Home » প্রচ্ছদ কথা » সমাধান জাতিসংঘ নয় শেখ হাসিনার হাতে

সমাধান জাতিসংঘ নয় শেখ হাসিনার হাতে

শাহাদত হোসেন বাচ্চু

UN BLUE HALMETজাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ মাথায় অদৃশ্যমান ‘নীল (ব্লু) হেলমেট’ (জাতিসংঘের শান্তি মিশন রক্ষীদের কখনও কখনও নীল হেলমেট নামে অভিহিত করা হয়) পরেই কি মাস ছয়েকের ব্যবধানে দ্বিতীয় বারের মতো ঢাকায় অবতরন করলেন? বাংলাদেশ কি এখন জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের আওতায়? সেই ধারাবাহিকতায় কি তিনি দ্বিতীয়বারের মতো আসলেন জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত হয়ে, কারো মধ্যস্থতায় নাকি কারো আমন্ত্রনে? বাস্তবতা হলো তিনি আবার এসেছেন এবং সেটি “অদৃশ্যমান ব্লু হেলমেট পরেই”। জানাই আছে বাংলাদেশের সংঘাতময় পরিস্থিতি, হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ নিয়ে জাতিসংঘ উদ্বিগ্ন। সন্দেহ নেই, অস্কার ফার্নান্দেজ যেমনটি বলেছেন, জাতিসংঘ বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারিত্বকে খুবই গুরুত্ব দেয়। তিনি এমত আশা প্রকাশ করেছেন, সরকার ও বিরোধী দল সফল আলোচনার মাধ্যমে স্বচ্ছ ও সকলের কাছে গ্রহনযোগ্য একটি নির্বাচন করতে সক্ষম হবে। তিনি এও মনে করছেন যে, উন্নয়নের জন্য গণতন্ত্রের বিকল্প নেই এবং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া জোরদার করতে আগামী সংসদ নির্বাচনের পূর্বেই একটি সুস্থ পরিবেশ সৃষ্টি হবে।

সারাদেশের সুস্থস্বাভাবিক, শান্তিকামী যে কোন নাগরিক তার সঙ্গে একমত পোষন করবেন। বাংলাদেশে তিনি সরকার বা বিরোধী দল যার সঙ্গেই এ আশাবাদ ব্যক্ত করবেন, তারা মুখে তার সঙ্গে একমত হবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা নানাদিক থেকে ফার্নান্দেজ’র এই সফরকে অন্ত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন। কারণ, গত নভেম্বর ২০১২ থেকে চলতি মে পর্যন্ত রাজনৈতিক সংঘাত ও ধ্বংসযজ্ঞ কেবল কোন ‘যুদ্ধাবস্থা’র সঙ্গে তুলনীয় হতে পারে। সুতরাং বিশ্লেষকরা দেখতে পাচ্ছেন, সম্ভবত: অদৃশ্য নীল হেলমেট পরেই এবার ফার্নান্দেজ’র ঢাকায় আগমন।

জানা রয়েছে, কোন দেশের দ্বন্দ্বসংঘাত যদি রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রনের বাইরে গিয়ে ‘যুদ্ধাবস্থার’ মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করে তাহলে ‘ডিপার্টমেন্ট অব পিস কিপিং অপারেশনস’ বিভাগের মাধ্যমে শান্তি ফিরিয়ে আনায় জাতিসংঘ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে পিস কিপিং বাহিনী নিয়োগের আগে জাতিসংঘ বিভিন্ন কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রাখে। অতঃপর যে দেশে সংঘাতময় পরিস্থিতি বিরাজমান সেখানকার সরকারের অনুমোদনক্রমে বাহিনী নিয়োগ করে। এক্ষেত্রে এই নিয়োগে অবশ্যই নিরাপত্তা পরিষদের এবং যে দু’দল সংঘাতে অবতীর্ণ তাদের অনুমোদন থাকতে হয়। প্রশ্নটি এখানেই যে, এরকম কোন পরিস্থিতি বাংলাদেশে সৃষ্টি হয়েছে কিনা? একেবারেই সরকারের নিয়ন্ত্রনের বাইরে সংঘাতময় পরিস্থিতি দুই দলের মধ্যে যুদ্ধাবস্থা সৃষ্টি করেছে কিনা? কিংবা সাম্প্রতিক পরিস্থিতি আর কোন অবস্থায় নিয়ন্ত্রন করা যাচ্ছে না। যে কোন রাজনৈতিক বিশ্লেষক বা পাঠক একমত হবেন যে, বাংলাদেশের পরিস্থিতি এখনো সেরকম নয় যে জাতিসংঘের ‘পিস কিপিং মিশন’র প্রক্রিয়া এখানে শুরু হতে পারে।

