Home » প্রচ্ছদ কথা » সরকারের নিত্যনতুন বিপজ্জনক ইস্যু সৃষ্টি

সরকারের নিত্যনতুন বিপজ্জনক ইস্যু সৃষ্টি

আমীর খসরু

police-4রাজনীতির চরম সংঘাত এবং সাংঘর্ষিক পরিস্থিতিতে জনমনে যখন সীমাহীন আতঙ্ক আর শঙ্কা বিরাজ করছে, ঠিক তখনই এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরেকটি নতুন উপসর্গ। রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহারের বিষয়টি পাকাপোক্ত করার ব্যবস্থা হয়ে গেল সরকারের কূটকৌশল এবং অপরাজনীতির কারণে। ৬ এপ্রিল এ কারণে দেশ ও জনগণের জন্য স্বল্প এবং দীর্ঘমেয়াদের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টিকারী একটি দিন হিসেবেই চিহিৃত হয়ে থাকবে। আপাতঃ এই ঘটনার ভয়াবহ প্রতিক্রিয়া তেমন একটা টের পাওয়া না গেলেও এটা বুঝতে খুব বেশিদিন অপেক্ষা করতে হবে এমন নয়। ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করার মনোবাসনায় আগামী নির্বাচনকে কিভাবে নিজেদের পক্ষে নেয়া যাবে তার জন্য ক্ষমতাসীনরা দীর্ঘদিন ধরে একের পর এক কৌশল গ্রহণ করছে, সৃষ্টি করছে নিত্যনতুন ইস্যু। আর এর সবশেষ ভয়ঙ্কর সংযোজন হলো ধর্মভিত্তিক দলগুলোকে ব্যবহারের কৌশল। এর পরিণতি কি হতে পারে তা যে কোনো কাণ্ডজ্ঞানসম্পন্ন মানুষই উপলব্ধি করতে পারছেন, শুধুমাত্র সরকার প্রধান এবং ক্ষমতাসীনদের কয়েকজন ছাড়া। এ কারণেই ৬ এপ্রিল দেশের এবং মানুষের ভবিষ্যতের জন্য একটি বিশেষ ঘটনাবহুল দিন হিসেবে চিহিৃত হবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

২০০৯এ বর্তমান সরকার ক্ষমতাসীন হবার পর থেকেই বিরোধী দল অবশ্যই, বিরোধী মতপথের সব পক্ষকেই নিশ্চিহ্ন করার উদ্যোগ নেয়া হয়। কোনো বিরোধী মত, পথ যাতে না থাকতে পারে, তার লক্ষ্যে একদিকে রাষ্ট্রযন্ত্র এবং এর সঙ্গে দলীয় ক্যাডারদের ব্যবহার, অন্যদিকে, নানা কূটকৌশলের আশ্রয় একের পর এক নেয়া হতে থাকে। খুন, গুম, হত্যা, নির্যাতন, গণপিটুনিসহ নানা প্রচেষ্টার কথা দেশের মানুষ নিশ্চয়ই ভুলে যায়নি। ভুলে যায়নি ক্ষমতাসীন দলীয় ক্যাডারদের সীমাহীন অপকর্মের কথা। শুধু যে বিরোধী দল এবং মতের ব্যক্তিরাই এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাই নয়, চাঁদাবাজিটেন্ডারবাজি, সংখ্যালঘুদের জমি দখল, হামলা থেকে যৌন সন্ত্রাস সব কিছুই মানুষের জীবনকে দুর্বিসহ করে তোলে। তেলগ্যাস বিদ্যুতের দফায় দফায় দাম বৃদ্ধিসহ দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, নির্বিচারে দলীয়করণ, শেয়ারবাজার ধ্বংস করাসহ নানা আর্থিক কেলেঙ্কারির কারণে সৃষ্ট বিভিন্ন সঙ্কট সবকিছুই আমজনতাকে বিপর্যস্ত করে ফেলেছিল আগেই এবং এর রেষ এখনও চলছে।

