Home » অর্থনীতি » সহিংসতা আর দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিতে অসহায় মানুষ

সহিংসতা আর দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিতে অসহায় মানুষ

আমাদের বুধবার প্রতিবেদন

marketরাজনৈতিক সংঘাত এবং হানাহানির পরিস্থিতিতে লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে যাওয়া দ্রব্যমূল্যের দিকে খুব কমই দৃষ্টি পড়ছে। কিন্তু সাধারণ মানুষ একদিকে রাজনৈতিক সহিংসতা আর অন্যদিকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে দিশেহারা হয়ে পড়ছে। নির্বাচনের আগে দেয়া নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির মধ্যে অগ্রাধিকারের পাঁচটি বিষয়ের প্রথমটিই ছিল দ্রব্যমূল্যে বৃদ্ধি রোধ করা সম্পর্কে। সরকার তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টির প্রতি বরাবরই উদাসীন ছিল। নানা কথা বলা হলেও বাস্তবে তাদের দিক থেকে কখনই কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। বরং প্রথমদিন থেকে সরকার দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির বিষয়টিকে ধামাচাপা দিয়ে উল্টো বলতে শুরু করে, বাজার পরিস্থিতি অতীতের তুলনায় বর্তমানে ভালো আছে। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী এখনও বলছেন, মানুষ ভালো আছে। কিন্তু দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের জীবন এখন সঙ্কটাপন্ন। আর এরই উপরে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ এবং অর্থনীতিবিদরা।

যাত্রাবাড়ীর বাসিন্দা মাহবুব আলম বলেন, চালডাল তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় এমন জিনিস নেই যার দাম বাড়েনি। অথচ ক্ষমতায় আসার আগে ক্ষমতাসীনরাই বলেছিলেন, দ্রব্যমূল্য কমানো হবে। মানুষ এ কথা বিশ্বাসও করেছিল। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে তখন আওয়ামী লীগকে বিশ্বাস করা ছাড়া কি পথ ছিল? কিন্তু ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ এক্ষেত্রে মানুষের সঙ্গে এমন একটা বিশ্বাসঘাতকতা করলো যে, এটা আমাদের চিন্তার মধ্যেও ছিল না।

ঢাকার মগবাজারে বাজার করতে আসা রোজিনা ইসলাম জানান, দ্রব্যমূল্য, বাড়িভাড়া, গাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে সরকার। চাল, ডাল, তেলসহ দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে জনগণের দুর্ভোগ চরমে। দফায় দফায় জ্বালানি তেল, বিদ্যুত্ ও সিএনজির মূল্যবৃদ্ধির কারণে নগরজীবন অসহনীয় হয়ে পড়েছে। আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতিতে জনজীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে। গ্যাস, বিদ্যুত্, পানি সঙ্কট ও যানজটের কারণে নগরজীবন দুঃসহ রূপ নিয়েছে। তাই বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন২০০১ কার্যকর, টিসিবিকে শক্তিশালী ও বাজার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। দ্রব্যমূল্য, বাড়িভাড়া ২ কোটি ভাড়াটিয়া ঢাকাবাসীর জন্য বিষফোঁড়াস্বরূপ। মাসিক আয়ের ৭০ শতাংশ শুধু বাড়িভাড়াতেই খরচ করতে হয়। এতে স্বামীসন্তান নিয়ে কষ্টে দিন কাটাতে হচ্ছে।

খুলনার অধিবাসী কামাল আহমেদ বলেন, বর্তমান যুগে বিশ্বের কোন সভ্য দেশে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের এ ধরণের মূল্য বৃদ্ধি আছে বলে মনে হয় না। বিশেষ করে খাদ্য দ্রব্যের। যদি কোন সুনির্দিষ্ট কারণ থাকে অন্য কথা। দ্রব্যমূল্য যদি স্থিতিশীল না থাকে, আয়ের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ না হয়, হঠাৎ করে কোন কারণ ছাড়াই উর্ধ্বগতি হয় তাহলে সরকার ও ভোক্তা উভয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অতিরিক্ত মূল্য বহন করতে হয় সরকারকে (আমদানী শুল্ক হ্রাস বা মওকুফ করে) অথবা ভোক্তাকে (বেশী দামে কিনে) অথবা উভয়কে। এতে সরকার বঞ্চিত হয় কর থেকে। আর ভোক্তা অতিরিক্ত মূল্য বাবদ বেশি খরচ করে টানাটানির বা অভাবের শিকার হতে হয়। সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় নির্ধারিত ও সীমিত আয়ের ভোক্তারা। যাদের সংখ্যা আমাদের দেশে বেশি। অন্যদিকে, আমরা দেখতে পাই কোন জিনিসের মূল্য বৃদ্ধির ফলে ভোক্তারা যখন দিশেহারা তখন ব্যবসায়ীদের পোয়াবারো। একশ্রেণীর লোকদের হাতে প্রচুর কালো টাকা। জিনিষ পেলেই তারা কিনছেন। মূল্য কোন বিষয় নয়। এইভাবে ব্যবসায়ীদের সুযাগ করে দেয়া হচ্ছে। আর ব্যবসায়ীরাও সুযোগটা নিচ্ছেন। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিষপত্র মজুত করে ইচ্ছামতো দামে বিক্রি করছেন।

