Home » রাজনীতি » সরকার কি নিজের জালে নিজেই জড়িয়ে পড়ছে?

সরকার কি নিজের জালে নিজেই জড়িয়ে পড়ছে?

শাহাদত হোসেন বাচ্চু

PMরাজনীতির ইতিহাসে সারা পৃথিবীতেই প্রতিপক্ষকে আক্রমন বা স্যাটায়ার করার ক্ষেত্রে অনেক নেতার ব্যবহৃত বাক্য ও ভাষা রেফারেন্স হয়ে আছে। উপমহাদেশের অনেক রাজনীতিকের রসবোধ সৃষ্টি করে কথা বলার অভ্যাস ছিল। এক্ষেত্রে তারা আঞ্চলিকতার দোষেও দুষ্ট ছিলেন। এদের প্রত্যেকের ক্ষেত্রে একটি কথা বলা যায়, তাদের পরিমিতি বোধ, মার্জিত ও সুক্ষ্ম রসিকতা এবং প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মান প্রদর্শন ছিল একটি শিক্ষণীয় বিষয়। আমাদের বর্তমান কালের রাজনীতিবিদরা রাজনৈতিক সংস্কৃতির এই শিষ্টাচার একেবাবেই বিসর্জন দিয়েছেন বলে সাম্প্রতিক কালে তাদের কথাবার্তা শুণে দেশের মানুষ অন্তত: তাই মনে করছেন। আজকের এই লেখাটির বিষয় অবশ্য শিষ্টাচার নিয়ে নয়, দুই প্রধান দলের সংলাপ সংলাপ খেলা নিয়ে। কিন্তু সাম্প্রতিক কালে দেশের শীর্ষ পর্যায়ের নেতানেত্রীদের কথাবার্তা শোভন নয়, বরং অনেকেই অষ্টপ্রহরের খিস্তিখেউর বলে ভাবতে বাধ্য হচ্ছেন।

আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আক্রমন বা স্যাটায়ার করেন। মুচকি হেসে দিয়ে যে ভাষায় প্রতিপক্ষকে তিনি যেভাবে ব্যঙ্গবিদ্রূপ করে থাকেন, তার প্রতিপক্ষ প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া সে তুলনায় খানিকটা হলেও পিছিয়ে। শেখ হাসিনা যখন প্রতিপক্ষকে উদ্দেশ্য করে আক্রমন শানান, তখন দেশের অনেক নাগরিকই সেগুলো কোন প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রনায়কের মুখনিসৃত: বানী বলে ভাবতে পারেন না। ভাবতেই পারেন না, রাষ্ট্রনায়ক বা বর্তমান কিংবা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীরা প্রতিপক্ষকে আক্রমন করতে গিয়ে কতোটা শালীনতা বিবর্জিত হতে পারেন। সম্প্রতি রাজনীতিতে এর ভুরি ভুরি নজির রয়েছে। এই যেখানে অবস্থা সেখানে উভয় দলের অন্যান্য নেতানেত্রীরা আরেক কাঠি সরেস থাকবেন, তাতে সন্দেহ কি! ফলে পার্লামেন্ট, জনসভা, আলোচনা সভা, সেমিনার, সাক্ষাতকার ইত্যাদি যে যেখানেই কথা বলুন না কেন, শিষ্টাচারশালীনতার সমস্ত সীমা লঙ্ঘন করে ফেলছেন। ব্যক্তিগত পর্যায়েও নোংরাকুৎসিৎ আক্রমন করতে বিন্দুমাত্র কসুর করছেন না। মৃত ব্যক্তিরাও তাদের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছেন না।

