগণ সবকিছু গভীরভাবে লক্ষ্য করছেন। নির্বাচন নিকটবর্তী হওয়া সত্ত্বেও সরকার যদি সে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকেন্দ্রিক সংকটের বিষয়টি ফয়সালা করতে গড়িমসি করে পরোক্ষভাবে নতুন প্রজন্মের আন্দোলনকে দীর্ঘায়িত করতে প্রভাব খাটায়, তাহলে সাধারণ মানুষ সরকারের মতলব ও উদ্দেশ্য বুঝতে পারবেন।

আশিকুর রহমান, কুমিল্লা

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র ৯১০ মাস আগে যখন সব রাজনৈতিক দলের নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটানোর কথা, শুরু করার কথা প্রার্থী নির্বাচন, ভোট প্রার্থনা, নিবাচনী প্রচারপ্রচারণার এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়েও কোন্ পদ্ধতিতে নির্বাচন হবে, সে বিষয়টির চূড়ান্ত ফয়সালা না হওয়ায়, দেশে কোন নির্বাচনী আমেজ সৃষ্টি করা সম্ভব হয়নি। সঠিক সময়ে নির্বাচন হতে পারবে কিনা, তা নিয়েও সাধারণ মানুষের মধ্যে রয়েছে অনিশ্চয়তা। কেবল সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে নির্দলীয় সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচনের দাবি মেনে নিয়ে সরকারই এ অনিশ্চয়তা ও নিশ্চিত সংঘর্ষের পথ থেকে দেশকে বাঁচিয়ে একটি স্থিতিশীল পরিবেশ ও নির্বাচনী আমেজ সৃষ্টি করতে পারে। এজন্য শান্তিপ্রিয় জনগণ সরকারের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন। জনগণ সহিংসতা ও সংঘাত চান না। তারা চান স্থিতিশীল পরিবেশে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নতুন সরকার গঠিত হোক। ক্ষমতার নিয়মতান্ত্রিক রদবদলে জনগণ কোন রকম ছন্দপতন দেখতে চান না, শুনতে চান না কোন রকম ভয়াবহ বিপদ সংকেত।

মহিউদ্দিন আহমেদ, চট্টগ্রাম

জামায়াতশিবিরের মারমুখো লড়াই ও পুলিশের কঠোর দমননীতির কারণে সৃষ্ট সহিংসতার জের ধরে শুধু চট্টগ্রাম নয়গোটা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়েছে। সাঈদীর রায় ঘোষণার পর দুদিনে ৬ পুুলিশসহ মারা গেছে প্রায় অর্ধশত। দেশের রাজনৈতিক সংঘাতের ইতিহাসে এতো বেশিসংখ্যক হতাহত হওয়ার ঘটনা ঘটেনি। হতাহতদের মধ্যে আছে পুলিশ, শিশু, বৃদ্ধ, গৃহবধূ, কমবয়সী ছাত্র, নিরীহ পথচারী। দক্ষিণ চট্টগ্রামে র‌্যাবপুলিশের পাশাপাশি বিজিবিও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খাচ্ছে। ভাংচুরঅগ্নিসংযোগ,আগুন, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা, প্রাণহানীর ঘটনা ঘটে। যেসব এলাকায় ১৪৪ ধারা নেই, সেখানেও বিরাজ করছে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি। এখন এই সহিংসতা থেকে পরিত্রাণ মিলবে কবে এটাই আমাদের প্রশ্ন।

