Home » আন্তর্জাতিক » ‘ভারতের গণতন্ত্র ভুয়া’ – অরুন্ধতী রায়

‘ভারতের গণতন্ত্র ভুয়া’ – অরুন্ধতী রায়

ফাস্টপোস্ট ডটকম থেকে অনুবাদ: মোহাম্মদ হাসান শরীফ

arundhatiভারতের ছত্তিশগড়ের দান্দেওয়াডায় ২৫ মে কংগ্রেসের ‘পরিবর্তন যাত্রা’য় মাওবাদী হামলায় ২৮ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ৩৬ জন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন রাজ্যের কংগ্রেস প্রধান নন্দ কুমার প্যাটেল, সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বিদ্যা চরন শুল্কা, রাজ্যসভায় সাবেক বিরোধী দলীয় নেতা মহেন্দ্র কর্ম নন্দ কুমারের ছেলে দীনেশ কুমার। প্রখ্যাত লেখিকা ও অ্যাক্টিভিস্ট অরুন্ধতী রায় সিএনএনআইবিএনের সাগরিকা ঘোষকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে এই হামলাকে পাল্টা সহিংতা হিসেবে অভিহিত করেছেন।

এখানে সাক্ষাতকারটির অংশবিশেষ প্রকাশ করা হচ্ছে।

সাগরিকা ঘোষ: ছত্তিশগড় হামলার আগে আপনি ‘আউটলুক’ পত্রিকায় ‘ওয়াকিং উইথদ্য কমরেডস’ শিরোনামে নিবন্ধ লিখেছেন। এই হামলার পরও কি আপনি মাওবাদী আন্দোলনের প্রতি আপনার সহানুভূতি অব্যাহত থাকবে?

অরুন্ধতী রায়: দেখুন, ছত্তিশগড় হামলার আগে এবং পরেএভাবে বলাটা ঠিক নয়। কারণ সহিংসতার চক্র বাড়ছে তো বাড়ছেই। আর এবারই প্রথম নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ওপর মাওবাদী হলো না। এ ধরণের হামলা এবং ২০০৫২০০৭ সময়কালে অন্যান্য হামলা নিয়ে আমি লিখেছি। আমি প্রায়ই দেখি, একদল লোক সিআরপিএফ (Certral Reserve Police Force) জওয়ানদের হত্যায় উল্লাস প্রকাশ করছে, আর একদল বলছে, মাওবাদীদের নিশ্চিহ্ন করে দিতে হবে। বিষয়টা এমন নয়। আমি মনে করি, প্রতিটি মৃত্যুকেই ভয়াবহ ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। যে ব্যবস্থা, যে যুদ্ধ মানুষের ওপর চেপে বসেছে, দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এটা পরিণত হয়েছে গরিবদের বিরুদ্ধে ধনীদের যুদ্ধ। আর এই যুদ্ধে ধনীরা গরিবদের মধ্যে সবচেয়ে গরিবদের পাঠাচ্ছে গরিবদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে। সিআরপিএফ মারাত্মক পরিস্থিতির শিকার। তবে কেবল তারা মাওবাদীদেরই শিকার নয়। তারা বিরাজমান কাঠামোগত সহিংস ব্যবস্থার শিকার। এই ফাঁকা নিন্দা শিল্পে ব্যবস্থাটি তলিয়ে যাবে। পুরো প্রক্রিয়াটাই অর্থহীন। কারণ বেশির ভাগ সময়, যেসব লোক নিন্দা জ্ঞাপন করে, আসলে তাদের প্রতি তাদের সত্যিকারের কোনো সহানুভূতি থাকে না। তারা কেবল তাদের ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করে।

সাগরিকা ঘোষ: তবে কে সহিংসতার এই চক্র ভাঙবে?

