Home » সাক্ষাৎকার » সাক্ষাৎকার – ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ

সাক্ষাৎকার – ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ

আইএমএফ বুঝতে পেরেছে, সরকার যখন তাদের গন্ডির মধ্যে, তখন প্রতিটি শর্ত মানবেই

dr shalehuddin. সালেহউদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও বর্তমানে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা, সার্বভৌম বন্ড ছাড়া, নতুন ব্যাংক, মুদ্রানীতি, কঠিন শর্তে আইএমএফ থেকে সরকারের ঋণগ্রহণ ও তার প্রতিক্রিয়া জ্বালানিবিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি, পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পসহ নানা বিষয়ে কথা বলেছেন আমাদের বুধবারএর সঙ্গে।

আমাদের বুধবার: সরকার উচ্চ সুদে বন্ডের মাধ্যমে বিদেশ থেকে ৫০ কোটি ডলার ঋণ নেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটি কতটা যৌক্তিক বলে মনে করেন?

সালেহউদ্দিন আহমেদ:প্রথমেই দেখতে হবে, বন্ডের সুদ বা ইল্ড রেট বেশি না হলে মানুষ এটাকে কিনতে চাইবে না। সরকারের জন্যও এটা অধিক ব্যয় সাপেক্ষ বিষয় হয়ে যাবে। দ্বিতীয় বিষয়টি হলো, এটি পরিশোধ করতে হবে ডলারের মাধ্যমেই। সে নিশ্চয়তাও দিতে হবে। এক্ষেত্রে ভবিষ্যতে রিজার্ভের অবস্থা সন্তোষজনক থাকবে কিনা, সেটাও বিবেচনায় রাখতে হবে। এটি কেনার মতো লোক আছে কিনা, সেটাও বিবেচ্য। এ ধরণের বন্ড বিক্রি সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। ইতালি ও গ্রীসে তারা বন্ড ইস্যু করে পরিস্থিতি মোকাবেলার উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু তাদের অনেক বন্ড অবিক্রিত রয়ে গেছে। সরকার এ ধরণের উদ্যোগ নিলে, খরচ স্বাভাবিকভাবে বেশি হবে।

আমাদের বুধবার: অনেকে বলছেন, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে সুদ কম১ শতাংশের নিচে। এ পরিস্থিতি যদি ২৩ শতাংশ সুদ রেটে যদি বন্ড ছাড়তে পারি, সেখানকার প্রবাসীরাই নাকি এটি কিনতে পারে। পদ্মাসেতু নির্মাণের অর্থ সংগ্রহে এ পরামর্শই দিচ্ছেন অনেকে।

সালেহউদ্দিন আহমেদ:এটা ভালো কথা। বন্ড বিদেশী এবং আমাদের প্রবাসীরা কিনবেন। দেখুন, ওয়েজ আর্নারস বন্ড বা ডলার প্রিমিয়াম বন্ড কয়জন প্রবাসী কিনেছেন। এতে তো সরকার উচ্চ সুদ দিচ্ছে। এর চেয়ে বেশি সুদ দিতে পারবে না সরকার। বিদেশীরাও বাংলাদেশী বন্ড কেনার বিষয়ে খুব কি উৎসাহী হবেন? এখানকার পরিস্থিতি যাচাই করবে, ১০ বছর পর ইল্ড রেট দিতে পারবে কিনা, এসব তারা ভাববে। আবার ফরেন এক্সেচেঞ্জের সমস্যার কারণে ডিফল্ট হওয়ার সম্ভাবনাও ভেবে দেখবে। ওয়েজ আর্নারস বা ডলার প্রিমিয়াম বন্ডই তো খুব বেশি বিক্রি হচ্ছে না। তাই ওই দিকে না গিয়ে এগুলোই বিক্রির চেষ্টা করা উচিত।

আমাদের বুধবার: বিশ্বমন্দায় বন্ডের অভিজ্ঞতা তো ভালো নয়। বিশেষত গ্রীস, স্পেন, ইতালি

সালেহউদ্দিন আহমেদ:হ্যাঁ, ভালো তো নয়ই। কারণ পর্যাপ্ত বন্ড তারা বিক্রি করতে পারেনি। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে আসছে। অর্থনীতিতে নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের জন্য বন্ড বিক্রি করে অর্থ সংগ্রহ করা কঠিন। ফিক্সড রেট অব ইন্টারেস্ট দিলেও, আমি জানি না কতজন লোক এটি কিনতে উৎসাহী হবেন। মূল্যস্ফীতির বিবেচনায় সুদের হার পর্যাপ্ত কিনা, তা নিয়ে ভাববে এর ক্রেতা।

আমাদের বুধবার: বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ডলারের সংকট কি এতই চরম, যেখান থেকে উত্তরণের জন্য বন্ড ছাড়তে হবে?

