Home » মতামত » লন্ডভন্ড জনজীবন এবং শাসকদের হেফাজত

লন্ডভন্ড জনজীবন এবং শাসকদের হেফাজত

ফারুক আহমেদ

violenceদেশ ভাল নেই। দেশের মানুষ ভাল নেই। ক্ষমতার অন্যায় সুবিধা প্রাপ্তরা ছাড়া দেশের যে কোন মানুষের কাছে তার জীবনের কথা জিজ্ঞাসা করলে এই দুটি কথা অবশ্যই বলবেন। ভিন্ন ভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষের অবস্থান অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন সমস্যা থাকে। এসব সমস্যার মধ্যে পারষ্পরিক সম্পর্কও থাকে।কিন্তু এখন যে কোন শ্রেণীপেশার মানুষ তাঁর অবস্থান থেকে অবস্থান অনুযায়ী নির্দিষ্ট সমস্যার কথা বলছেন না। বলতে পারছেন না। অবস্থা এমন হয়েছে যে,দীর্ঘদিন ধরে ভিন্ন ভিন্ন অসুখে ভোগা সকল মানুষের গায়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার মত। এ অবস্থায় নিজ নিজ অসুখের কথা বলার তাদের আর কোন উপায় নেই।অন্য সকল অসুখকে চাপা দিয়ে রেখে এখন তারা পুড়ে যাওয়া থেকে নিজেদেরকে রক্ষা করতে বাধ্য। ধর্মবর্ণশ্রেণীপেশা নির্বিশেষে বাংলাদেশের মানুষের ওপর আগুন চাপিয়ে দিয়েছে। এই আগুন এখন চারদিকে দাউদাউ করে জ্বলছে। জ্বলছে আর ছড়িয়ে পড়ছে। এ আগুনের লেলিহান শিখা গ্রাস করছে শহরগ্রামের সকল জনপদকে। গ্রাস করছে মানুষপ্রকৃতিপরিবেশ সব কিছুকে।

একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে শাসন ক্ষমতায় কারা থাকবেন তার নির্ধারণ ও পরিবর্তণ হওয়ার কথা জনগণের দ্বারা।এর জন্য জনগণের সামনে থাকতে হয় রাজনীতি এবং সেই রাজনীতি ধারণ করে রাজনৈতিক সংগঠন।রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর থাকতে হয় জনগণের জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত যেমন, অর্থনীতি, শিক্ষা,স্বাস্থ্য,নিরাপত্তা,সেবা ইত্যাদি বিষয়ের কর্মসূচী এবং সেগুলো তারা কিভাবে বাস্তবায়ন করতে চায় তার সকল বাস্তবতা এবং সম্ভাবনার যুক্তি। এসবের মধ্যদিয়ে জনগণ একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য রাষ্ট্র ক্ষমতা যাঁরা পরিচালনা করবেন তাঁদের নির্বাচন করবেন।এই হলো একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের প্রাথমিক কথা।কিন্তু বাংলাদেশের এখন এমনই অবস্থা যে, এই প্রাথমিক কথা এখন কেতাবেও যেন নেই।

