Home » আন্তর্জাতিক » ভারতের পানি আগ্রাসন

ভারতের পানি আগ্রাসন

. ইনামুল হক

pani aggressionহিমালয় পর্বতমালা থেকে উৎপন্ন বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম দুটি নদী গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি এই দেশটির উপর দিয়ে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়েছে। এছাড়াও লুসাই পাহাড় থেকে উৎপন্ন বরাক নদীর পানিও বাংলাদেশের উপর দিয়ে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পতিত হয়। বাংলাদেশের বড় বড় নদী যথা গঙ্গা (ভাটিতে পদ্মা), ব্রহ্মপুত্র (ভাটিতে যমুনা) এবং বরাক (ভাটিতে মেঘনা) ছাড়াও ছোট বড় আরও অনেক নদীর পানি ভারত, নেপাল, চীন, মায়ানমার ও ভূটান থেকে উৎপন্ন হয়ে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে সাগরে গিয়ে পড়েছে। তবে বাংলাদেশের সঙ্গে কেবলমাত্র ভারত ও মিয়নমারের আন্তর্জাতিক সীমানা আছে। মিয়ানমার থেকে আসা তিনটি নদীসহ ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করা এই সব আন্তর্জাতিক নদনদীর সংখ্যা মোট ৫৭। ভারতের সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশনের হিসেবমতে ভারতের বাৎসরিক মোট পানিসম্পদের যোগান ১৮৮ মিলিয়ন হেকটর মিটার। এরই একটি বড় অংশ ১০১ মিলিয়ন হেকটর মিটার পানি গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র এবং মেঘনা অববাহিকা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে।

নদী বা খালের ঋতুভিত্তিক স্বাভাবিক প্রবাহ থেকে পানি তুলে নেয়া কিংবা পানিপ্রবাহে বাধা দিয়ে আংশিক বা সম্পূর্ণ প্রবাহ অন্যত্র চালান করা ঈানিসম্পদ হরণ করা ঐতিহাসিকভাবে অবৈধ। কারণ এই ধরণের কাজ ঐ নদী বা খালের ভাটিতে অবস্থিত জনসাধারণ এবং জীবসকলের জীবনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া ফেলে। তবে অতীতে শক্তির বলে কিংবা নদীর উজান ও ভাটির উভয় অংশের জনসাধারণের কল্যাণে আপোষে পানিপ্রবাহে বাধা দেয়া হয়েছে। বর্তমান আন্তর্জাতিক আইনে একই নদীর অববাহিকায় দুটি সার্বভৌম দেশের আপোষ ফর্মুলায় ঐ নদীর প্রবাহে বাধা দেবার সুযোগ আছে।

কিন্তু ভারত ১৯৭৫ সালে গঙ্গা নদীর উপর ফারাক্কা ব্যারেজ চালু করলে বাংলাদেশ বিশেষভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়। মওলানা ভাসানী এর প্রতিবাদে ১৬ মে ১৯৭৬ ফারাক্কা অভিমুখে লং মার্চ করেন। এই লং মার্চের ফলে ১৯৭৭ সালের প্রথম ফারাক্কা চুক্তিতে পানির যে ভাগাভাগি হয় তা’তে শুকনা মৌসুমে বাংলাদেশের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি সরবরাহের গ্যারান্টি ক্লজ সংযুক্ত হয়। গঙ্গা নদীর পানিপ্রবাহ নিয়ে ১৯৯৬ সালের দ্বিতীয় চুক্তিতে গঙ্গা নদীর শীতকালীন গড় প্রবাহের প্রায় অর্ধেক পানি সরিয়ে ভারতের কলকাতা বন্দরে চালান করার অধিকার দেয়া হয়েছে। এবং এই চুক্তিতে গ্যারান্টি ক্লজ তুলে নেয়া হয় বিধায় এই চুক্তি হলো শক্তির বলে করে নেয়া তথাকথিত একটি আপোস।