সালেহউদ্দিন আহমেদ:না, আমি বুঝতে পারছি না সরকার এটি কেন করছে। এর চেয়ে প্রবাসীদের অর্থাৎ এনআরবিদের কাছে ডলার প্রিমিয়াম বন্ড বেশি বিক্রির ওপর জোর দেয়া হোক। এখন সার্বভৌম বন্ড ছাড়লে সময় বেশি লাগবে। আর বড় অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ করা কষ্টকর হবে। লোকজন কি হঠাৎ করে বন্ড কেনা শুরু করবে নাকি?

আমাদের বুধবার: কঠিন শর্তে আইএমএফের কাছ থেকে ঋণ নেয়াকে কীভাবে দেখছেন?

সালেহউদ্দিন আহমেদ:আইএমএফ এখানে যতটুকু করার করে নিয়েছে। বরং এক্ষেত্রে তাদেরই কিছুটা জয় হয়েছে। আইএমএফ বোঝে তারা যতটা করতে বলবে, সরকার ততটা করবে না। এজন্য তারা একটু বাড়িয়েই শর্তারোপ করে। তাদের শর্ত মানতে গিয়ে সরকার বেশ কয়েকবার বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে। সরকার এত দ্রুত যতটা করেছে, সেটা হয়তো আইএমএফও বোধ করি প্রত্যাশা করেনি। তারা কিন্তু শর্তটা আদায় করেছে। আইএমএফ বুঝতে পেরেছে, সরকার যখন তাদের গন্ডির মধ্যে চলে এসেছে, তখন তারা প্রতিটি শর্ত মানবেই। ট্যাক্স র‌্যাশোনালাইজেশন সরকার করবে। এক্ষেত্রে সরকারেরও নিজস্ব তাগিদ রয়েছে। রাজস্ব বাড়াতে হবে। সেক্ষেত্রে ভ্যাটের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় জনগণের ওপর বাড়তি চাপের সৃষ্টি হচ্ছে। সরকারি ব্যয়ও সেভাবে নির্বাহ করতে পারবে না। আইএমএফ বুঝতে পেরেছে, তারা বিষয়টি উপস্থাপন করছে; আর সরকার নিজ তাগিদেই তা করছে। এদিকে, ব্যাংকিং কোম্পানি অ্যাক্ট সংশোধনে আমরা বলছি। এতে যথেষ্ট দুর্বলতা আছে, কিন্তু উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না। সরকারও দেখানোর জন্য মাঝে মধ্যে তাদের বিরোধীতা করে। বাস্তবতা হলো, শেষ পর্যন্ত সরকার আইএমএফের সব শর্তই মানছে। আইএমএফ ব্যাংক আইন সংস্কারসহ আর্থিক ব্যবস্থাপনা উন্নতকরণের কথা বলছে, নিয়ে এত দীর্ঘসূত্রতার জন্ম দিয়েছে সরকার, যেটা কাম্য নয়।

আমাদের বুধবার: আইএমএফের নির্দেশনায় সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি নিল বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু তাতে মূল্যস্ফীতি তেমনভাবে কমেনি। উল্টো প্রবৃদ্ধি কমে আসছে। কেন?

