Home » রাজনীতি » আবারও বিপজ্জনক পথে সরকার

আবারও বিপজ্জনক পথে সরকার

জাকির হোসেন

hefajote islamসম্প্রতি দেশের রাজনীতিতে আবারো বিভিন্ন ইসূতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে কয়েকটি ধর্মীয় রাজনৈতিক দল ও ধর্মীয় অরাজনৈতিক সংগঠন। তারা তাদের দাবি পূরণে এখন নানা কর্মসূচি পালন করছে এবং ক্ষেত্র বিশেষে চরম রাজনৈতিক অরাজক অবস্থার সৃষ্টি করছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশএর ৫ দফা, ধর্মীয় সংগঠন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের ১২ দফা, হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা এবং রাজনৈতিক দল ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ ২১ দফা ঘোষণা করেছে এবং দাবি পূরনে লংমার্চ, রোড মার্চ, মহাসমাবেশের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গণকে আবার উত্তপ্ত করছে। তবে নানা ভাবে খোজ নিয়ে জানা গেছে এসব রাজনৈতিক দল এবং জোটের সঙ্গে সরকারের বিভিন্ন মহলের যোগাযোগ সক্রিয় রয়েছে। আন্দোলনরত দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে আলাপ কালেও এ ইঙ্গিত মিলেছে। তরিকুল ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশার মাইজভান্ডারী কাছে তাদের বর্তমান আন্দোলনের ব্যাপারে জানাতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, অসাম্প্রদায়িক এবং গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাসী। যেসকল রাজনৈতিক দল মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে তাদের সঙ্গে আমাদের অতীতে যেমন যোগাযোগ ছিল, তেমনি বর্তমানেও আছে এবং ভবিষতেও থাকবে।’

অন্যদিকে, হেফাজতে ইসলামের ঢাকা মহানগরের নেতা মাওলানা সাইফুল্লাহ ওয়াছেল বলেন, সরকারের সঙ্গে আমাদের আলোচনার পথ খোলা রয়েছে। সরকার চাইলে নির্দিষ্ট ইস্যূতে আল্লামা শাহ আহমদ শফীর সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন। এদিকে ক্ষমতাসীন মহাজোটের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ‘নানা ইস্যুতে হেফাজতে ইসলামের নেতাদের সঙ্গে সরকারের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। ’

এ প্রেক্ষিতে দেশের বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী এবং সমাজচিন্তকেরা উদ্বেগ করে বলেছেন, আবারো বিপদজ্জনক পথে হাটছে সরকার। এর পরিনাম কারো জন্যই শুভ হবে না।

এ ব্যাপারে প্রখ্যাত সমাজচিন্তক, প্রাবন্ধিক, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, সমস্ত বিষয়গুলো ঘটছে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। নির্বাচন যতই এগিয়ে আসবে ততই এটা বাড়বে। নির্বাচনের বিষয়টি অমীমাংসিত থাকার কারণেই সহিংসতা বাড়ছে। এটা যদি মীমাংসিত হতো তবে আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ সকল রাজনৈতিক দল নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতো। কিন্তু নির্বাচনের বিষয়টি মীমাংসা সহজে হবে বলে মনে হয় না এবং না হলে কি হবে সেটা এখন বলা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, আমাদের রাজনীতি দুইভাগে বিভক্ত। একটি ক্ষমতার রাজনীতি, আর অন্যটি মুক্তির রাজনীতি। ক্ষমতার রাজনীতি যারা করে তারা সবাই ধর্মকে কমবেশি ব্যবহার করে। আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি কেউই অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী নয়। তিনি বলেন, বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে ‘জনজাগরণ মঞ্চের’ আন্দোলনের ভিত্তিতে। জনজাগরণ মঞ্চের কর্মসূচি যদি শুধুমাত্র যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতো তাহলে হয়তো এমনটি হতো না। কিন্তু জনজাগরণ মঞ্চ অনেক দূর এগিয়ে যেতে চাইলো। তখন বিভিন্ন ইসলামিক রাজনৈতিক দল ও গ্রুপ তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলো।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. আকবর আলী খান বলেন, কোনো কিছু পরিবর্তন করতে হলে তা শাসনতান্ত্রিক উপায়ে করতে হবে। এ ধরনের চরম পন্থা তখন প্রাধান্য পায় যখন দেশে একটি বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি হয়। দেশে যদি বর্তমান অবস্থা বজায়ে থাকে তবে এ ধরনের দাবি আরো বিভিন্ন পক্ষ থেকে উঠবে। তাই এ ব্যাপারে এখনই আমাদের শতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

