Home » রাজনীতি » সংলাপের প্রস্তাব শাসকদলের রাজনৈতিক ‘স্টান্টবাজি’

সংলাপের প্রস্তাব শাসকদলের রাজনৈতিক ‘স্টান্টবাজি’

শাহাদত হোসেন বাচ্চু

Paltan_Clash-1-এখন বাংলাদেশ নামক এই উপদ্রুত ভূখন্ডে অব্যাহত রক্তপাতহত্যাখুন এবং ধ্বংসলীলার মধ্যে গত কয়েকদিন ধরে বেশ জোরেশোরে রাজনৈতিক সংলাপের কথা উচ্চারিত হচ্ছে। দেশের সবচেয়ে সুবিধাভোগী ব্যবসায়ী মহলের সংগঠন এফবিসিসিআই, সুশীল সমাজ, টিভি চ্যানেলগুলোর টক শোতে আগত বিদগ্ধজনেরা সংলাপসংলাপ প্রয়োজন বলে অবিরাম জিগীর তুলে চলেছেন। বিদেশী কুটনীতিবিদরাও দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের মধ্যে সংলাপ অনুষ্ঠান অপরিহার্য বলে মনে করছেন।

গত ৭ মার্চ শাসক দল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সাংবাদিকদের কাছে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনার কথা বলেছেন। সাংবাদিকদের কাছে তিনি বলেন, ‘সংকট নিরসনে যে কোন স্থানে বিরোধী দলের সাথে আলোচনায় বসতে তাঁরা প্রস্তুত। আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দল। তাই যে কোন বিষয়ে, যে কোন স্থানে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা হতে পারে।’ বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টিও (সিপিবি) দুই দলকে আলোচনায় বসতে আহবান জানিয়েছে। মহাজোটের শরীক দল ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সংসদ সদস্য বাশেদ খান মেনন গত ৯ মার্চ পল্লবীতে অনুষ্ঠিত ১৪ দলের জনসভায় সংলাপের আহবান জানিয়েছেন। তার মতে, সংলাপ হবে শর্তমুক্ত এবং তিনি বিএনপিকে নি:শর্ত আলোচনায় বসার আহবান জানান।

অব্যাহত সহিংস রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সৈয়দ আশরাফের আহবান শাসকদলের অবস্থান পরিবর্তন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করলেও, যতক্ষণ পর্যন্ত না এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কার্যকর কোন উদ্যোগ গ্রহন করা হচ্ছে, সে পর্যন্ত অন্তত: এটি আর দশটা ‘চটকদার’ বক্তব্যর মতো মনে হতে বাধ্য। কারণ, আওয়ামী লীগ এর আগে যে কোন বিষয়ে জাতীয় সংসদে এসে আলোচনার লোক দেখানো আহবান জানিয়ে আসছিলো। সেই অর্থে ওই দলের সাধারণ সম্পাদকের এই আহবান অবস্থানের পরিবর্তন ধরে নিয়ে, কিছুটা হলেও এই বক্তব্য আলোচিত হচ্ছে।

প্রশ্ন হচ্ছে, রাজনৈতিক সংলাপ অনুষ্ঠানের ব্যাপারে আওয়ামী লীগ কতোটা আন্তরিক এবং প্রস্তত। মানবতা বিরোধী বিচার নিয়ে সৃষ্ট সাম্প্রতিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনের বছরে নিজেদের শোচনীয় ব্যর্থতা, লুটপাট, গণবিরোধী কর্মকাণ্ডকে সাময়িকভাবে আড়াল করে রাজনৈতিক অবস্থান কিছুটা হলেও তারা সুসংহত করতে সক্ষম হয়েছে। এ অবস্থায় বিরোধী দলের সঙ্গে সংলাপের কথা বলা শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। তবে মুখে বললেও বাস্তবে এ ব্যাপারে দলটির কোন উদ্যোগ আছে বলে জানা যায়নি।

খোঁজখবর নিয়ে জানা যাচ্ছে, এখন পর্যন্ত দু’দলের উচ্চ পর্যায়ে সরাসরি কোন যোগাযোগ স্থাপিত হয়নি। তবে বিভিন্ন মাধ্যমে অথবা দুতাবাসসমূহের আমন্ত্রনে উপস্থিত উভয় দলের নেতারা এ বিষয়ে টুকটাক আলোচনা করছেন, যেটিকে কোন অবস্থায়ই কার্যকর কোন উদ্যোগ বলা যায় না। জানা গেছে, সৈয়দ আশরাফের আলোচনার প্রস্তাব বিএনপি এখনও বিবেচনায় নেয়নি। যেদিন এ প্রস্তাব দেয়া হয় ঐ রাতে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এমনকি এ বিষয়টি উত্থাপিতও হয়নি। বরং বিএনপি মনে করছে, চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে সংলাপের কথা বলাটা সরকারের আরেকটি রাজনৈতিক কৌশল। বাস্তব পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য দেশীবিদেশী মহলকে আশ্বস্ত করার জন্য এ কৌশল নেয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচার শুরু হওয়ার পরে জামায়াতের লাশের রাজনীতি ঠেকানোর জন্য সরকারের যে কৌশল নেয়ার দরকার ছিলো, তার বদলে ‘যুদ্ধংদেহী’ মনোভাব নিয়ে মোকাবেলা করতে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার। প্রশ্ন হচ্ছে, আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং জামায়াত যে যা করতে চাইছে তাই কি ঘটবে? নাকি দৃশ্যপটের অন্তরালে ঘুড়ির লাটাই হাতে অদৃশ্য কুশীলবদের কেউ খেলছে।

