Home » অর্থনীতি » সেতু আমাদের কর্তৃত্ব মালয়েশিয়ার

সেতু আমাদের কর্তৃত্ব মালয়েশিয়ার

আমাদের বুধবার প্রতিবেদন

bridge-1-নিজস্ব অর্থায়নেই পদ্মা সেতু হবেসংসদে অর্থমন্ত্রীর এমন ঘোষণার পরও মালয়েশিয়া থেকে উচ্চ সুদে কঠিন শর্তে ঋণ নেয়ার তোড়জোড় চলছে। অর্থমন্ত্রণালয়কে পাশ কাটিয়ে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অর্থমন্ত্রী মালয়েশিয়ার প্রস্তাবটি গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানালেও সেটি আমলে নেয়া হয়েছে বলে মনে হচ্ছে না। অর্থমন্ত্রী অর্থায়নের একটি দিকনিদের্শনাও তুলে ধরেন সম্প্রতি। তিনি বলেন, পদ্মা সেতু প্রকল্পের জন্য কিছু কাজ আমরা সম্পন্ন করেছি। অবশিষ্ট কাজ সেতু নির্মাণের ঠিকাদার নিয়োগ, পর্যবেক্ষণ পরামর্শক নিয়োগ, নদীশাসনের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ, সার্ভিস এরিয়া প্রস্তুতির জন্য ঠিকাদার নিয়োগ এবং জাজিরা ও মাওয়ার জন্য অ্যাপ্রোচ রোড নির্মাণ শিগগিরই শুরু হবে। এসব কাজে মোট তিন হাজার ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, অর্থাৎ ২৪ হাজার ৩৯৪ কোটি টাকা লাগবে এবং এই ব্যয়ের জন্য আমাদের অর্থ সাশ্রয় এখন থেকে চার বছরের মধ্যে করতে হবে। তিনি বলেন, আমরা এই প্রকল্পটি আমাদের নিজস্ব ব্যয়ে সম্পন্ন করতে চাই। এ জন্য নিজস্ব সম্পদ থেকে এক হাজার ৮০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমমানের বৈদেশিক মুদ্রা সরবরাহ করতে হবে। পরবর্তী তিন বছরের জন্য পদ্মা সেতুর যে প্রাক্কলিত বাজেট আছে, তা ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হবে। এ বিষয়ে অর্থ বিভাগ মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামোয় আগামী বছরগুলোর ব্যয়ের যে হিসাব দিয়েছে, তা পরিবর্তন করার উদ্যোগ এরই মধ্যে নেয়া হয়েছে।”

এরই মধ্যে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত সামি ভেলু গত শুক্রবার সংবাদ সম্মেলন করে পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থায়নের বিষয়ে তাঁদের সর্বশেষ অবস্থান এবং সরকারের সঙ্গে তাঁদের আলোচনার বিষয় তুলে ধরেন ১৫ মার্চ। কার্যবিবরণী অনুযায়ী, ২৬ বছরে সেতু থেকে আয় ধরা হয়েছে ৮৩০ কোটি ডলার। এই আয় থেকে ৯১ কোটি ডলার ব্যয় হবে বিভিন্ন কর ও সেতু রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ। বাকি ৭৩৯ কোটি ডলারের ৩০ শতাংশ বাংলাদেশ এবং ৭০ শতাংশ পাবে মালয়েশিয়া। অর্থাৎ মালয়েশিয়া পাচ্ছে ৫২০ কোটি এবং বাংলাদেশের ২১৯ কোটি ডলার। বাংলাদেশ অর্থ পাওয়া শুরু করবে নির্মাণ শেষ হওয়ার পাঁচ বছর পর। প্রথম পাঁচ বছর টোলের পুরোটাই চলে যাবে মালয়েশিয়ার ভাগে। মালয়েশিয়া ২৩০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে, সে দেশের এক্সিম ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে। ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধ করা হবে প্রথম পাঁচ বছরে।