অরুন্ধতী রায়: ছোট্ট একটা লিটমাস টেস্ট আছে। যেসব দরিদ্র এলাকায় হাসপাতাল, স্কুল আছে, অপুষ্টির হার কম, অনেক উন্নয়ন হয়েছে, সেখানে কি কোনো মাওবাদী নেই? বিষয়টা তেমন নয়। বিলাসপুরের মতো স্থানে চিকিৎসকদের প্রস্তুত সমীক্ষাগুলোর দিকে দেখুন। পুষ্টি সহায়তার নামে কী হচ্ছে সে ব্যাপারে বিনায়ক সেনের বক্তব্য দেখুন। আপনি স্কুলগুলোতে গেলে দেখবেন, সেগুলো ব্যারাক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সেগুলো তারা ব্যারাক হিসেবে নির্মাণ করেছে। ফলে মাওবাদীরা যখন স্কুল উড়িয়ে দেয়, তখন সেটাকে উন্নয়নের বিরুদ্ধে কাজ হিসেবে অভিহিত করাটা একটু উ™ভটই।

সাগরিকা ঘোষ: কিন্তু আপনি রাষ্ট্রীয় সহিংসতার নিন্দা করছেন। আর আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো, আপনি নক্সালি সহিংসতা, মাওবাদী সহিংসতার নিন্দা করেন না। মনে হচ্ছে, আপনি বলতে চাচ্ছেন, অহিংস আন্দোলন নিঃস্ফল হয়ে গেছে?

অরুন্ধতী রায়: এটা এমন একজনের বিরুদ্ধে অদ্ভুত অভিযোগ, যে ১০ বছর ধরে অহিংস এবং অহিংস আন্দোলন নিজে লেখালেখি করছে। কিন্তু আমি যখন বনে বনে ঘুরি, দেখি, আসলে অহিংস প্রতিরোধে কোনো কাজ হয় না। ‘নর্মদা বাঁচাও আন্দোলনেও’ কার্যকর হয়নি, এমনকি আরো অনেক অহিংস আন্দোলনে ফলপ্রসূ হয়নি, জঙ্গি আন্দোলনগুলোতেও নয়। আন্দোলনের কিছু অংশে তা কাজে লেগেছে। কিন্তু বনজঙ্গলে বিষয়টা ভিন্ন ব্যাপার। কারণ অহিংস আন্দোলন, বিশেষ করে গান্ধীবাদী অসহিংস আন্দোলনের জন্য কোনো না কোনো ধরণের শ্রোতার প্রয়োজন হয়। এটা এমন থিয়েটার, যার শ্রোতার প্রয়োজন। কিন্তু বনের ভেতরে কথা শোনার কেউ নেই। রাতের অন্ধকারে হাজার হাজার পুলিশ এসে বনে অবস্থিত গ্রামগুলো ঘিরে ফেললে তারা কি করবে? ক্ষুধার্তরা কিভাবে অনশন ধর্মঘট করবে? যেসব লোকের হাতে কানাকড়িও নেই, তারা কিভাবে কর বা বিদেশি পণ্য বা অন্য কোনো ভোগ্যপণ্য বয়কট করবে?

তাদের কিছুই নেই। আমি বনের ভেতরের এই সহিংসতাকে ‘পাল্টা সহিংসতা,’ ‘প্রতিরোধের সহিংসতা’ হিসেবে দেখি। ক্রমবর্ধমান সহিংসতা চক্রের প্রকৃত বিষয়টির কথা ভেবে আমি আঁতকে উঠি। সরকার পুলিশকে বেশি বেশি অস্ত্র দিচ্ছে, আর ওইসব অস্ত্র শেষ পর্যন্ত মাওবাদী পিএলজিএ’র (The People’s Liberation Guerrilla Army) হাতে পৌঁছাচ্ছে। যেকোনো সমাজের জন্য এটা ভয়ঙ্কর বিষয়। এটা অবিশ্বাস্য বিষয়, এসব গরিব লোক এই শক্তিশালী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে, যে রাষ্ট্র হাজার হাজার সৈন্য ও আধা সামরিক সৈন্য পাঠাচ্ছে। এসব লোক ওইসব বনে একে৪৭ ও গ্রেনেড নিয়ে কী করছে, আমি সেটাই জানতে চাইছি।

সাগরিক ঘোষ: কিন্তু মাওবাদীদের হাতেও একে৪৭ আছে? তাদের হাতে প্রেসার বোমাও আছে?

