Home » বিশেষ নিবন্ধ » এতো মিল তবুও অমিল কেন?

এতো মিল তবুও অমিল কেন?

শাহাদত হোসেন বাচ্চু

garments collapsedবাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রায় আড়াই দশক ধরে দুই প্রধান নেত্রীর কথাবার্তা, আচারআচরন ইত্যাদি অনেক কিছুর মধ্যেই অদ্ভুত ধরনের মিল ও ঐক্য দেখা যাচ্ছে। ক্ষমতায় অবস্থানকালে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাজনীতি, সরকার ব্যবস্থা নিয়ে জনসভা, দলীয় সভা, সমাবেশ, বিদেশী কূটনীতিক, গণমাধ্যমে তারা যে সব কথা বলেন তার মধ্যে খুব বেশি মিল দেখা যায়। আরো অদ্ভুত বিষয় হচ্ছে, বিরোধী দলে যখন তাদের অবস্থান থাকে, সে সময়ও তাদের সকল কথাবার্তা ও আচারআচরনের মধ্যে চমৎকার মিল খুঁজে পাওয়া যায়। তাহলে তাদের দুজনের মধ্যে সমস্যা কোথায়? মূল সমস্যাটি হচ্ছে, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করার উদগ্র বাসনা এবং বিরোধী দলে অবস্থান ও দায়িত্ব পালনে প্রবল অসহিষ্ণুতাতাদের মধ্যে ঐক্য এবং মিলের কারন বলে জনগন মনে করে।

বর্তমান রাজনীতির প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র প্রধান দুই নেত্রী শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়া। এখানেও একটি মিল তাদের রয়েছে, তা হচ্ছেরাজনীতি করে তারা এই নেতৃত্ব অর্জন করেননি। একজন পিতার উত্তরাধিকার সূত্রে, অন্যজন স্বামীর উত্তরাধিকার সূত্রে দলের শীর্ষ নেতৃত্বে অধিষ্ঠিত হতে সক্ষম হয়েছেন। গত দুই দশক ধরে ঘুরেফিরে তারা দুজনেই দেশের প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেত্রী হয়ে আসছেন পালাক্রমে। মাঝখানে সেনা সমর্থিত তত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দুজনে আবার কারাবাস কাটিয়েছেন যদিও আলাদা আলাদা ভবনে। নির্বাচনে হেরে গেলে তারা দুজনেই হয় ‘সুক্ষ’ অথবা ‘স্থুল’ কারচুপি আবিষ্কার করে বসেন। ক্ষমতায় না যেতে পারলে দুজনার কারো সংসদে যাবার প্রতি আগ্রহ থাকে না। সংসদ বর্জনে একে অপরের রেকর্ড ভাঙ্গার চেষ্টায় লিপ্ত থাকেন।

সরকার প্রধান অথবা দলীয় প্রধান হিসেবেও তাদের মধ্যে অদ্ভুত মিল রয়েছে। সরকার এবং দলের মধ্যে তারা দুজনেই এক ও অবিসংবাদিত নেতা। এককভাবে ক্ষমতাবান এবং তারা বলেন তা অবশ্যই পালনীয়। এ বিষয়ে তাদের অবস্থান তর্কাতীত। মুখে এবং রাজনীতির ময়দানে তারা যতই গণতন্ত্রের কথা বলুন না কেন, দল বা সরকারে তার কোন চর্চাই এ যাবতকাল জনগন লক্ষ্য করেনি। তাদের দলে প্রেসিডিয়াম বা স্ট্যান্ডিং কমিটি রয়েছে। যাদেরকে নাকি বলা হয় নীতি নির্ধারক! সাধারন সম্পাদক অথবা মহাসচিবও রয়েছেন। এতোকিছুর পরেও বাস্তব পরিস্থিতি হচ্ছে, দলের মধ্যে যে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহনের ক্ষেত্রে তাদের কথা অলংঘনীয়। সরকারেও তাদের একটি মন্ত্রীসভা থাকে। মন্ত্রীসভার প্রত্যেক সদস্যই জানেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ছাড়া তিনি কিছুই করতে পারেন না। ফলে তারা সবসময়ই একধরনের পুতুলের ভূমিকা পালন করে থাকেন এবং তাকিয়ে থাকেন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের দিকে। কারন তারা জানেন এবং দেখে এসেছেন দলে ও সরকারে নেত্রীদের তোন কথা না শুনলে তার ভাগ্য বিপর্যয় ঘটতে বাধ্য। সুতরাং যে কোন অবস্থানে দুই নেত্রী গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতেও স্বৈরতান্ত্রিক হয়ে ওঠার সকল সুযোগ পেয়ে থাকেন এবং ব্যবহার করে থাকেন। ফলত: রাষ্ট্র ও দলীয় কাঠামোয় তাদের অবস্থান হয়ে ওঠে ঈশ্বরের পরেই।

