Home » প্রচ্ছদ কথা » দমন-পীড়ন-নির্যাতনের জন্য নয়া আইন

দমন-পীড়ন-নির্যাতনের জন্য নয়া আইন

আমীর খসরু

terror-lawবর্তমান আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকেই দমন পীড়নের জন্য নানা কূটকৌশল এবং উদ্যোগ জারি রেখেছে। এই উদ্যোগ এবং কৌশলের হাত থেকে বিরোধী দল, মত, পক্ষ, ব্যক্তি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত কেউই রেহাই পাচ্ছেন না। ২০০৯এর জানুয়ারিতে ক্ষমতায় আসার এক মাসের মধ্যেই দমন পীড়নের জন্য সন্ত্রাস বিরোধী আইন জাতীয় সংসদে পাস হয়। এ নিয়ে তখনই বিভিন্ন পক্ষ থেকে ‘মানবাধিকার’ লঙ্ঘনের কথা বার বার উচ্চারিত হলেও সরকার তা অগ্রাহ্য করে আইনটি পাস করে। আইনি কাঠামো এবং বেআইনি পথে দমন পীড়ন, অত্যাচারনির্যাতন পুরো মাত্রায় অব্যাহত রয়েছে। এই দমন পীড়নকে আরো তীব্র ও কঠোর করার সবশেষ সংযোজন ২০০৯ সন্ত্রাস বিরোধী আইনকে ব্যাপক মাত্রায় সংশোধন করে, বলতে গেলে নতুন একটি আইন এই জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহে জাতীয় সংসদে পাস করা হয়েছে। সংশোধনের নামে নতুন এই আইনটিকে এমন এক নিবর্তনমূলক ব্যবস্থায় পরিণত করা হয়েছে যা মানবাধিকার, মৌলিক অধিকার তো বটেই, অনেক ক্ষেত্রে সংবিধানের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক। এই আইনটির মাধ্যমে মানুষের ব্যক্তির ব্যক্তিগত জীবনের গোপনীয়তার উপরে হস্তক্ষেপ এবং অধিকারে পর্যন্ত হাত দেয়া হয়েছে।

জুনের প্রথম সপ্তাহে তড়িঘড়ি করে দ্রুততার সঙ্গে সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) আইন ২০১৩ পাস করা হয়। নতুন এই আইনের মাধ্যমে যে কোনো নাগরিকের ফেসবুক, স্কাইপি, টুইটার বা যেকোনো ইন্টারনেট মাধ্যমের আলাপআলোচনা ও কথাবার্তা বলার ব্যক্তিগত অধিকারে পর্যন্ত হস্তক্ষেপ করা হয়েছে। বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে মানুষের একান্ত ব্যক্তিগত অধিকারকে। সামাজিক মাধ্যমের যে কোনোটি হ্যাক করার বা আড়িপাতার বৈধ অধিকার দেয়া হয়েছে। আইনের ২১ ধারায় বলা হয়েছে, ‘কোনো সন্ত্রাসী ব্যক্তি বা সত্তা কর্তৃক ব্যবহৃত ফেসবুক, স্কাইপি, টুইটার বা যে কোন ইন্টারনেট এর মাধ্যমে আলাপ আলোচনা ও কথাবার্তা অথবা তাহাদের অপরাধ সংশ্লিষ্ট স্থির বা ভিডিও চিত্র পুলিশ বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কর্তৃক কোন মামলার তদন্তের স্বার্থে যদি আদালতে উপস্থাপন করা হয়, তাহা হইলে সাক্ষ্য আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, পুলিশ বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কর্তৃক উপস্থাপিত উক্ত তথ্যাদি আদালতে সাক্ষ্য হিসাবে গ্রহণযোগ্য হইবে।’ এতে দুটো বিষয় উল্লেখযোগ্য অর্থাৎ অন্যায়ভাবে ব্যক্তির স্বাধীনতার উপরে হস্তক্ষেপ করার অধিকার দেয়া হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে ফেসবুক থেকে শুরু করে মুক্ত ওই মাধ্যমটিকে পরাধীনতার বাধনে বেধে ফেলা হয়েছে। আপনি কি কথা বললেন বা কি লিখলেন তা হ্যাক করার এবং আড়িপাতার সম্পূর্ণ অধিকার পুলিশ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দেয়া হয়েছে। সংবিধানের এই ধারা সম্পূর্ণরূপে মানুষের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। এটি সংবিধানের ৪৩ ধারারও পরিপন্থী এবং সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সংবিধানের ৪৩ ধারায় বলা হয়েছে, ‘রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা, জনসাধারণের নৈতিকতা বা জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধা নিষেধসাপেক্ষে প্রত্যেক নাগরিকের () প্রবেশ, তল্লাশী ও আটক হইতে স্বীয় গৃহে নিরাপত্তালাভের অধিকার থাকিবে এবং () চিঠিপত্রের ও যোগাযোগের অন্যান্য উপায়ের গোপনতারক্ষার অধিকার থাকিবে।’

