Home » রাজনীতি » গুম খুন – ওরা আর ফেরে না

গুম খুন – ওরা আর ফেরে না

শাহাদত হোসেন বাচ্চু

disappearenceপ্রখ্যাত ঔপন্যাসিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় তার ‘ফেরা’ উপন্যাসের এক জায়গায় খুনী এবং খুন প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় চরিত্রের ভাবনায় লিখেছিলেন, …..“যারা খুন করে তারা জানে না, একটা মানুষ মানে একটা জগৎ। কত সম্পর্কে জড়িয়ে থাকে একটা মানুষবৌ, বাচ্চা, মা, বাবা, ভাই, বোন, বন্ধুতা ওরা ভুলে যায়। ওরা মারে বিচ্ছিন্ন একটা মানুষকে। সেই মার সেই লোকটাকে ছাড়িয়েও ছড়িয়ে যায়। একজন মানুষের সঙ্গে আরও কত মানুষ শেষ হয়। যারা খুন করে তারা কি তা জানে”?

স্বাধীনতার পরে এরকম লক্ষাধিক মানুষ খুন হয়ে গেছে বিয়াল্লিশ বছর বয়সী বাংলাদেশে। কতো মায়ের বুক খালি হয়েছে, স্ত্রী হারিয়েছে স্বামীকে, সন্তান হারিয়েছে পিতামাতাকে। আমাদের চেনাজানা জগতের কতো মানুষ যে আচমকাই এক সুন্দর প্রভাতে অথবা কালো নিশীথে নাই হয়ে গেছে, তার তো কোন হিসেব নেই। কতো সম্ভাবনা যে অকাতরে ঝরে গেছে নষ্টভ্রষ্ট রাজনীতির বলি হয়ে শুধুমাত্র প্রিয়জনরা বা একান্ত আপনজনরাই সে হিসেব দিতে পারবেন। আমাদের অকরুন রাষ্ট্ররাজনীতিসরকারসমাজ সে হিসেব কি আদৌ রাখে?

একজন ইলিয়াস আলী কিংবা চৌধুরী আলম’র মতো খ্যাতঅখ্যাত হাজারো জন গুম হয়ে যাবার পরে তাদের স্ত্রীসন্তান, বাবামা’রা দিনের পর দিন, এমনকি বছরের পর বছর অপেক্ষা করে থাকবেন, চোখের জল শুকিয়ে যাবে, ছানি পড়া চোখ নিয়ে অপেক্ষা করতে থাকবেন তার একান্ত জনের ফেরার অপেক্ষায়। কিন্তু ফেরা কি কারো হয়? রাজনৈতিক কিংবা ভয়াবহ কোন লোভের শিকার এসব মানুষেরা আর ফেরে না। পুলিশের হাতে অপহরনের পরে একজন জামালের মা কিংবা ত্বকী হত্যার পরে অথবা অসংখ্য খুনের পরে স্বান্তনা হিসেবে আপন জন খুনের বিচারের জন্য অপেক্ষার কাল কাটাবেন যুগের পর যুগ। কিন্তু ন্যায় বিচার কি কখনো তারা পাবেন? এই রাষ্ট্রসরকার ন্যায় বিচার কি নিশ্চিত করতে পেরেছে? একজন মেধাবী গরীব ছাত্র লিমন র‌্যাব’র গুলিতে পঙ্গু হয়ে যাবার পরে তার মাবাবার আহাজারী এই রাষ্ট্রসরকার কারো কানে পৌঁছায় না। বদলে শুরু হয়ে যায় রাজনীতির নোংরা কূটকৌশল আর ক্ষমতাধরদের কূটকচালি।

রাষ্ট্র যন্ত্র নিজেই যখন হত্যাকারী এবং নির্যাতনকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় তখন আর দুর্ভোগের শেষ থাকে না। বাংলাদেশ নামক ভূখণ্ডটি এখন রাষ্ট্রের ম্যানেজার সরকারের নানা বাহিনীর সীমাহীন নির্যাতনের শিকার।

