Home » অর্থনীতি » শেয়ারবাজার – নিঃস্ব হবার কারখানা

শেয়ারবাজার – নিঃস্ব হবার কারখানা

আমাদের বুধবার প্রতিবেদন

money-1-২০১০ সালের শেষার্ধে শেয়ারবাজার থেকে ব্যাংকের বিনিয়োগ প্রত্যাহারকে কেন্দ্র করে বড় দরপতনের ধারা শুরু হয়; যা দুই বছরেও কাটানো যায়নি। এ সময়ে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সাধারণ মূল্য সূচক হারিয়েছে ৬০ শতাংশের বেশি। ৫ ডিসেম্বর ২০১০এ সূচক ৮৯১৮ থেকে ১ এপ্রিল ২০১৩এ ৩৪৫৮ পয়েন্টে নেমে আসে। যদিও শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) নানা প্রণোদনা দিয়ে নির্জীব বাজারে প্রাণসঞ্চারের চেষ্টা করলেও ফল পাওয়া যায়নি। কারণ কোনো উদ্যোগের পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন লক্ষ্য করা যায়নি। এরই মধ্যে একাধিকবার ব্যাংকমালিক ও ব্যবস্থাপকদের দুটি সংগঠন ঘোষণা দিয়ে শেয়ার কেনার কথা জানালেও বাজারে তার প্রভাব পড়েনি। এমনকি তারাও বাজারে বড় আকারে বিনিয়োগ করেনি। আস্থা ফিরে আসেনি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে। ফলে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ারের দর নিয়মিত কমছে, পাল্লা ভারী হচ্ছে লোকসানের। এসব কারণে বিশ্বের অন্যতম মন্দাক্রান্ত শেয়ারবাজার হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছে ডিএসই। বিনিয়োগকারীর আস্থা নেমে এসেছে শূন্যের কোঠায়। দেশের সহিংস পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী রূপ পেতে পারেএমন আশঙ্কায় এরই মধ্যে বড় বিনিয়োগকারীরা বাজার ছাড়তে শুরু করেছেন বলে খবর রয়েছে। গত দুই মাসে শেয়ার বিক্রির উল্লেখযোগ্য অংশই ছিল এ শ্রেণীর বিনিয়োগকারীর। আমানতে সুদের হার বৃদ্ধি ও ঝুঁকি না থাকায় বড় বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রি করে অর্থ ব্যাংকে গচ্ছিত রাখছেন।

একই সময়ে মিউচুয়াল ফান্ড ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাও সাইডলাইনে চলে গেছেন। মুনাফার সম্ভাবনা কমে যাওয়ায় শেয়ারবাজারের পরিবর্তে মুদ্রাবাজার অথবা অন্য কোনো খাতে বিনিয়োগে ঝুঁকছেন তারা। আর গ্রাহকদের প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা মার্জিন ঋণ দিয়ে তা ফেরত না পাওয়ায় মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো অনেক আগেই বিনিয়োগ সক্ষমতা হারিয়েছে। পোর্টফোলিও ঋণাত্মক হওয়ায় সিকিউরিটিজ আইনের বাধ্যবাধকতায় বড় বিনিয়োগকারীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশই লেনদেনে নিষ্ক্রিয় রয়েছে। এতে ডিএসইর লেনদনে নেমে এসেছে ১১০ কোটি টাকার ঘরে। লেনদেন পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, বর্তমানে শেয়ারবাজার পাঁচ বছরের আগের চেয়েও খারাপ অবস্থায় রয়েছে।

২০০৯ সালে গ্রামীণফোন তালিকাভুক্ত হলে বাজার মূলধন অনেকটাই বেড়ে যায়। এ সময় থেকেই বাজারে বিনিয়োগ বাড়াতে শুরু করে ব্যাংকগুলো। ফলে ২০০৯ সালে দৈনিক গড় লেনদেন দাঁড়ায় ৬০৫ কোটি টাকা। ব্যাংকগুলো বাজারমুখী হওয়ায় শেয়ারের দর ও সূচকে ক্রমান্বয়ে উল্লম্ফন দেখা দেয়। সাধারণ মানুষও ঝুঁকে পড়েন বাজারে। ২০১০ সালে দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ হাজার ৬৪৩ কোটি টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক কার্যক্রমে শেয়ারবাজার নির্ভরতা বাড়লে তৎপর হয়ে ওঠে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের বিনিয়োগ বাজার থেকে তুলে নিতে শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১১ সালে ডিএসইর লেনদেন আগের বছরের চেয়ে অনেকটাই সংকুচিত হয়ে দৈনিক গড় লেনদেন দাঁড়ায় ৬৬৪ কোটি টাকা। ২০১২ সালে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি ঘোষণা করলে বাজারের তারল্য সংকট আরো বাড়ে। দৈনিক গড় লেনদেন নেমে দাঁড়ায় ৪২১ কোটি টাকায়।

তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে, গত বছরের শুরুতে অর্থাৎ ১ জানুয়ারি দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাধারণ সূচক ছিল ৫ হাজার ৩৫১ পয়েন্ট। বছরজুড়ে একের পর এক দরপতনে সূচক নেমে এসেছে সাড়ে তিন হাজার পয়েন্টে। বছরের শেষ লেনদেন দিবসে অর্থাৎ ৩০ ডিসেম্বর ডিএসই সূচক ছিল ৪ হাজার ২১৯ পয়েন্ট। এক বছরের ব্যবধানে সূচক কমেছে ১ হাজার ১৩২ পয়েন্ট। একইসঙ্গে কমেছে বাজার মূলধনের পরিমাণ। ২০১২ সালে ১৪টি কোম্পানি তালিকাভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে ২৫ হাজার কোটি টাকা। বছরের শুরুতে ডিএসইর বাজার মূলধন ছিল ২ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা। আর বছর শেষে তা কমে এসে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকায়। তবে বছরজুড়েই ছিল তারল্যের তীব্র সঙ্কট। ২০১০ সালে ডিএসইতে দৈনিক গড় লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৬০২ কোটি টাকা। ২০১১ সালে তা কমে এসেছিল ৬৬৪ কোটি টাকায়। আর গত বছরে তা আরও কমে হয়েছে ৪২২ কোটি টাকা।আগের বছরের তুলনায় ২০১২ সালে লেনদেনের পরিমাণ কমেছে ৩৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ। সব মিলিয়ে দেশের শেয়ারবাজার পরিস্থিতির কেবল অবনতিই হয়েছে গত বছর।

২০১০ সালে শেয়ারবাজার ধ্বসের পর পরিস্থিতি উত্তরণে সরকারের পক্ষ থেকে নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগের প্রেক্ষিতে ২০১১ সালে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু ২০১২ সালে শেয়ারবাজারে ধ্বস অব্যাহত থাকলেও পরিস্থিতি উত্তরণে সরকারের কোনো ধরনের উদ্যোগ দেখা যায়নি। বরং শেয়ারবাজার নিয়ে অর্থমন্ত্রীর নেতিবাচক মন্তব্য এবং সঙ্কট উত্তরণে সরকারের অবস্থান সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। দেশের শেয়ারবাজারকে ‘দুষ্টু শেয়ারবাজার’ আখ্যা দেয়ার পাশাপাশি শেয়ারবাজার অর্থনীতির উন্নয়নে কোনো ভূমিকা রাখছে নাঅর্থমন্ত্রীর এ ধরনের বক্তব্য শুধু সাধারণ বিনিয়োগকারীই নয়, সংশ্লিষ্ট সব মহলকে ক্ষুব্ধ করে। ১৭ ডিসেম্বর সার্ভিল্যান্স সফটওয়্যার উদ্বোধন করতে এসইসি কার্যালয়ে গিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী। ওইসময় অর্থমন্ত্রীর কাছে বর্তমান বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নো কমেন্ট।’ শেয়ারবাজারে যাই হোক, এ নিয়ে অর্থমন্ত্রী মোটেই বিচলিত নন বলে মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা। অথচ ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার এক মাসের মধ্যে তিনি এসইসি কার্যালয়ে গিয়ে বিও অ্যাকাউন্টধারীর সংখ্যা ৫০ লাখে উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু ওইসময় শেয়ারবাজারে বিও অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ১৪ লাখের মতো। ২০১০ সালে শেয়ারবাজারে বিও অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ৩৪ লাখ পর্যন্ত উন্নীত হয়েছিল। কিন্তু একের পর এক দরপতনে এখন বিও অ্যাকাউন্টের সংখ্যা নেমে এসেছে ২৭ লাখে। ধ্বসের পর শেয়ারবাজার সঙ্কটে নিপতিত হলেও পরিস্থিতি উত্তরণে সরকারের পক্ষ থেকে ২০১১ সালে কিছু উদ্যোগ থাকলেও, ২০১২ সালে তার কোনো কিছুই ছিল না। এ কারণে ২০১২ সালের শেষে সূচক আরও কমে খাদের কিনারে দাঁড়িয়েছে শেয়ারবাজার।