জনজীবনের বিপর্যস্ত পরিস্থিতির সঙ্গে সঙ্গে ক্ষমতাসীনদের ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করণের প্রক্রিয়া নানাভাবে চলতে থাকে। মানুষ অবাক বিস্ময়ে দেখতে থাকে, ক্ষমতায় আঁকড়ে থাকার জন্য ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে একের পর এক ইস্যু তৈরি এবং রাজনৈতিক খেলাধূলার ভিন্ন ভিন্ন চিত্র।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করার মধ্যদিয়ে প্রকাশ্যে এবং পুরোদমে ক্ষমতাসীনরা মাঠে নেমে পড়ে। সে সময় ক্ষমতাসীন মহাজোটের শরীক থেকে শুরু করে প্রবীণ এবং বিশিষ্ট আইনজীবী, বোদ্ধা সমাজ, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পক্ষ থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল না করার জন্য সরকার প্রধানের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছিল। কিন্তু ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করার অভিলাসে একের পর এক ইস্যু সৃষ্টি করার মধ্যদিয়ে রাজনীতি ক্রমাগত সংঘাত এবং সাংঘর্ষিক হয়ে পড়ে। জেনেশুনে ইচ্ছাকৃত এসব ইস্যু সৃষ্টির কর্মকাণ্ড অবিরাম চলতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় জামায়াতের সঙ্গে আঁতাতের চেষ্টাটি স্পষ্ট হয়ে পড়ে যুদ্ধাপরাধ বিচারের দ্বিতীয় রায়ের মধ্যদিয়ে। ওই সময় যুদ্ধাপরাধ বিচার ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিম গঠনের দুর্বলতাসহ নানা প্রশ্ন উত্থাপিত হতে থাকে ক্ষমতাসীনদের কাছের এবং নিজেদের ব্যক্তিবর্গের কাছ থেকেই। ওই আঁতাত রুখে দিয়েছিল কোনো দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় এমন তরুণরা। এরপরে জামায়াত নিষিদ্ধ করার বিষয়ে সরকারের মন্ত্রীসহ ঊর্ধ্বতন পর্যায় থেকে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দেয়ার মধ্যদিয়ে পরিস্থিতিকে আরো ঘোলাটে করা হয়। এই ঘোলাটে করাটি যে ইচ্ছাকৃত এবং তাদের সৃষ্ট ঘটনা ছিল, তা বুঝতে আর কারো বাকি নেই। পরিস্থিতির যখন পুরোপুরি মাত্রায় ঘোলাটে হলো এবং সংঘাতসংঘর্ষ চরম পর্যায়ে পৌছে গেল, তখন নতুন ইস্যু সৃষ্টির অবতারণা জন্য প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে বলা হলো, জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার জন্য ২০০৯এ উচ্চ আদালতে একটি রিট আবেদনের বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে হবে। বাস্তবে, ওই রিটটি ছিল নির্বাচন কমিশনে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের প্রশ্নে, তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার জন্য নয়। জামায়াতকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলার বদলে আঁতাতের পথ বেছে নেয়ার কারণও নির্বাচন। সরকার চেয়েছিল জামায়াতকে নির্বাচনের স্বার্থেই বিএনপির কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে নিজেদের দিকে টেনে নিয়ে আসা। একের পর এক ইস্যু সৃষ্টির প্রক্রিয়ায় ওই দাবিটি নিয়ে এখন আর সরব নয় সরকার বা ক্ষমতাসীনরা। জামায়াত নিষিদ্ধ করার দাবি নিয়ে এক ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি এবং পুরো বিষয়টিই যথেষ্ট ঘোলাটে করার পরে, ক্ষমতাসীনরা নতুন ইস্যু তৈরি করে।

নিত্যনতুন ইস্যু সৃষ্টির লক্ষ্যে কলের গান বাজাতে থাকে মন্ত্রী, ক্ষমতাসীন দলের নেতারা এবং তাদের সমর্থক কিছু সংগঠন। আর শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে এই কলের গানের গাইয়ে বাজিয়েদের কারণে দেশের ক্ষতি যা হবার তা হয়েই গেছে। বিশেষ করে রাজনীতির মারাত্মক সঙ্কট সৃষ্টির পাশাপাশি তাদের কূটকৌশল এবং অপরাজনীতির কারণে নিত্যনতুন উপসর্গ দেখা দিতে থাকে। জামায়াতকে নিয়ে সরকার যে রাজনীতির খেলা খেলেছে, তা কতোটা বিপজ্জনক রূপ নিতে পারে তা খুব স্বল্প সময়েই টের পাওয়া গেছে। সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়তে থাকে গ্রাম পর্যন্ত। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীকে মুখোমুখি দাড় করিয়ে দেয়া হয়। আর জামায়াত বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম এককভাবে হরতাল ডাকার সুযোগ পেয়ে যায়। আর এ সবই সরকারের কূটকৌশল এবং রাজনীতির নোংরা খেলার ফলাফল। জামায়াত যে যথেষ্ট শক্তিশালী একটি রাজনৈতিক শক্তি, এমনটা প্রমাণের জন্য জামায়াতের চেয়েও বেশি সক্রিয় ভূমিকা নেয়া হয় সরকারের ও ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে। জামায়াতের এমন উপকার এবং সহযোগিতা গত ৪২ বছরে আর কোনো সরকার করেনি।