এই আইনের মাধ্যমে ‘যুক্তিসঙ্গত বিধিনিষেধ’এর বিষয়টিকে অপব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া এই আইনটির ২১ ধারায় যথাযথ সাক্ষ্য প্রমাণের মাধ্যমে দোষী প্রমাণের যে আইনি বিধান রয়েছে তা অস্বীকার করা হয়েছে। পুলিশ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে অসীম ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। সাক্ষ্য হিসেবে পুলিশ বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তথ্যই চূড়ান্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। দলীয়করণে আক্রান্ত এবং দুর্নীতিগ্রস্ত পুলিশ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বক্তব্যকে চূড়ান্ত বলে গণ্য করার জন্য আদালতকে বাধ্য করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এটা যে কতো বড় মারাত্মক এবং ভয়ঙ্কর হয়ে উঠবে অচিরেই তা টের পাওয়া যাবে। কারণ পুলিশ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে যে ভাবে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করা হয় এবং তারা ব্যবহৃত হয়, সেখানে তাদের এই ক্ষমতা প্রদান পুরো দেশবাসীর জন্য বিপজ্জনক।

সন্ত্রাস বিরোধী আইনের ৩৪ ()-এর ২ ধারায় বলা হয়েছে – ‘এই আইনের অধীন দণ্ডপ্রাপ্ত হোক বা না হোক এ রূপ কোনো সন্ত্রাসী ব্যক্তি বা কোনো সন্ত্রাসী সত্তা বা অন্য কোনো ব্যক্তির দখলে থাকা কোনো সন্ত্রাসী সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা যাইবে।’ এই আইনের ২৩ ()-তে তদন্তকালীন সন্ত্রাসী সম্পত্তি জব্দ বা ক্রোকের বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে। এই দুটো ধারার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি সন্ত্রাসী প্রমাণিত হওয়ার আগেই অর্থাৎ তদন্তকালীন সময়েই তার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত, ক্রোক এবং জব্দ করার অধিকার দেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে যে কারো সম্পত্তি যে কোনো সময় অন্যায় ভাবে বাজেয়াপ্ত, ক্রোক বা জব্দ করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতা শুধুমাত্র আদালতের। আদালত ছাড়া অন্য কারো হাতে এই ক্ষমতা দিলে তার অপপ্রয়োগ হওয়ার সম্ভাবনা আশঙ্কাজনক পর্যায়ে রয়েছে।

আইনের ২ নম্বর ধারায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের উদ্দেশে ‘কোনো বস্তুগত বা অবস্তুগত, স্থাবর বা অস্থাবর দৃশ্যমাণ বা অদৃশ্যমাণ যে কোনো প্রকৃতির তহবিল বা সম্পদ…. ম্যানুয়াল, ইলেকট্রনিক, ডিজিটাল কিংবা যেভাবেই লেনদেন করা হোক না কেন, তা এই আইনের আওতায় আসবে। অর্থের উৎস দেশ বা বিদেশ যে কোনো স্থান হতে পারে। শুধু যদি মনে হয় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের উদ্দেশে টাকা পাচার করা হচ্ছে তাহলে তা এই আইনের আওতায় আসবে। এক্ষেত্রে নগদ টাকা পাঠানোর ব্যাপারটি প্রমাণ সাপেক্ষ হতে হবে এমন নয়। চেক, মানিঅর্ডার, পেঅর্ডার, টিটি, ক্রেডিট কার্ড, মেইল বার্তায় প্রমাণ পাওয়া গেলে তা এই আইনের আওতায় অর্থ পাচারের অভিযোগে সাক্ষ্য হিসেবে নেয়া হবে। এছাড়া সন্দেহজনক যে কোনো লেনদেন এই আইনের আওতায় আসবে।’ এই আইনটির মাধ্যমে অর্থ পাচার সংক্রান্ত যে কোনো ধরণের তথ্যর দ্বারা যে কাউকে হয়রানি করা যাবে এবং বিচারের আওতায় আনা যাবে।

