Home » আন্তর্জাতিক » যুক্তরাষ্ট্র আর চীনের যুদ্ধক্ষেত্র মিয়ানমার

যুক্তরাষ্ট্র আর চীনের যুদ্ধক্ষেত্র মিয়ানমার

বারটিল লিন্টনার

mayanmarমিয়ানমারের গণতন্ত্রায়নপ্রক্রিয়া এবং দেশটির রাজনৈতিকব্যবস্থায় কঠোরতা হ্রাস করার পদক্ষেপ গ্রহণের সব জল্পনাকল্পনার মধ্যেই সেখানে তুন বাস্তবতার আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। চীনের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক শিথিল করে দেশটির পাশ্চাত্যের আরো কাছাকাছি যাওয়ার প্রয়াসে এশিয়ায় সংঘাতের নতুন ক্ষেত্র সৃষ্টি হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে স্বার্থের লড়াইয়ে সূচনাবিন্দু হতে পারে মিয়ানমার।

গণতন্ত্রের পথে চলার বদলে মিয়ানমার নিজেকে দুই পরাশক্তির বিপজ্জনক ও সম্ভাব্য উত্তপ্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে দেখতে পেতে পারে। এর অর্থ হলো ঐতিহ্যগতভাবে ক্ষমতাধর সামরিক বাহিনী শিগগিরই রাজনীতি ও সমাজে তার প্রাধান্য সৃষ্টিকারী ভূমিকা ছেড়ে নাও দিতে পারে। ওয়াশিংটনের সূত্রগুলোর মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসন মিয়ানমারকে দেশের পররাষ্ট্রনীতিতে অন্যতম অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয় হিসেবে রেখেছে। বাণিজ্য ও অন্যান্য বিনিময়কে উৎসাহিত করা হচ্ছে। ২৫ এপ্রিল পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয়বিষয়ক সহকারী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী যোশেফ ইয়ুন কংগ্রেসকে জানিয়েছেন, মিয়ানমারকে ‘আরো বেশি রাজনৈতিক সংস্কারে’ উদ্বুদ্ধ করতে প্রশাসন এমনকি ‘নতুন সামরিক সম্পর্ক সৃষ্টির বিষয়টি খতিয়ে’ দেখছে। মিয়ানমারে যুক্তরাষ্ট্র তার গুপ্তচরবৃত্তির কার্যক্রমও দ্রুত জোরদার করছে। পুরনো রাজধানী ইয়াঙ্গুনে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে এখন দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার অন্যান্য কূটনীতিক মিশনের চেয়ে অনেক বেশি গোয়েন্দা সংযুক্ত রয়েছেন বলে ধারণা করা হয়ে থাকে। তবে বেইজিং যে এসব ঘটনাবলির সদয় চোখে দেখছে না, সেটাই স্বাভাবিক। নেপিয়াডোর সরকারকে চাপে রাখার রাজনৈতিক কৌশল গ্রহণ করা ছাড়াও মিয়ানমারে পশ্চিমা প্রভাব ব্যর্থ করতে কিছু প্ররোচনা সৃষ্টিকারী পদক্ষেপও গ্রহণ করেছে।

গত বছর চীনমিয়ানমার সীমান্তে সক্রিয় মিলিশিয়া সংগঠন ইউনাইটেড ওয়া স্টেট আর্মিকে (ইউডব্লিউএসএ) চীনা অস্ত্র ব্যবসায়ীরা কেবল অ্যাসাল্ট রাইফেল, মেশিনগান, রকেট লাঞ্চার, বহনযোগ্য বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এইইচএন৫ বা ম্যানপ্যাডসই সরবরাহ করেনি, সেইসঙ্গে চাকাযুক্ত ট্যাংক বিধ্বংসী পিটিএল০২ ৬X৬ এবং জেডএফবি০৫ নামের সাজোয়া উভয়চর যানও দিয়েছে। জেনস ডিফেন্স উইকলি ২৯ এপ্রিল সংখ্যায় জানানো হয়, ইউডব্লিউএসএকে টিওয়াই৯০ বিমান থেকে বিমানে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রসজ্জিত এমআই১৭ মধ্যম পাল্লার পরিবহন হেলিকপ্টারও দিয়েছে চীন। সাময়িকীটির একটি প্রতিবেদনের লেখক অ্যান্থনি ডেভিস বলেন, ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র, সাজোয়া যান ও নতুন হেলিকপ্টার সরবরাহ করার ফলে সীমান্ত জুড়ে ইউডব্লিউএসএ কার্যত চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) সম্প্রসারিত অংশে পরিণত হয়েছে। ১৯৬০ ও ১৯৭০এর দশকে বার্মার কমিউনিস্ট পার্টির প্রতি চীনের ব্যাপক মাত্রার সামরিক সমর্থনের প্রেক্ষাপটে বলা যায়, বর্তমানে যা ঘটছে তা নজিরবিহীন।