অরুন্ধতী রায়: তারা এগুলো সেনাদের হাত থেকে কেড়ে নিয়েছে।

সাগরিকা ঘোষ: আপনার মতো লোকদের কি উচিত হতো না সহিংসতার চক্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া কিংবা আপনি কি সত্যিকার অর্থে এর যৌক্তিকতা প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছেন না? কারণ আপনাকে ‘মাওবাদীদের পক্ষ সমর্থনকারী’ হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। বিজেপি আপনাকে বলছে ‘নক্সালবাদীদের মার্জিত অবয়ব।’

অরুন্ধতী রায়: না, আমি তা নই। কারণ আমি মনে করি, এটা বিদ্যমান অবস্থা বহাল রাখার অনুকূলে ও পক্ষে যারা তারা সবাই বলবে যে বিষয়টা ভয়ঙ্কর এবং ওই পর্যন্তই। তার মানে দাঁড়াচ্ছে, ওইসব উপজাতীয় এলাকায় ‘গণহত্যার মতো পরিস্থিতি’ সৃষ্টিকারী ভয়ঙ্কর কাঠামোগত সহিংসতার বিষয়টি বিবেচনা না করেই করা হয়। আপনি যদি অপুষ্টির মাত্রার দিকে নজর দেন, দেখবেন সেখানে তা ভয়াবহ অবস্থায় রয়েছে। যেকোনো দায়িত্বশীল লোক বলবেন, এসব লোককে কোণঠাসা করা বন্ধ করুন, সহিংসতাও থেমে যাবে। পুরো দেশের উপজাতীয় লোকদের কথা বিবেচনা করুন। তাদের মোট সংখ্যা বেশির ভাগ দেশের মোট জনসংখ্যার চেয়ে বেশি। এসব লোক অস্তিত্বের সঙ্কটে রয়েছে, তারা বিলীন হওয়া থেকে রক্ষা পাওয়ার সংগ্রাম করছে। আমি তাদের প্রতিক্রিয়া, রাষ্ট্রীয় সহিংসতার বিরুদ্ধে তাদের প্রতিরোধকে সমান বিবেচনা করছি না। এই দুটিকে সমান বিবেচনা করা অনৈতিক।

সাগরিকা ঘোষ: যুক্তরাষ্ট্রে গত মার্চে বাম ফোরামের এক বক্তৃতায় আপনি বলেছিলেন, ‘ভারতের গণতন্ত্র ভুয়া’। আপনার ওই মন্তব্য কিছুটা হলেও সহিংসতার সাফাই বা প্রায় সাফাই হিসেবে অভিহিত করা যায়। আপনি কি মনে করেন, ভারতের গণতন্ত্র ‘ভুয়া’ হওয়ার কারণেই ভারতীয় গণতন্ত্রের মাওবাদীদের কাছে টানার কোনো আশা নেই?

অরুন্ধতী রায়: না, আমি নিশ্চিতভাবেই বিশ্বাস করি, ভারতে অভিজাততন্ত্র কায়েম রয়েছে। এখানে মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তের জন্য গণতন্ত্র কাজ করে।

সাগরিকা ঘোষ: কিন্তু এটা কি ভুয়া গণতন্ত্র?