গিয়াস মাহমুদ সিহাব, বগুড়া

গত কয়েকদিনের সহিংসতা জনগণের জানমাল, নিরাপত্তা ছাড়াও বিরূপ প্রভাব ফেলেছে দেশের অর্থনীতিতে। ঘন ঘন হরতাল কর্মসূচি মাঝারি ও ছোট পোশাক প্রতিষ্ঠানগুলোকে রুগ্ন হওয়ার ঝুঁকির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে তৈরি পোশাক শিল্পে। আশংকার বিষয় হচ্ছে যে, সময়মতো পণ্য রফতানি করতে না পারলে ক্রয়াদেশ বাতিলের হুমকি দেয়া শুরু করছেন বিদেশি ক্রেতারা, যা এ শিল্পের জন্য একটি অশনিসংকেত। ইউরোপীয় ইউনিয়নে দ্বিতীয় দফায় মন্দা ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভঙ্গুর অর্থনীতি, স্থানীয় পর্যায়ে অবকাঠামোগত সমস্যা, বিদ্যুত্ ও গ্যাস সংকট, শিল্পে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক বাজারে রফতানি পণ্যের মূল্য হ্রাস, সেইসঙ্গে দেশে ডলারের বিনিময়মূল্য হ্রাস, জিএসপি প্রত্যাহারের উদ্যোগসহ নানা আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে বর্তমানে এমনিতে নাজুক পরিস্থিতিতে রয়েছে তৈরি পোশাক খাত। এতসব প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে এ খাতের উদ্যোক্তারা তারপরও নিরন্তর সংগ্রাম করছেন। বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পকে আরও শক্তিশালী করার জন্য। এমন সময়ে হরতাল ও সহিসংতা পোশাক খাতকে আরও পিছিয়ে দিচ্ছে।

শাহেদ শরীফ রায়হান, নিউমার্কেট, খুলনা

প্রকৃতপক্ষে গত দুই মাসে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় মনে হচ্ছে, দেশে এখন বল প্রয়োগের রাজনীতি চলছে। জামায়াতশিবির যেমন আইনশৃঙ্খলাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সহিংস আন্দোলনে মেতে উঠেছে; তেমনি রাষ্ট্র ও প্রশাসন সংকট নিরসনে শান্তিপূর্ণ পথ এড়িয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করে জোরপূর্বক আন্দোলন দমন করতে চাইছে, যা প্রকারান্তরে সহিংসতার বিস্তৃতি ঘটাচ্ছে, ছড়িয়ে দিচ্ছে দেশের সর্বত্র। বলপ্রয়োগ নীতির কারণে সৃষ্ট সংঘাতসংঘর্ষের কারণে যে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা গণতান্ত্রিক, উন্নত ও সভ্য সমাজে কল্পনাতীত। নজীরবিহীন সহিংসতা অব্যাহত থাকলে, তা শেষ পর্যন্ত জামায়াতের গৃহযুদ্ধের হুমকিবাস্তবায়নের কাজটি বহুলাংশে এগিয়ে দেবে, দেশের পরিস্থিতিও নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়বে; এবং এর পরিণতিতে অগণতান্ত্রিক কোনো শক্তির আবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় জগদ্দল পাথরের মতো জেঁকে বসার পরিস্থিতি তৈরি করবে বলে অনেকের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। অনুগ্রহ করে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের দিকে নজর দেবেন।

মো. হাবিবুর রহমান, ফার্মগেট, ঢাকা

টানা হরতালে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে আমাদের জীবনযাত্রা। হরতালে রাজধানীর সঙ্গে গোটা দেশের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় একদিকে যেমন বেড়ে যায় নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের মূল্যসহ জীবনযাত্রার ব্যয় অন্যদিকে ভোগান্তি বাড়ে পদে পদে। ফলে সপ্তাহজুড়ে মানুষকে কাটাতে হয়েছে অনিশ্চয়তার মধ্যে। রাজধানীর কারওয়ানবাজার, ফকিরাপুল, সেগুনবাগিচা, মালিবাগ, মোহাম্মদপুর ও তেজগাঁও বাজার ঘুরে দেখা গেছে প্রতিটি সবজির দাম কেজিতে পাঁচ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। বেড়েছে মাছ ও মাংসের দাম। বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ কম হওয়ার কারণে এসব পণ্যের দাম বেড়েছে। চালের দাম আগে থেকেই বেড়েছে কেজি প্রতি ৫ থেকে ৮ টাকা পর্যন্ত। এতে সীমিত আয়ের সাধারণ মানুষ পড়েছে সংকটে। হরতালে সব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে গেছে। রাজধানীর উচ্চ ও মধ্যবিত্ত মানুষ সামলে নিলেও সমস্যায় পড়েছে নিম্ন মধ্যবিত্ত ও দিন এনে দিন খাওয়া মানুষ। দিনের আয় দিয়ে চলা আমাদের পক্ষে মুশকিল হয়ে পড়েছে।