সালেহউদ্দিন আহমেদ:এখন আইএমএফ বাহবা দিচ্ছে, খুব ভালো মুদ্রানীতি হয়েছে। অথচ প্রবৃদ্ধি সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। এটা উদ্বেগের কথা। মূল্যস্ফীতি সংকোচনমূখী মুদ্রানীতির জন্য কমেনি। কৃষি উৎপাদন ভালো হয়েছে। গত বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়নি বললেই চলে। এসবের প্রভাবে খাদ্যমূল্যস্ফীতি কমেছে। তবে খাদ্যবর্হিভূত মূল্যস্ফীতি এখনো অনেক। মূল্যস্ফীতি হ্রাস ও মুদ্রানীতির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি নেয়ায় ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। ঋণের সুদের হার কমেনি, এখন চাহিদাও নেই। লোকজনও নিতে চাচ্ছে না। সমস্যা তো অন্যখানে। সংকোচনমুখী মুদ্রানীতি কাক্সিক্ষত ফল পেতে সহায়তা করবে বলে মনে হয় না।

আমাদের বুধবার: বিশ্ব ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণের কথা ভাবছে সরকার। অন্যান্য দাতা সংস্থা এমনকি বিশ্বব্যাংকের কাজের ক্ষেত্রে কী রকম প্রভাব ফেলবে এটি?

সালেহউদ্দিন আহমেদ:আমি মনে করি, সরকারের উচিত ছিল আলোচনা আবার শুরু করা। কয়েক বছর আগে ভারতে সামাজিক উন্নয়ন খাতের একটি ঋণ বিশ্বব্যাংক বাতিল করে দিয়েছিল। আলোচনার পর তারা আবার সেটি দিয়েছে। মোদ্দা কথা হলো, কোনো বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান যখন ঋণ দেয় তারা অনেক রকম প্রথা পদ্ধতি মেনে সেটি দেয়। বড় বিষয় হলো, তাদের ঋণের সুদ অনেক কম এবং অর্থ পরিশোধে অনেক সময় পাওয়া যাবে। কাজের আন্তর্জাতিক মানও বজায় থাকে। তাদের তত্ত্বাবধানের কারণে সরকারও চিন্তা করে কাজে স্বচ্ছতা রাখতে। বেসরকারি খাত থেকে অথ আনলে তা কোথায়, কীভাবে ব্যয় হচ্ছেএটা তদারক সেভাবে কেউ করবে না। অনেক কিছু অস্বচ্ছ থাকায় দেশের মানুষের মধ্যেও তা নানা রকম প্রশ্ন তৈরি করবে। এমন একটি প্রজেক্ট যেখানে নদী শাসন, পুনর্বাসন, ব্রীজ, রাস্তা, ডিজাইনের দিক থেকেও জটিল সেটির সমন্বয়, অন্য উৎস্যের অর্থ দিয়ে এগুলো করা কঠিন হবে। আমি এখনো মনে করি, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করা উচিত ছিল। আরেকটি বিষয় হলো, বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের টাকা প্রাপ্তির অধিকার আমাদের সরকারের রয়েছে। দ্বিপক্ষীয় কোনো বিষয় হলে বলা যেত, সে দেশের ট্যাক্স পরিশোধকারীদের টাকা, সে দেশে সিদ্ধান্ত না দিলে টাকা পাওয়া যাবে না। কিন্তু আমি বলতে চাই, আন্তর্জাতিক সংস্থার অর্থের অংশ পদ্মা সেতুর মতো জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের জন্য প্রাপ্য। আমাদের যদি ভুল থাকে, সেটি আমরা সংশোধন করতে পারবো। এত সহজে নিজের অধিকার ছেড়ে দেয়াটা মোটেই ঠিক হয়নি। অন্যান্য ক্ষেত্রে এর প্রভাব পড়বে। দ্বিপাক্ষিক ক্ষেত্রে দাতা দেশগুলোও দুর্নীতি প্রভৃতির কথা বলে। এমন ক্ষেত্রে তারাও নতুন করে চিন্তাভাবনা করবে। এখানে দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। বেসকারি বিনিয়োগকারীরা এ দেশে আসতে উৎসাহী হবে না। তারা ধারণা করবে, এখানে দুর্নীতিকে প্রশয় দেয়া হয়। সর্বোপরি এটি খারাপ একটি সিগন্যাল দেবে এবং দেশের ভার্বমূতি ক্ষুন্ন হবে এতে। এর প্রভাব অন্যান্য প্রকল্পে পড়লে অবাক হব না।

আমাদের বুধবার: বর্তমানে প্রবৃদ্ধি কমে আসছে, বিনিয়োগ পরিস্থিতিও খারাপ। এ অবস্থায় নতুন ব্যাংকের অনুমোদন দেয়ার বিষয়টিকে আপনি কীভাবে দেখছেন? এটা কতটা চ্যালেঞ্জের?