আমাদের রাষ্ট্র, সরকার, প্রশাসনযন্ত্র কতোটা নির্লিপ্তনির্বিকার ও অনুভূতিশূন্য তার প্রমান মিলবে প্রকাশ্য দিবালোকে বিশ্বজিৎ নামে একজন দোকান মালিক ধারালো চাপাতি’র কোপে রক্তাক্ত লাশ হয়ে যাবার পরে। এই নির্দয় খুনের আসামীদের ধরার বদলে রাষ্ট্র তখন নিহত ও ঘাতকদের রাজনৈতিক পরিচয় আড়াল করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে এবং তা বি¯তৃত হতে থাকে সরকার প্রধান থেকে শুরু করে বিরোধী দল পর্যন্ত। কেউই বিবেচনায় নিতে পারে না, বিশ্বজিৎ একজন মানুষ, তার একটি জগৎ আছে, পরিবারপরিজন আছে, চরম নির্দয়নিষ্ঠুরতায় এসব কিছু ভুলে গিয়ে আমাদের রাষ্ট্রসরকার, প্রশাসন এবং তথাকথিত সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবর্গ সবধরণের অন্যায়বর্বরতাকে প্রশয় দিয়ে চলেছেন। ফলে অবধারিতভাবেই আমাদের সকল সুকৃতি, ভাল অর্জন, ঐতিহ্য রসাতলে যেতে বসেছে। যারা গণতন্ত্রের ধ্বজা ধরে আছেন, তাদের বোধকরি বিবেচনার সময় এসেছে, আর কতকাল ধারাবাহিকভাবে সাধারণ মানুষকে বর্বরতার শিকার হয়ে পরিবারপরিজনশুদ্ধ চরম মাশুল গুনতে হবে।

খুনী কারা, রাষ্ট্রসরকার সকলেই খুনিদের পরিচয় জানে। তারা সমাজে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়ায়, মিডিয়ার সঙ্গেহ কথা বলে, পত্রপত্রিকায় সাক্ষাতকার দেয়, রাষ্ট্র সমাজকে চ্যালেঞ্জ করেথেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। যদি বা কখনো তারা বিচারের মুখোমুখি হয়, শাস্তি হয় তাদের তাহলে রাজনৈতিক বিবেচনায় একসময় রাষ্ট্রপতি তার দন্ড মওকুফ করে দেন অথবা রাজনৈতিক বিবেচনায় মামলা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। বিচারের বানী নিভৃতে কাঁদে র্কিংবা মহাজনদের কন্ঠে ধ্বনিত বানী ‘জাষ্টিস ডিলেইড, জাষ্টিস ডিনাইডআসমা কিবরিয়া কি করে একথা বিশ্বাস করবেন জানিনা, তবে তিনিও আরো হাজারো জনের মত আইনী জটিলতা আর রাজনীতির কূটিল মারপ্যাচে আটকে পড়া স্বামী হত্যা মামলায় ন্যায় বিচারের আশায় বুক বেঁধে থাকবেন?

নির্বাচনী ইশতেহারে আওয়ামী লীগ’র দাবি অনুযায়ী, ২০০১২০০৬ সময়কালে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছে কমবেশি ২১ হাজার মানুষ। ২০০৮ সালের নির্বাচনের পরে জনগণ এমত আশা করে ভোট দিয়েছিল যে, নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী আওয়ামী লীগ সরকার রাজনৈতিক হত্যাকান্ড, গুম, বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড বন্ধের যে ওয়াদা করে ক্ষমতায় এসেছিল তা করতে সক্ষম হবে। অন্তত: ইশতেহারে আওয়ামী লীগ সে রকমই ওয়াদা করেছিলঃ ..বিচার বিভাগের প্রকৃত স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা হবে। বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ করা হবে। মানবাধিকার লংঘন কঠোরভাবে বন্ধ করা হবে। রাজনীতিতে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নিষিদ্ধ করা হবে। সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি নিষিদ্ধ হবে। জনজীবনে নিরাপত্তা বিধানে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসমূহকে রাজনীতির প্রভাবমুক্ত, আধুনিক ও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলা হবে (সুত্রঃ আওয়ামী লীগ নির্বাচনী ইশতেহার ২০০৮)

