Home » প্রচ্ছদ কথা » ক্ষমতাসীনদের প্রতি জনগণের অনাস্থা

ক্ষমতাসীনদের প্রতি জনগণের অনাস্থা

বিশেষ প্রতিবেদন চার সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফলাফল

আমাদের বুধবার প্রতিবেদন

city corক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং এর জোট বিগত নির্বাচনের আগে যে নির্বাচনী ইশতেহার দিয়েছিল, তাতে প্রতিশ্রুতির মাত্রা এমনই ছিল যে, ওই ইশতেহারটি ছিল আসলে প্রতিশ্রুতির কথামালায় ভারাক্রান্ত। এনজিওর প্রজেক্ট প্রপোজাল তৈরির মতো ওই ইশতেহারে রূপকল্পের কথাও বলা হয়েছে। ভাগও করা হয়েছিল, তাদের অগ্রাধিকারের। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিক পাঁচটি বিষয় ছিল যার মধ্যে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণ, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সঙ্কটের সমাধান এবং উন্নয়ন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা। ওই সব প্রতিশ্রুতি ছাড়াও অন্যান্য অনেক প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে অচিরেই তা বাস্তবায়ন করা হবে এমন একটা আশাবাদ জনগণের মধ্যে ছড়ানো হয়েছিল। বলা হয়েছিল, ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার কথা। তরুণদের উদ্দেশ্যে ছিল বিশেষ বিশেষ প্রতিশ্রুতি যার মধ্যে ঘরে ঘরে চাকরির নিশ্চয়তা থেকে শুরু করে উন্নততর একটি বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার প্রাধান্য পেয়েছিল।

কিন্তু ২০০৯এর জানুয়ারিতে ক্ষমতাসীন হওয়ার দিন থেকেই শুরু করে ক্ষমতাসীন সরকার ওই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করা তো দূরের কথা, বরং উল্টো পথে হাটা শুরু করে। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় মূল্যস্ফীতি লাফিয়ে লাফিয়ে এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, জনগণের সঙ্কট তীব্র থেকে তীব্রতর হয়েছে। অসহায় সঙ্কটাপন্ন হয়ে পড়েছে দরিদ্র জনগোষ্ঠী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ সবাই। যেদিন আওয়ামী লীগ ও এর নেতৃত্বাধীন জোট ক্ষমতাসীন হলো ঠিক সে দিন থেকে ছাত্রলীগ এবং যুবলীগের তাণ্ডব দেশবাসীকে প্রত্যক্ষ করতে হয়েছে। খুন, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি থেকে শুরু করে এহেন অপকর্ম নেই যা তারা করেনি। এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী, সরকারের মন্ত্রী এবং ক্ষমতাসীন দলের ঊর্ধ্বতন নেতারা পর্যন্ত ‘ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে’ জাতীয় বক্তব্য দিয়ে শেষ পর্যন্ত চুপচাপই থেকেছেন। এদের অর্ন্তঃদ্বন্দ্বে নিরীহ ছাত্র হত্যা, হলের ছাদ থেকে নিচে ফেলে দেয়া, ছাত্রাবাস জ্বালিয়ে দেয়া, যৌন সন্ত্রাসসহ নানা কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে তারা। অসংখ্য ঘটনার মতো একজন সাধারণ বিশ্বজিতকেও জীবন দিতে হয়েছে এদেরই হাতে। অথচ প্রতিটি ঘটনা ঘটার পরে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে নেতাদের মধ্য থেকে বলা হয়েছে, এরা দলে অনুপ্রবেশকারী।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলা হলেও বাস্তবে এই সরকারের সময় দুর্নীতির এমন সব ঘটনা ঘটতে থাকে যা অতীতে আর কখনও শোনা যায়নি। নিত্যনতুন কৌশল আর লুটপাটের উদ্ভাবনী শক্তি জনগণকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে। পদ্মা সেতু দুর্নীতি, হলমার্ক, বিসমিল্লাহ কেলেঙ্কারি, ডেসনিটির মাধ্যমে অর্থ লুট থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের উপর থেকে নিজ পর্যন্ত সর্বত্রই ছোটবড় নানা ধরনের দুর্নীতি, লুটপাট এবং কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটতে থাকে। শেয়ারবাজারের মতো কেলেঙ্কারির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা লুটে নিয়ে যাওয়ার পরেও সরকার গঠিত তদন্ত কমিটি চিহ্নিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি বরং তাদের আশ্রয় এবং প্রশ্রয় দেয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নয়নের কথা বলা হয়েছিল। এমনকি কতো সময়ের মধ্যে কতোটা বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো যাবে তারও একটা ফর্দ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু বিদ্যুৎ পরিস্থিতির সীমাহীন অবনতি হয়েছে। বরং কুইক রেন্টালের নামে দলীয় এবং কাছের ব্যক্তিদের অবাধ লুণ্ঠনের পথকে সুগম করে দেয়া হয়েছে। এর টেন্ডারের ক্ষেত্রে দায়মুক্তি পর্যন্ত দেয়া হয়েছে। দেশকে এখন প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকা ক্ষতির মধ্যে ফেলা দেয়া হয়েছে। এছাড়া গ্যাস, বিদ্যুৎ, তেলের দাম দফায় দফায় বাড়িয়ে জনজীবনের সঙ্কটকে আরো তীব্রতর করা হয়েছে।