জাতীয় সংসদের আগামি অধিবেশনে বিরোধী দল যোগদান করবে বলে জানা গেছে। সংসদে আসন রক্ষা করতে হলে তাদেরকে যোগদান করতেই হবে। আর সংসদ সদস্য হিসেবে তারা তো সকল সুযোগসুবিধা নিচ্ছেনই। এ অবস্থায় সংসদ নেত্রী প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শুণে যে কোন সচেতন মানুষ কিছুটা হলেও হতবাক। সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির চর্চা থাকলে প্রধানমন্ত্রী এই সিদ্ধান্তের জন্য বিরোধী দলীয় নেত্রীকে অভিনন্দন জানাতেন। তার বদলে তিনি প্রথমেই কঠোর হুমকি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছেন, বিরোধী দলের জ্বালাওপোড়াও কর্মসূচি কিভাবে কঠোরভাবে দমন করতে হয়, সেটা তাদের জানা আছে। বিরোধী দলীয় নেত্রীর উদ্দেশ্যে শুধু সদস্য পদ রক্ষার জন্য সংসদে একবার উঁকি না দিয়ে যেতে বারন করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর কি মনে আছে, বিরোধী দলে থাকাকালে ১৯৯১৯৬ এবং ২০০১০৬ মেয়াদে তিনি ও তার দল কিভাবে সংসদ বর্জন করেছিলেন? সে সময়ের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া প্রায় একই ভাষায় তাকেও এরকম সংসদে যোগদান এবং অবস্থানের জন্য নিয়মিত আহবানআবেদন জানিয়ে গেছেন। আবার ১৯৯৬২০০১ এবং ২০০৮২০১৩ মেয়াদে বিরোধী দলে অবস্থানকালে খালেদা জিয়াও অব্যাহতভাবে সংসদ বর্জনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও আহবান জানিয়ে যাচ্ছেন। আগের কোন একটি লেখায় বলেছিলাম, সংসদ বর্জনের ব্যাপারে দুনেত্রীর মধ্যে অভুতপূর্ব মিল রয়েছে। বিরোধী দলের রাষ্ট্রে এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যে বিরোধী দলের একটি বিশাল ভূমিকা রয়েছে, নির্বাচনমুখী রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের প্রবনতায় তা বোধহয় বাংলাদেশের মানুষ ভুলতেই বসেছে। জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের গত ২০ বছরে প্রায় কোন ভূমিকা না থাকার কারণেই সব সরকার একনায়ক এবং স্বৈরতান্ত্রিক হয়ে উঠছে।

চলতি মে মাসের শুরুতেই সরকার প্রধানের শর্তহীন সংলাপের দাবী প্রত্যাখ্যান করে বিএনপি ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়ে শর্তযুক্ত সংলাপের দাবী জানানোর মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক সংঘাত নতুন মোড় নেয়। ৪ মে এই আল্টিমেটাম দেয়ার কারণে হেফাজতে ইসলামের ঢাকা অবরোধের সঙ্গে এটিকে এক করে দেখার একটি সুযোগ তৈরী হয়। এটি আরো পোক্ত হয় তখন, যখন খালেদা জিয়ার তরফ থেকে দলে নেতাকর্মী ও ঢাকাবাসীকে হেফাজতের পাশে এসে দাঁড়ানোর আহবান আসে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দেশে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে এবং অন্যতম প্রধান নেত্রী হিসেবে খালেদা জিয়ার কাছ থেকে এরকম রাজনৈতিক ভুল আশা করা তো যায়ই না, উল্টো এটি তার দলের জন্য এখন অনেকটা বুমেরাং হয়ে দেখা দিয়েছে।

এটা সকলে জানে যে, হেফাজতের সঙ্গে আওয়ামী লীগ’র সম্পর্কটি বরং অনেক পুরানো। এমনকি হেফাজত এপ্রিলে যখন ঢাকায় সমাবেশ করে তখন তা নির্বিঘ্ন করার জন্য সরকারের প্রচ্ছন্ন সমর্থন ছিল। এরপরে চিত্র পাল্টে যায়। হেফাজতের সঙ্গে সমঝোতার দায়িত্বে থাকা সরকারী মন্ত্রীনেতাদের অযোগ্যতা এবং বিরোধী সকল পক্ষের পাল্টা খেলা পরিস্থিতিকে পাল্টে দেয়। ৫ মে শাপলা চত্বরের সমাবেশে হেফাজত কর্মীদের পাশে দাড়াতে ঢাকাবাসীর প্রতি বিএনপি আহবান জানিয়ে তাদের নেতাকর্মীদের সচল করতে পারেনি। কেন, এ প্রশ্নে উত্তর গোটা বিষয়টাই ছিল রাজনৈতিক ছকবাজি। পরিস্থিতি উল্টে গেলে দাড়াবেন কিভাবে? রাজনীতিতে বিএনপি বড় ধরণের বেকায়দায় পড়ে যায়।