এবার দেখা যাক, আওয়ামী লীগ’র এই নির্বাচনী ইশতেহারের ওয়াদা তারা কতটুকু বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছে। তাদের শাসনামলের বর্তমান বছর বাদে ২০০৯, ২০১০, ২০১১ ও ২০১২এই ৪ বছরে কি পরিমান রাজনৈতিক সহিংসতা, খুন, গুম, বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড, নারী নির্যাতনে নিহতের সংখ্যা ও ধর্ষণের শিকার হয়েছে কতো মানুষ তার একটি পরিসংখ্যান এখানে প্রদান করা হচ্ছে। মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের ৪ বছরের প্রতিবেদন থেকে এই বিষয়ক তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। তাদের রিপোর্ট থেকে জানা গেছে, গত ৪ বছরে বাংলাদেশে বিভিন্ন ঘটনায় খুন হয়েছেন ৪ হাজার ৮০২ জন মানুষ। এর মধ্যে রাজনীতিক সহিংসতায় খুন হয়েছেন ৮৭৫ জন, বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছেন ৪৩৫ জন, কারাগারে মারা গেছেন ১৭৮ জন, গুম হয়েছেন ৭৫ জন, নির্যাতনের শিকার হয়ে নিহত হয়েছেন ২৭৪ জন পুরুষ ও ২ হাজার ৫১ জন নারী, ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীদের গুলিতে মারা গেছেন ২৪১ জন, গণপিটুনির শিকার হয়েছেন ৫৯৪ জন, অন্যান্য ঘটনায় খুন ৫৯ জন। ৪ বছরে ২ হাজার ৫৩১ জন নারী, শিশু ও কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন।

সুতরাং এটা এখন সুষ্পষ্ট যে, আওয়ামী লীগ নির্বাচনী ইশতেহারের ওয়াদা বাস্তবায়ন করার ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়ার বদলে তাদের নিজেদের অতীত এবং পূর্বসূরী বিএনপি’র ধারাবাহিকতা রক্ষা তো করছেই, বরং তাদের আমলে নতুন সংযোজিত হয়েছে ‘গুম’র মতো ভয়ংকর ঘটনা। এরকম গুমের ঘটনায় গত ৪ বছরে হারিয়ে গেছে ৭৫ জন মানুষ। তাদের আত্মীয়স্বজন, একান্ত জনেরা এখনো জানেন না এইসব মানুষেরা আর ফিরে আসবে কিনা? যদি তারা ফিরে না আসেন, তাদের পরিনতির কথা অন্তত: প্রিয়জনরা জানতে চান। মরদেহটি ফিরে পেতে চান। যাতে ধর্মীয় মতে তাকে সমাহিত করা যায়। যেন স্মরন করার জন্য শেষ স্মৃতি চিহ্নটি তাদের কাছে থাকে।

গত ২২ মে বুধবার রাতে লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এ্যামনেষ্টি ইন্টারন্যাশনাল তাদের বার্ষিক প্রতিবেদন ২০১৩ প্রকাশ করে। তার আগের দিনই বাংলাদেশে ভয়াবহ দুটি ঘটনা ঘটে। রাজধানী উত্তরায় মঙ্গলবার গভীর রাতে র‌্যাব’র সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে দ্ইু যুবকের মৃত্যু আর নারায়নগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় পুলিশের হাতে আটক এক যুবকের নির্যাতনে মৃত্যুর অভিযোগবাংলাদেশে মানবাধিকার লংঘনের নৈমিত্তিক চিত্র হিসেবে তুলে ধরে। এ্যামনেষ্টি’র বার্ষিক প্রতিবেদনে এ বছরে মানবাধিকার লংঘনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে একটি নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। রিপোর্টে প্রতি বছরই রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর হাতে সংঘটিত বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের পরিসংখ্যান দেয়া হয় এবং কিছু ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরনও থাকে।

এবারের প্রতিবেদনে বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন শব্দবন্ধঃ ‘এনফোর্সড ডিসএ্যাপিয়ারেন্স’ বা গুম। যদিও অধিকার’র হিসেবে গুমের সংখ্যা দেয়া হয়েছে ২৪ জন, এ্যামনেষ্টির রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে ১০ জনের কথা। এদের অধিকাংশেরই খোঁজ মেলেনি। অল্প যে কয়েক জনের লাশ মিলেছে, তাদের শরীরে নির্যাতনের ক্ষতচিহ্ন। গুমের দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর কথা। রিপোর্ট প্রকাশের দুইদিন পরে ২৪ মে শুক্রবার সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায় গোপালগঞ্জ থেকে দুই যুবক ৫ মাস ধরে নিখোঁজ রয়েছে। মাহবুব ও ওবায়দুর নামে দুই যুবককে একই এলাকা থেকে মাত্র দুই ঘন্টার ব্যবধানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে ৫ মাস আগে তাদেরকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়।

