Home » রাজনীতি » সরকারই আসল আতঙ্ক সৃষ্টিকারী

সরকারই আসল আতঙ্ক সৃষ্টিকারী

ফারুক আহমেদ

vote 2নাগরিক শব্দের সাথে রাষ্ট্র অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত। রাষ্ট্র হলো নাগরিকের আশ্রয়ের জায়গা, নাগরিকের নিরাপত্তার জায়গা। নারী, পুরুষ, জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে রাষ্ট্র তার সকল নাগরিকের আশ্রয় এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। রাষ্ট্রের কাছে আশ্রয় এবং নিরাপত্তা পাওয়া সকল নাগরিকের অধিকার। রাষ্ট্রের নির্বাহী অর্থাৎ রাষ্ট্র পরিচালনা করে সরকার। রাষ্ট্রের নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়ীত্ব সরকারের। বাংলাদেশের সকল নাগরিক কি সেই আশ্রয় এবং নিরাপত্তা রাষ্ট্রের কাছ থেকে পাচ্ছে? সরকার কি রাষ্ট্রের সেই দায়িত্ব পালন করছে?

এখানকার নাগরিকের কাছে সবচেয়ে বেশি আতংকের এবং উৎকন্ঠার বিষয় হলো তার জীবনের নিরাপত্তা। রাষ্ট্রের প্রধান কর্তব্য হলো তার নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তা বিধান করা। নাগরিক তার জীবনে চলার পথে সকল স্থানে রাষ্ট্রের কাছে নিরাপত্তা চায় এবং তা পাওয়ার অধিকার রাখে। রাষ্ট্রের দেয়া এই দায়ীত্ব পালন করবে সরকার। কিন্তু বাংলাদেশে কোথায় নাগরিকের নিরাপত্তা? নারী, পুরুষ, শিশু, বৃদ্ধ, জাতি, ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে কোন নাগরিক নিরাপত্তা বোধ করতে পারে গায়ের জোরে বলা ছাড়া এমন দাবি সরকার করতে পারবে না। এর মধ্যে নারী এবং শিশু সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত এবং আতংকিত। অন্যান্য নিরাপত্তাহীনতার সাথে সাথে নারী যৌন সন্ত্রাসের শিকার। কর্ম ক্ষেত্রে, শিক্ষালয়ে, রাস্তায়, যানবাহনে, সমাজের যে কোন স্থানে একজন নারী যৌন সন্ত্রাসের শিকার হতে পারে। যখন রাস্তার দেয়ালে দেয়ালে লেখা থাকেমেয়েদের জন্য পর্দা জরুরি তখন নারী আতংকিত না হয়ে পারে না। নারী তার রুচী অনুযায়ী পোষাক পরবে। এ ব্যাপারে এমনকি রাষ্ট্রও তার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে পারে না। অথচ পর্দার নাম করে নারীকে হুমকি দেয়া হচ্ছে, আতংক ছড়ানো হচ্ছে আর সরকার নিরব দর্শকের ভূমিকায় থেকে আতংক সৃষ্টিকারীদেরই সহযোগিতা করে চলেছে।

সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখল, দাপটে নাগরিকের প্রাণ সর্বদা ওষ্ঠাগত থাকে। কর্মস্থলে যাওয়ার পথে রাষ্ট্রের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে হাজারো মানুষের সামনে প্রকাশ্য দিবালোকে ক্ষমতাসীন সন্ত্রাসীদের হাতে বিশ্বজিতের খুন হয়ে যাওয়াই দেখিয়ে দেয় এখানকার নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তার চিত্র। নিরাপত্তার জন্য মানুষ আশ্রয় চায় রাষ্ট্রের নাগরিকের নিরাপত্তার রক্ষক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে। সন্ত্রাসীদের সামনে র‌্যাব, পুলিশের নির্লিপ্ততাই শুধু নয় তাদের আশ্রয়ে থাকা নাগরিকের ক্রস ফায়ারের নামে হত্যা, জেল হাজতে পিটিয়ে হত্যার মত ঘটনা ঘটেই চলেছে।এসবে নাগরিকের নিরাপত্তার আশ্রয় বলে আর কিছু থাকে না। নাগরিক আতংকিত হয়।