অরুন্ধতী রায়: হ্যাঁ। এটা গণমানুষের জন্য কাজ না করায় এটা ভুয়া গণতন্ত্র। আপনার প্রতিষ্ঠান ফাঁপা, এই প্রতিষ্ঠানে গরিবদের প্রবেশাধিকার নেই। আপনি প্রতিষ্ঠান, নির্বাচন, আদালত, মিডিয়া, বিচার বিভাগের দিকে তাকালে এমনটাই দেখবেন। আপনারা খুবই বিপজ্জনক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছেন। আপনি যদি ক্রমবর্ধমান হারে অপেক্ষাকৃত গরিব লোকদের বিপুল অংশকে বাদ রাখেন, তেব আমি বলবো এটা ভুয়া ব্যবস্থা। এটা কারো কারো জন্য কাজ করে, কারো কারো জন্য করে না। আপনার পা কোথায়, আপনার রাজনৈতিক অবস্থা বিবেচনা করে এটা কাজ করে। আপনি বৃহত্তর কৈলাশে দাঁড়ালে নিশ্চিতভাবেই সুমহান ও প্রাণবন্ত গণতন্ত্র দেখতে পাবেন, কিন্তু আপনি যদি দান্তেওয়াডায় (ছত্তিশগড়ে) দাঁড়ান, তবে দেখবেন, গণতন্ত্রের কোনো অস্তিত্বই নেই। আপনাদের মুখ্যমন্ত্রী আসলে যা বলেছেন তা হলো, যারা বন থেকে বের হবে না এবং সালওয়া জুদামের ক্যাম্পে বাস করবে না, তারাই সন্ত্রাসী। আপনি আপনার মুরগিগুলোর দেখভাল করবেন, আপনার খেত পাহারা দেবেন, এগুলোও সন্ত্রাসী কাজ? এটাই কি গণতন্ত্র?

সাগরিকা ঘোষ: এ ব্যাপারে আপনার হাতে কি কোনো সমাধান আছে? আপনার সমাধান সূত্র কেমন হতে পারে? এই অচলাবস্থা নিরসনে কোন পন্থা অনুসরণ করা উচিত বলে আপনি মনে করেন?

অরুন্ধতী রায়: ঠিক আছে, দুটি বিষয় আছে। প্রথমত দর্শনগত অবস্থান থেকে আমি বলব, আমি বিশ্বাস করি না যে এই সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে যে চিন্তা থেকে, তা অন্য কোনো বিকল্প নিয়ে আসবে। ফলে আমরা অন্তত যেটুকু করতে পারি তা হলো, আমরা থামতে পারি এবং যারা নিজেদেরকে অতীতের রক্ষক মনে করে এবং যাদের ভবিষ্যতের জন্য বুদ্ধিমত্তা আছে তাদের বুঝাতে পারি।

তবে ‘অপারেশন গ্রিন হান্ট’ প্রশ্নে আমি তিনটি বিষয়ের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করব। আমি মনে করি, সব সমঝোতা স্বারক, অবকাঠামো প্রকল্পের ব্যাপারে সরকারের স্বচ্ছ থাকা দরকার। সরকারের উচিত গোপন কিছু না রেখে সবকিছু প্রকাশ করা এবং আমাদের বিস্তারিত বলা এবং এখনকার মতো সেগুলো স্থগিত করা। যে লাখ লাখ লোককে উৎখাত করা হয়েছে, তাদেরকে পুনর্বাসন করা। বন্দুক অবশ্যই সরিয়ে নিতে হবে।

সাগরিকা ঘোষ: সব দেশই প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর জন্য খনিজ সম্পদ ব্যবহার করে। আমাদের দেশেও প্রবৃদ্ধি দরকার। আপনি কি ওইসব এলাকার সব প্রকল্প গুটিয়ে নেওয়ার কথা বলছেন?

অরুন্ধতী রায়: খনি শিল্পের বেসরকারিকরণের ফলে কী ঘটছে, সেদিকে লক্ষ্য করুন। প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর ভ্রান্ত ধারণার ওপর সেটা চলছে। এটা এমন এক অদ্ভূত উপায়ে হয় যে এর সঙ্গে প্রকৃত উন্নয়নের কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু আপনি রাজস্বের দিকে তাকালে দেখবেন, সরকার বেসরকারি কোম্পানির কাছ থেকে পাঁচ হাজার টন লোহা আকরিকের জন্য ২৭ রুপি করে পাচ্ছে। অন্য লোকদের অর্থনীতির জন্য প্রতিবেশ নষ্ট করছি কিছু না পেয়েই। ফলে এটাকে প্রবৃদ্ধি বলাটা কল্পকথা।

সাগরিকা ঘোষ: আপনি কি মাওবাদী ও সরকারের মধ্যে মধ্যস্ততা করতে ইচ্ছুক? আপনার ভয় কি?