সুশাসনের জন্য নাগরিক(সুজন)-এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, বর্তমান সময়ে বিভিন্ন ইসলামিক রাজনৈতিক দল ও গ্রুপ তাদের দাবি আদায়ে নানারকম কর্মসূচি পালন করছে। তাদের সবগুলো দাবিই রাজনৈতিক। বিভিন্ন বিষয়ে এদের মধ্যে মতভিন্নতা এবং দ্বন্দ্ব থাকলেও তারা সবাই ইসলামিক রাষ্ট্র কায়েম করতে চায়। তিনি বলেন, বিভিন্ন প্রকার মতবিরোধ এবং দ্বন্দ্ব থাকা সত্ত্বেও ইসলামিক রাজনৈতিক দল এবং গ্রুপগুলো এক পর্যায়ে ইসলামিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হতে পারে। এতে অসাম্প্রদায়িক এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ হুমকির মুখে পড়তে পারে। তাই বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর মধ্যে আলোচনা এবং ঐক্য প্রয়োজন।প্রধান বিরোধী দল বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের এবং আওয়ামী লীগের সঙ্গে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের আলোচনা এবং ঐকমত্য জরুরি।

উল্লেখ্য, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সংবিধানের মূলনীতিতে “আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস পুনর্বহাল”, আল্লাহ ও রাসূল (সা.)-এর অবমাননাকারীদের শাস্তির আইন পাস, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন, সুশাসন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, সন্ত্রাসদুর্নীতির মূলোৎপাটন, দেশের স্থায়ী শান্তি ও মানবতার সার্বিক মুক্তি ও সমৃদ্ধশালী কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনের নিমিত্তে ইসলামী শাসনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যজনমত গঠনে রোডমার্চসহ নানা কর্মসূচি দিয়েছে।

অন্যদিকে, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত, ইসলামিক ফ্রন্ট এবং হেফাজতে ইসলাম মতাদর্শিক দিক দিয়ে দুই পক্ষের দুই মেরুতে অবস্থান। এখন দুই পক্ষই সরকারকে ১২ ও ১৩ দফা দিয়ে তা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে। একদিকে হেফাজত অন্যদিকে আহলে সুন্নাত। দুই পক্ষই ধর্মীয় অনুভূতির কথা বলছে। চার পক্ষের দাবি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আহলে সুন্নাত ও ইসলামিক ফ্রন্টের দাবির মধ্যে অনেক দফার মিল রয়েছে। গণজাগরণ মঞ্চ, আহলে সুন্নাত ও ইসলামিক ফ্রন্ট যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবি করছে। হেফাজত এ দাবি সম্পর্কে নিশ্চুপ। চার পক্ষই আল্লাহর ওপর আস্থা ও পূর্ণ বিশ্বাস রাখার বিষয়টি সংবিধানে সংযোজন করার দাবি জানায়। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে দেশকে চলমান গভীর সংকট থেকে উত্তরণের পদক্ষেপ গ্রহণ, দেশ, জাতি ও মানবতার বিরুদ্ধে ধ্বংসাত্মক এবং নৈরাজ্যকর কর্মসূচি হরতাল বন্ধে জাতীয় সংসদে আইন পাসেরদাবি করছে। হেফাজতের এ ধরনের দাবি নেই। তবে আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা, ইসলাম ও নবী (সা.) নিয়ে কটূক্তিদের সর্বোচ্চ শাস্তি, কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণার কথা দুই পক্ষের দাবির মধ্যেই রয়েছে। হেফাজত সম্পূর্ণ নারী নীতি বাতিলের দাবি করলেও আহলে সুন্নাত কেবল কোরআনসুন্নাহ বিরোধী অংশ বিশেষ বাদ দেওয়ার দাবি জানায়। একই দাবি ইসলামিক ফ্রন্টেরও। আহলে সুন্নাত স্বাধীনতাসার্বভৌমত্বের সরাসরি বিরোধিতাকারী জামায়াতে ইসলামী নিষিদ্ধ, যুদ্ধাপরাধের বিচার দাবি করলেও হেফাজত এ দাবি করে নাই। শাহবাগের আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত সবাইকে ইসলাম বিদ্বেষী ও মুরতাদ মনে করে না ইসলামিক ফ্রন্ট ও আহলে সুন্নাত। তারা মনে করে, যারা ব্লগে ইসলাম ও নবী (সা.) নিয়ে কটূক্তি করেছেন চিহ্নিত সেই সব ব্লগাররাই ইসলাম বিদ্বেষী। পক্ষান্তরে, হেফাজতে ইসলাম মনে করে শাহবাগ আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী সবাই স্বঘোষিত নাস্তিকমুরতাদ।।

১টি মন্তব্য

  1. confusing. writer tried to be impartial with his presentation by miss measuring torikoti, ahale badat & front demand with hefazot demands. these two alliance are not equal from people participation perspective.  Yes, Govt. is creating new plot for the elongation of its time but by playing torikoti, ahali & jagoroni drama who have very few people base will not back up govt.
    we see these many demands from many righteous islami parties (as Quran & Sahi hadith)  as the waken up call for muslim. we see the participation of our country men for these demands is a demand to live life as their belief. these demands presented democratically. Myjvandari, ahale badati, shabaghi demands though presented democratic way but these demands will not got long life as they are acting to oppose Total Islam.