ওয়াশিংটন ও নেপিয়াডোর মধ্যকার সম্পর্ক উল্লেখযোগ্য মাত্রায় উষ্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপটেই এসব ঘটছে। অথচ মাত্র কয়েক বছর আগেও মানবাধিকারের ভয়াবহ পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অর্থনৈতিক ও কূটনীতিক অবরোধের মুখে মিয়ানমার ছিল আন্তর্জাতিক অঙ্গণে একঘরে। বেইজিংয়ের উপর মিয়ানমারের নির্ভরশীলতা এত বেশি ছিল যে দেশটিকে অনেক সময় বলা হতো চীনের অধীন রাজ্য। তারপর এলো ২০১১ সালের ব্যাপক পরিবর্তনের বছর। মিয়ানমারের নতুন প্রেসিডেন্ট থিন সেইন শত শত বন্দির মুক্তিদানসহ বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে পশ্চিমাদের কাছে যাওয়ার উদ্যোগ নিলেন। সংবাদমাধ্যমের সেন্সরশিপ নমনীয় করা হলো, রাজনৈতিক ভিন্নমতাবলম্বীদের সভা করার অনুমতি দেওয়া হলো, বিদেশি সাংবাদিকদের কোনো ধরণের বাধানিষেধ বা আগের মতো পুলিশের নজরদারি ছাড়াই সংবাদ সংগ্রহের সুযোগ দেওয়া হলো।

পশ্চিমা সাড়া ছিল খুবই ইতিবাচক। ওই সময়ের মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন ২০১১ সালের ডিসেম্বরে মিয়ানমার সফর করেন, কয়েক দশকের মধ্যে তিনিই ছিলেন সফরকারী ওয়াশিংটনের সবচেয়ে পদস্থ কর্মকর্তা। তারপর ২০১২ সালে প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ওবামা সফর করেন। চলতি বছরের ২২ এপ্রিল ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন মিয়ানমারের পর থেকে অস্ত্র ছাড়া সব অবরোধ তুলে নেয়। ইউরোপিয়ান প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য পদস্থ কর্মকর্তারা দলবেধে দেশটিতে যেতে থাকেন।

যুক্তরাষ্ট্রও বাণিজ্যসংক্রান্ত একই ধরণের পদক্ষেপ নেয়। তবে দেশটি সামরিক দিক থেকে আরো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়। প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো কোবরা গোল্ড নামে পরিচিত থাইল্যান্ডে মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক মহড়ায় মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীকে পর্যবেক্ষক হিসেবে আমন্ত্রণ জানায়।

জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক দীর্ঘ দিনের। এশিয়ায় ওবামার তথাকথিত ‘কেন্দ্রবিন্দুতে এসব দেশের উপস্থিতির কথা ওয়াশিংটন নতুন করে জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র তার পুরনো শত্রু ভিয়েতনামের সঙ্গেও সম্পর্ক জোরদার করেছে। নতুন স্নায়ুযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ভিয়েতনাম একই পক্ষে থাকাটা বিস্ময়কর নয়।

যুক্তরাষ্ট্র কিভাবে চীনের পক্ষপুট থেকে কোনো দেশকে সরিয়ে নিজের প্রভাব বিস্তার করতে পারে, তার একটি উদাহরণ হলো মিয়ানমার। তবে সেটা মিয়ানমারের সংস্কারপ্রক্রিয়ার কারণে নয়, এবং আমেরিকাও কেবল এই কারণে তাতে সাড়া দেয়নি। গণতন্ত্র ও মানবাধিকার ছাড়াও আরো অনেক বিষয় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাভাবিক অগ্রাধিকার তালিকায়। এ সংক্রান্ত প্রধান বিষয় হলো চীনের উদীয়মান শক্তি ও প্রভাব। তবে বিষয়টি নিয়ে কেউই প্রকাশ্যে আলোচনা করতে চায় না। আমেরিকার রাজনীতিবিদ ও মিয়ানমারের জেনারেলরা এই বিষয় নিয়েই বৈঠক করেন।