আবার, আয়ের যে প্রাথমিক হিসাব করা হয়েছে, সেই পরিমাণ আয় না হলে বাংলাদেশ সরকারকে ভর্তুকি দিয়ে তা পূরণ করতে হবে। টোলের হার নির্ধারণ করবে বাংলাদেশ সরকার। আগের চুক্তি অনুযায়ী বিশ্বব্যাংকসহ দাতাদের অর্থে সেতু নির্মিত হলে সুদ বা সার্ভিস চার্জ বাবদ বাংলাদেশকে পরিশোধ করতে হতো মাত্র আড়াইশ’ কোটি টাকার সমপরিমাণ তিন থেকে সোয়া তিন কোটি মার্কিন ডলার। সেতু থাকত বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে। টোল হার থাকত সহনীয়। এছাড়া মালয়েশিয়ার প্রস্তাবে রাজি হলে, সেতু নির্মাণের মূল ঠিকাদার নিয়োগের কর্তৃত্বও থাকবে মালয়েশিয়ার হাতে; বাংলাদেশের কোনো মতামত গ্রাহ্য হবে না। দুর্নীতির কারণে বিশ্বব্যাংকসহ দাতাদের সঙ্গে চুক্তি বাতিল হওয়ায় এখন দেশকে কমপক্ষে ৪১ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ ৫২০ কোটি ডলার গচ্চা দিতে হবে। মালয়েশিয়ার টার্গেট পূরণ না হলে বাংলাদেশ সরকারকে যে ভর্তুকি দিতে হবে, তা তিনি গোপন করেছেন। সেতুর টোল এখন নির্ধারণ না করার ক্ষেত্রেও রয়েছে চাতুর্য। সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সময় জানানো হয়েছিল, মালয়েশিয়ার ৫টি কোম্পানির সমন্বয়ে গঠিত কনসোর্টিয়াম পদ্মা সেতুর ঠিকাদারি কাজ করবে।

প্রসঙ্গত, পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের ফিরে আসার ঘোষণায় মালয়েশিয়ার সঙ্গে অর্থায়ণ নিয়ে আলোচনা প্রায় চার মাস বন্ধ রেখেছিল সরকার। জানা গেছে, বিল্ড অপারেট ওন অ্যান্ড ট্রান্সফার (বিওওটি) পদ্ধতিতে পদ্মা সেতু নির্মাণে আগ্রহী মালয়েশিয়া। এরই অংশ হিসেবে গত ১০ এপ্রিল বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের পর ২৮ এপ্রিল প্রথম দফা, ২৮ মে দ্বিতীয় দফা, ৫ আগস্ট তৃতীয় দফা প্রাথমিক প্রস্তাব দেয় দেশটি। পরবর্তীতে, ২৭ আগস্ট চূড়ান্ত প্রস্তাব দেয়া হয়। তাদের প্রস্তাবে সেতু নির্মাণে ৩২ মাস সময় লাগবে বলে জানায় মালয়েশিয়া। ২৭ আগস্টের মালয়েশিয়া প্রস্তাবে বেশ কিছু কঠিন শর্ত থাকায়, এ নিয়ে সে সময় হতাশা প্রকাশ করে যোগাযোগ মন্ত্রাণালয়। এর মধ্যে ছিল, পদ্মা সেতু ব্যবহার করা যানবাহনের টোলের হার নির্ধারণ করবে মালয়েশিয়া। এতে বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধিকে রাখা যাবে না। ৩৫ বছর টোল আদায় করবে দেশটি। এ সময় সেতুর মালিকানাও থাকবে মালয়েশিয়ার হাতে। এ ছাড়া বিনিয়োগকৃত অর্থের জন্য ৬ শতাংশ হারে চক্রবৃদ্ধি সুদ দিতে হবে। কোনো বছর টোল বাবদ আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলে তা বাংলাদেশ সরকারকে পূরণ করতে হবে। আর নদী পারাপারের ক্ষেত্রে সেতুর ৪০ কিলোমিটারের মধ্যে বিকল্প ব্যবস্থা রাখা যাবে না। সেতু বিভাগের তথ্যমতে, পদ্মা সেতু ব্যবহারের ক্ষেত্রে ট্রাকপ্রতি ২২ ডলার (১ হাজার ৮০০ টাকা), যাত্রীবাহী বাসে ১৮ ডলার, প্রাইভেট কারে ৯ ও মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে ৩ ডলার করে টোল আরোপের প্রস্তাব দেয় মালয়েশিয়া। যান চলাচল শুরুর প্রথম দিন থেকেই এ হার কার্যকর করার শর্ত দেয়া হয়। আর জাপান ইন্টারন্যাশানাল কোঅপারেশন এজেন্সির (জাইকা) সমীক্ষা অনুযায়ী যানবাহনের সংখ্যা না বাড়লে আয় ঠিক রাখতে প্রতি বছরই টোলের হার পুনঃনির্ধারণ করা হবে। তারপরও টোল বাবদ আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলে সরকারকে বাকি অর্থ পরিশোধ করতে হবে। প্রস্তাবে বলা হয়, সেতু পরিচালনাকালীন ৩৫ বছর মালয়েশিয়া নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় টোল আদায় করবে। এ সময় বাংলাদেশ সরকার বা তৃতীয় কোনো সংস্থা কর্তৃক টোল আদায় বা সেতু সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে কোনো রকম হস্তক্ষেপ করা যাবে না। নির্মাণ ব্যয়সহ মুনাফা তুলে নেয়ার পরই সেতুর মালিকানা বাংলাদেশ সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। যান চলাচলের সংখ্যা অব্যাহত রাখতে সেতুর উভয় দিকে ৪০ কিলোমিটার করে ৮০ কিলোমিটারের মধ্যে ফেরি বা বিকল্প কোনো পারাপার ব্যবস্থা রাখা যাবে না।