সিলেটের অধিবাসী রুবিনা ফেরদৌস বলেন, বাংলাদেশে এখন যেভাবে জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধি হচ্ছে তাতে বিভিন্ন কলকারখানা এবং অফিসে শ্রমিককর্মচারীদের মজুরি ও বেতন দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণভাবে বৃদ্ধি করা দরকার। শুধু একবার বৃদ্ধি করেই যেন সব শেষ হয়ে যায়। এমন মজুরি ও বেতন নীতিনির্ধারণ করা দরকার, যাতে নিয়মিতভাবে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এক বছর অন্তর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে তাল রেখে, তার সঙ্গে সম্পর্কিতভাবে মজুরি ও বেতন বৃদ্ধি করা যায়। উন্নত দেশগুলোতে জিনিসপত্রের নিয়মিত মূল্যবৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে তাল রেখে এভাবেই শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণের ব্যবস্থা আছে। পুঁজিবাদের বিশ্বজোড়া সংকটের কারণে অনেক উন্নত দেশে এখন মজুরি বৃদ্ধি ঠেকিয়ে রাখার জন্য শ্রমিক বিক্ষোভ, শ্রমিকদের সঙ্গে মালিকপক্ষ ও সরকারের সংঘর্ষ হচ্ছে; কিন্তু তবু সাধারণভাবে এসব দেশে এ নিয়ম স্বীকৃত। আমাদের দেশেও ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধির মুখে এ ধরনের নীতিনির্ধারণের প্রয়োজন জরুরি হলেও সরকার ও মালিক পক্ষের কোনো চিন্তাভাবনা এ ব্যাপারে তো নেই, এমনকি শ্রমিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকেও এ ধরনের দাবি মালিক পক্ষ ও সরকারের কাছে করা হয় না। তারা মাঝে মধ্যে শুধু মজুরি বৃদ্ধির দাবি ও সেই দাবির ভিত্তিতে কিছু কিছু আন্দোলন করা ছাড়া আর কিছুই করেন না।

