Home » অর্থনীতি » করপোরেট পুঁজির কোনো দেশ নেই

করপোরেট পুঁজির কোনো দেশ নেই

অরুন্ধতী রায়

অনুবাদ: মোহাম্মদ হাসান শরীফ

arundhatiঅন্যায়, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সবচেয়ে সোচ্চার কণ্ঠস্বরগুলোর অন্যতম অরুন্ধতী রায়। ভারতীয় এই লেখিকা এবং সক্রিয়বাদী আউটলুককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে করপোরেট শক্তির আগ্রাসী মনোভাব তুলে ধরেছেন। এখানে তা তুলে ধরা হলো।

প্রশ্ন: এত সব দুর্নীতি, কেলেঙ্কারি সত্ত্বেও কি ভারতের করপোরেট খাত ভারতের রাজনৈতিক ভবিষ্যত নির্ধারণ করবে?

অরুন্ধতী রায়: অবশ্যই ভারতের ভবিষ্যৎ তারাই নির্ধারণ করতে পারে এবং অবশ্যই তারা তা করবে। দুর্নীতির পুরো ব্যাপারটা ক্ষমতা ও অর্থ সুসংহত করার। তাই নয় কি? তবে আমাদের ‘করপোরেট ইন্ডিয়া’ শব্দ দুটি ব্যবহার করা উচিত হবে না। মাত্র গুটিকতেক করপোরেশন ভারত চালায়, তারাই ওইসব সিদ্ধান্ত নেবে। এমনকি ‘করপোরেট ইন্ডিয়া’ এবং ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যেও প্রান্তীকিরণ এবং সুসংহতকরণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়েছে। আর করপোরেট পুঁজির কোনো দেশ নেই।

প্রশ্ন: করপোরেট খাতের দৃষ্টিভঙ্গি এত দিননির্দেশনাহীন এবং আত্মকেন্দ্রিক হওয়ার সত্ত্বেও মিডিয়া এবং শেষ পর্যন্ত জনগণও এমন অন্ধভাবে একে গ্রহণ করছে কেন?

অরুন্ধতী রায়: কারণ করপোরেশনগুলোই মিডিয়ার মালিক, তারাই মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে। আর মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ করে মানুষের কল্পনাশক্তিকে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ২৭টি টিভি চ্যানেলে আরআইএলের শেয়ার আছে। যৌক্তিকভাবেই আরআইএলের রাজনৈতিক প্রার্থীদের কথাই এসব চ্যানেল প্রচার করবে।

প্রশ্ন: করপোরেটগুলো জনগণের উপর এ ধরণের দৃষ্টিভঙ্গি চাপিয়ে দেওয়ার শক্তি পায় কোথা থেকে?

অরুন্ধতী রায়: আমাকে একটু ভাবতে দিন।এটা কি অর্থ? অনেক পরিমাণে?

প্রশ্ন: যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে করপোরেট খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এখানকার করপোরেট খাতও মনে হচ্ছে ওই সংস্কৃতির দিকে যাচ্ছে। ইস্যু কিংবা দলভিত্তিক গণবিতর্কের বদলে ব্যক্তিকেন্দ্রিক বিতর্কে মনোনিবেশন করছে।

অরুন্ধতী রায়: এমন লোককেই করপোরেট প্রার্থী করা হয়, যিনি কাজ করতে সক্ষম বলে বিবেচিত হন। তার সামর্থ্যরে মধ্যে প্রয়োজনে সেনাবাহিনী নামিয়ে হলেও জনবিদ্রোহ দমন করার যোগ্যতাও থাকতে হবে, যেমনটা হয়েছে ঝাড়খণ্ড, উড়িষ্যা ও ছত্তিশগড়ে। করপোরেট শক্তি মনে করে এসব স্থানের বন আর পাহাড়ে প্রচুর তৈরি সম্পদ রয়েছে। তবে পুরোপুরি মার্কিন মডেলে না হলেও এখানেও তারা অনেকটা সেদিকেই যাচ্ছে।

প্রশ্ন: আপনি কি মনে করেন, এসবকিছু ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা এবং মূল্যবোধের জন্য কল্যাণকর হবে?

অরুন্ধতী রায়: হ্যাঁ, এটা ভারতীয় গণতন্ত্রের জন্য চমৎকার। আমরা পরিচালিত হবো করপোরেশনগুলোর মাধ্যমে। সেনাবাহিনী মোতায়েন হবে। কোনো কিছুরই করপোরেট প্রয়োজনে বাধা হয়ে দাঁড়ানো উচিত নয়। গরিবদের বড় বড় নগরীর বাইরে কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে সরিয়ে নেওয়া হবে। উদ্বৃত্ত জনসংখ্যাকে ধ্বংস করে ফেলা হবে।।

(সাক্ষাতকারটি ১৪ এপ্রিল, ২০১৩ তারিখে প্রকাশিত হয়েছিল।)