স্বাধীনতার পরপরই পঞ্চাশের দশকের শুরুতে ভারতের পরিকল্পনাবিদরা দেশব্যাপী আন্তঃনদী সংযোগের প্রস্তাব করে। কিন্তু সিন্ধু ও গঙ্গা অববাহিকার পানি নিয়ে পাকিস্তানের সাথে বিরোধ ভারতের বিরোধ বাধে। ১৯৬০ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ইনডাজ ওয়াটার ট্রিটি স্বাক্ষরিত হয়। রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্য গঙ্গা নদীর পানি নিয়ে কোন সমঝোতা বাদেই ভারত ফারাক্কা ব্যারেজ নির্মাণ করে। ১৯৭৫ সালে এই ব্যারেজ চালু হলে বাংলাদেশ বিশেষভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়। ১৯৭৭ সালের প্রথম ফারাক্কা চুক্তি জলের যে ভাগাভাগি করে তা ভারতের জন্য চূড়ান্তভাবে গ্রহণযোগ্য ছিলো না। কারণ ঐ চুক্তিতে শুকনা মৌসুমে বাংলাদেশের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি সরবরাহের গ্যারান্টি ক্লজ ছিল। এরপরই ভারতের কাছ থেকে ব্রহ্মপুত্র থেকে পানি এনে গঙ্গায় ফেলা তথা আন্তঃনদী সংযোগ প্রস্তাব আসতে থাকে।

উল্লেখ্য যে, বৃটিশ আমল থেকেই গঙ্গা নদীর উপনদীগুলোতে সেচের পানি পরিকল্পনার জন্য ব্যারেজ নির্মাণ শুরু হয়। এর ফলে শুকনা মৌসুমে ভাটিতে পানি কমতে থাকে ও বাংলাদেশের ভেতরে গঙ্গা নদীর শাখাগুলি মরে যেতে থাকে। ফারাক্কা ব্যারেজ নির্মাণ করার মাধ্যমে গঙ্গার পানি এর মূল শাখা পদ্মাতে না যেতে দিয়ে অনেক সময় সিংহভাগ ভাগিরথীতে চালান করা হচ্ছে। ভারতের প্রস্তাব ছিলো বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে ব্রহ্মপুত্র থেকে একটি খাল কেটে ফারাক্কার উজানে ফেলে পানির ঘাটতি মেটাতে হবে। কিন্তু এতে লক্ষ লক্ষ মানুষকে ঘড়বাড়ী থেকে উচ্ছেদ করতে হতো এবং পরিবেশ বিপর্যয় হতো। বাংলাদেশ এই প্রস্ত—াবে সায় দেয়নি। ফলে ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক খারাপ হয়ে যায় এবং প্রথম চুক্তির মেয়াদ পাঁচ বছর পার হলে ১৯৯৬ পর্যন্ত কোন নতুন চুক্তি হয়নি। ফারাক্কা ব্যারেজ নির্মাণ করার মাধ্যমে গঙ্গার পানি এর মূল শাখা পদ্মাতে না যেতে দিয়ে এখন অনেক সময় সিংহভাগ ভাগিরথীতে চালান করা হচ্ছে।

পাকিস্তান আমলের শুরুতে হার্ডিঞ্জ সেতুর কাছে শুকনা মৌসুমে গঙ্গা নদীর ঐতিহাসিক গড় প্রবাহ ছিলো প্রায় ১ লাখ কিউসেক। ১৯৭৭ সালের ফারাক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের জন্য ন্যুনতম ৩৪,৫০০ কিউসেক পানি সরবরাহের গ্যারান্টি ছিলো। ১৯৮২ সালের পর কোন চুক্তি না থাকায় ফারাক্কা দিয়ে পানি আসা কমে যায়। ১৯৯৬ নাগাদ এই সরবরাহ ১০ হাজার কিউসেকেরও নিচে নেমে আসে। ১৯৯৬ সালের চুক্তিতে সর্বনিু ২৭,৬৩৩ কিউসেক পানির কথা বলা হয়। কিন্তু কোন গ্যারান্টি না থাকায় প্রায় বছরই এই চুক্তির কোন সুফল পাওয়া যায়নি।

১৯৯৯ সালে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরে ভারতের আন্তঃনদী সংযোগ পরিকল্পনা পূনরায় জেগে ওঠে। এবার পরিকল্পনাটি ছিল স্পষ্ট, উত্তর পূর্ব ভারতের বাড়তি পানি পশ্চিম ও দক্ষিণ ভারতে নিতে হবে। তবে ভারতের ভেতর দিয়েই অর্থাৎ উত্তর বঙ্গ, শিলিগুড়ি করিডোর দিয়ে ব্রহ্মপূত্রের পানি পশ্চিমে নেয়ার পরিকল্পনা করা হলো। ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের অখন্ড ভারত ও হিন্দুত্বের জিগির এবং দক্ষিণ ভারতের বুদ্ধিজীবীদের উৎসাহে পরিকল্পনাটি অচিরেই সরকারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠলো। কিন্তু বাধ সাধলো বিহার, আসাম, পশ্চিম বঙ্গ ইত্যাদি রাজ্যের জনগণ ও বুদ্ধিজীবীরা। এই পরিকল্পনাতে তাদের কোন উপকার নেই বরং আছে কোটি কোটি মানুষের উচ্ছেদ আর পরিবেশ বিপর্যয়।