তবে দ্বিতীয়বারের মতো ফার্নান্দেজ’র এই সফর খুবই সহজ এবং সরল হতে পারে। সেক্ষেত্রে এটি পরিস্কার হওয়া দরকার যে, ফার্নান্দেজ কারো আমন্ত্রনে বাংলাদেশে এসেছেন নাকি জাতিসংঘ মহাসচিবের নির্দেশে এই মিশন নিয়ে তিনি এসেছেন অথবা কারো মধ্যস্থতায়? ঢাকায় অবতরনের পরে ইতিমধ্যেই তিনি প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধী দলীয় নেত্রী, জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে বৈঠক সেরে ফেলেছেন। এসব আলোচনায় তিনি জানিয়েছেন, দেশের সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহনে অবাধ ও সুষ্ঠ নির্বাচনের বিষয়টিকে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গুরুত্বের সংগে নিয়েছে। তাই সংঘাতের পথ ছেড়ে আলোচনার আহবান জানিয়েছে জাতিসংঘ।

ফার্নান্দেজ’র এই সফর শেষ করে ইতিমধ্যে ফিরে গেছেন। যাবার আগে দেখা করেছেন প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেত্রী, স্পিকার, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, প্রধানমন্ত্রীর দুই গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টা, জামায়াতে ইসলামী’র প্রতিনিধি দল, নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে। তার এই কথাবার্তা ও আলাপআলোচনা কতোটা সফলবিফল হয়েছে তা বোঝা গেছে গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের আলাপকালে। তিনি বলেছেন, সময় চলে যাচ্ছে। যত দ্রুত সম্ভব সংলাপ শুরু করতে হবে। সংলাপ শুরু করলে সমাধানের পথ খুঁজে পাওয়া সহজ হবে। সংকট উত্তরনে প্রধান দুই রাজনৈতকি দলের মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায় জাতিসংঘ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তিনি আশংকা প্রকাশ করে বলেন, অবাধ, সুষ্ঠ, বিশ্বাসযোগ্য ও সবার কাছে গ্রহনযোগ্য নির্বাচনের ব্যাপারে সমঝোতা না হওয়ার ফল কি হতে পারে সে সম্পর্কে সব রাজনৈতিক নেতারই ধারণা আছে। তিনি সে ব্যাপারে আর কোন মন্তব্য করতে চাননি।

ফার্নান্দেজ’র কথা ধরে বলা দরকার, শুধু বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতারাই নয় সকল সাধারণ মানুষই জানেন, নির্বাচন না হলে তার ফলাফল কি হতে পারে। আর সে রকম ক্ষেত্র ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী পাশ করার মধ্য দিয়ে সরকার তৈরী করেই রেখেছে বলেই আজকের এই পরিস্থিতি। তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে দিয়ে এদেশে দলীয় সরকারের অধীনে কোন নির্বাচন সুষ্ঠ অবাধ ও সকলের কাছে গ্রহনযোগ্য হবে নাএরকম ভুরি ভুরি নজির বাংলাদেশে তো বটেই, বিশ্বের জনগণের কাছেও রয়েছে। ১৯৯৬ এর ফেব্রুয়ারীতে ভোটারবিহীন এক দলীয় নির্বাচন তার জ্বলন্ত প্রমাণ। তারপরেও আওয়ামী লীগ এই ব্যবস্থা বাতিল করে দিয়েছে জনদাবীর বিপরীতে শুধুমাত্র ব্যাক্তির ইচ্ছায়। সুতরাং, বল এখন কেন, সব সময় আওয়ামী লীগের কোর্টেই ছিল। যে ‘ব্রুট’ মেজরিটির জোরে আওয়ামী লীগ জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ১৯৯৬ সালে সংবিধানে যুক্ত তত্ববধায়ক সরকারের বিধান তুলে দিয়েছিল, সেই মেজরিটির জোরেই তারা তত্ববধায়ক সরকার ব্যবস্থা পূনর্বহাল করতে পারে। সম্প্রতি প্রথম আলোর জরীপে এসেছে শতকরা নব্বই শতাংশ মানুষ তত্ববধায়ক সরকার ব্যবস্থা পূনর্বহাল চায়। দেশের সুশীল সমাজ থেকেও সুষ্ঠ নির্বাচনের জন্য তত্ববধায়ক সরকার পদ্ধতির সরকার দরকার আছে কিনাসেই প্রশ্নে গণভোট আয়োজনের দাবি করা হয়েছে।