২০১১ সালে ফাঁস হওয়া মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ যেসব নথিপত্র এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে, সেগুলোতে ‘জাতীয় সঙ্কট’ এবং ‘জরুরি’ শব্দের উল্লেখ দেখা যায়। এসব নথিতে বলা হয়, চীন দেশটির অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যাপারে এত বেশি প্রাধান্য বিস্তার করে আছে যে, মিয়ানমারের ‘স্বাধীনতা হুমকির মুখে।’ আর এ কারণেই মিয়ানমার পশ্চিমাদের দ্বারস্থ হয়।

ওয়াশিংটনের কানে বিষয়টা সঙ্গীতের মতো মনে হয়। চীনের সঙ্গে মিয়ানমারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক দীর্ঘ দিন যুক্তরাষ্ট্রকে বিব্রত করেছে। তবে কয়েক বছর আগে যখন প্রকাশ পায় উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে মিয়ানমার সামরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছে, তখন ভারসাম্যটি নষ্ট হয়ে যাওয়ার যোগাড় হয়। ২০১০ সালের শেষ দিকে ওয়াশিংটনের অন্দরমহলের সূত্রগুলো জানায়, ওবামা প্রশাসন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, একটি মৌলিক নীতিতে পরিবর্তন আনা দরকার। কূটনীতিকরা চীনের কাছ থেকে মিয়ানমারকে ছিনিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেন। তবে প্রাথমিকভাবে তারা উদ্যোগ নেন, যাতে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে দেশটির মিত্রতার সৃষ্টি না হয়। ওয়াশিংটনের জন্য সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করার ক্ষেত্রে লোক দেখানো কিছু পদক্ষেপ জরুরি হয়ে দেখা দেয়। ২০১০ সালের সাধারণ নির্বাচনে বেসামরিক আবরণ পরা সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। এটাই ছিল যথেষ্ট।

সংস্কারের ক্ষেত্রে আরেকটি বড় বাধা তখনো অপসৃত হয়নি। সেটা হলো গণতন্ত্রের মানসকন্যা হিসেবে বিবেচিত আং সান সুকির মুক্তি। সেটাও করা হয়। ২০১০ সালের নির্বাচনের কয়েক দিন পরই তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। এরপর পরই তিনি মিয়ানমারের গোষ্ঠীগত সঙ্কট সমাধানের লক্ষ্যে ‘দ্বিতীয় প্যাংলং’ শুরুর আহ্বান জানান, যার মাধ্যমে তার পিতা নিহত হওয়ার মাস ছয়েক আগে সংখ্যাগরিষ্ঠ বর্মী ও কয়েকজন সংখ্যালঘু গোষ্ঠীপ্রধানের মধ্যকার আলোচনার বিষয়ে আলোকপাত করেন। তার এই আহ্বানের প্রতিক্রিয়ায় সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ব্লগারেরা তাকে ‘দেশদ্রোহী’ বলে গালাগাল করে।

২০১২ সালের এপ্রিলে অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে সুকির ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসি (এনএলডি) ব্যাপক জয় পায়। হাজার হাজার লোক তার কথা শোনার জন্য সমবেত হয়। কিন্তু তিনি এবার সামরিক বাহিনীর প্রশংসা করেন, যারা তাকে ১৯৮৯ সাল থেকে বেশির ভাগ সময় বন্দি রেখেছে, ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য যাদের তিনি অভিযুক্ত করে এসেছিলেন।