ভারত ফারাক্কা ব্যারেজের মাধ্যমে গঙ্গার পানি হরণ করেছে। আন্তঃনদী সংযোগ পরিকল্পনার মাধ্যমে ব্রহ্মপুত্রের পানি সরিয়ে নিতে চায়। এছাড়াও মেঘনার পানি হরণের জন্য ইতিমধ্যে এই নদীর উজানে মণিপুর রাজ্যের টিপাইমুখে ড্যাম দিচ্ছে। ভারত এখানে একটি পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়বে। কিন্তু এই প্রকল্প মণিপুর ও মিজোরামের ৩১১ বর্গ কিলোমিটার চাষযোগ্য ভুমি ডুবিয়ে দেবে। তাই এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে মণিপুরের চূড়াচাঁদপুর জেলার জনগণ প্রতিরোধ সংগ্রাম করছে।

টিপাইমুখ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে গ্রীষ্মকালে বাংলাদেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলের হাওর ও জলাভূমিগুলোতে পানি আসবে না, মিষ্টি পানি ধরে রাখার কারণে সমুদ্রের লোনা পানি দেশের ভেতরে প্রবেশ করবে। কিন্তু ড্যামের জলাধারে বর্ষার পানি ধরে রেখে ধীরে ধীরে ছাড়ার কারণে ফেব্রয়ারী মাস পর্যন্ত হাওরের পানি নামবে না। এর ফলে হাওরের এক ফসলী জমিতে বোরো ফসল চাষ না করতে পারার কারণে বছরে ২০০০ কোটি টাকার ক্ষতি হবে। টিপাইমুখ ড্যামের কারণে ঐ এলাকার জনগণ, ভূতল জীব ও মৎস্যসম্পদ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং জলজ জীববৈচিত্র বিপর্যস্ত হবে তা’ বলাই বাহুল্য। তা’ছাড়া মিষ্টি পানি ধরে রাখার কারণে সমুদ্রের লোনা পানি দেশের ভেতরে প্রবেশ করবে।

ভারত ১৯৮২ সালে গজলডোবার কাছে তিস্তা নদীর উপর ব্যারেজ নির্মাণ করে ও ডাইভারশন খাল কেটে মহানন্দা নদীতে পানি সরিয়ে নিচ্ছে। তা’ছাড়া উত্তরবঙ্গের কুচবিহার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদহ জেলার ৯.২২ লক্ষ হেক্টর জমিতে তিস্তার পানি দিয়ে সেচ দেবার জন্য ভারতের বিশাল পরিকল্পনা আছে। বাংলাদেশ ১৯৯০ সালে দোয়ানীর কাছে তিস্তা ব্যারেজ নির্মাণ করেছে যার আওতায় বৃহত্তর রংপুর, দিনাজপুর ও বগুড়া জেলার ৬.৩২ লক্ষ হেক্টর জমিতে সেচ দেবার পরিকল্পনা আছে। বাংলাদেশে নির্মিত তিস্তা ব্যারেজের কাছে ঐতিহাসিকভাবে তিস্তা নদীর সর্বাধিক গড় প্রবাহ ছিলো ২ লাখ ৮০ হাজার কিউসেক এবং সর্বনিম্ন গড় প্রবাহ ছিলো ১০ হাজার কিউসেক। ভারতে ক্রমবৃদ্ধি হারে পানি সরিয়ে নেয়ার কারণে বাংলাদেশে এর প্রবাহ এখন ১ হাজার কিউসেকে এসে দাড়িয়েছে, এমনকি খরার সময় তা’ পাঁচশ কিউসেক হয়ে যায়।