দেশ জাতির জন্য ক্ষতিকর হলেও যেহেতু মাথার মধ্যে আগামী নির্বাচন নিয়ে দুষ্টবুদ্ধি, সে কারণে সরকার পুনরায় নতুন ইস্যু খুঁজে বের করে। এবার আরো ভয়ঙ্কর এবং স্পর্সকাতর বিষয়কে উসকে দেয়া হয়, ওই কৌশলের মাধ্যমে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে অন্য ইসলামী দল ও গ্র“পগুলোকে কাছে টানার উদ্যোগ নেয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় প্রথমে কয়েকটি ইসলামী দলকে নিয়ে সভাসমাবেশের দায়িত্ব দেয়া হয় মাওলানা ফরিদউদ্দিন মাসুদকে। পাশাপাশি হেফাজতে ইসলামের সঙ্গেও সরকারের পক্ষ হয়ে আলোচনা চালাতে থাকেন একজন মন্ত্রী। ইস্যু তৈরির চেষ্টায় ক্ষমতাসীনরা এবার জামায়াত ছেড়ে জনগণের দৃষ্টিকে সরিয়ে নিয়ে যায় এদিকে। ব্লগারদের নিয়ে সৃষ্টি হয় নতুন সঙ্কট। ব্লগ বা ব্লগারদের সীমিত পরিসর থেকে টেনে আনা হয় রাজনীতির মধ্য মাঠে। দেশের বিদ্যমান দন্ডবিধির ২৯৫ থেকে ২৯৮ ধারা অনুযায়ী প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেয়ার বদলে, এ নিয়ে নানা জটিলতা সৃষ্টিতে সরকার সক্ষম হলেও এক পর্যায়ে জামায়াতের মতো এ বিষয়টিও ক্ষমতাসীনদের হাতছাড়া হয়ে যায়। অবশ্য পূর্বাপর বিবেচনা না করে, ভিন্ন উদ্দেশে কূটকৌশল আর অপরাজনীতি করার পরিণতি যে এমনটিই হয় তা আবার প্রমাণিত হলো। যদিও সরকার মনে করছে, তারা মূল বা মুখ্য রাজনৈতিক ইস্যু অর্থাৎ নির্বাচনকে সাইড ইস্যু বা গৌন ইস্যু হিসেবে পরিণত করতে সফল হয়েছে। এমন বিপজ্জনক ও ভয়ঙ্কর ব্যবস্থার মাধ্যমে পুরো দেশ এবার দেখতে থাকে, সরকারের নতুন ধরনের এক খেলা। আর এতে আতঙ্ক, শঙ্কা এবং সমূহ বিপদের আভাস খুঁজতে থাকে জনগণ।

এরই এক পর্যায়ে আইন এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যৌথ সংবাদ সম্মেলন করে ঘোষণা দিলেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানা হলে, সর্বোচ্চ শাস্তি অর্থাৎ মৃত্যুদন্ডের বিধান আনা হচ্ছে। আর তাদের বক্তব্য অনুযায়ী এটি করা হবে দন্ডবিধি পরিবর্তন করে। সরকার স্পষ্ট করে না বললেও, বিষয়টি এমন দাঁড়ায় যে, সরকার ব্লাসফেমী আইন করতে যাচ্ছে। এটা ছিল ৬ এপ্রিলের লংমার্চকারী দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতার অংশ। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের কথা বলা হলেও, ওই মন্ত্রীদের পক্ষ থেকে বলা হয়নি এর প্রয়োগের বিধিবিধান সম্পর্কে। কোনটি যে আঘাত সৃষ্টিকারী বা কোনটি আঘাত সৃষ্টিকারী নয় কিংবা আঘাতের বিষয়টি কে নির্ধারণ করবে এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ খুবই বিপজ্জনক। এমন একটি আইনের কথাই বলে দিলেন, দুজন মন্ত্রী। পাকিস্তানে ব্লাসফেমী আইনের যথেচ্ছ প্রয়োগ হচ্ছে, এমনটা সংবাদ মাধ্যম এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো তো বটেই, খোদ জাতিসংঘের রিপোর্টেও বার বার বলা হয়েছে। মিশরেও এই আইনের অপপ্রয়োগের বিষয়টি অনেকের জানা আছে। যেসব দেশে এ আইন রয়েছে, সে সব দেশে এর অপপ্রয়োগ হয়েছে এবং হতে বাধ্য।

ইসলামী দলগুলোকে কাছে টানার নির্বাচনী কৌশল হিসেবেই আরো নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