জামায়াতের বর্তমান লড়াইটি বাঁচা মরার। পুলিশের নির্বিচার গুলি এবং দমনকেই প্রতিরোধের কৌশল হিসেবে নিয়ে পরিস্থিতি উতরাতে চাইছে। ধর্মকে ব্যবহার করে সারাদেশে সহিংসতা ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। বিএনপি সরকার বিরোধী আন্দোলনের জন্য এ সুযোগটি কাজে লাগাতে চাইছে। কারণ, বিএনপি জানে, সরকার এ পরিস্থিতি মোকাবেলা করে স্বাভাবিক শক্তিকে ফিরতে পারে,তাহলে তারাই হবে প্রধান টার্গেট। আওয়ামী লীগও এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে আগামী নির্বাচনী বৈতরনী পার হওয়ার জন্য নানা রকম ‘ক্যামোফ্লেজ’ তৈরী করছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ক্ষেত্র প্রস্তুত না করে, সুনির্দিষ্ট বিষয়ে মতৈক্য তৈরী না করে হুটহাট করে সংলাপের প্রস্তাব রাজনৈতিক ‘স্টান্টবাজি’ ছাড়া আর বিছুই নয়। তাদের মতে, বিএনপি’র সহায়তায় জামায়াত শিবিরের সাম্প্রতিক তান্ডবে আওয়ামী লীগ সরকার ছিলো অনেকটা অসহায়। নির্বাচনকে সামনে রেখে এরকম পরিস্থিতিতে দলের নীতিনির্ধারকরা রয়েছেন বিব্রতকর অবস্থায়। এ অবস্থায় রাজনৈতিক সংলাপ অনুষ্ঠান করতে হলে সরকারকেই উদ্যোগ নিতে হবে।

রাজনৈতিক সংলাপের কথা উঠলেই দুটি ঐতিহাসিক এবং চরমভাবে ব্যর্থ সংলাপের কথা গোটা বাঙালী জাতি খুব সহজেই মনে করতে পারেন। এই দুটি সংলাপের ব্যর্থতা, সংলাপের ভান কিংবা আড়ালে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টিএ সবই এখন শুধুই ইতিহাস।

এক. ১৯৭১ সালের মার্চের মাঝামাঝি তৎকালীন পাকিস্তান সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খান এবং জাতীয় পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা শেখ মুজিবর রহমানের মধ্যে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক সংলাপ পাঠক মাত্রই মনে করতে পারবেন। সংলাপ চলাকালীন সময় এরসাথে যুক্ত হয়েছিলেন পাকিস্তান পিপলস্ পার্টি প্রধান জুলফিকার আলী ভূট্টো। সম্ভবত: শেখ মুজিব, ইয়াহিয়া, ভুট্টো এবং সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকই জানতেন এই ব্যর্থ রাজনৈতিক সংলাপের আসন্ন পরিনতি! কারণ তারা একটি মীমাংসিত বিষয়ে সে সময়ে আলোচনা চালাচ্ছিলেন। ১৯৭০ এর জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরিত হবে স্বাভাবিক নিয়মেএই নিয়ে রাজনৈতিক সংলাপ বা আলোচনার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে জনগণ ছিলো চরম ধোঁয়াশার মাঝে।

এই সংলাপে প্রতিদিনের ‘সাফল্য’ তখন এভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, আলোচনায় অগ্রগতি হচ্ছে, শীগগীরই সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হবে, ইত্যাদি। কি অগ্রগতি হচ্ছে, কি সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হবে, তা জনগণের আর কখনোই জানা হয়নি। বরং ২৫ মার্চ রাতে এই ব্যর্থ সংলাপের পরিনতিতে গোটা বাঙ্গালী জাতি পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর বর্বরতম আক্রমনের শিকারে পরিনত হয়।