এই অবস্থায় সরকার পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে এবং এর সঙ্গে সঙ্গেই তত্বাবধায়ক অথবা নির্বাচনকালীন সরকার পদ্ধতির বিষয়টি সামনে চলে আসে। বিশেষত: সাভারের করুন ট্রাজেডির পর পরই প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সংলাপের প্রস্তাব আসাকে অনেকটাই নাটকীয় বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি কোন শর্ত ছাড়াই যে কোন জায়গায় বসে এই আলোচনার প্রস্তাব দেন, যা কিনা তার পূর্ববর্তী অনড় অবস্থানের কিছুটা হলেও পরিবর্তন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। এর প্রতিক্রিয়ায় বিরোধী দলীয় নেত্রীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শুধু মাত্র তত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে আলোচনা হতে পারে। প্রত্যুত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তত্বাবধায়ক সরকার মেনে নিলে আলোচনার প্রয়োজন কি? এর পরপরই গত ৪ মে বিরোধী দলীয় নেত্রী শাপলা চত্বরের সমাবেশে নির্দলীয় তত্ববধায়ক সরকারের দাবী মেনে নেয়ার জন্য সরকারকে ৪৮ ঘন্টা সময় বেঁধে দিয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ বিরোধী দলীয় নেত্রীর আল্টিমেটাম প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, আলোচনা হবে শর্তহীন। এ অবস্থায় আগামি নির্বাচনকালীন সরকার পদ্ধতি কি হবে তা আরেক দফা অনিশ্চয়তার কবলে পতিত হলো।

এই মূহুর্তে বিএনপি’র প্রধান দাবী তত্বাবধায়ক সরকার পুন:প্রতিষ্ঠা এবং একটি নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহন। কারন দলীয় সরকারের অধীনে কোন নির্বাচন হলে সে নির্বাচনটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য হবে না, এ বিষয়টি সকলেরই জানা আছে। ক্ষমতাসীনদের অধীনে এই বাংলাদেশে আজ পর্যন্ত কোন নির্বাচন স্বচ্ছ হয়েছে এ রকম নজির জনগনের জানা নেই। উপমহাদেশের ইতিহাসে ১৯৭০ সালের নির্বাচন ছিলো নিরপেক্ষতার দিক থেকে একটি মাইলষ্টোন। কিন্তু স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৩ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নজিরবিহীন কারচুপি, ভোট জালিয়াতি, কেন্দ্র দখল ও ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সংসদের ২৯২ টি আসন লাভ করে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, ঐ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা খোন্দকার মোশতাক আহমেদ পরাজিত হলেও তাকে জিতিয়ে আনা হয় এবং এর পরিনতি সকলেরই জানা আছে। পরবর্তীকালে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে যে কটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেগুলির একটিও স্বচ্ছ বা নিরপেক্ষ ছিলনা, এ কথাও সকলেরই জানা আছে।