ফেনী নদীর উৎপত্তি খাগড়াছড়ি জেলার সীমান্তে একটি বিরোধপূর্ণ ভূমির পশ্চিমে ভারতীয় প্রান্তে। এরপর উভয় নদীই মিলিত হয়ে ফেনী নাম নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্ত হিসেবে দক্ষিণ ও দক্ষিণপশ্চিমে প্রায় ৮০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেয়। বাংলাদেশে এর প্রবেশমুখ আমলিঘাটের উজানে ফেনী নদীর পানি সংগ্রহ এলাকা ২০০০ বর্গ কিলোমিটার (২০০,০০০ হেক্টর), যার ৮০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা ভারতে (ত্রিপুরা) এবং ১২০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা বাংলাদেশের ভেতরে পড়ে। সম্প্রতি ফেনী নদীর পানি বন্টন নিয়ে যে আলোচনা হচ্ছে তাতে ১২০ কিউসেক ন্যুনতম প্রবাহ ধরে ৫০৫০ হারে ভাগ করার কথা হচ্ছে। প্রশ্ন হলো, এই ধরণের ভাগাভাগি কতটা যুক্তিযুক্ত? তা”ছাড়া ভারতের অংশেই যখন বিভিন্ন জায়গায় পাম্প বসিয়ে পানি তোলা হচ্ছে তখন কিভাবে এই ভাগাভাগি বাস্তবায়ন করা সম্ভব?

বাংলাদেশ ও ভারতের আন্তর্জাতিক নদীগুলির প্রায় সবকটি ভারত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। ভারত ইতিমধ্যে গঙ্গা নদীর উপর ফারাক্কা ব্যারেজ নির্মাণ করেছে, এখন ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি সরিয়ে নেবার পাঁয়তারা করছে। আন্তর্জাতিক নদীগুলিতে বাংলাদেশ যেহেতু ভাটিতে অবস্থিত তাই বাংলাদেশের অবস্থান দূর্বল। অথচ ভারতের পরিকল্পনায় বাংলাদেশের জনগণ ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য মওলানা ভাসানীর মতো আপোসহীন নেতার অভাব প্রচন্ডভাবে অনুভূত হয়।

মওলানা ভাসানী যমুনা তীরের মানুষ। তাঁর শৈশব কেটেছে সিরাজগঞ্জে, যৌবন যমুনা নদীপথের উজানে আসামের ভাসানচরে। বৃটিশদের হাত থেকে মুক্তির লড়াইয়ে ও কৃষক সংগ্রামে তিনি বিভিন্ন সময়ে যমুনাপথে যাতায়াত করেছেন এবং অন্যান্য নদীগুলো দেখেছেন। তিনি স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করেছেন বাংলার নদীগুলি কিভাবে ক্রমশঃ শুকিয়ে যাচ্ছে। এই শুকিয়ে যাওয়ার কারণ উজানে ভারত কর্তৃক ড্যাম, ব্যারেজ ইত্যাদি নির্মাণ করে পানি প্রত্যাহার করা। ভারত এসব করেছে ও করে যাচ্ছে, যার বিরুদ্ধে বলার কেউ নেই। একমাত্র মওলানা ভাসানী যিনি মজলুম ও নিষ্পেষিত জনগণের আপোসহীন নেতা তাকেই তাই আবার ঘুরে দাড়াতে হয়েছিলো।

১৯৭৫ সালের এপ্রিল মাসে ভারত ফারাক্কা বাঁধের মাধ্যমে গঙ্গার পানি প্রত্যাহার শুরু করে। মওলানা ভাসানী গঙ্গা নদীর পানি বিতরণ সমস্যা নায্যতার সাথে সমাধানের জন্য ১৯৭৬ সালের ১৬ মে লং মার্চের কর্মসূচী নেন। ১৮ এপ্রিল তিনি ইন্দিরা গান্ধীকে এবিষয়ে একটি পত্র লেখেন। লং মার্চের নেতৃত্ব দেবার পর তাঁর স্বাস্থ্যের ক্রমশঃ অবনতি হতে থাকে। ঐ বছরই ১৭ নভেম্বর মওলানা ভাসানী ৯১ বছর বয়সে ঢাকা মেডিকেল কলেজে বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন। মওলানা ভাসানীর লংমার্চের ফলেই ১৯৭৭ সালে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের একটি সম্মানজনক ‘গঙ্গার পানি বন্টন চুক্তি’ স্বাক্ষর সম্ভব হয়।।

লেখক:প্রকৌশলী ম. ইনামুল হক,

ইমেইল: minamul@gmail.com