দুই. আরেকটি ঐতিহাসিক ব্যর্থ সংলাপের কথা এখানে উল্লেখ করা প্রাসঙ্গিক। সেটি অনুষ্ঠিত হয়েছিলো ২০০৭ সালে তখনকার শাসকদল বিএনপি এবং প্রধান বিরোধী দল আওয়ামী লীগের মধ্যে। বিএনপি’র মহাসচিব প্রয়াত: আব্দুল মান্নান ভুঁইয়া এবং সদ্য প্রয়াত: আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল সংলাপে বসেছিলেন। সে সময়ে টেলিভিশনে প্রচারিত লাইভ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গোটা জাতি সে সংলাপ প্রত্যক্ষ করেছিলো। দুই নেতাই সে সময়ে প্রতিদিন সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের জানাতেন, আলোচনায় অগ্রগতি হচ্ছে, সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হবে। কিন্তু দুই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের চরম একগুঁয়েমীর কারণে সাধারণ সম্পাদক পর্যায়ে এই সংলাপ কিভাবে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছিলো সে ইতিহাস সকলেরই জানা। এর পরিনতিতে একএগারোর ভয়াবহ পরিনতি গোটা জাতিকে অদৃশ্য সামরিক শাসনের নিগঢ়ে আবদ্ধ করে ফেলে এবং গণতন্ত্র আপাত: নির্বাসনে চলে যায়।

উল্লেখিত দুটি ঐতিহাসিক রাজনেতিক সংলাপের ব্যর্থতা জাতিকে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে নিয়ে গিয়েছিলো। একটির অবশ্যম্ভাবী ব্যর্থতা গোটা বাঙালী জাতিকে বর্বরোচিত আক্রমনের শিকারে পরিনত করেছিলো, অপরটি সামরিক শাসনের যাতাকলে নিষ্পিষ্ট করে তুলেছিলো। সে কারণে সংলাপের আহবান কিংবা এই নিয়ে রাজনেতিক দল, সুশীল সমাজ, ব্যবসায়ীসহ কুটনৈতিক মহলের মাতামাতি জনগণকে ভবিষ্যত নিয়ে চরমভাবে আশংকিত করে তুলছে এটা ভেবে যে, উদ্দেশ্যবিহীন সংলাপের পরিনতি কি হতে পারে?

গণতান্ত্রিক যে কোন রাষ্ট্রে বা সমাজে যে কোন সংকট মোকাবিলায় সংলাপআলোচনা অত্যন্ত অপরিহার্য। তবে এর পূর্বশর্ত হচ্ছে এই যে, ঐ রাষ্ট্র বা সমাজে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির চর্চা থাকতে হবে, পরমত সহিষ্ণু হতে হবে, সর্বোপরি যুক্তিগ্রাহ্য মতামত মেনে নেয়ার মানসিকতা থাকতে হবে। পাশাপাশি সত্যিকার অর্থে সুশীল সমাজের একটি চাপ থাকতে হবে। বাংলাদেশের পরিপেক্ষিতে এর কোন শর্ত উপস্থিত আছে বলে কেউ দাবী করতে পারবেন?

তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে দেয়ার পরে এই ব্যবস্থা আর কখনও ফিরিয়ে আনা যাবে না এবং নির্বাচিত প্রধান মন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত অন্তবর্তীকালীন সরকারের নেতৃত্বে আগামী নির্বাচন হবেএ বিষয়ে আওয়ামী লীগ আপোষহীন। অন্যদিকে, বিএনপি আপোষহীন এই বিষয়ে যে, তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকার করলে কেবল সংলাপআলোচনা অনুষ্ঠিত হতে পারে। এই অবস্থায় সুশীল সমাজসহ অন্যরা কি ইস্যুতে দুদলকে আলোচনার টেবিলে বসাবেন, সংলাপের এজেন্ডা কি কি হবে, সে বিষয়টি জাতির কাছে পরিষ্কার না করলে, আবারো যে ঘোর অমানিশার অন্ধকার যে নেমে আসবে না এ গ্যারান্টি কে দেবে?

সাকা চৌধুরীকে এখানে উদ্বৃত করতে হচ্ছে, উপায় নেই, একটি সত্য সে উচ্চারন করে বসেছিলো এভাবেই যে, কুকুর এখন লেজ নাড়ছে নালেজ কুকুরকে নাড়াচ্ছে। সে সময়ে দলীয় নেত্রীর প্রতি চরম ক্ষোভ বশত: তার এ উচ্চারন বিএনপি’র রাজনীতিতে এখন খুবই প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। গত কয়েক মাস ধরে দেশের রাজনীতির সকল সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে জামায়াত ইসলামীর অন্ধ অনুকরণ ও অনুসরন এ উক্তিটিকে আরো বেশি প্রাসঙ্গিক করে তুলেছে।