জাতিসংঘ সহকারী মহাসচিব’র কুটনৈতিক তৎপরতা যে খুব একটা কাজে আসেনি তার প্রমান মেলে ১৫মে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগ’র কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বর্ধিত সভায় গৃহিত রাজনৈতিক প্রস্তাব এবং সিদ্ধান্তসমূহ। গত ১৯ মে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ বিরোধী নেত্রীকে যে কোন বিষয়ে সংসদে এসে আলোচনার আহবান জানান। তিনি বলে দিয়েছেন বিরোধী দলকে কোন চিঠি দেয়া হবে না, কারণ প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছেন। বিরোধী দল সংসদে এসে তাদের দাবী পেশ করুক।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এসব প্রস্তাব, কথাবার্তা, আশ্বাসকে অনেকটা রাজনৈতিক চাল হিসেবেই দেখছেন। তার কারণ হচ্ছে, গত ১৯৯১ থেকে ৪ টি সংসদে বিরোধী দলের আনা কোন দাবী বা প্রস্তাব ধোপে টিকেছে এমন প্রমান কেউ দিতে পারবেন না। যদি তাই হতো তাহলে ১৯৯১৯৬ মেয়াদে সংসদ বর্জন না করে আওয়ামী লীগ তত্বাবধায়ক সরকারের দাবী বা প্রস্তাব নিয়ে সংসদে যেতো এবং আলোচনা করে সেটি গ্রহণ করা হতো। সে রকম গণতান্ত্রিক চর্চা নেই বলে সংসদে এসে এ ধরণের আলোচনা কতোটা অর্থবহ হবে সেটি আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের জানা থাকলেও রাজনৈতিক সুবিধাজনক অবস্থানের কারণে আপাতত: মূল সংকটটিকে পাশ কাটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, আগামি একমাস কোন সভাসমাবেশ করতে না দেয়ার ঘোষনা দিয়ে সরকার কি দেশে অঘোষিত জরুরী অবস্থা জারী করলোএ প্রশ্ন এখন সকল মহলের। বিরোধী দল এবং সুশীল সমাজের অনেকেই এই পরিস্থিতিকে অনেকটা জরুরী অবস্থা ঘোষনার সামিল বলে মনে করছেন। অথচ সংবিধানের ৩৭ অনুচ্ছেদে বলা আছে “জন শৃঙ্খলা ও জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ সাপেক্ষে শান্তিপূর্ণভাবে ও নিরস্ত্র অবস্থায় সমবেত হইবার এবং জনসভা ও শোভাযাত্রায় যোগদান করিবার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকিবে”। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর যুক্তি হচ্ছে, যে সব দল অনুমতি নিয়ে সমাবেশ দুর্বৃত্তদের হাতে তুলে দেয় এবং জনসাধারণের ওপর অন্যায়অত্যাচার ও জ্বালাওপোড়াও করে, তাদের আগামি একমাস সমাবেশ করতে দেয়া হবে না। পরে আবার তিনি সংবাদপত্রকে বলেন, এ নিষেধাজ্ঞা শুধু ঢাকার জন্য এবং সব দলের ওপর কার্যকর হবে। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ বলেছেন, সাম্প্রতিক ঘুর্নিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রান কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এ সকল যুক্তিকে খারিজ করে দিয়ে প্রবীন আইনজীবি রফিকউলহক বলেছেন, কেউ নাশকতা চালাচ্ছে বা কোথাও প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলেএই অজুহাতে সভাসমাবেশ নিষিদ্ধ করা উচিত হবে না। জ্বালাওপোড়াও ও নাশকতার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ আছে। অতীতে এর চেয়ে বড় ধরণের দুর্যোগেও সভাসমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়নি। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিরোধী দলের কর্মসূচি বন্ধ করার কৌশল হিসেবে সরকার সব দলের সভাসমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। কারণ একমাস পরে রমজান এবং ঈদুল ফিতর। এ সময় মাঠ পর্যায়ে কর্মসূচি দেয়া যে কোন দলের জন্যই কঠিন। ২৮ অক্টোবর থেকে আগামি ২২ জানুয়ারির মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ অবস্থায় নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবী আদায়ের বড় আন্দোলন গড়ে তুলতে মধ্য আগষ্ট পর্যন্ত বিরোধী দলকে অপেক্ষা করতে হবে। প্রশ্ন হচ্ছে, পরিস্থিতি কি এতোটাই শান্ত থাকবে? এরকম ঘোষনা রাজনৈতিক দলগুলো মেনে নিতে পারবে? ইতিমধ্যেই কয়েকটি দল ও মোর্চা সরকারের এই সিদ্ধান্তকে অগণতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদী হিসেবে মন্তব্য করে প্রত্যাহারের দাবী জানিয়েছে। এমন কি খোদ সরকারি দলেও এই নিয়ে ক্ষোভ আছে। আওয়ামী লীগ নেতা মো. নাসিমসহ ক্ষমতাসীন দলের অনেকেই সভাসমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করেছেন।