যশোরের আবদুল কাদের জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধি ঠেকিয়ে রাখার একটি পরিচিত ও পরীক্ষিত উপায় হচ্ছে রেশনিং ব্যবস্থা চালু। বাজার অর্থনীতিতে জিনিসপত্রের মূল্য চাহিদা ও সরবরাহের ওপর নির্ভর তো করেই; উপরন্তু নানা রকম ফন্দিফিকির করে বেশি মুনাফার জন্য জিনিসপত্রের দাম কৃত্রিম উপায়ে বৃদ্ধি করা হয়। নিত্যপ্রয়োজনীয় কিছু জিনিস রেশনের মাধ্যমে সরবরাহ করলে এসব জিনিসের মূল্য অবাধে ও বেপরোয়াভাবে বৃদ্ধি করা সম্ভব হয় না। এ কারণে ব্রিটিশ আমলে ও পাকিস্তানি আমলের গোড়ার দিকেও চাল, ডাল, তেলসহ কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস শুধু শহর এলাকাতেই নয়, গ্রামেও রেশনে দেয়ার ব্যবস্থা ছিল। এ ছাড়া রেশনের বিশেষ ব্যবস্থা ছিল অনেক শিল্প এলাকায় শ্রমিকদের জন্য। বাংলাদেশে এখন এই রেশন ব্যবস্থার কোনো অস্তিত্ব নেই। কিন্তু অস্তিত্ব না থাকলেও চাল, ডাল, তেল, চিনি ইত্যাদি রেশনে দেওয়ার ব্যবস্থা ছাডা অবাধ দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির মুখে মানুষের জীবনধারণ করাই হয়ে দাঁড়াচ্ছে এক অসম্ভব ব্যাপার। এই পরিস্থিতিতে কারখানার শ্রমিকদের জন্য রেশন ব্যবস্থা এখন অপরিহার্য হয়েছে। তাদের যে মজুরি দেওয়া হয় তা দীর্ঘদিন পর সামান্য বৃদ্ধি হলেও তাতে অবস্থার কোনো উন্নতি হয় না। তবে কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য, কাপড় ইত্যাদি রেশনে দেওয়ার ব্যবস্থা হলে এই পরিস্থিতি অনেকখানি সহনীয় হওয়া সম্ভব। শ্রমিকদের রেশন দেওয়ার ব্যবস্থা কোনো নতুন বা অভিনব ব্যাপার নয়। এ ব্যবস্থা ব্রিটিশ ও পাকিস্তানি আমলেও বিভিন্ন কলকারখানায় মজুরদের জন্য ছিল। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে রেশন ব্যবস্থা শ্রমিকদের শ্রম দেয়ার ক্ষমতা বজায় রাখা এবং উৎপাদন চালিয়ে যাওয়ার জন্য অপরিহার্য হয়েছে। এ কাজ নিজে উদ্যোগী হয়ে বাংলাদেশের কোনো সরকারেরই করার মতো চিন্তাভাবনা ও ইচ্ছা নেই।

ঢাকার ফার্মগেটের বাসিন্দা বাজার সম্পর্কে জিয়াউল ইসলাম বলেন, চাল, ডাল, তেল, লবণ, মরিচ, পিঁয়াজ, রসুন, মাছ, তরকারি, চিনি, দুধ ইত্যাদি নিত্যদিনের দরকারি জিনিসের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি জনজীবন দুর্বিষহ করে তুলেছে। সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন রকমের আশার কথা বলা হলেও বাস্তব অবস্থা ভিন্নতর। চাঁদাবাজি আজ নিত্যদিনের ঘটনায় রূপ নিয়েছে। উত্তর জনপদের নীলফামারীর কৃষকের কাছ থেকে কোন পণ্য ক্রয়ের পর তা ঢাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে মহাসড়কে চাঁদা দেয়া, ট্রাক লোডআনলোড করা, খাজনা খরচ এবং পরিশেষে ঢাকার কারওয়ান বাজারে নিয়ে আসার পর সেখানকার পুলিশদের জন্য নির্ধারিত চাঁদা প্রদান করার পর সেই দ্রব্যের দাম দ্বিগুণ হয়ে যায়। বাজারে পণ্যের পাইকারি ও খুচরা মূল্যের মধ্যে ব্যবধান অনেক। বেশি দামে পণ্য বিক্রি হচ্ছে কিনা ও পণ্যে ভেজাল আছে কিনা ইত্যাদি বিষয় দেখার জন্য সরকারের মোবাইল কোর্ট প্রতিনিয়ত মনিটর করবে সেটাই প্রত্যাশিত। যদি সরকারের জোরালো নজরদারি থাকে, তবে পণ্যের দাম স্বাভাবিক থাকবে বলে অনেকের ধারণা। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে দোকানে দোকানে পণ্যের দাম টানানোর বিধান রয়েছে। বাজার মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলেও সরকার বলছে। কিন্তু কাজের কাজ তো কিছুই হয়নি।