সরকারি কর্মকর্তাকর্মচারীরা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে পারবে নামন্ত্রিসভার এমন সিদ্ধান্তে গেল বছরের শুরুতেই বাজারে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। ১৬ জানুয়ারি শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার এ সিদ্ধান্তের পরদিন বড় ধরনের দরপতনের আশঙ্কায় ১৭ জানুয়ারি দেশের শেয়ারবাজারে কোনো লেনদেন হয়নি। পরদিন ১৮ জুনায়ারি সকাল সাড়ে দশটায় এসইসি চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেন মন্ত্রিসভায় সরকারি কর্মকর্তাদের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ বন্ধের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানায়। কিন্তু তার এ ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে শেয়ারবাজারে সরকারি কর্মকর্তারা বিনিয়োগ করতে পারবেন না এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। অবশ্য অল্প সময়ের ব্যবধানে আবার সেটি প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। এতে বাজার নিয়ে সরকারের বেতাল অবস্থা ও সমন্বয়হীনতার চিত্রই ফুটে ওঠে।

প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন হয়নি: শেয়ারবাজারের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে ২০১১ সালের ২৩ নভেম্বর ২১ দফা সংবলিত প্রণোদনা প্যাকেজ ও ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিপূরণে স্কিম প্রণয়নের ঘোষণা করা হয়। ৬ মাসের মধ্যে এসব ঘোষণা বাস্তবায়ন করা হবে বলে এসইসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল। সে হিসেবে ২০১২ সালের ২৩ মের মধ্যে প্রণোদনা প্যাকেজ পুরোপুরি বাস্তবায়নের কথা ছিল। কিন্তু তার বেশিরভাগই বাস্তবায়ন হয়নি। এমনকি ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের মার্জিন লোনের সুদ মওকুফের বিষয়টিও নানা জটিলতার মধ্যে পড়ে আটকে রয়েছে। এ কারণে প্রণোদনা প্যাকেজ বিনিয়োগকারীরা বড় ধরনের প্রতারণা হিসেবে বিবেচনা করছেন। শেয়ারবাজারে সঙ্কট কাটাতে গত বছর সরকারের পক্ষ থেকে তেমন কোনো উদ্যোগ ছিল না। প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা ও তা বাস্তাবায়নে ব্যর্থতায় বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে না আসায় সরকারের পক্ষ থেকে নতুন কোনো উদ্যোগ ছিল না। তবে বছরের শেষ দিকে এসে এসইসি বাজার মনিটরিংয়ে নতুন সার্ভিল্যান্স সফটওয়্যার চালু করে। এছাড়া সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন অধ্যাদেশ ও আইনের সংশোধনী সংসদে পাস হয়। সংশোধনীর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি ব্যাংকের হিসাব তলব ও নিজেদের জনবল নিয়োগের ক্ষমতা পেয়েছে। এছাড়া প্রাইভেট প্লেসমেন্ট, করপোরেট গর্ভন্যান্স গাইডলাইনসহ বেশ কিছু নীতিমালা চূড়ান্ত হয়েছে। তবে মিউচুয়াল ফান্ডের নীতিমালা চূড়ান্ত করতে না পারায় বড় ধরনের সমালোচনার মুখে রয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০১০এর ধ্বসে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, গত বছর তাদের ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়েছে। অধিকাংশ বিনিয়োগকারী তাদের পুঁজির প্রায় সবটুকুই হারিয়েছেন গত বছর। এমনকি যারা নতুন করে এ সময় বিনিয়োগ করেছিলেন, শেয়ারবাজারে ধ্বস অব্যাহত থাকায় তারাও বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন। এ কারণে বিনিয়োগকারীদের আস্থার সঙ্কট আরও তীব্র হয়েছে। এদিকে শেয়ারবাজারে ধ্বস অব্যাহত থাকলেও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাজারের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে আইনের সংস্কার হলেও চলমান সঙ্কট কাটাতে এগুলো যথাযথ ভূমিকা রাখতে পারেনি। সেকেন্ডারি মার্কেটে একের পর এক ধ্বসের কারণে প্রাইমারি মার্কেটেও বড় ধরনের মন্দা দেখা দেয়। বেশ কয়েকটি কোম্পানির প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে কাঙ্খিত সাড়া পাওয়া যায়নি। এ কারণে তিনটি কোম্পানির আইপিও অনুমোদন দেয়ার পর সেগুলোর চাঁদা সংগ্রহের তারিখ পিছিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ১৯৯৬ সালে শেয়ারবাজারে বড় ধরনের ধ্বস নামলেও প্রাইমারি বাজার পরিস্থিতি ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু এবারের ধ্বসে শুধু সেকেন্ডারি মার্কেটই নয়, প্রাইমারি মার্কেটেও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। আবার আইপিওতে বরাদ্দ মূল্যের চেয়ে কম মূল্যে সেকেন্ডারি মার্কেটে শেয়ার কেনাবেচার ঘটনা ঘটেছে। ফলে আইপিওতে শেয়ার বরাদ্দ পেয়েও লোকসান গুনতে হয়েছে বিনিয়োগকারীদের। এ কারণে শেয়ারবাজার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের হতাশাই শুধু বেড়েছে।