১৯৯০ সালে স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের পতনের পর তিন জোটের রূপরেখা অনুযায়ী প্রথমবার নির্দলীয়, নিরপেক্ষ এবং তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ঐ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিএনপি’র অধীনে মাগুরায় অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি ও জালিয়াতির কারনে তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের বিষয়টি সামনে চলে আসে। এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগও নিজস্ব অভিজ্ঞতা থেকে উপলব্দি করতে সক্ষম হয়েছিল যে, বিএনপি’র অধীনে নির্বাচন করলে জয়ী হওয়া যাবে না। সুতরাং আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামী তত্বাবধায়ক অথবা কেয়ারটেকার সরকারের দাবীতে যুগপৎ আন্দোলন গড়ে তোলে। অনেক ঘটনঅঘটনের মধ্য দিয়ে ১৯৯৬ এর ফেব্রুয়ারীতে অনুষ্ঠিত দলবিহীন নির্বাচনে ক্ষমতাসীন হয়ে বিএনপি সংবিধানে একাদশ ও দ্বাদশ সংশোধনী এনে তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিল পাশ করে এবং সংসদ বিলুপ্ত করে একেই বছরের জুন মাসে পুনরায় সংসদ নির্বাচনের ঘোষনা দেয়।

এরপরে ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালে তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। গোল বাঁধে ২০০৭ সালে রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন তত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হলে। সে সময় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রবল বিরোধিতার মধ্যে সেনা সমর্থিত অদ্ভুত ধরনের তত্ববধায়ক সরকার ক্ষমতাসীন হয়। ২০০৯ সালের নির্বাচনের পরে ক্ষমতাসীন হয়ে সুপ্রীমকোর্টের রায় ঘোষনার পরপরই বর্তমান সরকার তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে সংসদে বিল পাশ করলে আগামি নির্বাচন ব্যবস্থাই সংকটের কবলে পতিত হয়। তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার প্রতি দেশের জনগনের মোটামুটি একটি আস্থা তৈরী হলেও এবং রাজনীতিবিদ, আইনজ্ঞ, সাংবাদিক এমনকি জোটের শরীকদের মতামত উপেক্ষা করে ক্ষমতায় থাকার বাসনা নিয়ে আওয়ামী লীগ এই ব্যবস্থা বাতিল করে দেয়।

তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল হবার পরপরই প্রধান বিরোধী দল বিএনপি’র মূল দাবী হয়ে ওঠে এই ব্যবস্থার পুন:প্রতিষ্ঠা। তারা মনে করে সুপ্রীমকোর্টের রায়ের আদলে আরো দুই টার্ম এই ব্যবস্থাকে বহাল রেখে নিরপেক্ষ একজন ব্যক্তির অধীনে নির্বাচনকালীন একটি নির্দলীয় সরকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জাতীয় সংসদ নির্বাাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে। সুতরাং আওয়ামী লীগকে এটি মেনে নিয়ে আলোচনায় বসতে হবে। সে কারনেই প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সংলাপ আহবানের পরে বিএনপি’র প্রতিক্রিয়ায় এটা স্পষ্ট যে, তারা এ বিষয়টি সুনির্দিষ্ট করেই আলোচনাই বসতে চান। সেক্ষেত্রে সংলাপ বা আলোচনার পরিবেশ তৈরীর উদ্যোগ সৃষ্টি করা একটি জরুরী বিষয়। দুই বিবাদমান পক্ষের মধ্যেই যে কোন আলোচনার জন্যই আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ এই পরিবেশ তৈরী করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।