জনমনে আতঙ্ক শঙ্কা বাড়তে থাকে। রাজনীতির মাধ্যমে যে অনাকাক্সিক্ষত বিভাজনটি সরকার সৃষ্টি করলো, ধর্মীয় দল ও গ্র“পগুলোকে কাছে টানার মধ্যদিয়ে তা সমাজের সর্বত্র ছড়িয়ে দেয়া হয়। সামাজিক এবং রাজনৈতিক বিভাজনের ভয়াবহ এবং বিপজ্জনক পথেই হাটছে সরকার। কূটকৌশল বাস্তবায়নের কারণে দিকনির্দেশনাবিহীন এগিয়ে যাওয়া, দেশ এবং জাতির জন্য কতোটা ক্ষতির কারণ হতে পারে, ক্ষমতাসীনরা প্রথমবারের মতো তা দেশ এবং জাতিকে বুঝিয়ে দিয়েছে। এমন চরম ক্ষতি ইতোপূর্বে আর কোনো সরকার করেনি।

৬ এপ্রিলের লংমার্চ এবং ঢাকার সমাবেশকে একদিকে অনুমতি দেয়া, অন্যদিকে, ঢাকাকে পুরো দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করার মধ্যদিয়ে সরকার তার অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছে। শেষ পর্যন্ত সমাবেশ হলো সত্য, কিন্তু সমাবেশ থেকে এমন সব দাবি উত্থাপিত হলো, তার ফলাফল সুদূর প্রসারী। ক্ষমতাসীনদের মধ্যে যদি একজনও চিন্তাশীল এবং কাণ্ডজ্ঞানসম্পন্ন মানুষ থাকতেন তিনি তার কণ্ঠকে কিছুটা হলেও উচ্চকিত করতেন।

সরকার সংবিধানে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ১৯৭২এর সংবিধানে ফিরে যাবে বলে অঙ্গীকার করেছিল। কিন্তু বাস্তবে সরকার না ’৭২এ সংবিধানে ফিরে গেল, বা নতুন কিছু উপহার দিতে পারলো। এই তালগোলের অবস্থা এখনও তাদের মস্তিষ্কে ঘুরপাক খাচ্ছে বলেই সমাবেশ শেষে প্রথমে স্বরাষ্ট্র, পরে অন্যান্য মন্ত্রী এবং ক্ষমতাসীনদের অনেকেই ‘সরকার সমাবেশের দাবিদাওয়াগুলো আন্তরিকতার সঙ্গে বিবেচনা করবে’ বলে বলতে থাকে। সমাবেশ থেকে ধর্মীয় দিক বিবেচনায় এমন সব দাবি উত্থাপন করা হলো, যাতে বিদ্যমান সংবিধান, নারী ও শিক্ষানীতিসহ বহু কিছুর আমূল পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে। এমনকি আর্থিক এবং সাংস্কৃতিক বিষয়ের বেশ কিছু দাবিদাওয়াও উত্থাপিত হলো ওই সমাবেশ থেকে। এমন বিপজ্জনক এবং ভয়ঙ্কর এক পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়া হলো পুরো দেশ এবং জাতিকে। বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষমতাসীনদের নির্বাচনী লিপ্সার কারণে এখন কোন পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে তা ইতোমধ্যেই উপলব্ধি করা যাচ্ছে। ক্ষতি এবং বিনাশ করার সব কর্মকাণ্ড এবং প্রক্রিয়া যখন পুরোপুরি সম্পন্ন হলো, তখন প্রধানমন্ত্রী বললেন, ব্লাসফেমী আইন করা হচ্ছে না। তবে বিবিসি’র সঙ্গে সাক্ষাতকারে তিনি এও বললেন যে, সরকার হেফাজতের সবগুলো দাবিই দেখবে। এর মধ্যে কোনোটি গ্রহণযোগ্য হলে তা পূরণ করা হবে। আর যে সব দাবি গ্রহণযোগ্য নয় বা বাংলাদেশের সমাজ ব্যবস্থার উপযোগী নয়, সেগুলো পূরণ করা হবে না। প্রধানমন্ত্রীর কথার মধ্যেও একটি সমঝোতার সুর লক্ষ্যণীয়।

ইসলামী দলগুলোর দাবিদাওয়া আদায়ের আন্দোলন যে এখানেই শেষ তা নয়, ৫ মে আবার ঢাকা অবরোধের ডাক দেয়া হয়েছে। এতোদিন যাদের অবস্থান ছিল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে, ক্ষমতাসীনরা জোর করেই তাদের মাঠে নামিয়েছে। যেসব দাবিদাওয়াগুলো এতোদিন ছিল তাদের গন্ডির মধ্যে, এখন তাকে রাজনীতির মূল স্রোতে নিয়ে আসা হয়েছে।