ফলে জনগণের যে সব স্বার্থ এবং চাহিদা বর্তমান শাসক দল অবলীলায় পদদলিত করে চলেছে, সে বিষয়ে জনগণের পক্ষে যৌক্তিক অবস্থান না নিয়ে ‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ঠেকানো’এই গণবিরোধী চরিত্রে অবতীর্ণ হওয়ার কারণে বিরোধী দল হিসেবে বিএনপি’র ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ছে।

জামায়াতের প্রতি অন্ধ আনুগত্যের কারণে তরুণ প্রজন্মের যুদ্ধপরাধ বিরোধী আন্দোলনে অন্তর্গত চাহিদাটি বিএনপি অনুধাবন করতে সক্ষম হয়নি। ফলে দ্বিধান্বিত দলটি একসময়ে এই আন্দোলনকে সরকারী দলের ইচ্ছার সঙ্গে একাকার করে ফেলে গণমানুষের মধ্যে যে ঐক্য এবং গণজোয়ারের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিলো, সেই যাত্রায় বিএনপি সামিল হতে পারলো না। আগামী ইতিহাসে এর দায়ভার প্রধান বিরোধী দল হিসেবে বিএনপি কখনই কি এড়াতে পারবে?

শাসক দল আওয়ামী লীগ এই সুযোগটি পুরোপুরি গ্রহন করেছে এবং জামায়াতের মতো ধর্মভিত্তিক একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বিএনপিকে একাকার করে ফেলে দেশের সর্বগ্রাসী সংকটের ভিন্ন চেহারাটি আড়ালে নিয়ে যেতে চাইছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ মুহুর্তে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের বিষয়টি সংকটের মূলে হলেও আগামীতে গণজাগরন মঞ্চের আন্দোলন আপাত: চাপা পড়া সেই সর্বগ্রাসী সংকটগুলিকে সামনে নিয়ে আসবে না সেটি ভাবার কোন কারণ নেই। সুতরাং আওয়ামী লীগ নির্বাচনের বছরে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিষয়টি দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচনী ইস্যু বানাতে পারে বলে বিশ্লেষকরা ইতিমধ্যেই ধারনা দিয়েছেন।

জরুরী প্রশ্নটি হচ্ছে, এভাবে কি মূল সংকটগুলোকে পাশ কাটানো যাবে নাকি দেশ আবারও গভীর সংকটে পড়বে? এটা নির্ভর করছে রাজনীতিবিদরা কতোটা সুস্থিরতার সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পারেন, তার ওপর। এটা পরিষ্কার যে, যদি আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে বড় দুই দল সংলাপে বসেন তবে প্রানহানি বা রক্তক্ষয় কমবে। না হলে, রক্তক্ষয় বা প্রানহানি বাড়বে যা আন্তর্জাতিক মুরুব্বীদের সুবিধা করে দেবে, দেশের অভ্যন্তরীন রাজনীতিতে। পরিস্থিতি দ্রুতই রাজনীতিবিদদের হাতছাড়া হয়ে যাবে। যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারতের স্বার্থ ও রাজনৈতিক সমীকরণ বিবেচনায় নিলে বোঝা যাবে বাংলাদেশকে তারা কখনই সুস্থির একটি রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চায় না। পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে তারা এমন এক সরকার ব্যবস্থা চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করবে, যা বর্তমান সংঘাতকে থামিয়ে দিয়ে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনবে বটে, প্রচলিত রাজনীতিকে পাঠিয়ে দেবে নির্বাসনে।

শাহবাগের সমাবেশ থেকে প্রথম দিন যে দাবী উঠেছিলো, সেই পরিবর্তনের প্রভাব বাংলাদেশের রাজনীতিতে সত্যি সত্যিই কি দেখা দেবে? প্রচলিত রাজনীতিকে বদলে দেবে? সবরকম হিসেবে এ দেশ এখন ক্রান্তিকালে দাড়িয়ে। বিভক্ত, রক্তাক্ত, প্রতিশোধজিঘাংসার রাজনীতি ফিরে আসতে চাইছে প্রবলভাবে। এর বিপরীতে ১৬ কোটি মানুষ চাইছে এক নতুন রাজনীতি। হরতালঅবরোধখুনঅগ্নিসংযোগের বিপরীতে সুস্থ ধারার রাজনীতি। যা ছিলো বাংলাদেশের মানুষের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মূল সুর। এই দুই প্রান্তিক সম্ভাবনার সুতোর ওপরে দাড়িয়ে আছে বাংলাদেশের রাজনীতি। সে জন্য নির্বাচনের এ বছরটি শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়ার জন্য অগ্নিপরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার বছর। এ বছরই মীমাংসা হয়ে যাবে তাঁরা আদৌ গণতন্ত্র রক্ষা করতে চান নাকি নির্বাসনে পাঠাতে চান।।