Home » শিল্প-সংস্কৃতি » ‘জিরো ডার্ক থার্টি’ – একটি অর্ধ-সত্য কাহিনী

‘জিরো ডার্ক থার্টি’ – একটি অর্ধ-সত্য কাহিনী

ফ্লোরা সরকার

zero-dark-thirty-2012-01জিরো ডার্ক থার্টি’ ছবির প্রথম দিকে নির্যাতন সেলে সিআইএ’এর একজন সদস্য ড্যান যখন আল কায়দা বাহিনীর একজন কয়েদী আম্মারকে একটা সন্ত্রাসী আক্রমণ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে উত্তরে ‘রোববার’ ছাড়া কোন উত্তর পেলো না, তখন ড্যান তাকে বলে – ‘তুমি কি জানো আংশিক বা অসম্পূর্ণ উত্তর, মিথ্যা হিসেবে পরিগণিত হয়?’। এবং তারপরেই আম্মারকে আরও কঠিতর শাস্তি হিসেবে তাকে ছোট একটা বাক্সে, যেখানে কোন রকম নড়াচড়া করা যায়না, সেখানে ভরে রাখা হয়। অর্থাৎ, কোন প্রশ্নের আংশিক উত্তরের অর্থ একটি মিথ্যার সমান। এই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা কি বলতে পারিনা যে, একটি ঐতিহাসিক ছবি নির্মাণের সময় যখন সেই ঐতিহাসিক ঘটনাবলীর কিছু সত্য প্রকাশিত হয়, আর কিছু সত্য থাকে অপ্রকাশিত, তখন তা একই দোষে দুষ্ট হয়, অর্থাৎ তা মিথ্যা বলারই সামিল হয়?জিরো ডার্ক থার্টি’ ছবিটি দেখার সময় ঠিক এরকম প্রশ্ন জাগ্রত হওয়া খুবই স্বাভাবিক। কেননা ছবির কিছু অংশে আমরা একদিকে যেমন ইতিহাসের সত্য ছায়া দেখি, ঠি তেমনি দেখি আবছায়া। ছবিটির বিশ্লেষণে ক্রমাগতভাবে আমরা একের পর এক সেসব অর্ধসত্যের দিকগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো। তার আগে বলে রাখা ভালো ছবিটি গত বছরের অর্থাৎ, ২০১২ সালের ১৯ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের লস এনজেলেস এবং ক্যালিফোর্নিয়ায় সীমিত আকারে এবং এ বছরের ১১ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র সহ অন্যান্য দেশে প্রশস্ত আকারে মুক্তি পায়। কিন্তু ইতিমধ্যে ছবিটির বিষয়বস্তু ছাড়িয়ে এর ঐতিহাসিক এবং রাজনৈতিক দিকগুলো ক্রমশ প্রশ্নবিদ্ধ হতে শুরু করেছে। পৃথিবীর বিখ্যাত সব জার্নাল, পত্রিকা এবং ব্লগে ছবিটির সমালোচনার সংখ্যা প্রায় একশো ছাড়িয়ে গেছে। কেননা ‘জিরো ডার্ক থার্টি’র কাহিনী এমন একজনকে নিয়ে নির্মিত যিনি এই শতাব্দীর পৃথিবী কাঁপানো একমাত্র কুখ্যাত (বিখ্যাত?) সন্ত্রাসী, আলকায়দার নেতা ওসামা বিন লাদেন। যে কারণে ছবির পরিচালক ক্যাথেরিন বিগলোকে নিউ ইওর্কার পত্রিকায় বলতে দেখি – ‘ওসামা বিন লাদেনের হত্যা অভিযানের কাহিনী এই যুগের একটি মহাকাব্য। একটি পূর্ণ জীবনকালের কাহিনী। এই ধরণের মহাকাব্য এক বা দুই শত বছরে কেবল একবারই ঘটে’। মহাকাব্যের এই উপমা শুনে অনেকদিন আগে লেখক সাকির লেখা ছোট গল্প ‘মিসেস প্যাকেলটাইডস্ টাইগার’ এর কথা মনে পড়ে গেলো। মিসেস প্যাকেলটাইড যিনি লুনা বিমবার্টনের এগার মাইল উড়োজাহাজে উড়ে যাবার (যে সময়ের গল্প সেই সময়ে কোন নারীর উড়োজাহাজে ওঠাই একটি খবর হয়ে যেত) সংবাদ পেয়ে তিনিও বিস্ময়কর কিছু করে দেখাবার খায়েস করেন। খায়েসের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বাঘ শিকারের পরিকল্পনা করেন। গল্পের শেষে দেখা যায় প্যাকেলটাইড তার খায়েসের তৃপ্তির পূর্ণতা পেয়েছিলেন ঠিক, অর্থাৎ বাঘ শিকার করে রাতারাতি খবরে পরিণত হয়েছিলেন। কিন্তু গল্পের আরেক চরিত্র লুইসা মেব্বিন একদিন যখন তাকে জানালো আসলে সত্যি কি ঘটেছিল লোকে যখন তা জানতে পারবে তখন কত মজাই না হবে। প্যাকেলটাইড তার কথার অর্থ জানতে চাইলে লুইসা তাকে বলে “মানে আমি বলতে চাচ্ছি, তুমি একটা ছাগলকে লক্ষ্য করে বন্দুক ছুঁড়লে, আর তার বিকট শব্দে ভয়ে বাঘটা প্রাণ হারালো”। প্যাকেলটাইড আত্মবিশ্বাসের সুরে বললেন “এটা এখন আর কেউ বিশ্বাস করবে না”। উত্তরে লুইসা বললো “লুনা বিমবার্টন করবেন”। প্যাকেলটাইডের চেহারা ফেকাশে হয়ে গেলো। বিন লাদেন বিভিন্ন রোগে রোগাক্রান্ত হয়ে এমনিতেই নুয়ে পড়েছিলেন, এরকম একজন মৃত্যুপথযাত্রীর হত্যা অভিযানের ইতিহাস ‘মহাকাব্যে’ রূপ নেয় কিনা সেটা সঠিক বলা না গেলেও তার অনুসন্ধান পর্বের ইতিহাস যে প্রায় একটা মহাকাব্যের কাছাকাছি তা নির্দ্বিধায় বলা যায়। এই ঐতিহাসিক অনুসন্ধানের প্রেক্ষাপটেই গড়ে উঠেছে ছবির কাহিনী, যদিও সেই ইতিহাসের কিছু অংশ রেখে কিছু অংশ ঢেকে পেশ করা হয়েছে।