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে,এই জনপদের মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে লড়াই করেছে পরাধীনতার বিরূদ্ধে।পরাধীন থাকলে গণতন্ত্রের প্রাথমিক শর্তটুকুও পূরণ হতে পারে না।একটি গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই ১৯৭১ সালে পরাধীনতা থেকে মুক্তির জন্য এ দেশের মানুষ চূড়ান্ত লড়াই লড়েছিলেন এবং পরাধীনতা থেকে দৃশ্যতঃ মুক্তি লাভ করেছিলেন।তাই মুক্তি যুদ্ধের চেতনা বলতে যা বুঝায় তার মূল কথাটি হলো একটি গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার চেতনা।মুক্তি যুদ্ধের মধ্যদিয়ে স্বাধীন হয়ে নামের দিক থেকে ‘গণপ্রজাতন্ত্র’ নামের একটি রাষ্ট্র গঠন হলেও গঠনকালীন সময়েই যারা শাসন ক্ষমতায় ছিলেন তারা গণতন্ত্র চর্চার জন্য কোন শর্তই সৃষ্টি করেননি।উপরন্তু গণতন্ত্র চর্চার প্রাথমিক শর্তটুকুতেও যত রকমের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা যায় তারা তাই করেছেন।এর কারণ রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব। যারা স্বাধীন রাষ্ট্রে রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছিলেন তাদের এই দেউলিয়াত্বের কারণে তারা রাষ্ট্র ক্ষমতাকে নিজেদের জন্য চীরস্থায়ী বন্দোবস্ত মনে করেছিলেন। সেখানেই শাসক শ্রেণীর রাজনৈতিক বিকাশ স্থায়ীভাবে রূদ্ধ হয়ে এক ধরণের রাজনৈতিক জমিদারী প্রথার উদ্ভব ঘটেছিল।এই প্রথাই এখনও পর্যন্ত চলছে। জমিদারী হলেও যেহেতু রাজনৈতিক জমিদারী তাই মানুষের সঙ্গে তার সম্পর্ক আছে।নিছক প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের মধ্যদিয়ে ক্ষমতার হাতবদল সম্ভব হয় না।রাজনৈতিক দল রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাওয়ার জন্যই রাজনীতি করে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তা হতে হয় জনগণের সামনে তাদের জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত রাজনৈতিক কর্মসূচী হাজির করার মাধ্যমে।যখন জনগণের জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত কর্মসূচী রাজনৈতিক দলগুলোর থাকে না তখন রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য আক্ষরিক অর্থেই মারামারি ছাড়া আর কোন কর্মসূচী তাদের থাকে না।

জন্মকালীন শাসক শ্রেণীর দেউলিয়াত্বের ঐতিহ্য বজায় রেখে এ পর্যন্ত একটি বারের জন্যও জনগণের জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত রাজনৈতিক কর্মসূচীর মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ক্ষমতার বদল বা পুনঃপ্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়নি।সব সময়ই সংঘাতময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।শাসক শ্রেণীর দলগুলো এই সংঘাতময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করে জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ তাদের নিজেদের জীবনের সমস্যাগুলো নিয়ে সংগঠিত হতে পারেননি। বার বার মানুষের জীবনে বিপর্যয় সৃষ্টি করে তাদেরকে শাসক শ্রেণীর মল্লযুদ্ধের ময়দানে এমন ভাবে টেনে আনা হয়েছে যার সঙ্গে জনগণের নিজেদের জীবনের কোন সম্পর্ক নেই। জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত না হলেও শাসক শ্রেণীর দ্বারা বিপর্যস্ত হয়ে জনগণকে তাদের সংঘাতে জড়াতে বাধ্য হতে হয়েছে এবং এ জন্য জনগণকে অনেক মূল্য গুনতে হয়েছে।অনেক সময় জনগণের গোনা মূল্যেও শাসকদের সংকট মীমাংসা সম্ভব হয়নি।তাদের ভাষায় তৃতীয় শক্তিকে সংকটের সমাধান করতে হয়েছে।