শেয়ারবাজারে লেনদেনে স্বচ্ছতা বাড়াতে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) নতুন সার্ভিল্যান্স সফটওয়্যার চালু করে। ওইদিন শেষ ১০ মিনিটে ২ হাজার ৯৭১টি লেনদেন পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং এতে ২৪৭টি লেনদেনকে সন্দেহজনক বলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সতর্কবার্তা দেয় সফটওয়্যার। অর্থাৎ মাত্র ১০ মিনিটের লেনদেনে ৮ শতাংশ লেনদেনই ছিল সন্দেহের তালিকায়। এ থেকে শেয়ারবাজারে কারসাজির একটি চিত্র ফুটে উঠেছে। কিন্তু জনবল সঙ্কটের অজুহাত দেখিয়ে সন্দেহজনক লেনদেনের অধিকাংশই তদন্ত করছে না এসইসি। ফলে কারসাজির চক্রের হোতারা বারবারই পার পেয়ে যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, কারসাজির সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালীরা জড়িত। আর এ কারণে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয় না।শেয়ারবাজারে কারসাজির পাশাপাশি সম্প্রতি রাজনৈতিক অস্থিরতায় শেয়ারবাজারে নতুন করে আরেক দফা ধ্বস শুরু হয়েছে। গত এক মাসের ব্যবধানে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাধারণ সূচকের পতন হয়েছে প্রায় ৫০০ পয়েন্টের মতো। অবশ্য গত দু’দিন বাজারে সূচক কিছুটা বাড়লেও রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্থিরতা বিরাজ করায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বড় ধরনের উদ্বেগ উৎকণ্ঠা কাজ করছে। সূচক পতনের পাশাপাশি আর্থিক লেনদেনেও বড় ধরনের ধ্বস নেমেছে। লেনদেন নেমে এসেছে ২০০ কোটি টাকার নিচে। এ ধ্বসে নতুন করে যারা বিনিয়োগ করেছিলেন তারাও বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন। শুধু সাধারণ বিনিয়োগকারীরাই নয়, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাও লোকসান গুনতে গুনতে অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়েছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, শেয়ারবাজারে গত দু’বছরে অব্যাহত ধ্বস থাকায় ২০০৯১০ সালে অতিমূল্যায়িত বাজারে মার্জিন লোন নিয়ে যেসব বিনিয়োগকারী বিনিয়োগ করেছিলেন তাদের অবস্থা সবচেয়ে করুণ। তাদের অধিকাংশেরই ইক্যুয়িটি অনেক আগেই ঋণাত্মক হয়ে গেছে। অর্থাৎ তাদের পোর্টফোলিওতে থাকা শেয়ার বিক্রি করেও তারা মার্জিন লোন শোধ করতে পারবেন না। শেয়ারবাজারে ধ্বস অব্যাহত থাকায় দিন দিন তাদের ঋণের সঙ্গে যোগ হচ্ছে সুদের বোঝা। এ ধরনের বিনিয়োগকারীরা অনেকেই এখন আর বাজারমুখীও হচ্ছেন না। অপরদিকে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অবস্থাও সাধারণ বিনিয়োগকারীর মতো। মার্চেন্ট ব্যাংক এবং ব্রোকারেজ হাউসগুলোর প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার মার্জিন লোন আটকা পড়েছে। মার্জিন লোন আদায় করতে না পারায় এসব প্রতিষ্ঠান বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ব্যাংকগুলোও শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে বিপাকে পড়েছে।।