গত ২৫ মে ২০১২, সোশালিস্ট ওয়েবসাইটের ডেভিড ওয়ালস এর একটি লেখা থেকে জানা যায়, ওসামা বিন লাদেনের মৃত্যুর ( ২ মে, ২০১১) ঠিক আট দিন পর অর্থাৎ ১০ মে, ২০১১, ছবির লেখক মার্ক বোল সিআইএএর পাবলিক অ্যাফেয়ার্সে কর্মরত জর্জ লিটলকে একটা ইমেইল পাঠান, যেখানে ছবি এবং ছবির পরিচালক বিগলো সম্পর্কে উল্লেখ করে জানানো হয়, তারা বিন লাদেনের এই মহান অভিযানকে কেন্দ্র করে একটি ছবি নির্মাণ করতে চান। ছবির সত্য যাতে কাহিনীকেও ছাড়িয়ে যায়, অর্থাৎ এমনভাবে নির্মাণ করা যায় সেই লক্ষ্যে তারা সিআইএ এবং তৎসংশ্লিষ্ট অন্যান্য অফিসের সার্বিক সহায়তা কামনা করেন। শুরু হয় সহায়তা পর্ব। এবং এই কাজে ছবির লেখক বোল এবং পরিচালক বিগলো যুক্তরাষ্ট্রের সিআইএএর অফিস অফ পাবলিক অ্যাফেয়ার্স এবং পেন্টাগ সহ যারা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের মহাকাব্য রচনা করেছিলেন তাদের সকলের কাছ থেকে প্রচুর সহায়তা পান। কিন্তু এই সহায়তা গ্রহণের সময় লেখক এবং পরিচালককে কিছু প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয়। তবে মূল প্রতিবন্ধতা ছিল ছবির পান্ডুলিপি সংক্রান্ত। একই লেখকের অতি সাম্প্রতিক ১০ মে ২০১৩র লেখা থেকে আমরা জানতে পারি, যেহেতু সি.আই.. এবং তৎসংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার সমবেত সহযোগিতার ভিত্তিতে ছবির কাহিনী নির্মিত হতে যাচ্ছে, কাজেই তাদেরকে কিছু কিছু দৃশ্য পরিবর্তন করতে হবে, যাতে তারা এবং ওরা অর্থাৎ দর্শকেরা সিনেমা দেখার সময় স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতে পারেন। কর্তিত দৃশ্যগুলোর বিস্তারিত নিচে দেয়া হলো