প্রবীর কুমার সরকার, সাতক্ষীরা

বর্তমান পরিস্থিতিতে জনগণ চরম উদ্বেগ ও আতঙ্কে ভুগছেন। আন্তর্জাতিক প্রচারমাধ্যমে সহিংস রাজনৈতিক পরিস্থিতির খবর ফলাও করে প্রচারিত হচ্ছে। উদার গণতান্ত্রিক ও শান্তিময় দেশ হিসেবে বহির্বিশ্বে প্রশংসিত বাংলাদেশের জন্য এটা নিঃসন্দেহে দুঃখজনক। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা নিয়ে পাল্টাপাল্টি দোষারোপের খেলা শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতিকে কোথায় নিয়ে যাবে, এটা সরকার ও বিরোধীদলউভয়কে ভেবে দেখতে হবে। রাজনৈতিক মতভেদজনিত সংঘাতসহিংসতার কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াও বিচিত্র নয়। চলমান সংঘাতসহিংসতাতেও তা লক্ষ্যণীয় হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক সংঘাতসহিংসতা শেষ পর্যন্ত জনগণের হাতে চলে গেলে বরাবর লক্ষ্য করা গেছে, পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ আর রাজনীতির হাতে থাকে না। বর্তমান পরিস্থিতির উন্নয়নের জন্যই সংঘাতসহিংস প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। সরকারকে অবিলম্বে রাজনৈতিক সমস্যার দিকে মনোযোগ দিতে হবে। নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে সৃষ্ট মতভেদ দূর করতে হবে। সেইসঙ্গে রাজনৈতিক ইস্যুর সংখ্যাও কমিয়ে আনতে হবে। মনে রাখতে হবে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষার লক্ষ্যে আন্তরিক ও কার্যকর উদ্যোগের বিকল্প নেই। বিরোধীদলকেও যথেষ্ট ধৈর্য ও সহনশীলতার পরিচয় দিতে হবে। গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে ধৈর্য, সহনশীলতা ও যুক্তিতর্ককে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। অর্থনীতিকে রাজনৈতিক কর্মসূচীর বিরূপ প্রভাব থেকে মুক্ত রাখতে হবে। জনভোগান্তি পরিহার করে রাজনীতিকে জনকল্যাণমুখী করতে হবে।

রিপন বিশ্বাস, সায়েদাবাদ, ঢাকা

সহিংস রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে দেশের অর্থনীতি এক চূড়ান্ত বিপর্যয়ের দিকে যাচ্ছে।, হরতাল ও রাজনৈতিক সহিংসতায় দেশে যে সংঘাত ও সংঘর্ষের রাজনৈতিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, ব্যাহত হচ্ছে ব্যাপক শিল্পায়নের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থানের উদ্যোগ। বহির্বিশ্বে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এর প্রভাবে দেশিবিদেশি বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হচ্ছে। জাতীয় প্রবৃদ্ধি ও জনগণের আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এফবিসিসিআই বলছে, বিগত কয়েকটি মাস রাজনৈতিক সহিংসতা ও ঘন ঘন হরতাল কর্মসূচিতে দেশের ব্যবসায়ী সমাজ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা এবং দেশের উন্নয়নের স্বার্থে এ ধরণের সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা প্রতিরোধে সরকারকে কঠোর হাতে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। হরতাল এবং রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় পবিত্র স্থান এবং যানবাহনে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের মতো ঘটনার মধ্যে দিয়ে দেশ গভীর সংকটের দিকে ধাবিত হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে রেললাইন উঠিয়ে ফেলা এবং পণ্যবাহী পরিবহনে অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে। আমদানিরপ্তানি কার্যক্রমসহ দেশের সার্বিক ব্যবসাবাণিজ্য ও সারা দেশে পণ্য সরবরাহে ব্যাঘাত সৃষ্টি করেছে। বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে হামলার ফলে আর্থিক ব্যবস্থাপনা হুমকির মুখে পড়েছে। সহিংস এবং সাংঘর্ষিক রাজনীতি ব্যবসাবাণিজ্য ও দেশের উন্নয়নকে ব্যাপক হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে এবং বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে।।