অরুন্ধতী রায়: আমি নিজেকে নিয়ে ভীত। এসব কাজ আমার নয়। আমার নিজের ওপর বিশ্বাস নেই। আপনি যদি বাস্কেটবল খেলোয়াড় হন, তবে আপনি সাঁতারে অংশ নিতে পারেন না। এ কারণে আমি মনে করি, এই কাজ ভালোভাবে করার মতো অনেক লোক আছে। আমার মনে হয় না, ওই কাজটি করতে পারি। তবে একটি প্রশ্ন তুলতে পারি, আমরা যখন মাওবাদী বলি, তখন কাদের বুঝি? ‘অপারেশন গ্রিন হান্ট’ কাদের লক্ষ্য বানাতে চায়? কারণ কারা মাওবাদী আর কারা উপজাতীয় এ নিয়ে কিছুটা মতপার্থক্য আছে। কিছু লোক মনে করে, এরা হলো মাওবাদী আর অন্যরা হলো উপজাতীয়। আর কিছু লোক মনে করে, মাওবাদীরা উপজাতীয়দের প্রতিনিধিত্ব করে। কোনোটাই সত্য নয়। আসল কথা বলো, মাওবাদীদের প্রায় ৯৯ ভাগই উপজাতীয়। তবে সব উপজাতীয়ই মাওবাদী নয়। অবশ্য এটাও সত্য যে লাখ লাখ লোক মাওবাদী হিসেবেই নিজেদের ঘোষণা করে। তাদের প্রায় ৯০ হাজার নারী এখন নারী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত, ১০ হাজার সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে জড়িত। তবে কি তাদের সবাইকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হবে?

সাগরিকা ঘোষ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরমের প্রতি আপনার বার্তা কি?

অরুন্ধতী রায়: আমি মনে করি, তিনি হট্টগোলের জন্য লড়াই করছেন, তিনি করপোরেট কোম্পানির প্রতি তার দায়বদ্ধতার জন্য কাজ করছেন; তিনি এনরন, ভেদেন্তা এবং অন্য যেসব কোম্পানির প্রতিনিধিত্ব তিনি করছেন, তাদের সেবায় কাজ করছেন। আমি তাকে দুর্নীতিগ্রস্ত বলছি না, তবে এই দেশকে অত্যন্ত মারাত্মক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেওয়ার জন্য তাকে অভিযুক্ত করছি এবং এতে আমাদের সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হব।

সাগরিকা ঘোষ: আপনি কি মনে করেন যে সরকার, মিডিয়া, প্রাধান্য সৃষ্টিকারী সংস্কৃতি বুদ্ধিজীবীদের, মানবাধিকার কর্মীদের টার্গেট করছে? এটা কি বিপজ্জনক?

অরুন্ধতী রায়: অবশ্যই এটা খুবই বিপজ্জনক। আমি একটি প্রবন্ধ করেছিলাম। তাতে বলা হয়েছে, দান্তেওয়াডা দিল্লি এসেছে কোবাদ গান্ধীর বিরুদ্ধে নালিশ করতে। গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য জনগণ ঐক্যবদ্ধ হচ্ছেসব প্রতিষ্ঠানকে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান বলা হচ্ছে।

যাকেই ভিন্ন মতালম্বী মনে হবে, তাকেই মাওবাদী হিসেবে চিহ্নিত করার একটা মারাত্মক বাতিক দেখা যায়। হাজার হাজার অজ্ঞাতনামা লোককে তুলে নিয়ে কারাগারে রাখা হয়েছে। বনের বাইরে থাকা অহিংস আন্দোলন থেকে শুরু করে বনের ভেতরে সশস্ত্র সংগ্রামে নিয়োজিত বিপুলসংখ্যক লোককে নির্বিচারে করপোরেট হামলার শিকার করা হয়েছে। আমি বলছি, পৃথিবীর অন্য কোথাও এমনটা ঘটেনি।।