. ছবির প্রথম দিকে সি.আই..র কর্মকর্তা রূপী মায়া, যিনি ছবির একচ্ছত্র নায়িকাই শুধু নন, সেই সঙ্গে পুরো অপারেশান কর্মের একমাত্র বুদ্ধিমতী নারী যার উপস্থিতি ছাড়া লাদেনের ধরা পড়া ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যেতো সেই মায়া যখন নির্যাতন সেল, যাকে কোমলতর ভাষায় বলা হয় ‘উন্নততর জেরা কৌশল’, সেই সেলে যান তখন ‘ওয়াটারবোডিং’ (অর্থাৎ কয়েদীর মুখের ওপর মোটা কাপড় বেঁধে ক্রমাগত পানি ঢালার একটি শাস্তি ব্যবস্থা। নিঃশ্বাসের কষ্টে যাতে অপরাধী মৃত্যুযন্ত্রণা অনুভব করতে পারে) নামক বিভৎস শাস্তির দৃশ্যটি কোমলতর করে উপস্থাপনের কথা বলা হয়। বলাই বাহুল্য ছবিতেও আমরা ঠিক সেভাবেই দেখতে পাই কেননা ও.পি..(অফিস অফ পাবলিক অ্যাফেয়ার্স) এর কর্তাবৃন্দদের নাখোশ করে ছবিটি নির্মাণে বোল বা বিগলো কেউই রাজি ছিলেন না।

. মূল পান্ডুলিপিতে কুকুর দিয়ে ভয় দেখাবার দৃশ্যটিও (যে দৃশ্য বিভিন্ন পত্রিকা এবং গণমাধ্যমে বেশ কয়েক বছর আগে পৃথিবীর সর্বত্র ছড়িয়ে গিয়েছিল) বাদ দিতে বলা হয়। বিগলো এবং বোল কায়মনোবাক্যে তাই মেনে নেন। ছবিতে এই ধরণের কোন দৃশ্য আমরা দেখতে পাই না।

. মূল পান্ডুলিপিতে একজন সেনা অফিসার মদ খাবার পর এ.কে.৪৭ রাইফেল দিয়ে বাতাসে গুলি ছুঁড়ে উল্লাসের কথা থাকলেও ছবিতে আমরা সেই দৃশ্য দেখতে পাই না।

. একটি দীর্ঘ দৃশ্য থাকার কথা ছিল, যেখানে মায়া একটি ভিডিও ফুটেজ দীর্ঘ সময়ের জন্যে দেখবে। নির্যাতন সেল বা মৃদু ভাষার সেই ‘উন্নততর জেরা কৌশলের’ সেলে ওয়াটারবোর্ডিং সহ বিভিন্ন ধরণের শাস্তির ফুটেজ যেখানে দেখানোর কথা ছিল। সেই দৃশ্যটাও বিদায় করে দেন। বোল এবং বিগলোও সেই দৃশ্য ছেটে দেন। আর তাই ছবির অনেক সমালোচক ছবিটিকে ‘প্রোমিলিটারি’, প্রো-‘সিআইএ’ নামেও অভিহিত করতে দ্বিধা করছেন না।