বিশ্বের গণতান্ত্রিক এবং উন্নয়নকামী সব দেশেই ধর্মকে রাজনীতি থেকে আলাদা হিসেবেই দেখা হয়। এই দুটো বিষয়কে মিলিয়ে ফেললে রাষ্ট্র এবং সমাজে যে ভারসাম্যহীনতার সৃষ্টি হয়, পরিণতিতে নৈরাজ্য সে সব আলামত ক্রমশ স্পষ্ট হতে শুরু করেছে।

কিন্তু দেশকে এমন বিপজ্জনক এবং ভয়ঙ্কর এক পরিস্থিতির মধ্যে ফেলা দেয়া হয়েছে, শুধুমাত্র নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়াকে নিজেদের মতো করে সাজানো এবং আগামীতে তারা ক্ষমতায় আসবেই এমন আকাঙ্খা থেকে। যদি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল না করে প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে সমঝোতার উদ্যোগ ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে নেয়া হতো এবং নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে কোনো সংশয় না থাকতো, দেশ যদি ইতোমধ্যে নির্বাচনমুখী হয়ে পড়তো তাহলে এমন এক ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হতো না। সরকার মনে করেছিল, তার কূটকৌশল আর অপতৎপরতার মধ্যে দিয়ে অবাধ, সুষ্ঠু এবং সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের বিষয়টি এড়ানো গেছে, তাহলে ভুল হবে। যদি তারা মনে করে থাকে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, দুর্নীতি, নানাবিধ কেলেঙ্কারির ঘটনা মানুষ ভুলে গেছে, তবে তাহবে ভ্রান্তিবিলাস। কারণ পুরনো অপকর্মের সঙ্গে নতুন বিষয়গুলো যুক্ত হচ্ছে। সাধারণ মানুষের স্মরণ শক্তি একেবারেই কম এটা ভাবা কোনোক্রমেই উচিত নয়। ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করার বদলে বিপদের ঝুড়িতে নিত্যনতুন এসব বিষয়গুলো যুক্ত হয়ে তালিকাই শুধু ভারী হচ্ছে। ক্ষমতাসীনদের মনে রাখা উচিত, এভাবে ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করা যায় না, বরং পরিণামে নিজেদের জন্যই নিদারুন বিপদ ডেকে আনে। রাজনৈতিক বিষয়কে ভিন্ন কোনো ইস্যু সৃষ্টি করে চাপা দেয়া যায় না। এ কারণেই রাজনীতির ময়দানে সমঝোতার কথা বার বার বিভিন্ন মহল থেকে উচ্চারিত হচ্ছে এবং শেষ পর্যন্ত হতেই থাকবে। যদি রাজনৈতিক সমঝোতা না হয়, তাহলে দেশের গণতন্ত্র বিপদাপন্ন হবে, অনাকাক্সিক্ষত বিষয়গুলো মাথাচাড়া দেবে, কারোরই কাম্য নয় এমন শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে। এতে দল হিসেবে আওয়ামী লীগই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যদিও ইতোমধ্যে বেশ কিছুটা হয়ে গেছে বললেও ভুল বলা হবে না।।

3 টি মন্তব্য

  1. I’ve read your article & found 4 things. anti Jamat mood, awami league knavery dramas, pity for A/L & you draw hefajat demands as religious driven business in order to make benefited some political parties. Islam is related in all aspect of life including country – this is what we believe in.

  2. Bibhokti je kokhonoi kono mongol deke anena ei upolobdhi ta apnar lekhai sposto kore janano holeo janina khomotashin dol Awami League bujte parbe kina. Bishesh kore amader dhormo pran manushera jara kokhono rastai neme asheni tader k rastai namiye govt je koto boro akta gorhito kaj koreche, apnar lekhar ei ongshotuku shob theke guruttopurno. Lekhata ottonto shomoiyopojogi ar bhalo hoyeche.
     

  3. Divide and Rule Policy kore ekhon porjonto kono govt kono shubidha korte parenai. Kajei A/L jodi mone kore ebhabe abar shashon khomotai boshbe tahole ottonto bhul kora hobe. Apnar lekhai ei diktir guruttopurno alochona besh bhalo legeche. Ar amader shadharon dhormopran manushder rastai tene ene govt je aro koto boro bhul koreche shei diktite gurutto diyar jonne apnak dhonnobad. Lekhata ottonto shomoiyoupojogi hoyeche ebong shei shonge bhalo legeche.