অর্থনীতি সীমাহীন দূরাবস্থার মধ্যে পড়েছে। বিনিয়োগ নেই, দেশিবিদেশি উদ্যোক্তারা বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহী হারিয়ে ফেলছেন। মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানি কমায় এক অশুভ সঙ্কেত দেখা দিয়েছে পুরো শিল্প খাতে। ব্যাংক ঋণের উপরে সরকারের নির্ভরশীলতা অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেড়েছে।

হত্যা, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, আইনি হেফাজতে নিহত হওয়ার ঘটনা অবাধ রূপ পেয়েছে। ক্রমান্বয়ে ব্যাপক বিস্তারি এসব ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক আরো বেড়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গুম। আর সংযোজিত হয়েছে গণপিটুনির নামে হত্যাকাণ্ড। আর এসব ঘটনার শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ এবং বিরোধী দল এবং মতাবলম্বীরা। অথচ নির্বাচনী ইশতেহারে ৫নম্বর দফায় সুশাসন প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছিল। ইশতেহারে বলা হয়েছিল – ‘রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে শিষ্ঠাচার ও সহিষ্ণুতা গড়ে তোলা হবে এবং সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি নিষিদ্ধ হবে।’ রাজনৈতিক শিষ্ঠাচার ও সংস্কৃতির বদলে মামলাহামলা, হত্যানির্যাতন, নিপীড়নের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিজস্ব দলীয় বাহিনী হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এর সঙ্গে ছাত্রলীগযুবলীগ এবং খোদ ক্ষমতাসীন নেতারা যুক্ত হয়ে বিরোধী দল মতকে দমন করার কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। বিরোধী পক্ষকে দমনের জন্য সশস্ত্র দলীয় ক্যাডারদের যে ব্যবহার করা হয় , তার ছবি সংবাদ মাধ্যমে অসংখ্যবার দেখা গেছে। অথচ নির্বাচনী ইশতেহারে বলা হয়েছিল – ‘জনজীবনের নিরাপত্তা বিধানে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসমূহকে রাজনীতির প্রভাবমুক্ত রাখা হবে।’

প্রশাসনকে ব্যাপক মাত্রায় দলীয়করণ করা হয়েছে। অথচ নির্বাচনী ইশতেহারে বলা হয়েছিল, ‘দলীয়করণমুক্ত অরাজনৈতিক গণমুখী প্রশাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে। যোগ্যতা, জ্যেষ্ঠতা ও মেধার ভিত্তিতে সব নিয়োগ ও পদোন্নতি নিশ্চিত করা হবে।’ বাস্তবে এর উল্টো চিত্রটাই দেখা যাচ্ছে।