নাগরিক সবচেয়ে বেশি আতংকিত হয় যখন রাষ্ট্রের নির্বাহী বা সরকার যখন তার নিরাপত্তা বিধান করে না,নিরাপত্তা বিঘ্নকারীর শাস্তিও বিধান করে না অথচ অন্যের ওপর দায় চাপিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা নেয়।বাংলাদেশে এখন এই অবস্থাই নাগরিককে সবচেয়ে বেশি আতংকগ্রস্ত করেছে। নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা বিঘ্নকারী, তার ওপর সন্ত্রাসকারী সরকারি দলের লোক নাকি বিরোধি দলের লোক,চোর নাকি ডাকাত এসব পরিচয়ে তার কোন কম বেশি বা হেরফের হয় না। নাগরিকের জানমালের ক্ষতি বা ধ্বংস যার দ্বারাই হোক নাগরিক তাতে সমান আতংকিত সমান সন্ত্রস্ত। সাম্প্রতিক সময়ে যে রাজনৈতিক নৈরাজ্য চলছে তাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে এখানকার সাধারণ মানুষ। মানুষের জানমালের কোন নিরাপত্তা নেই। আক্রান্ত সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর, উপাসনালয়, সরকারি অফিস, বিদ্যুৎকেন্দ্র সাধারণ মানুষের পুড়ে যাওয়া ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, অফিস, আগুনে পুড়া, জ্বলন্ত গাড়ি, দোকানপাট, পুড়ে যাওয়া কোরান শরীফ সরকারের দিক থেকে শুধু দেখানো হচ্ছে। কিন্তু এসব রক্ষার দায় সরকার নিচ্ছে না।যে কোন মানুষের এটা বুঝতে কোন অসুবিধা হয় না যে এসব কাজ যারা করে তারা যে নামেরই হোক, যে পরিচয়েরই হোক তারা দুর্বৃত্ত্ব।মানুষ চায় দুর্বৃত্ত্বদের থেকে তার জানমালের নিরাপত্তা। নিরাপত্তার জন্য সে কোথায় যাবে? সরকার রাষ্ট্রের নাগরিকের নিরাপত্ত্বা দিতে পারছে না। ৫ মে পল্টন, বায়তুল মোকারম,মতিঝিলে সরকার রাষ্ট্রের নাগরিকের জানমাল, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান, অফিস, রাস্তার ধারের গাছ কোন কিছুরই নিরাপত্তা বিধান করতে পারেনি। দুর্বৃত্তরা কি সরকারের চাইতেও শক্তিশালী? দুর্বৃত্তই যদি সরকারের চেয়ে শক্তিশালী হয় তবে নাগরিকের নিরাপত্তার দায়িত্ব কে নেবে? এক দিকে সরকার দুর্বৃত্ত্বের হাত থেকে নাগরিকের নিরাপত্তার দায় নিচ্ছে না, অপরদিকে ভিন্ন মত দমনে দোর্দন্ড ক্ষমতার পরিচয় দিচ্ছে ঠিকই। অপারেশন শাপলার মধ্যদিয়ে সরকার তার দোর্দন্ড দমন পীড়নের ক্ষমতার পরিচয় দিয়েছে। সাধারণ মানুষ তার জানমালের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পাচ্ছে না একদিকে অপরদিকে দমনপীড়নে সরকারের বেপরোয়া নীতিতে মানুষ আতংকিত। নাগরিক আক্রান্ত হলে প্রতিবাদ করতে পারবেনা। সরকার নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা বিধান করতে পারছে না অথচ তার প্রতিবাদের সকল পথ বন্ধ করতে সভাসমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করছে।

