Home » আন্তর্জাতিক » অস্ত্র আমদানিতে ভারত এখনো শীর্ষে

অস্ত্র আমদানিতে ভারত এখনো শীর্ষে

সিমন ওয়েজম্যান

indian armsসিমন ওয়েজম্যান, প্রতিরক্ষা এবং নিরাপত্তা বিষয়ে আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতিসম্পন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (সিপরি) আমর্স ট্রান্সফার প্রোগ্রামের সিনিয়র গবেষক। আমাদের বুধবারএর জন্য তিনি একটি বিশ্লেষণ পাঠিয়েছেন এবং এখানে তার অনুবাদ প্রকাশ করা হলো।

প্রধান অস্ত্র আমদানিকারক হিসেবে ভারত এখনো শীর্ষ স্থান ধরে রেখেছে। এমনকি দ্বিতীয় স্থানে থাকা দেশটির চেয়েও সে অনেক দূর এগিয়ে। ২০০৮২০১২ সময়কালে চীনের চেয়ে এই দেশটি দ্বিগুণেরও বেশি অস্ত্র আমদানি করেছে। দেশটির আমদানি পরিকল্পনাও অনেক বেশি রয়ে গেছে। ইতোমধ্যেই বেশ কিছু চাহিদাপত্র দেওয়া হয়েছে এবং অদূর ভবিষ্যতে আরো কিছু আমদানি চুক্তি করতে যাচ্ছে তারা।

অবশ্য এটাও ঠিক যে, চীনের আমদানি হ্রাস পাওয়ার প্রধান কারণ হলো তারা নিজেরাই অস্ত্র তৈরি করছে। উন্নয়ন এবং অত্যাধুনিক সরঞ্জাম উৎপাদনে গত দশকে চীন ব্যাপক অগ্রগতি হাসিল করেছে। অন্যদিকে নিজস্ব অত্যাধুনিক অস্ত্র উৎপাদনে ভারত বেশ পিছিয়ে আছে। তারা এখনো আমদানির উপরই নির্ভরশীল।

এই অঞ্চলে (দক্ষিণ এশিয়া, তবে সার্বিকভাবে পুরো এশিয়ার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য) দূর পাল্লায় আঘাত হানতে সক্ষম নতুন নতুন অস্ত্র ব্যাপক পরিমাণে করায়ত্ত করার ফলে স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে একদিকে বিভিন্ন দেশের মধ্যে (ভারতপাকিস্তান, ভারতচীন, দক্ষিণ চীন সাগর, জাপানচীন, কোরিয়া, তাইওয়ান এসব হলো সবচেয়ে শিরোনামে থাকা স্থানের নাম) ব্যাপক ও ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা থাকা এবং অন্যদিকে উত্তেজনা নিরসন কিংবা যেকোনো ছোট, দুর্ঘটনামূলক ঘটনাযা বৃহত্তর সঙ্ঘাত সৃষ্টি করার দিকে চালিত করতে পারেপ্রতিরোধের বা প্রশমিত করার কোনো কাঠামো বা চুক্তি না থাকায় দুশ্চিন্তা বাড়ার যৌক্তিকতা রয়েছে।

চীনের অস্ত্র রফতানি এবং এই অঞ্চলে তাদের প্রভাবের ফলে যে কেউ মনে করতে পারে যে, ভারত অনেক ক্ষেত্রেই প্রতিবেশি দেশগুলোতে চীনের কার্যক্রম তাকে ঘিরে ফেলা বা ভারত মহাসাগরে ভারতের আঞ্চলিক শক্তির প্রতি চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করতে পারে। পাকিস্তান, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও বাংলাদেশে চীনা অস্ত্র বিক্রি বা সামরিক সাহায্য বিবেচিত হতে পারে চীনা কৌশলের অংশবিশেষ এবং, ভারতের দৃষ্টিভঙ্গিও একই ধরনের সাদামাটা কিনা সেটা নিয়ে প্রশ্ন না তুলেই বলা যায়, ভারতও তার বাহিনীকে সম্প্রসারিত ও আধুনিকায়ন করছে, অনেক ক্ষেত্রে প্রতিবেশি দেশগুলোতে (মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, নেপাল) সামরিক সাহায্য দিচ্ছে কিংবা চীনের বিরুদ্ধে ‘জোট’ করার উদ্যোগ নিয়েছে। সেইসঙ্গে ভিয়েতনাম ও আফগানিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করছে ভারত। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও গাঁটছড়া জোরদার করার দিকে এগুচ্ছে।।

অনুবাদ: মোহাম্মদ হাসান শরীফ