এ্যামনেষ্টির রিপোর্টে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র একটি উক্তির উল্লেখ রয়েছেঃ দেশে কোন মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়নি। বিপরীতে বছর জুড়ে মানবাধিকার লংঘনের ভয়াবহ সব ঘটনার বিবরনী তুলে দিয়ে চোখে আঙ্গুল দিয়ে মানবাধিকার পরিস্থিতির চিত্রটি তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু চোখে ঠুলি পরে থাকার কারণে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসীন ব্যক্তিবর্গ মানবাধিকার লংঘনের চিত্রটি দেখতে পাননি। আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ্যামনেষ্টি রিপোর্টকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তবে তিনি বলতে ভোলেননি, এ্যামনেষ্টি বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড, গুম ও খুনের যে তথ্য দিয়েছে তাতে হিসেবের বিভ্রান্তি আছে। অন্যদিকে, আইন প্রতিমন্ত্রী বলেই দিয়েছেন, সরকারকে হেয় প্রতিপন্ন করতেই এ্যামনেষ্টি উদ্দেশ্যপ্রনোদিতভাবে এই রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। এখানেই থামেননি তিনি, অভিযোগের আঙ্গুল তুলেছেন এ্যামনেষ্টির দিকেঃ সংগঠনটি বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে কয়েক বছর ধরে অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশে একটি মানবাধিকার কমিশন রয়েছে। নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী বর্তমান সরকার দাবি করতে পারে যে, তারা একটি ‘স্বাধীন’ মানবাধিকার কমিশন গঠন করতে সক্ষম হয়েছেন। কিন্তু এই কমিশন কতোটা স্বাধীন এবং মানবাধিকার লংঘনের ঘটনায় বত্তৃতাবিবৃতি ছাড়া আর কিছু করতে পেরেছে বলে জনমনে অনেক প্রশ্ন রয়েছে। ফলে একটি স্বাধীন এবং কার্যক্ষম মানবাধিকার কমিশন হিসেবে এটি গড়ে ওঠার জন্য জাতিকে বহুকাল অপেক্ষা করতে হতে পারে। এ্যামনেষ্টির রিপোর্ট’র প্রতিক্রিয়ায় মানবাধিকার কমিশন’র চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলে দিয়েছেন, সুপারিশ ছাড়া কিছু করার ক্ষমতা তার নেই। তার ভাষায়, বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড, গুম ও খুনের ঘটনা খতিয়ে দেখতে সরকারের কাছে সুপারিশ করা ছাড়া কমিশনের আর কোন ক্ষমতা নেই।

এই যেখানে পরিস্থিতি, সেখানে সরকার প্রধান যদি দাবি করতে থাকেন, বাংলাদেশে মানবাধিকার লংঘনের কোন ঘটনা ঘটেনি, তাহলে তার পারিষদবর্গ কি বলবেন! অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীগুলো এই সুযোগ নিয়ে প্রতিপক্ষ নির্মুলে একের পর এক ঘটনা ঘটাতে থাকলে তাহলে গোটা দেশের জনগণই জিম্মি হয়ে পড়তে পারে। অথচ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে পরিষ্কার উল্লেখ করা হয়েছিল, “জনজীবনে নিরাপত্তা বিধানে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসমূহকে রাজনীতির প্রভাবমুক্ত, আধুনিক ও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলা হবে”। ইশতেহারের এই ওয়াদা তো পূরন হয়নি, বরং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকে দলীয় বাহিনীতে পরিনত করা হয়েছে বলে সরকারের বিপক্ষে বারবার অভিযোগ উঠছে।