সরকার জনদাবিকেও চরমভাবে উপেক্ষা করেছে এবং কঠোর হাতে এসব দাবিকে দমনের চেষ্টা করা হয়েছে। রূপগঞ্জ, আড়িয়াল বিলসহ অসংখ্য আন্দোলনকে এভাবেই দমন করা হয়েছে। দমন করা হয়েছে গ্যাস, বিদ্যুতের দাবিতে রাস্তায় নেমে আসা মানুষদের বিক্ষোভকে।

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিরোধী দল, মত ও পক্ষের কাউকে তারা সহ্য করতে নারাজ। প্রধান বিরোধী দল তো অবশ্যই, বিরোধী যেকোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে রাজপথে দাঁড়াতে পর্যন্ত দেয়া হয়নি আগাগোড়াই। তেলগ্যাস, খনিজ সম্পদ ও বন্দররক্ষা কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদের পা ভেঙে দিয়েছে পুলিশ। সিপিবিসহ বেশ কিছু রাজনৈতিক দলের নেতাদেরও রাজপথে লাঠিপেটা করা হয়েছে। অবস্থা এমন পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে যে, শেষ পর্যন্ত ঘোষণা দিয়ে সভাসমাবেশ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সভাসমাবেশ প্রতিহত করতে গুলি করার অবাধ অধিকার দেয়া হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে।

সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতায় বার বার হস্তক্ষেপ করা হয়েছে। সংবাদপত্র ও টেলিভিশন বন্ধ হয়েছে, ইউটিউব, ফেসবুক বন্ধ করা হয়েছে বেশ কয়েকবার। টকশোর মতো মুক্ত মতামত ভিত্তিক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশ্যে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নানা কটূ মন্তব্য করে মুক্ত মতের উপরেও এক প্রকার নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।

বৈদেশিক নীতিতে সরকার এক দেশমুখীতা গ্রহণ করেছে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতকে করিডোর সুযোগ দেয়া হয়েছে। কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের অনুমতি দেয়ার মাধ্যমে সুন্দরবনকে ধ্বংস করার পায়তারা করা হচ্ছে। টিপাইমুখ সম্পর্কে সরকার নির্বিকার। তিস্তা নদীর পানি বন্টনের কোনো সুরাহা সরকার করতে পারেনি। সীমান্তে ফেলানীর মতো অসংখ্য সাধারণ মানুষকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ গুলি করে হত্যা করলেও সরকার সে ব্যাপারে কখনই সোচ্চার কোনো ভূমিকা গ্রহণ করেনি।

জাতীয় সংসদকে কার্যত অকার্যকর একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হয়েছে। সংসদে বিরোধী দলের অনুপস্থিতি সমর্থনযোগ্য নয়, কিন্তু যখনই তারা সংসদে গেছেন তখন এমন সব ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে , যা যে কারো কল্পনার অতীত।

রাজনৈতিক সাংঘর্ষিক পরিস্থিতিকে বার বার এমনভাবে উসকে দেয়া হয়েছে যাতে পুরো রাজনীতিই এখন আরো সঙ্কটাপন্ন, জটিল এবং অধিকতর সাংঘর্ষিক হয়েছে। নিজেদের ক্ষমতাকে আরো সুসংহত করার জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়েছে সবার মতামতকে অগ্রাহ্য করে। মাত্র কিছুদিন আগে একটি সংবাদপত্রে যখন জরিপ চালিয়ে এর ফলাফল প্রকাশ করে বলা হলো শতকরা ৯০ ভাগ মানুষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষে, তখন সরকার প্রধান এমন ভাষায় এর প্রতিক্রিয়া জানালেন , যেন সংবাদপত্রটি মারাত্মক কোনো ভুল কাজ করে ফেলেছে।

সামগ্রিকভাবে মানুষ যখন নিরাপত্তাহীনতায়, বিরোধী দল ও মত যখন দমন পীড়নের শিকার, তখন এই দমন পীড়নকে আরো বাড়িয়ে দেয়া এবং আরো জোরালো করার জন্য তড়িঘড়ি করে সংসদে ‘সন্ত্রাস দমন আইন’ পাস করা হয়েছে।