শাসক শ্রেণী যেভাবে বিপর্যস্ত করে, গায়ে আগুন ধরিয়ে জনগণকে তাদের ঝগড়াঝাটির ময়দানে তাড়িত করে নিয়ে আসে, জীবনজীবিকার সঙ্গে সম্পর্ক না থাকলেও জনগণ সেখানে নিষ্ক্রীয় দর্শক থাকে না।বিপর্যস্ততা থেকে আশু রক্ষার কথা চিন্তা করে হোক বা গায়ের আগুন নেভানোকেই প্রথম কর্তব্য মনে করেই হোক জনগণকে কারো পক্ষ নিতে হয়।এ পর্যন্ত যা দেখা গিয়েছে তাতে বেশিরভাগ জনগণই ক্ষমতার বাইরের অংশের পক্ষই নেয়।এর কারণ হলো যারাই ক্ষমতায় যায় তারা যহেতু এমন এক প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়েই ক্ষমতায় যায় বলে নিজেদেরও একটি হিসাব থাকে।ফলে যত ব্যাপক ভোটেই তারা ক্ষমতায় যাক না কেন নিজেদের ওপর কখনোই আস্থা রাখতে পারে না।প্রথম থেকেই তাদের আস্থার সংকট দেখা দেয় পরবর্তীতে সুষ্ঠুভাবে ক্ষমতায় পূনঃপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার ক্ষেত্রে।আর লুটপাট এবং লুটপাটের জন্য জনস্বার্থবিরোধী কর্মকান্ডের আকাঙ্খাতো এসব দলগুলোর আগের থেকেই থাকে।তাই শুরু থেকেই তাদেরকে জগণের সামনে তাদের জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সেবা ইত্যাদির কোন কর্মসূচী হাজির না করে ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার জন্য বিভিন্ন রকমের কৌশল অবলম্বন করতে হয়।এর আগের বারে বি,এন.পি’র নের্তৃত্বে চার দলীয় জোট সরকারের মাথায় তত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের মতলব আসেনি।তারা সেসময় তাদের প্রভাবাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং নির্বাচন কমিশন গঠনের মতলবের মধ্যে থেকেছিল।শেষ পর্যন্ত সেটাও সফল হতে পারেনি। ওয়ান ইলেভেনের সৃষ্টি হয়েছিল।

সে সময় উভয় পক্ষ থেকে জনজীবনে এক বিপর্যস্ত পরিস্তিতি সৃষ্টি করা হয়েছিল।এই পরিস্থতির মধ্যদিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ জনগণের সামনে অনেকগুলো প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। বিপর্যস্ত জনগণ আশু বিপর্যয় কাটাতে আওয়ামীলীগের নের্তৃত্বে মহাজোটকে ব্যাপকভাবে ভোট দিয়েছিল।ক্ষমতায় বসার পর তারা তাদের কর্মকান্ডের মধ্যদিয়ে প্রমাণ করেছে জনগণের কাছে তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল শুধুই নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্য। বর্তমান সরকারের দেয়া প্রতিশ্রুতির একটিও তারা রক্ষা করেনি।শুরু থেকেই ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার জন্য জনস্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কহীন কৌশলগুলো তারা গ্রহণ করতে থাকে।শাসক শ্রেণীর দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শেকড়ওয়ালা এবং শক্তিশালী দল হচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।তাই এদের কৌশল গ্রহণ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহার করার ক্ষমতা অন্য অংশের চেয়ে অনেক বেশি পরিপক্ক। জাতীয় সংসদ থাকলেও এবং সেখানে তাদের বিপুল সংখ্যাগিরষ্ঠতা থাকলেও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলোর জন্য তারা শুরু থেকেই সর্বোচ্চ আদালত ব্যবহার করতে থাকে। সংসদকে রাজনৈতিক সমস্যা সমাধান এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে জনস্বার্থবিরোধী নীতি নির্ধারণী এবং বিরোধী দলগুলোর মধ্যে ঝগড়াঝাটি আর খিস্তিখেউড়ের প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হয়।সংসদ পরিণত হয় কোন আন্দোলন যাতে জনস্বার্থে সংগঠিত হতে না পারে তার এবং গড়ে ওঠা আন্দোলন দমনের নীতি নির্ধারণী প্রতিষ্ঠানে।জনস্বার্থে যে আন্দোলনই সংগঠিত হতে গিয়েছে সংসদে তা নিয়ে আলোচনা, এমনকি তার বিরূদ্ধে কোন যুক্তি উপস্থাপনও সংসদ থেকে কখনোই করা হয়নি।খিস্তিখেউড় আর গালাগালির মধ্য দিয়ে সংসদ বুঝিয়েছে এসব আন্দোলন করার অধিকারই যেন জনগণের নেই। সাম্রাজ্যবাদী লুটেরা প্রতিষ্ঠান এশিয়া এনার্জি এবং উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন,দেশের সম্পদকে বিদেশীদের হাতে তুলে দেওয়ার প্রতিবাদ করতে গিয়ে তৎকালীন বি.এন.পি সরকারের সময় পুলিশের গুলিতে মানুষকে জীবন দিতে হয়েছিল।সেসময় আওয়ামীলীগ এবং তার নেত্রী শেখ হাসিনা জনগণের পক্ষে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু ক্ষমতায় যাওয়ার পর এ নিয়ে সংসদে কোন আলোচনা না করে সেখান থেকে তেল, গ্যাস রক্ষা জাতীয় কমিটির আন্দোলনকে গালাগালির মধ্যদিয়ে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে।এ নিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর বেপরোয়া পুলিশি নির্যাতন করা হয়েছে।

ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই তারা তাদের অন্তঃসারশূন্য প্রতিশ্রুতি এবং তাদের দ্বারা গৃহীত জনস্বার্থবিরোধী নীতি গ্রহণের মধ্য দিয়ে বুঝতে পারে সুষ্ঠু কোন নির্বাচনের মধ্যদিয়ে তারা ক্ষমতা ধরে রাখতে পারবে না।তাই নির্বাচনের জন্য যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি সৃষ্টি করা হয়েছিলতার সকল শর্ত বজায় থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ তা বাতিলের পদক্ষেপ নেয়।এমন একটি রাজনৈতিক বিষয়ের সিদ্ধান্তের জন্য সংসদে আলোচনা না করে আদালতের শরণাপন্ন হয়ে তারা নিজেরাই সংসদকে রাজনৈতিকভাবে অকার্যকর করেছে। আদালতের রায়ের মাধ্যমে তারা দেখাচ্ছে এ বিষয়ে তাদের আর কিছুই করার সুযোগ নেই।

বি.এন.পি সহ বর্তমান ক্ষমতা বহির্ভূত অংশের সামনে জনস্বার্থের কোন রাজনৈতিক কর্মসূচী নেই। যেমনটি ছিল না এর আগে ক্ষমতার বাইরে থাকার সময় আওয়ামী লীগসহ অপর অংশেরও। বর্তমানে বি. এন.পি সহ এর নের্তৃত্বাধীন দলগুলোর সামনে এমনসব কর্মসূচী সরকার হাজির করছে যার মধ্যদিয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হলেও এর সঙ্গে জনগণের জীবনজীবীকার কোন সম্পর্ক নেই।এখন সব সমস্যার মূলে যে সমস্যা দেখা যাচ্ছে তা হলো নির্বাচন কিভাবে হবে তা নিয়ে সমস্যা।এই সমস্যার সমাধান জনগণকে জিম্মি করে আওয়ামীলীগ এবং জামায়াতে ইসলামী একবার করেছিল। তখন বি.এন.পি ছিল এর বিপক্ষে।আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় যাওয়ার পর এখন সেই সমস্যাই নতুন করে সৃষ্টি করেছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে।মূল এই সমস্যাকে কেন্দ্র করেই প্রতিনিয়ত একের পর এক নতুন নতুন সমস্যা সৃষ্টি করা হচ্ছে।এসব সমস্যা দ্বারা সবচেয়ে আক্রান্ত এবং ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন দেশের জনগণ।বিশেষ করে উৎপাদন না করলে যাদের জীবন চলে না সেই জনগণ।ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্থ হলে তার সমস্ত উসুল তুলে নেয় সাধারণ মানুষদের কাছ থেকে। দীর্ঘস্থায়ী এ সমস্যার ফলে সাধারণ মানুষের নিজেদের চেনার এবং সংগঠিত হওয়ার কোন উপায় নেই।অসংগঠিত এসব সাধারণ মানুষকে যেমন খুশি শোষণ করা সম্ভব এবং বাংলাদেশে তাই হচ্ছে। অর্থ এবং শ্রমশক্তি নিংড়ে দিয়ে উৎপাদিত ফসল কৃষকের কাছে বোঝা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। প্রায় বিনামূল্যে এসব ফসল তারা দিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে। অপরদিকে শহরের সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে কিছু থাকছে না।দেশী কৃষি পণ্যের দামের চেয়ে বিদেশ থেকে আমদানী করা একই কৃষিপণ্যের দাম বেশি।এই অবস্থাকে ব্যাখ্যা করার মত কোন্ অর্থশাস্ত্র আছে? এর থেকেই বাংলাদেশের অর্থনীতির নৈরাজ্যিক দিকটি বুঝা যেতে পারে।