প্রশ্ন হচ্ছে, সরকার কি ভয় পাচ্ছে? নাকি একটার পর একটা অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে নিজের জালে নিজেই জড়িয়ে পড়ছে? তত্বাবধায়ক সরকার নাকি অন্তবর্তীকালীন সরকার, যাই হোক না কেন, সে বিষয়ে দু’দলের আলোচনার মধ্য দিয়ে যদি ঐক্যমত্য না হয়, তাহলে সংসদের বিরোধী দল এ বিষয়ে যদি কোন প্রস্তাব উত্থাপন করে তাহলে তা সরকার দলের ব্রুট মেজরিটির কারণে তা ভেসে যাবে, সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। সুতরাং আগামি দিনগুলো সংঘাতময় হয়ে ওঠার আশংকা দেখা দিয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, মাসের শুরুতে সংলাপ আহবানে প্রধানমন্ত্রীর কন্ঠে চির চেনা সেই কঠিন কঠোর অনমনীয় সুর অনুপস্থিত ছিল কেন? তিনি কি কোন কিছুর আশংকা করছিলেন? সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে গিয়ে ৪ মে তিনি বলেছিলেন, “ওনার একটাই ধারণা উত্তর পাড়া থেকে পোশাকধারীরা এসে ওনাকে ক্ষমতায় বসিয়ে দেবেন”। আবার ১৯ মে সৈয়দ আশরাফ বলেছেন, সেনা সমর্থিত তত্বাবধায়ক সরকার বা ২০০৭০৮ সালের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হতে দেয়া হবে না। তত্বাবধায়ক সরকারের নামে কোন অসাংবিধানিক ব্যবস্থা বাংলাদেশের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না।

প্রধানমন্ত্রী কেন এই কথা বলতে গেলেন? তিনি একাধারে সরকার প্রধান ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত। বিগত দিনে তার শাসনের ফলাফল স্বরূপ কি এ আশংকা তিনি করছেন? তিনি কি রাজনীতির কোন অংক মেলাচ্ছেন অতীত অভিজ্ঞতায়? সেই কারণেই কি প্রধানমন্ত্রী বার বার বলছেন,“ওনারা মাইনাস ওয়ান ফর্মুলায় চলে গেছেন”? এর মধ্য দিয়ে তিনি কি পরিষ্কার করতে চাচ্ছেন, সরকার প্রধান হিসেবে মাইনাস ওয়ান ফর্মুলা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন? এর আগেও এই ষড়যন্ত্রের কথা তিনি বলেছেন। এ নিয়ে তিনি কি কোন মনস্তাত্বিক সংকটে ভুগছেন? বার বার কেন তিনি এ কথা বলছেন? তাহলে কি প্রধানমন্ত্রী এরকম কোন সম্ভাবনা অনুধাবন করতে পেরেছেন? আন্তর্জাতিক কোন মহলের সহায়তায় আবার কোন দুর্ঘটনার ইঙ্গিত বা তথ্য তার কাছে আছে? নইলে বার বার কেন তিনি বলছেন, “অনির্বাচিত সরকার আর চাই না”। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অবশ্য সৈয়দ আশরাফ’র একটি কথার সঙ্গে একমত হতে পারবেন যে, সেনা সমর্থিত কোন ধরণের অনির্বাচিত বা অদ্ভুত ধরণের কোন সরকার ব্যবস্থা বাংলাদেশের মানুষ চায় না। তারা চায়, সুষ্ঠ, অবাধ এবং দল নিরপেক্ষ একটি নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের পছন্দের নেতৃত্বকে ক্ষমতায় দেখতে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এই বছরে সরকারের একের পর এক অরাজনৈতিক আচরনকৌশল এবং সেটি মোকাবেলায় বিরোধী দলের সামগ্রিক ব্যর্থতা নির্বাচনমুখী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা বহুমুখী আশংকা প্রকাশ করছেন। সময় দ্র“ত শেষ হয়ে যাচ্ছে, এখনই সংলাপে বসতে হবেএরকম আহবানে একমত হলেও প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল কার্যত: মূল সমস্যা সমাধানে কোন দৃষ্টিগ্রাহ্য উদ্যোগ এখনও পর্যন্ত নেয়নি। সেই অর্থে যে কোন ইতিবাচক উদ্যোগ গ্রহনে ক্ষমতাসীন তলের দায় সিংহভাগ। কিন্ত আপাতত: বিএনপি দুর্বল অবস্থানে রয়েছে এটা ধরে নিয়ে আওয়ামী লীগ আবার অনমনীয় হয়ে উঠেছে। ফলে নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা কেমন হবেসেই বিষয়ে কেউই আশ্বস্ত হতে পারছেন না। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, আগামি দিনগুলো গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য অত্যন্ত বিপদজনক হয়ে উঠবে এবং অগণতান্ত্রিক শক্তির মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার সম্ভাবনা বাড়তে থাকবে, যে রকম পুনরাবৃত্তি বাংলাদেশের মানুষ আর দেখতে চায় না।।