সালেহউদ্দিন আহমেদ:বর্তমান প্রেক্ষাপটে নতুন ব্যাংকগুলো কী অবদান রাখতে পারবে, সে ব্যাপারে সন্দেহ রয়েছে। তাদের পেইড আপ ক্যাপিটাল জোগাড় করতে সময় লেগেছে, জনশক্তি নিতে হবে। এ খাতে দক্ষ জনশক্তির ঘাটতি রয়েছ। এজন্য পুরনো ব্যাংকগুলো থেকে টানাটানি করতে হবে। একেবারে নতুন লোক দিয়ে তো ব্যাংক চালানো যাবে না? আরেকটি বিষয় হলো, কতগুলো শাখা খোলার অনুমতি বাংলাদেশ ব্যাংক ওই ব্যাংকগুলোকে দেবে? পারফরম্যান্স ও গ্রাহকের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংক সে ব্যাপারে সরকার ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার অনুমোদন দেবে। কতদিনে তারা কাজ শুরু করতে এবং কতটা ভূমিকা তারা রাখতে পারবেসে ব্যাপারে আমি সন্দিহান। জনগণের কাছে থেকে ডিপোজিট কালেকশনের জন্য তারা অসুস্থ প্রতিযোগিতায় নামবে। এক্ষেত্রে তারা চালাকি করতে পারে। সরকারের সঙ্গে কানেকশনকেও ব্যবহার করে ডিপোজিট কালেকশন করতে পারে তারা। আর্থিক খাতে এ ধরণের অসুস্থ প্রতিযোগিতা মোটেও কাম্য নয়। ব্যাংকগুলোর পারফরম্যান্স এবং কারা তাদের পিছনে রয়েছে, মানুষ তো এখন সেগুলোও লক্ষ করবে। এছাড়া রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হলে এগুলোর অবস্থা কী হবে, কে জানে।

আমাদের বুধবার: জিডিপির লক্ষ্যমাত্রা গত দুই বছর যাবত অর্জিত হচ্ছে না। এ বছর তা আরো কমে আসার কথা শোনা যাচ্ছে। অর্থনীতি ও আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে এর কী প্রতিক্রিয়া হতে পারে?

সালেহউদ্দিন আহমেদ:জিডিপি কমে যাওয়ার মানেই হলো আমাদের দেশে বিনিয়োগ কম হচ্ছে। কর্মসংস্থান কমে আসছে। ক্যাপিটাল ফরমেশন কম হচ্ছে। এখন ৬ শতাংশ পর্যন্ত জিডিপি আমরা স্বাভাবিকভাবেই অর্জন করতে পারি। মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে গেলে, এটিকে ক্রমাগতভাবে বাড়িয়ে আমাদের সাড়ে ৮ শতাংশ পর্যন্ত অর্জন করতে হবে। নইলে ২০২০ সালের মধ্যে আমরা কীভাবে মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হবো? আপাতত লো লেভেল ইকুইলিব্রিয়ামে আমরা আছি, সেভাবেই থাকবো। প্রবৃদ্ধি কম হলে মধ্যম আয়ের দেশে যাওয়া সম্ভব হবে না। আমি সব সময়ই বলি, প্রবৃদ্ধি যদি সেবা খাত থেকে বেশি আসে সেটা টেকসই হয় না। উৎপাদনশিল্প, এসএমই প্রভৃতি খাত থেকে আসলে সেটি টেকসই হয়। এতে কর্মসংস্থান ও লোকজনের আয়ের পথ সুগম হয়। সেজন্যই আমাদের প্রবৃদ্ধি পরিমাণই শুধু নয়, এটার উৎস এবং গুণগত দিকটাও দেখতে হবে। আমাদের জনসংখ্যা বিশাল। প্রবৃদ্ধি বাড়ানো না গেলে মানুষের কাছে এর সুফলও পৌঁছানো যাবে না। আর প্রবৃদ্ধির সুফল যদি সুষমভাবে বৃহৎ জনগোষ্ঠির কাছে না পৌঁছে, যেটা এ পর্যন্ত হয়নি, এ অবস্থা চলতে থাকলে শোষন ও বঞ্চনামুক্ত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন শুধু স্বপ্নই থেকে যাবে।।