এক কথায় জনজীবনের সঙ্কট, নিরাপত্তাহীনতার সৃষ্টি এবং পাশাপাশি সমগ্র শাসন ব্যবস্থাটিকে স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রূপান্তরের জন্য যা যা করণীয় সরকার ঠিক তাই করেছে। গণতন্ত্রকে বিপদাপন্ন করা হয়েছে, বিপদের মুখে ফেলা দেয়া হয়েছে পুরো দেশ এবং জাতিকে।

এই অবস্থায় চারটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মাধ্যমে ভোটাররা সরকারের অপকর্মের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে। এর আগেও চট্টগ্রাম, কুমিল্লা এবং নারায়ণগঞ্জের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জনগণ আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে পরাজিত করে বার্তা দিয়েছিল। কিন্তু স্বৈরতন্ত্রের পথে হাটা সরকার সে বার্তা আদৌ আমলে নেয়নি।

এবারের চারটি সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের মাধ্যমে ত্যক্তবিরক্ত, হতাশ, অসহায় জনগণ ক্ষমতাসীনদের প্রতি অনাস্থা জানিয়েছে। সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ক্ষমতাসীনদের জনপ্রিয়তার একটি মাপকাঠি হিসেবে গণ্য করাই সঙ্গত। কারণ মানুষ সুযোগ খুজছিলেন বর্তমান সরকারের প্রতি ‘না’ বলার জন্য। যখনই ‘না’ বলা এবং অনাস্থার জানানোর সুযোগ জনগণ পেয়ে গেছে ,তখনই তারা তাদের সুযোগ কাজে লাগিয়েছে।

তবে নির্বাচনে জয়ী হলেও এতে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির আনন্দিত হওয়ার কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই। বিএনপি’র মনে করার এমন কোনো কারণ নেই যে, তাদের জনপ্রিয়তার কারণেই তারা নির্বাচিত হয়েছেন। জনগণ সরকারের প্রতি যে অনাস্থা দেখিয়েছে তার অর্থ বিএনপি’র প্রতি জনগণ আস্থাশীল হয়ে পড়েছে বিষয়টা ঠিক তেমন নয়। নির্বাচনের ক্ষেত্রে ‘নেগেটিভ ভোট’ বলে যে কথা চালু আছে, চারটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আসলে তাই ঘটেছে। কারণ বিএনপি গত সাড়ে চার বছরে জনআস্থা সৃষ্টিকারী এমন কোনো কাজ করেনি অর্থাৎ জনসম্পৃক্ত কোনো বিষয়ে কোনো আন্দোলন, সংগ্রাম তারা গড়ে তোলেনি। যে হরতাল বা মিছিল মিটিং হয়েছে তার বক্তব্য যতোটা জনসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছিল, তার চেয়েও বেশি ছিল ব্যক্তিকেন্দ্রিক।

তবে এই নির্বাচন সরকার প্রধান, সরকার এবং পুরো ক্ষমতাসীনদের যে বার্তাটি দিয়েছে তাহলো সাংঘর্ষিক রাজনীতি অবসানের লক্ষ্যে গ্রহণযোগ্য, অবাধ, সুষ্ঠু সকল দলের অংশগ্রহণে একটি নির্বাচন অনুষ্ঠান করা। আরো যে বার্তা দিয়েছে তা হচ্ছে, স্বৈরাচারী ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষমতা চিরস্থায়ী করা যায় না, জনগণই শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়।

কিন্তু এটা নিশ্চিত আওয়ামী লীগ এখন বলবে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়াও অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব। তবে এই নির্বাচনের ফলাফলের পরেও যদি প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ জনগণের ভাষা এবং মনের কথা বুঝতে অক্ষম হন, তাহলে এই সাধারণ মানুষই ভবিষ্যতে আরো কঠিনভাবে জবাব দেবে।।