শিক্ষা,স্বাস্থ্য,কৃষি, শিল্প,ব্যবসায়,বিদেশ কোন কিছুর বিষয়ে ভাল বা মন্দ সরকারের কোন নীতি আছে বলেই মনে করার কোন উপায় নেই। সবই যেন হরিলুটের কারবার।এমনই শিক্ষা ব্যবস্থা বিরাজমান যে,বাবা তার সন্তানের জন্য ফাঁস হওয়া প্রশ্ন অনেক দাম দিয়ে ক্রয় করছেন। এ এমনই শিক্ষা ব্যবস্থা যে, বাপ সন্তানের মুখে বিষ তুলে দিতেও দ্বিধা করছেন না।শিক্ষায় উন্নতির গল্প যে কতটা ফাঁপা এবং ধাপ্পাবাজি তা এসব পরিস্থিতিই জানান দেয়।জমির সকল উৎপাদনি শক্তিকে টেনে হিঁচড়ে বের করে জমিকে উৎপাদন ক্ষমতাহীন পতিত বানানোই কৃষিনীতি।জনগণের নিরাপত্তা বলে কোন কিছু আর এই জনপদে নেই। জনগণের দিক থেকে দেখলে নিরাপত্তাহীনতার সবচেয়ে ভয়াবহ দিকটি হলো, যখনই কেউ আক্রান্ত হচ্ছে তখনই সরকারের পক্ষ থেকে তার সমস্ত দায় কারো না কারো ওপর চাপিয়ে দেওয়া।একটি দেশের জনগণের জন্য এর চেয়ে বড় নিরাপত্তাহীনতা আর কি হতে পারে?যারা নিরাপত্তা দেওয়ার মালিক তারাই জনগণের নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে রাজনীতি করছে।ধর্ম,বর্ণ, শ্রেণীপেশা,সংখ্যাগুরু, সংখ্যালঘু কেউই এখানে নিরাপদ নয়।বাংলাদেশে সবচেয়ে নিরাপদ হলো দুষ্কৃতকারীরা।

জনস্বার্থের জন্য সরকারের কোন নীতি না থাকলেও অর্থনৈতিক লুটপাটে তাদের হেফাজতকারী নীতির কোন অভাব নেই। জনপদ, পরিবেশ এবং অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করে তারা উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন,রূপপুর পারমণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প,রামপালে তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প এমনসব জনস্বার্থ এবং পরিবেশ ধ্বংসের নীতি গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করে চলেছে।জনগণকে নিরাপত্তা দানের কোন নীতি না থাকলেও তাদের ওপর চড়াও হওয়ার নীতি,তাদেরকে দমনমূলক নীতির কমতি নেই।জনগণের টাকায় বিনা প্রয়োজনে অস্ত্রক্রয়ের নীতির কমতি নেই।এর কারণ এসব নীতির মধ্যদিয়ে নিজেদেরকে হেফাজত করা যায়। প্রায় বিনা শর্তে ভারতকে করিডোড় প্রদান, টিপাই মুখ বাঁধ,অভিন্ন নদীর পানি বন্টন সহ জনবিরোধী অনেক পররাষ্ট্র নীতি বর্তমানে জনগণের গায়ে ধরিয়ে দেওয়া আগুনের নিচে চাপা পড়ে গেছে। এরা দিশেহারা জনগণকে এক অন্ধকার গহীন কুপের প্রান্তে নিয়ে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। জনগণকে বিপদে রেখে নিজেদেরকে কিভাবে হেফাজত করা যায় এদের সেই পরিকল্পনার মধ্যদিয়েই এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।।