আইনের ৪০ ধারায় বলা হয়েছে – ‘এই আইনের অধীন কোনো অপরাধ সংগটিত হইলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা, তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে অবহিতক্রমে মামলা রুজু করিবে এবং তদন্ত কার্যক্রম শুরু করিবে।’ এই আইনের মাধ্যমে একজন ম্যাজিস্ট্রেটকে শুধুমাত্র অবহিত করলেই পুলিশ যে কারো বিরুদ্ধে মামলা শুরু করা এবং তদন্ত কার্যক্রম চালানোর ক্ষমতা পেয়ে গেছে। বিচার বিভাগীয় ব্যবস্থাকে এখানে সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে। পুলিশই যেখানে সাক্ষ্যদাতা তারাই আবার তদন্ত কাজ করবে, মামলা করবে এ ধরণের বিধান শুধু অব্যবহারের সুযোগই নয়, যে কোনো ব্যক্তির এবং তার পরিবারকে পথে বসিয়ে দিতে পারে।

সন্ত্রাস বিরোধী আইনের ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটি বিল পাসের সময়ে যে রিপোর্ট দিয়েছে তাতেজাতিসংঘের বিভিন্ন রেজুলেশন, কনভেনশন এবং আন্তঃরাষ্ট্রীয় আলাপআলোচনার আলোকে সন্ত্রাস বিরোধী আইন করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আইনের ২০ এবং ২০এর ক দেখলেই এটা স্পষ্ট হয়ে যায় যে, আইনটি আসলে বিদেশি কোনো রাষ্ট্রকে খুশি করার জন্যই অথবা তাদের চাপে করা হয়েছে। বিদেশি রাষ্ট্রের স্বার্থ এবং তাদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের বিষয়টি আইনটির বিভিন্ন স্থানে উল্লেখ করা হয়েছে। বিদেশি রাষ্ট্রের বা এদেশীয় সরকারের যাকে খুশি তাকে সন্ত্রাসী বলে প্রতীয়মান হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যাবে। এমনকি মালামাল ও অর্থ ক্রোক, বিমান, নৌ ও স্থলবন্দরে আটকে দেয়াসহ নানা ব্যবস্থা নেয়া যাবে। বিদেশি রাষ্ট্রের কাছে মাথানত করা ও দাসখত দেয়ার এমন নজির স্থাপন অতীতে আর কোনো সরকার করেনি। জাতিসংঘ রেজুলেশন বা কনভেনশন কিংবা আন্তঃরাষ্ট্রীয় আলাপআলোচনা, যে একটি রাষ্ট্রের আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে বাধ্যবাধকতার কারণ হতে পারে, এই আইনটিই তার প্রমাণ। আইন হতে হবে দেশের নিজস্ব প্রয়োজন ও চাহিদার উপরে। কিন্তু এর বদলে ওই সব বিষয়কে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে কোন যুক্তিতে? জাতিসংঘের বহু রেজুলেশন বা কনভেনশনে বহু দেশ স্বাক্ষর করে। কিন্তু তার কতোটি মানা হয়? এসব রেজুলেশন বা কনভেনশন না মানার নজির বাংলাদেশে অসংখ্য রয়েছে। কিন্তু যে আইনটি করা হয়েছে তাতে সন্ত্রাস দমনের নামে জাতিসংঘ বা আন্তঃরাষ্ট্রীয় আলাপআলোচনাকে বাংলাদেশে আইনকানুনের উপরেও স্থান দেয়া হয়েছে। এটা নিঃসন্দেহে বিপজ্জনক।

আইনের ১৫ ছএর ২ ধারায় বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক, সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়নের সহিত সম্পৃক্ত সন্দেহজনক কোন লেনদেনের বিষয়ে কোন রিপোর্ট প্রদানকারী সংস্থা বা উহার গ্রাহককে সনাক্ত করিবার সঙ্গে সঙ্গে উহা পুলিশ বা যথাযথ আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে অবহিত করিবে, এবং অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যে পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে প্রয়োজনীয় সকল প্রকার সহযোগিতা প্রদান করিবে।’