মূলত রাজনৈতিক অন্ধত্ব এবং প্রশাসনের প্রতি অবিচল আনুগত্যের কারণে বোল এবং বিগলো ইতিহাসের অনেক পাতা থেকে কিছু পাতা তুলে নিয়ে ছবিটি নির্মাণ করেছেন। চিত্রনির্মাতা অ্যালেক্স গিবনী তাই হাফপোস্টের একটি এনন্টারটেইমেন্ট ব্লগে (২১.১২.২০১২) লিখতে বাধ্য হন – “সিআইএ’র নির্যাতন সেল অর্থাৎ সেই ‘উন্নততর জেরা কৌশলের’ ইতিহাসের দিকে যদি আমরা দৃষ্টিপাত করি তাহলে দেখবো আবু জুবায়দা এবং খালিদ শেখ মোহাম্মদ নামের দুজন কয়েদীকে যথাক্রমে ৮৩ এবং ১৮৪ বার সেই ‘ওয়াটারবোর্ডিং’ শাস্তি প্রদান করা হয়েছিল”। তাছাড়া আবু গরিব কারাগার, গুয়ান্তানামো বে ‘ডিটেনশান সেন্টার’, সিআইএ’র ‘ব্ল্যাক সাইট’ নামক সব দুর্বিষহ অত্যাচারের ইতিহাস কিন্তু ছবির কোথাও পাওয়া যায় না। যদিও সেসব অত্যাচারের বেশকিছু ফুটেজ জোস রোদ্রিগুয়েজ নামক কর্মকর্তা কর্তৃক আগেই নিশ্চিহ্ন করে ফেলা হয়েছিল। তাছাড়া ছবিটির শুরুর সময়কাল ২০০৩ সাল হলেও কোথাও আমরা জর্জ ডাব্লিউ বুশ জুনিয়রকে পাইনা, পাইনা তার তিন বিখ্যাত সহযোগী কন্ডোলিসা রাইস, ডোনাল্ড রামসফেল্ড এবং ডিক চেনিকে। তার পরিবর্তে দেখি প্রেসিডেন্ট ওবামার হাস্যজ্জ্বল টিভি ফুটেজ। আমেরিকার প্রশাসন এবং গোয়েন্দা বাহিনীর কিছু ইতিহাস না পেলেও পাওয়া যায় সেসব ইতিহাস যেসব ইতিহাসের উপর দাঁড়িয়ে ‘জিরো ডার্ক থার্টি’র পরিচালকলেখক আমেরিকান গোয়েন্দা বাহিনীর নির্যাতনকে জায়েজ করেছেন। যেসব ইতিহাসের প্রেক্ষাপট দেখে দর্শক মনে মনে স্বীকার করবেন লাদেন বাহিনী বা আল কায়েদা বাহিনীর এরকম শাস্তিই প্রাপ্য ছিল। ছবির শুরুতে অন্ধকার পর্দায় শুধু শব্দ পাওয়া যায়, যে শব্দ শুনে আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয়না ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বারের ঘটে যাওয়া টুইন টাওয়ার ধ্বংসের শব্দ তারপর একে একে আমরা ইতিহাসের পাতার পর পাতায় দেখি ২০০৪ সালের ২৯ মে সৌদি আরবে দুটো তেল ক্ষেত্র এবং একটি অ্যাপার্টমেন্ট যেখানে বিদেশীরা অবস্থান করতো তার উপর সন্ত্রাসী কর্মযজ্ঞ হতে, ২০০৫ সালের ৭ জুলাইয়ের লন্ডনে বোমা ফেলার ঘটনা, ২০০৮ সালের ইসলামাবাদের ম্যারিয়েট হোটেলের বোমা বিস্ফোরণ (যেখানে স্বয়ং নায়িকার উপস্থিতি ছিল) এবং ২০০৯ এর আফগানিস্তানের আত্মঘাতী বোমার বিস্ফোরণ ইত্যাদি। যে কারণে ছবির একজন উচ্চতর গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে টেবিল চাপড়ে বলতে দেখি “তারা আমাদের ভূমির উপর আঘাত হেনেছিল ১৯৯৪এ। ২০০০ সালে আক্রমণ করলো আমাদের সমুদ্রে আর ২০০১ সালে উড়োজাহাজের মাধ্যমে। ওরা ঠান্ডা মাথায় আমাদের ৩০০০ নিরীহ জনগণকে হত্যা করেছে। আর আমরা এখন পর্যন্ত কিছুই করতে পারিনি”। সংলাপটি শোনার সঙ্গে সঙ্গে যেকোন ইতিহাস সচেতন ব্যক্তির ইরাক যুদ্ধের লক্ষ লক্ষ নিরীহ জনগণের ওপর যে নির্বিচার হত্যাযজ্ঞ চলেছিল সেসব দৃশ্য মূহুর্তেই ভেসে উঠবে, ভেসে উঠবে আফগানিস্তানের জনগণের উপর মার্কিন বোমার আঘাত এবং কৌতুকবোধ করবে এই ভেবে যে, হত্যাকাণ্ডের বদলা হত্যাকাণ্ড হতে পারে। অর্থাৎ, ইরাক, আফগানিস্তান, লিবিয়াসহ অন্যান্য দেশের কোটি কোটি মানুষের হত্যাযজ্ঞ তাদের কাছে কোন মূল্যই রাখে না। বিগলোর ভাবখানা এমন আমেরিকার জনগণই কেবল মানুষ। ছবির একটি দৃশ্যে উন্মুক্ত এক নির্যাতন কারাগারে মুখোমুখি দুটো বড় বড় বেশ কয়েকটা খাঁচা দেখা যায়, যার এক পাশের খাঁচায় কিছু বানর এবং অন্য পাশের খাঁচায় কয়েদীদের আটক করে রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, মানুষ আর বানর এখানে একই গোত্রের হওয়ায় একই রকম খাঁচায় তারা বন্দী হয়ে আছে। ছবির নায়িকা মায়া যেভাবে অবলিলায় পাকিস্তান আর আফগানিস্তানে ঘোরাঘুরি করে, দেখে মনে হয় দেশদুটি সে একাই দখলে নিয়ে ফেলেছে। তার কোন বন্ধু নেই, পরিবার নেই, কেউ নেই।