গার্মেন্ট শ্রমিক নেত্রী নাজমা আক্তার বলেন, সম্প্রতি চাল, ডাল, তেলসহ সব নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। একদিকে সরকার গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়াতে ব্যস্ত; অন্যদিকে সরকারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ির মালিকরাও বাড়াচ্ছেন বাড়ি ভাড়া। পাশাপাশি পরিবহন ও নিত্যপণ্যের দাম বাড়াতে ব্যবসায়ী ও পরিবহন মালিকরাও মানছেন না কোনো দোহাই। ফলে মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে স্বল্প আয়ের গার্মেন্ট শ্রমিকদের। শ্রমিকদের জীবন মানবেতর হলেও মালিকরা রয়েছেন পুরো বিপরীত অবস্থানে। শ্রমিকের হাহাকারকে সাক্ষী করে তাদের বিত্তবৈভবের বিশালতা দিন দিন বিশালতর হচ্ছে। সরকার থেকে একের পর এক বিভিন্ন সুবিধা আদায়েই তারা ব্যস্ত। শ্রমিকের দিকে তাকানোর ফুরসত তাদের নেই। তিনি বলেন, সরকারের নগদ সহায়তা, ব্যাক টু ব্যাক পদ্ধতিতে শুল্কমুক্ত আমদানি সুবিধা, করমুক্ত রফতানি আয়, স্বল্প সুদের ব্যাংক ঋণ আর সস্তা জ্বালানিসহ নানাবিধ সুবিধা গ্রহণ করেই তারা এ বিত্তের অধিকারী হচ্ছেন। গার্মেন্ট শিল্পে নিয়োজিত ৮৫ ভাগ শ্রমিকের উন্নয়নে সরকার এ সুযোগ দিলেও তা শ্রমিকের উপকারে আসছে না। মালিকরা শ্রমিকদের কথা না ভেবে নিজের পকেট ভরতেই ব্যস্ত।

চট্টগ্রামের বসবাসকারী ব্যাংকার নূরনবী বলেন, আমরা সরকারকে দোষারোপ করে থাকি। যেমন উৎপাদন ব্যয়, কৃষকের মেহনত এবং টাটকা অবস্থায় সরবরাহের জন্য প্রক্রিয়াজাতকরণে খরচের বিষয়টি বিবেচনায় না এনে সব্জির দাম একটু বেড়ে গেলে দোষারোপ করতে থাকি। কোন কোন ক্ষেত্রে আমরা ফড়িয়া বা মিডলম্যানদের দোষারোপ করি। কৃষকেরা সরাসরি সরবরাহ করতে পারে না বা সেই পদ্ধতি গড়ে ওঠেনি বলে গ্রাম থেকে ছোট ছোট ফড়িয়ারা কষ্ট করে পণ্য সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাত করে কিছু মুনাফা নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। তাছাড়া এদের মধ্যেও রয়েছে প্রতিদ্বন্ধিতা। ইচ্ছামতো মুনাফা করতে পারেনা। অনেক সময় অথবা আন্তজার্তিক বাজারে আমদানিকৃত পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারে মূল্য বৃদ্ধি হলেও আমরা দোষারোপ করি। তবে এ ব্যপারে সরকারেরও উচিত সঠিক কারণসমূহ জনগণের কাছে তুলে ধরা।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী সাইদুল ইসলাম বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে পাইকারি বাজারে কিছু পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে নিত্যপণ্যের বাজারে। তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে যোগ হয়েছে হরতাল। হরতালের সময় রাজধানীতে পণ্যবাহী ট্রাক ঢুকতে পারে না। এখন হরতালের আগের দিন থেকে যানবাহন চলাচল কমে যায়। ফলে পণ্য সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় জিনিসপত্রের দাম বাড়ে।

অর্থনীতিবিদদের প্রতিক্রিয়া

অর্থনীতিবিদ ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, ইতিমধ্যে যে মূল্যস্ফীতি হয়ে গেছে সেটার নেতিবাচক প্রভাব এখন স্থির আয়ের মানুষের উপর রয়ে গেছে। যদি ভর্তুকি কমাতে হয় তাহলে এটা বেশি গ্রহণযোগ্য হবে। দাম বাড়ার ফলে যানবাহনের ভাড়া বৃদ্ধি বা অন্যান্য ক্ষেত্রে যতটুকু যৌক্তিক তার থেকে বেশি যাতে না বাড়ে। চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সরকারের এ সিদ্ধান্ত সঠিক হয়নি। এখন যে রাজনৈতিক অস্থিরতা সেখানে বিরোধীদলের হাতে আরেকটি অস্ত্র তুলে দেয়ারতো দরকার ছিল না।

অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ মনে করেন, জীবনযাত্রার ব্যয়ের তুলনায় মানুষের আয় বেড়েছে একথা সরকার বললেও বাস্তবতা ভিন্ন। পরিসংখ্যান আর বাস্তবতা এক নয়। দেশে প্রচুর অর্থ থাকলেও তা কয়েকজনের কাছেই সীমাবদ্ধ। তাই অথের্র সমবণ্টন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া সরকারের উচিৎ কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করা, অতি দরিদ্রদের জন্য বিশেষ ঋণের ব্যবস্থা এবং ওএমএস সুবিধা সম্প্রসারিত করা।।