তত্ববধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের মধ্য দিয়ে যে গভীর সংকট ও জটিলতা সৃষ্টি করা হয়েছিল, তাতে শেখ হাসিনা’র সরকার সন্তুষ্ট থাকলেও মহাজোটের অনেক শরীকসহ প্রধান বিরোধী দল এবং নির্বাচনের ব্যাপারে দেশের জনগণকে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দিয়েছিল। সরকার যদিও সে সময় সংবিধান সংশোধন নিয়ে নানাধরণের ছলছুতো তৈরী করেছিল। সংবিধান সংশোধনীর আগে সংসদীয় কমিটি দফায় দফায় বৈঠক করেছে। আইনজ্ঞ, সমাজের বিশিষ্টজন, সংবাদপত্রের সম্পাদক ও সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংবিধান সংশোধনে বৈঠকের আগে এমনকি সংসদীয় বিশেষ কমিটিও তাদের সভায় সুপ্রীম কোর্টের রায় অনুযায়ী পরবর্তী দুই মেয়াদের জন্য তত্ববধায়ক সরকার বহাল রাখার পক্ষে মত দিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী ও বিরল কয়েকজন বাদে প্রত্যেকেই তত্ববধায়ক সরকার প্রয়োজন রয়েছে বলে মত ব্যক্ত করেছিলেন। এখন যেমনটি প্রধানমন্ত্রী বলছেন, সবার মতামত নিয়েই তত্ববধায়ক ব্যবস্থা বাতিল করা হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে সকলের তো বটেই, এমনকি মহাজোটের দুই শরীক ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাসদের বক্তব্য প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল।

ফলে এখন এই প্রশ্নে নতুন করে যখন সংলাপের কথা হচ্ছে, তখন সকল মহলের কাছ থেকে এই বক্তব্য আসা উচিত যে, কোন্ কোন্ পর্যায়ে সংস্কারসহ তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পূনর্বহাল করা যেতে পারে। নতুবা দেশের সুশীল সমাজসহ সকল মানুষ, জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মহল দুই প্রধান দলের মধ্যে সংলাপ সংলাপ করে আহাজারি করুন না কেনতাতে কতোটা ফল হবে সেরকম নজিরও জনগণের জানা আছে। আর এরকম ব্যর্থ সংলাপের পরিনতি কি হতে পারে তাও সকলের জানা আছে। এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে, ফলপ্রসু একটি সংলাপের মধ্য দিয়ে তত্ববধায়ক বা অন্তবর্তীকালীন যাই হোক না কেন, নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনে কোন ধরণের সরকার পদ্ধতি প্রসঙ্গে তারা একমত হবেন, নাকি দীর্ঘস্থায়ী গভীর সংকটের কবলে দেশকে ঠেলে দেবেন। তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল করে দিয়ে সঙ্কটের সৃষ্টি করেছেন এবং সমাধানও একমাত্র তিনিই দিতে পারেন। বিদ্যমান সঙ্কটের সমাধান একমাত্র তার হাতেই আছে, অন্য কারো হাতে নেই।

অন্যদিকে, আজকের পরিস্থিতির বড় দায় বিএনপি’রও। বিরোধী দল হিসেবে সংসদে যোগদান না করে বিএনপি যে গভীর সংকটে দেশকে ঠেলে দিয়েছে এবং বিপরীতে রাজপথে কার্যকর কোন আন্দোলন গড়ে তুলতে না পারার ব্যর্থতা সরকারকে স্বৈরাচারী হয়ে ওঠার সকল পথ তৈরী করে দিয়েছে। জামায়াতের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধতে গিয়ে জামায়াতের অন্ধ অনুসরন এবং পরবর্তীকালে হেফাজতে ইসলামীর মতো ধর্মান্ধ একটি দলের ওপরে নির্ভর করতে গিয়ে বিএনপি যেমন নিজের রাজনীতিকে জলাঞ্জলি দিয়েছে তেমনি তত্ববধায়ক সরকারের মূল দাবিকে আড়ালে ঠেলে দেয়ার সুযোগ পেয়েছে সরকার। গত তিন বছরে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তত্ববধায়ক সরকার পূনর্বহাল দাবিতে সংসদে ও সংসদের বাইরে তীব্র গণআন্দোলন গড়ে তোলার ক্ষেত্রটি প্রস্তুত করতে না পারা প্রধান বিরোধী দল হিসেবে বিএনপি’র সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা বলে বিবেচিত হবে।