আইনের ১৫ ছএর ৩ ধারায় বলা হয়েছে, ‘অপরাধটি যদি অন্য কোন রাষ্ট্রে সংঘটিত হয় বা অন্য কোন রাষ্ট্রে বিচারাধীন থাকে, তাহা হইলে বাংলাদেশ ব্যাংক উক্ত বিদেশী রাষ্ট্রের অনুরোধের প্রেক্ষিতে বা কোন আন্তর্জাতিক, আঞ্চলিক বা দ্বিপাক্ষিক চুক্তি, বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুসমর্থিত জাতিসংঘের কনভেনশন বা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ কর্তৃক গৃহীত সংশ্লিষ্ট রেজুলেশনের আওতায় কোন ব্যক্তি বা সত্তার হিসাব জব্দ করিবার উদ্যোগ গ্রহণ করিবে।’

এই আইনটির মাধ্যমে দেশের সরকার কিংবা বিদেশি কোনো সরকার যে কোনো ব্যক্তির বা একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে হয়রানি ও নিপীড়নমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। ইতোমধ্যে বিশ্বব্যাপী এই ধরণের ঘটনা যে ঘটছে, তার ভুড়ি ভুড়ি নজির রয়েছে।

কাজেই এই আইনটির মাধ্যমে দেশের নাগরিকদের দেশে এবং বিদেশে সীমাহীন বিপদের মধ্যে ফেলে দেয়া এবং বিপদাপন্ন করা হয়েছে।

কাজেই সামগ্রিকভাবে আইনটি সন্ত্রাস বিরোধী কর্মকাণ্ড রোধ করার নামে দেশি এবং আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে নাগরিকদের হয়রানি, নির্যাতন, দমনপীড়নের পথকেই উন্মোচিত করেছে। এর মাধ্যমে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হবে, যথেচ্ছভাবে বিরোধী দল এবং মতাবলম্বীদের দমন পীড়নে ব্যবহৃত হবে। এমন ভয়াবহ ও মারাত্মক আইন দেশে ইতোপূর্বে আর হয়নি। আওয়ামী লীগ ১৯৭৪ সালে বিশেষ ক্ষমতা আইন প্রণয়ন করে মানুষের অধিকার এবং স্বাধীনতা হরণ করেছিল, ব্যাপক মাত্রায় দমন পীড়ন চালিয়েছিল। তখন বলা হয়েছিল, কালো বাজারি,মজুদদারিসহ এ জাতীয় অপরাধকে দমনের নামে ওই আইন করা হয়েছে। কিন্তু কার্যত ওই আইনটি পুরো মাত্রায় বিরোধী দল দমনের উদ্দেশ্যই শেষ পর্যন্ত ব্যবহৃত হয়েছে। বিএনপির সময় ১৯৯২ সালে সন্ত্রাসমূলক অপরাধ দমন আইন ওই একই উদ্দেশ্য ব্যবহৃত হয়। এই সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই সন্ত্রাস বিরোধী কর্মকাণ্ড মোকাবেলার নামে যে আইনটি করেছিল তাও ব্যবহৃত হচ্ছে বিরোধী মত এবং পক্ষকে দমনের জন্য। সাধারণ মানুষও এ থেকে রেহাই পাবেন না। এই আইনটির ভয়ঙ্কর নতুনত্ব হলো এই প্রথম অন্য রাষ্ট্রকে খুশি করার জন্য নিজ জনগণের বিপক্ষে দেশে একটি আইন করা হয়েছে।

কিন্তু অতীতের আইনগুলো যতোটা ভয়ঙ্কর এবং মারাত্মক ছিল, তার চেয়েও নতুন এই আইনটি আরো বেশি কঠিন এবং কঠোর। এই আইনটিকে সরকার যথেচ্ছভাবে ব্যবহার করবে। আর অন্য রাষ্ট্রের মাধ্যমেও মানুষ নির্যাতনের শিকার হবে। বাংলাদেশের নিজস্ব সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার বিষয়টি বিদেশিদের কাছে উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে এই আইনটি পাসের মধ্যদিয়ে। নির্যাতননিপীড়নের জন্য আপন দেশের সদর দরজা খুলে দেয়ার এমন নজির অতীতে আর দেখা যায়নি। এই আইনটি বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রযন্ত্র এবং বিদেশিদের অর্থাৎ উভয়েরই নির্যাতননিপীড়নের যন্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে।।