ভারতও পদ্মা সেতু নির্মাণ ও এতে অর্থায়নের ইচ্ছা ব্যক্ত করেছে। অনেকে ধারণা করছেন, শেষ পর্যন্ত ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে তৈরি হতে পারে এ সেতু। আলাদা কোম্পানি গঠন করে কাজ হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। ভারতের ১০০ কোটি ডলার ঋণ যেখানে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না, সেখানে পদ্মা সেতু কীভাবে নির্মাণে তারা অর্থ দেবে, সেটিও এক বড় প্রশ্ন। ভারত উৎসাহিত হওয়ার অন্যতম কারণ হতে পারে করিডোর প্রাপ্তি।

পদ্মা সেতু নির্মাণের অঙ্গীকার ছিল আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে। নির্বাচনের আগের মতোই গত চার বছরে দেশের দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলের মানুষকে সেতু নির্মাণের স্বপ্নের কথাই বার বার শোনানো হয়েছে। এ জন্য প্রস্তুতিমূলক কাজের নমুনাও কম দেখানো হয়নি। নিজস্ব অর্থায়ন নিয়েও পানি কম ঘোলা করা হয়নি। পদ্মা সেতু হবেইগলা ফাটিয়ে এমন কথা বলা হলেও এর অর্থায়নের বিষয়টি এখন পর্যন্ত কারও কাছেই পরিষ্কার নয়। ব্যাংকে হিসাব খোলা এবং যে সব প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ পাওয়া যাবে তাদের প্রতি আহ্বানে তাতে মোটেও সারা মেলেনি। উল্টো ছাত্রলীগের চাঁদাবাজি বেড়েছে। এ নিয়ে কোন্দলে একজন কর্মীকে প্রাণ হারাতে হয়েছে। কিন্তু এতে পদ্মা সেতুর নিজস্ব অর্থায়ন কতদূর এগিয়েছে সেটা অন্ধকারেই থেকে গেছে। বাস্তবে অর্থায়নের পরিকল্পনা যে এখনও চূড়ান্তই হয়নি সেটা পরিষ্কার। তাহলে এই সরকারের আমলেই পদ্মা সেতুর কাজ শুরু হবে বলা হচ্ছে কীভাবে? ফলক উন্মোচনের আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সবকিছু সীমাবদ্ধ রাখার সিদ্ধান্তই কি চূড়ান্ত! একবার বলা হচ্ছে রেলপথ বাদ দিয়েই পদ্মা সেতু হবে, পরক্ষণেই শোনা যাচ্ছে নকশায় রেলপথ যুক্ত থাকলেও রেলের সংযোগপথ আপাতত থাকছে না। ধারণা করা হচ্ছে, বর্তমান সরকার পদ্মা সেতুর নামফলক উন্মোচন করবে নির্বাচনে ভোট পাওয়ার জন্য।

এদিকে, পদ্মা সেতুর অর্থ জোগাড়ে সরকার সার্বভৌম বা সভরেন বন্ড ছাড়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। প্রস্তাবিত সভরেন বন্ডের সুদ হবে চড়া ও কঠিন শর্তযুক্ত। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা যাচ্ছে, সরকার গ্যারান্টি দিয়ে বিদেশ থেকে চড়া সুদে ৫০ কোটি ডলার ঋণ নেয়ার কথা ভাবছে। সরকারের এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে গঠিত কমিটি একটি কৌশলপত্র অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে। ওই পত্রে মূলত সার্বভৌম বন্ডের মেয়াদ ও ক্রেতাকে দেয়া সুদের হার নির্ধারণী প্রস্তাবনাসহ বন্ড ক্রয়ে প্রবাসীদের আকৃষ্ট করার পরামর্শ রয়েছে। প্রথম অবস্থায় বাজেট ঘাটতি পূরণে সভরেন বন্ড ছাড়ার উদ্যোগ নেয়া হলেও পদ্মা সেতুতে অর্থায়নে বিশ্বব্যাংকের পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে আগের পরিকল্পনায় পরিবর্তন এনেছে সরকার।

পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থায়ন করার জন্য সরকার চীনকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। এর প্রক্রিয়াও শুরু করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এরই মধ্যে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা ও আন্তঃমন্ত্রণালয় চিঠি চালাচালি শুরু হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনিকে এ বিষয়ে বেইজিংয়ের সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতা চালানোর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আলোচনা সফল হলে এবং ইতিবাচক সাড়া মিললে প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চীন সফরে যেতে পারেন বলেও জানা গেছে।

চীন সরকার অনেক আগেই পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থায়নে বিষয়ে অনানুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়ে রেখেছে। চীন সরকারের সে প্রস্তাব নিয়ে সরকার চিন্তাভাবনা করছে। চীন থেকে সরকার সহজ শর্তে ২ শতাংশ সুদে ঋণ নিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে চীন থেকে পদ্মা সেতুর জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ কেনার শর্ত থাকবে। চীন সরকার দুই ধরণের শর্ত দিয়ে পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থায়ন করতে পারে। প্রথমত, অপেক্ষাকৃত নমনীয় সুদে ঋণ দেওয়া। এ ঋণের সুদের হার সাধারণত ২ শতাংশ হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিতে হয়। এ ছাড়া এ ঋণ পেতে চীন থেকেই সব যন্ত্রাংশ কেনার বাধ্যবাধকতা থাকবে। দ্বিতীয়ত চীন সরকার বাণিজ্যিকভাবে এ প্রকল্পে অর্থায়ন করতে পারে। এ ঋণের সুদের হার সাধারণত ৫ থেকে ৬ শতাংশ হয়ে থাকে। এটিকে কঠিন শর্তের ঋণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। চীনের বাণিজ্যমন্ত্রী চলতি মাসের শেষের দিকে বাংলাদেশ সফরে আসছেন বলে জানা গেছে। ভারতের ১০০ কোটি ডলার ঋণের একটি অংশ পদ্মা সেতুতে ব্যয় করার চিন্তাও করছে সরকার। জানা গেছে, পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রক্রিয়ার লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগ খতিয়ে দেখবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল সংস্থা (আইএমএফ)। সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকারের তরফে পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য যেসব উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে, তা বাস্তবসম্মত কিনা সে বিষয়ে পর্যবেক্ষণ করবে তারা। আইএমএফ বলেছে, পদ্মা সেতু নির্মাণের লক্ষ্যে দেশীয় অর্থায়ন অথবা তৃতীয় কোন দেশ থেকে ঋণ সহায়তা নেয়া কতটা বাস্তবসম্মত হবে সেটাও ভেবে দেখতে হবে। তৃতীয় দেশ থেকে ঋণ সহায়তা নেয়ার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কেমন প্রভাব পড়বে সে বিষয়ে সরকারকে চিন্তা করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেধে দেয়া সময় শেষ হওয়ার পর এ পর্যায়ে কাজের অগ্রগতি কত দূর এমন প্রশ্নের উত্তরে যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গত ৩ ফেব্রুয়ারি জানিয়েছেন, পদ্মাসেতু নিয়ে প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তারপর আমার কোনো বক্তব্য নেই। পদ্মাসেতু প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মতোই হবে। আমাদের সরকারের এ মেয়াদেই অবকাঠামো নির্মাণগত কাজ শুরু হবে। কাজ তো চলছেই।” অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছিলেন, আগামী মার্চ মাসেই পদ্মা সেতুর টেন্ডার আহ্বান করা হবে। আগামী দুতিন মাসের মধ্যে পদ্মা সেতুর মূল কাজ শুরু হবে।” তিনি বলেন, পদ্মা সেতুর টেন্ডারে ৪৫ দিন সময় বেঁধে দেওয়া হবে। এরপর বিভিন্ন কাজে ১৫ দিন সময় লাগতে পারে। এরপর যারা কাজ পাবে তাদের দিয়েই কাজ শুরু হবে।”

তাহলে প্রশ্ন দাঁড়াচ্ছে, সরকারের শেষ সময় এসে তারা কি শুধুই পদ্মা সেতুর নামফলকটি উন্মোচন করবে?