সংলাপ বা আলোচনা নিয়ে বাংলাদেশের জনগনের তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে। ২০০৭ সালে সংলাপ হয়েছিল দুই প্রধান দলের সাধারন সম্পাদক পর্যায়ে। কিন্তু দুই প্রধান নেত্রীর অনমনীয়তার কারনে তা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছিল। এবারেও প্রধানমন্ত্রীর সংলাপ আহবানের পর এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব, আলোচ্যসূচি, শর্ত ও পূর্বশর্তএসব নানা বিষয় নিয়ে দু’পক্ষ সরগরম হয়ে ওঠার পরে ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম এবং প্রত্যাখ্যান সংলাপকে দুর অনিশ্চয়তায় ঠেলে দিয়েছে।

বর্তমান জাতীয় সংসদে যেহেতু আওয়ামী লীগ তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে দিয়েছে সে কারনে তাকে প্রথমত: সুস্পষ্ট করতে হবে সংলাপের এজেন্ডা কি হবে? কারন এর ওপর নির্ভর করছে আগামি নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দলসহ সব দলের অংশগ্রহন। এক্ষেত্রে আগামি নির্বাচন তত্বাক্ষধায়ক নাকি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে হবে সে বিষয়ে এখনও আওয়ামী লীগ বা বিএনপি কোন কাঠামো বা রূপরেখা প্রণয়ন করেনি। শুধু মাঝে মাঝে ক্ষমতাসীনরা অর্থহীনশর্তহীন সংলাপের কথা ছুঁড়ে দিয়ে জনমনে এবং রাজনীতির ময়দানে একধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। তার প্রমান হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলীয় নেতার প্রতি আহবান জানিয়ে বলেছেন, আসেন, বসি, আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করি।

কোনরকম ক্ষেত্র বা পরিবেশ তৈরী ছাড়া এ ধরনের আহবান মূলত: রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। জাতীয় রাজনীতিতে তত্বাবধায়ক সরকার ইস্যু নিয়ে যে অচলাবস্থা তৈরী হয়ে রয়েছে তা দুর করতে সরকারকে আগে তার অবস্থান স্বচ্ছ ও পরিষ্কার করতে হবে। এখন বিএনপি তত্বাবধায়ক সরকার পুন:প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলন করছে। কিন্তু তত্বাবধায়ক সরকার বহাল থাকতে তারা ২০০৭ সালে নির্বাচন করতে ব্যর্থ হয়েছে বিরোধী দলের অনাস্থার কারনে। আর আওয়ামী লীগ সংলাপের প্রস্তাব দিয়েছে আগামি নির্বাচন কোন ধরনের সরকারের অধীনে হবে সেই অনাস্থা দুর না করেই। আমাদের আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে এটা দেখার জন্য যে, দুই প্রধান দল সংলাপে বসে সমস্যার সমাধান করতে পারবে নাকি আগের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটাবে।

এই লেখাটির শুরুতেই বলা হয়েছিল, ক্ষমতা এবং ক্ষমতার বাইরে এই নেত্রীর এতোই মিল যে, তারা যে কোন প্রকারে ক্ষমতা ধরে রাখতে চান বা ক্ষমতায় যেতে চান। এক্ষেত্রে জনগন, দলের ভেতরকার ইতিবাচক রাজনীতির অনুসারীকারো কোন বিষয়েই তাদের কাছে বিবেচ্য নয়। প্রাচীন সামন্ত রাজাদের মতো তারা এক এবং অদ্বিতীয়। এখান থেকে বেরিয়ে এসে চিন্তাভাবনায়, দল ও রাজনীতিতে এবং সরকার ব্যবস্থায় গনতন্ত্রিক চর্চা না করতে পারলে বাংলাদেশের জনগনের ভাগ্যের পরিবর্তন কখনই সম্ভব নয়।।

১টি মন্তব্য

  1. Bacchu Bhai,
    Thanks for a well articulated write up. Citizen- life is worst affected by the uncompromising attitude of both the sides; definitely question arises about the minimum fundamental rights of a citizen and ownership of the country. Visit of UN under secretary is an indication- how fragile is the situation, this type of visit only takes place where a country heads towards …….(I can not write it !) We are in a situation where only Allah can salvage us.