বাংলাদেশে এই মূহুর্তে কোন মানুষই কি নিরাপদ? ভাবছেন আপনি কোন দল করেন না। দলনিরপেক্ষ আপনি? সুতরাং আপনার কোন ভয় নেই। না, এমনটি ভাবার কোন কারণ নেই। আপনি, আমি, আমরা কেউই নিরাপদ নই। আপনার ছেলেমেয়ে’র স্কুলে ভর্তি, যাতায়াত, বিয়ে, চাঁদা দেননি মাস্তানদের, রয়েছে সামান্য জমিজমা যার দিকে চোখ পড়েছে এলাকার প্রভাবশালী নেতার আপনি হতে পারেন তার টার্গেট অথবা বায়না মেটাতে পারেননি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীরআপনার দিকে তাক করে আছে তাদের অস্ত্র। এমনকিছু না হলেও বিপন্ন হতে পারেন আপনি বা আপনার নিকটজনের কেউ অথবা নিহত হতে পারেন যে কেউ, যে কোনো সময়। এইসব মৃত্যুদুতদের কাছ থেকে আপনিআমি কেউই নিরাপদ নই। সেটা কোন অপরাধ না করলেও। হতে পারে সে অপরাধ বাংলাদেশে বসবাসের।

এই লেখাটির একটি কৈফিয়ত থাকা প্রয়োজন। একজন লিখিয়ে বা সাংবাদিক হিসেবে এই নিবন্ধে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যগুলি থাকা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু ইচ্ছে করেই তাদের বক্তব্য বা মন্তব্য জানতে চাওয়া হয়নি। সংবাদপত্রে প্রতিদিনই এরকম ভয়াবহ সব ঘটনার ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজিসহ উর্ধতন কর্মকর্তাদের সাক্ষাতকার বা আলাপচারিতা জানতে পারি। তাদের দেয়া বক্তব্য সবসময়ই আমার সাজানো রেকর্ডের মতো মনে হয়। মনে হয়, ঘটনা যতই ভয়াবহ হোক না কেন, তারা ৪৮ ঘন্টা থেকে এক সপ্তাহের মধ্যে অপরাধীদের ধরে বিচারের ব্যবস্থা করার কথা বলে থাকেন। পাশাপাশি আগের সরকারের সময়ে সংঘটিত ঘটনাবলীর এমন বিবরন দেন যাতে মনে হয়, এ আমলের ঘটনা আসলে খুবই সাধারণ!

সহিংসতা, খুন, গুম, বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের ঘটনায় আতঙ্কিত এই জনপদ। প্রয়াত শ্রদ্ধেয় সাংবাদিক নির্মল সেন ১৯৭৪ সালে ‘স্বাভাবিক মৃত্যু’র গ্যারান্টি চেয়েছিলেন। নিজে স্বাভাবিক মৃত্যুবরন করলেও যাদের জন্য এই রকম দাবি তিনি করেছিলেন, সে রকম গ্যারান্টি কোন সরকারই দিতে পারেনি। এ লেখাটি শেষ করতে চাই, আরেক প্রয়াত কবি ও ঔপন্যাসিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়’র কয়েকটি লাইন উদ্বৃত করেঃ

কার দিকে গুলি ছুঁড়ছো হে, এখানে সবাই মানুষ!

তুমি কে, তুমি কি গ্রহান্তরের দলছুট?

তোমার কখনও ছিল না কি শৈশব?

তুমি কি কখনো দেখনি মাটিতে ঘুমন্ত কোন শিশু?

জানালার ধারে দাঁড়ানো, একলা, শূন্য দৃষ্টি নারী?

কার দিকে গুলি ছুঁড়ছো হে, এখানে সবাই মানুষ!

3 টি মন্তব্য

  1. Bacchu Bhai, Just completed reading your article. Disappearance is not a new phenomenon in this part of the world. In the early days saints used to disappear to find out unknown eternity, feudal kings and Jamindars used to make people disappeared to expand their land or for women,  Netaji Shubash Chandra disappeared for the cause of his nation and now people are being disappeared for different reasons you mentioned. Whatever may be the cause of disappearance- near and dear ones suffer the same. Ordinary people like us can do nothing but praying to Allah for a normal and ordinary life. Thanks for the article.   

  2. Taslim Ahamed Tongker

    Bristy Veja ei sokale apnar chomotkar lekha porchilam r lal chaer cupe chumuk dicchilam ei somoikaler sobtheke valo lekha bole mone hoyece apnar chinta sokti aro bikoshito hok egie jan samner dike valo ebong susto theke roilam apnar pase.
     

  3. Bacchu Bhai, Thanks for the article.