প্রকৃত পক্ষে, ‘জিরো হার্ট থার্টি’ ছবিটি সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধের ছবি করতে যেয়ে সন্ত্রাসকে যেন আরও উসকে দেয়া হয়েছে। ‘নির্যাতন বিরোধী’ ছবি করতে যেয়ে নির্যাতনকে যেন আরও উসকে দেয়া হয়েছে। কেননা কোন ঐতিহাসিক ছবি নির্মাণকালে ইতিহাসের সত্যের দিকে নির্মোহ দৃষ্টি না রাখলে সেই ছবি শুধু অসম্পূর্ণই থেকে যায় না, সেই সঙ্গে প্রপাগান্ডার একটা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে। যে প্রপাগান্ডা, সত্যের অপলাপের কারণে যা ঘটেনি তা ঘটতে সহায়তা করে। যা ঘটেছে তার পুরোটা প্রকাশিত না হওয়ায় তার আরও প্রকাশ হবার সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে তোলে। বুঝতে হবে পৃথিবী আগের জায়গায় দাঁড়িয়ে নেই। এখন যে কোন তথ্য এক মূহুর্তেই সবার কাছে পৌঁছে যায়। সত্যের সচলতার গতি আগের চাইতে দ্রুততর হয়েছে। কোন কিছ্ইু এখন আর গোপন থাকে না। আগেও থাকতো না। কিন্তু আগের পৃথিবীর সত্য প্রকাশে যতটা কালক্ষেপন হতো বর্তমান পৃথিবীর সচল সত্যের হাতে কালক্ষেপনের এতো সময় নেই। কম্পিউটার বা ল্যাবটপের যেকোন বোতাম টিপে সত্যকে দ্রুত বের করে আনার সক্ষমতা মানুষ অর্জন করেছে। এক স্থানে ব্যর্থ হলে অন্য স্থান থেকে সে সত্য সংগ্রহ করতে শিখেছে। কাজেই মার্ক বোল, ক্যাথেরিন বিগলোরা যদি মনে করে থাকেন, বিজয়ীর পক্ষেই ইতিহাসের সত্যতা থাকে তাহলে অত্যন্ত ভুল করবেন। সত্যের মাউজ এখন বিজয়ী এবং বিজিত উভয়ের হাতে প্রসারিত। সেই প্রসারিত সত্যের ইতিহাস একদিন যেমন বিন লাদেনকে ক্ষমা করেনি, তেমনি অর্ধ সত্যের নির্মাণকারীরা ও তার সহযোগিরা ক্ষমা পাবেন না। উৎপীড়ক এবং উৎপীড়িত, ইতিহাসের সত্য এবং মিথ্যার, দুটো দিকই সমানভাবে উন্মোচন করে যেকোন সৃষ্টিশীল কাজ করা হলে তা পূর্ণ সত্যের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হয়।।

১টি মন্তব্য

  1. Yakub Chowdhury

    Please express ur total hatred to this terrorists, who have done enough to destroy our religion rather expressing ur logic in favor of them.