অন্যদিকে, তত্ববধায়ক সরকার বহালের দাবিসহ বিগত দিনে যে কোন জনদাবির বিরুদ্ধে সরকারের যুদ্ধাপরাধ বিরোধী বিচার ব্যাহত করার ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্ব’ বিএনপি মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়নি, জামায়াতের প্রতি তার সমর্থনের বিষয়টি স্পষ্ট না করতে পারায়। ফলে এ সুযোগটিও সরকার নিয়েছে এবং এর মধ্য দিয়ে তত্ববধায়ক ব্যবস্থা বহালের দাবিটি সাময়িকভাবে আড়াল করতে চেয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিককালে দেশের জনগণ, সুশীল সমাজ এবং আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগউৎকন্ঠার মধ্যে সরকার প্রধান সংলাপের কথা বলতে বাধ্য হচ্ছেন। যদিও তারা পরিস্কার করে বলছেন না আলোচনা কি নিয়ে হবে, এজেন্ডা কি থাকবে। অন্যদিকে, বিএনপিও আগামী নির্বাচনকালীন তত্ববধায়ক সরকারের রূপরেখা কেমন হবে তা নিয়ে কোন প্রস্তাব দিতে পারেনি।

দেশের জনগণ মনে করে, যে ব্যবস্থা আওয়ামী লীগ বাতিল করেছে, যদি সদ্চ্ছিা থাকে, যদি সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন তারা করতে চায়, তাহলে নির্বাচনকালীন সরকারে দায়িত্ব কারা থাকবে সে বিষয়টি তাদেরই পরিষ্কার করা দরকার। এক্ষেত্রে তারা সম্প্রতি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টান্যাশনাল বাংলাদেশ এবং সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ’র দেয়া প্রস্তাবনা বিবেচনায় নিতে পারে। সেক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীকেই দায়িত্ব নিয়ে এজেন্ডা স্পষ্ট করে আলোচনার প্রস্তাব দিতে হবে। তবে সংসদকে এ ধরণের আলোচনার জন্য উপযুক্ত স্থান বলে অতীত অভিজ্ঞতায় জনগণ মনে করে না। কারণ এই মুহুর্তে সংসদে আওয়ামী লীগ’র রয়েছে ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতা। তার জোরে বিরোধী দলের যে কোন প্রস্তাব ভোটাভুটিতে বাতিল করে দেয়া হবে না এরকম গ্যারান্টি কে দেবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বরং এ ধরণের বিল সরকারী দল সংসদে উত্থাপন করলে বিরোধী দল সেখানে যোগ দিতে পারে। সংলাপটি যেখানেই হোক, বসার জন্য বসা নয়, তা অর্থবহ হওয়া আরো জরুরী। দেশের জনগণের অভিজ্ঞতা রয়েছে, সংকট উত্তরনে এ ধরণের সংলাপের ভুমিকা প্রায় নেই বললেই চলে। বর্তমান জাতীয় সংসদের মেয়াদ শেষ হতে মাত্র ৬ মাস বাকি। এ সময় এধরণের সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার পরিনতি আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি উভয়কেই বহন করতে হবে। তবে বর্তমান সরকারের ওপর সে দায়িত্ব বেশি বর্তাবে এ কারণে যে, সকল মহলের মতামতকে উপেক্ষা করে, এমনকি সুপ্রীম কোর্টের ‘অপশন’ উপেক্ষা করে তত্বাবধায়ক সরকার ব্যস্থা বাতিল করে দিয়ে আজকের পরিস্থিতি তারাই সৃষ্টি করেছে।

গোড়ায় ফিরে আসি। অস্কার ফার্নান্দেজ ফিরে গেছেন। অদৃশ্য নীল হেলমেট পরে সম্ভবত: তিনি এসেছিলেন। দৃশ্যত: জাতিসংঘ মহাসচিবের দূত হিসেবে। ৪ দিনের ব্যস্ত সময়ে যাদের সঙ্গে কথা বলেছেন, তারা সবাইই সংলাপের পক্ষে মত দিয়েছেন। প্রধান দুই দলের নেত্রীও সংলাপে বসতে চান। সংলাপ ব্যর্থ হলে কি হবে একটি আশংকার কথাও ফার্নান্দেজ বলে গেছেন। সম্ভবত: আলোচনায় তিনিও খুব আশাবাদী যে হতে পারেননি, তার প্রমাণ মেলে তার শেষ কথায়ঃ সময় চলে যাচ্ছে, যত দ্রুত সম্ভব সংলাপ শুরু করতে হবে। তিনি যা বলার বলে দিয়েছেন। এখন সমাধান শেখ হাসিনা’র হাতে। তিনি যদি আন্তরিক হন, তত্ববধায়ক ব্যবস্থা পূনর্বহাল করতে চান, আগের অবস্থান থেকে সরে আসতে পারেন, তাহলেই কেবল সংকট উত্তরন সম্ভব। অন্যথায় ফার্নান্দেজ’র আশংকা সত্যি প্রমানিত হলে ভবিষ্যতে জাতিসংঘ’র সত্যি সত্যিই বাংলাদেশে পিস কিপিংয়ের ভূমিকায় অবতীর্ন হওয়ার মতো দুর্ভাগ্য যেন জাতির জীবনে না আসে।।