গত বছরের ডিসেম্বরে বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, ‘এটা পুরোপুরি সত্যি যে, আমি সেনাবাহিনীকে পছন্দ করি। জনগণ আমার একথা বলা পছন্দ করে না। অনেকে আমাকে তাদের ভাষায় সেনাবাহিনীর পোস্টার কন্যা হিসেবে অভিহিত করে আমার সমালোচনা করে। জীবনের এই সময়ে এসে পোস্টার কন্যা শোনাটা খুবই হালকা ব্যাপার। তবে আমি মনে করি, সত্যি কথা হলো আমি সেনাবাহিনীকে খুবই পছন্দ করি, কারণ আমি সব সময়ই ভেবেছি এটা আমার বাবার সেনাবাহিনীর মতোই।’ আর গত ২৭ মার্চ সশস্ত্র বাহিনী দিবসে ইউনিফর্ম পরিহিত জেনারেলদের মধ্যে একমাত্র নারী হিসেবে তিনি সম্মুখ সারিতে বসে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর সর্বশেষ সামরিক সরঞ্জাম প্রত্যক্ষ করেন।

এখন এটা পরিষ্কার, সুকি অবশ্যই সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সমঝোতা করেছিলেন এবং বাইরের বিশেষ করে মার্কিন চাপ তাকে দেশটির শাসকদের সঙ্গে আপস করতে বাধ্য করেছিল। রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত দেশ আমেরিকার স্বার্থসিদ্ধি করবে না, বরং থিন সেইনের সরকার ও জনপ্রিয় নেত্রী সুকির মধ্যে উষ্ণ সম্পর্কই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কল্যাণকর। সুকির দলও সেটা জানে। সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করে চলতেই তারা এখন মুখিয়ে আছে।

ক্যাচিন রাজ্যে চীনাসমর্থিত ৩.৬ বিলিয়ন ডলারের জলবিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল করার তীব্র যন্ত্রণা এখনো দগ্ধ করছে চীনকে। ওই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ৬০০ বর্গ কিলোমিটার বনভূমি পানিতে তলিয়ে যেত, হাজার হাজার লোক উদ্বাস্তু হতো। আর এখানে উৎপাদিত ৯০ শতাংশ বিদ্যুৎ যেত চীনের কাছে। এই বাধের বিরুদ্ধে প্রবল জনমত গড়ে উঠে। যুক্তরাষ্ট্রও প্রকল্পটি বাতিল করার বিষয়টি সমর্থন করে।

অর্থনৈতিক ও কৌশলগত কারণে মিয়ানমার এখনো চীনের কাছে গুরুত্বপূর্ণ দেশ। দেশটিতে অনেক পানিবিদ্যুৎকেন্দ্র, তামা ও দুর্লভ খনিজ সম্পদ আহরণের কাজ করছে চীন। চীনের ভূমিবেষ্টিত দক্ষিণপশ্চিমা প্রদেশগুলোর বাণিজ্যিক নির্গমনপথ হিসেবে ব্যবহৃত হয় মিয়ানমার। অধিকন্তু মধ্যপ্রাচ্য ও বঙ্গোপসাগর থেকে গ্যাস পরিবহণের জন্য চীন দেশটিতে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করছে। মালাক্কা প্রণালীতে যাওয়ার জন্যও মিয়ানমারের গুরুত্ব রয়েছে চীনের কাছে। অর্থাৎ সবমিলিয়ে চীন কোনোভাবেই মিয়ানমারকে ‘হস্তান্তর’ করতে পারে না।

আর এ কারণেই চীন নেপিয়াডোর সঙ্গে জটিল কূটনীতিক খেলা খেলছে। একদিকে ইউডব্লিউএসএকে অস্ত্র দিচ্ছে, অন্যদিকে কচিন ইন্ডিপেন্ডেন্ট আর্মির সঙ্গে শান্তি প্রক্রিয়ায় শরিক হচ্ছে।

মিয়ানমারের সমস্যা হলো, যুক্তরাষ্ট্র অনেক দূরের দেশ, আর চীন নিকটতম প্রতিবেশি। কিন্তু তবুও এই দুই পরাশক্তির মাঝখানে সে পিষ্ট হচ্ছে। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বৈরিতা যত তীব্র হবে, মিয়ানমার তত বেশি ক্ষতবিক্ষত হবে। আর পরাশক্তিগুলোর যাতাকলে পিষ্ট হওয়ার ব্যবস্থা মিয়ানমারই করে দিয়েছে।।

এশিয়ান টাইমস অবলম্বনে মোহাম্মদ হাসান শরীফ