Home » অর্থনীতি » তেল-গ্যাস লুট দেশে দেশে

তেল-গ্যাস লুট দেশে দেশে

রাজনীতি আর নির্বাচনে তেল কোম্পানির অর্থ

ফারুক চৌধুরী

coal power-1তেলের রাজ্যে মুনাফা অনেক। পাঁচটি তেল কোম্পানির মুনাফা ২০১১ সালে ১০০ মিলিয়ন বা ১০ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এ পাঁচটি তেল কোম্পানি হচ্ছে: এক্সনমবিল, শেল, বিপি, কনোকোফিলিফস, শেভরন।

এত বিপুল মুনাফা জনকল্যাণে কতটুকু ব্যবহার করা হয়, সে প্রশ্ন সব সময়ই অনেকে করেন। বিপুল মুনাফার কারণে অনেকে কয়েকটি দাবি তোলেন। এ সব দাবির মধ্যে রয়েছে: . তেলের অর্থকে রাজনীতির অঙ্গণ থেকে দূরে রাখতে হবে; . তেল কোম্পানিগুলোকে সরাসরি ভর্তুকি দেয়া বন্ধ করতে হবে; . তেল কোম্পানিগুলোকে পরোক্ষভাবে দেয়া ভর্তুকি বন্ধ করতে হবে; . নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসারের ক্ষেত্রে বাধা দূর করতে হবে; এবং ৫. তেল সংরক্ষণ করতে হবে ও স্থানীয় ভিত্তিতে ব্যবহার করতে হবে। উল্লেখ করা দরকার যে, গাড়ি, সড়ক ইত্যাদি নানা পন্থায় তেল শিল্পকে পরোক্ষভাবে ভর্তুকি দেয়া হয়।

তেল শিল্পের অর্থ রাজনীতিতে কত ব্যাপক, তা একটি তথ্য থেকে স্পষ্ট হয়। একটি দেশের নির্বাচনী রাজনীতিতে একবার তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলো ঢেলেছিল ২৩ কোটি ডলারের বেশি অর্থ। এ অর্থ দেয়া হয়েছিল, রক্ষণশীল মতাদর্শের অনুসারী নির্বাচনী প্রার্থীদের, যারা নির্লজ্জভাবে তেল শিল্পের পক্ষে। এ ঘটনা ঘটে প্রতি নির্বাচনে। এ বিষয়ে বিশদ তথ্য নিয়মিত প্রকাশিত হয়। রাজনীতিতে অর্থ ঢালার এ ঘটনা ঘটে গণতান্ত্রিক হিসেবে ভূয়সী প্রশংসিত একটি দেশে। এ দেশটি অন্যান্য দেশকে গণতন্ত্রের শিক্ষা দেয়, পরামর্শ দেয়।

তেলগ্যাস শিল্প ভর্তুকি কেমন পরিমাণ পায়, সেটিও একটি তথ্য থেকে স্পষ্ট হয়। একটি দেশে ৬০ বছরে যতো ভর্তুকি দেয়া হয়েছে, তার ৭০ শতাংশ পেয়েছে ইন্ধন খাত, আর এই ৭০ শতাংশের ৫৮ শতাংশ পেয়েছে তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলো। এ দেশটিই বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ইত্যাদি সংস্থার মাধ্যমে এবং নিজে অন্যান্য দেশকে অব্যাহতভাবে বিভিন্ন নন খাত থেকে ভর্তুকি প্রত্যাহার করার জন্য পরামর্শ ও চাপ দেয়।

পরোক্ষ ভর্তুকির মধ্যে রয়েছে তেলের জন্য নানা দেশে আক্রমণআগ্রাসন চালানো, যুদ্ধ পরিচালনা, তেল পরিবহনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নানা সমুদ্র পথ পাহারা দেয়ার খরচ। কেবল আফগানিস্তান, ইরাক ও লিবিয়ায় আক্রমণআগ্রাসনযুদ্ধ পরিচালনার ব্যয় কয়েক লক্ষ কোটি ডলার। কেবল হরমুন প্রণালী, পারস্য উপসাগর, মালাক্কা প্রণালী পাহারা দেয়ার জন্য মোতায়েন নৌবহরের ব্যয় বিপুল। এসব ব্যয় যোগান করদাতারা আর এ অর্থ ব্যয় করা হয় তেল বেপারিদের তেল ব্যবসার জন্য।

রাজনীতিতে তেলের অর্থ, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভর্তুকি ইত্যাদি তথ্য বিভিন্ন সরকারি নথি, বিভিন্ন অর্থনীতিবিদের দেয়া তথ্য ইত্যাদিতে উল্লেখিত হয়েছে। ট্রানজিশন ভয়েসের এরিক কারেন এসব তথ্য একত্রে পরিবেশন করেছেন।

তেলের এ বিপুল মুনাফা তৈরি করে গভীর স্বার্থ। আর এ স্বার্থ তৈরি করে রাজনীতি, তার কেবল দেশের ভেতরের রাজনীতিতে প্রতিফলিত ও সক্রিয় হয়, তা নয়। দেশের রাজনীতির সঙ্গে সঙ্গে তা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও সক্রিয় হয়। দেখা দেয়া তেল নিয়ে কূটনীতি।

পৃথিবীর কোনো কোনো অঞ্চলে রাজনীতি ও কূটনীতির মূল কলকাঠি নাড়ে তেল শিল্প। উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা যায়, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, মধ্য এশিয়া, ককেসাস অঞ্চল, ভেনেজুয়েলার নাম। আগামীতে হয়তো কিউবার নামও শোনা যাবে। কারণ, কিউবা পেয়েছে বিপুল পরিমাণ তেলের সন্ধান। তাই, তেল কোম্পানিগুলোর নজর পড়েছে কিউবার ওপর। ফলে, কিউবাকে ঘিরে ঘটতে পারে নানা ঘটনা, সাজানো হবে নানা ষড়যন্ত্র।।