শুধু সভাসমাবেশই নিষিদ্ধ করছে না সন্ত্রাস দমন আইনের নামে কালো আইন তৈরী করে সরকার রাষ্ট্রের নাগরিকের সকল জায়গার কথা বলার, মত প্রকাশের সকল অধিকার কেড়ে নিয়ে আইন পাশ করেছে। সন্ত্রাসী,দুর্বৃত্ত্ব যেই হোক না কেন তাদের হাত থেকে রাষ্ট্র এবং রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তার দায়িত্ব সরকারের। একদিকে সরকার সেই দায়িত্ব পালন না করে অপরদিকে কালো আইন তৈরী করে সকল নাগরিককে আতংকগ্রস্থ করে চলেছে। আতংকগ্রস্থ মানুষ প্রতিবাদ করতে পারবে না, কোথায়ও কথা বলতে পারবে না, মত প্রকাশ করতে পারবে না। এ অবস্থায় মানুষ নিজ ভূমিতে যেন আশ্রয়হীন। সরকার তার বেপরোয়া সব নীতির মাধ্যমে গোটা দেশকে এক আতংকপুরি বানিয়ে ফেলেছে।

ব্যাপক লুণ্ঠন, দুর্নীতি, শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি, পদ্মা সেতুর দুর্নীতিসহ ক্ষমতাসীনদের নানা ধরণের লুন্ঠন প্রক্রিয়া এবং জনগণের সম্পদ লোপাটের কারণেও জনগণ আতঙ্কিত। কারণ জাতীয় পর্যায়ে থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত যখন রাষ্ট্রের সম্পদ ক্ষমতাসীন হওয়ার কারণে লুটপাট, দুর্নীতির মাধ্যমে নিয়ে নেয়া যায় তখন রাষ্ট্রটির অর্থনীতিক মেরুদণ্ড সম্পর্কে মানুষের আতঙ্কিত না হওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির হোতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হলেও কোনো কিছুই এখন পর্যন্ত ক্ষমতাসীনরা করেনি। একইভাবে হলমার্ক, বিসমিল্লাহ কেলেঙ্কারিসহ এহেন অর্থনৈতিক অপকর্ম নেই যা ক্ষমতাসীনরা করেনি।

এর মধ্যদিয়ে রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষমতা সুবিধা প্রাপ্তদের হাতে চলে যায়। এ ধরণের সুবিধাপ্রাপ্তরা হয়ে ওঠে বিপুল ক্ষমতার অধিকারী। এভাবে ব্যাক্তি বা কোন গোষ্ঠি বিপুল ক্ষমতার অধিকারী হয়ে উঠলে তা রাষ্ট্রের নাগরিকের জন্য ভাল হয় না। এই ধরণের ক্ষমতা সেই ব্যাক্তি বা গোষ্ঠি নাগরিকের ওপর ইচ্ছেমত প্রয়োগ করতে থাকে। এই রকম ব্যাক্তিগোষ্ঠি পর¯পরের সাথে জোটবদ্ধ হয়ে নাগরিকদের ওপর একচ্ছত্র আধিপত্য তৈরী করতে পারে। সিন্ডিকেট গঠনের মাধ্যমে সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা তারা লাভ করে। বাংলাদেশে এখন সেরকম অবস্থাই দেখা যাচ্ছে।

দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির বিষয়তো আছেই। এখানে নাগরিকের কাছে মূল্য নিরাপত্তা বলে কিছু নেই।একই জিনিসের মূল্য এবেলা ওবেলায় পার্থক্যতো বটেই একই সময়ে ভিন্ন ভিন্ন স্থানে তার মূল্য ভিন্ন ভিন্ন। এর ন্যূনতম নিয়ন্ত্রণ সরকার করতে পারছে বলে বলে এখানকার নাগরিকরা মনে করতে পারে না। এমনকি বাজারের যে চাহিদা যোগানের নিয়ম অনুসারে দ্রব্যমূল্যের উঠানামা হবে তাও হয় না। বাংলাদেশে এখন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই চাহিদাযোগান সূত্রানুসারে দ্রব্যমূল্যের উঠানামাও হয় না রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণতো দুরে থাক সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চাহিদা যোগান নিয়ন্ত্রণ করা হয়। সিন্ডিকেট নিয়ে সরকার বিস্তর কথা বলে বটে কিন্তু এর বিরূদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এদিক দিয়ে এখানকার নাগরিকের জন্য মূল্য নিরাপত্তা বলে কিছু নেই।।

১টি মন্তব্য

  1. khasru bhai
    just saw a report of an abduction attempt on you. Relieved that you are safe.
    This is mahbubul alam of usis you may remember.