Home » রাজনীতি » উত্থাপিত দুর্নীতির অভিযোগ আমলে নেয়া হোক

উত্থাপিত দুর্নীতির অভিযোগ আমলে নেয়া হোক

জাকির হোসেন

corruptionসংসদের চলতি বাজেট অধিবেশনে কয়েকজন সংসদ সদস্যদের আলোচনায় বাজেটের চেয়েও প্রাধান্য পাচ্ছে দুই নেত্রীর আত্মীয়দের বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাল্টাপাল্টি অভিযোগ। উঠে আসছে দুর্নীতির বরপুত্র হিসেবে অনেকের নাম আর ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে সরকারের কয়েকজন প্রভাবশালী মন্ত্রীউপদেষ্টার কথা। সংসদ হচ্ছে সর্বোচ্চ আইন সভা। এখানে যদি কোনো সংসদ সদস্য অন্য কোনো সংসদ সদস্য, মন্ত্রী, মন্ত্রীর আত্মীয় স্বজন বা বিরোধী দলের কারো বিরুদ্ধে দুর্নীতি অভিযোগ উত্থাপন করেন এবং সেই অভিযোগের বিচার না হয় সেক্ষেত্রে সংসদের কার্যকরী ভুমিকার নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। কারণ সংসদ রাজনীতির খোলা ময়দান নয়এখানে কিছু উত্থাপন করা হলে তা দায়িত্বশীলভাবে করতে হবে এবং কার্যকর করতে হবে। কিন্তু সংসদে যে সকল অভিযোগ উত্থাপন করা হচ্ছে এর বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

এদিকে গত ১৯ জুন সাংবাদিকদের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎকারে দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান গোলাম রহমান বলেছেন, ‘ছোটখাটো কিছু সফলতা থাকলেও বিস্তৃত পরিধিতে আমি নিজেকে সফল মনে করছি না। আমার চার বছরেও আমি দুদকের আইন সংশোধন করতে পারিনি।’ এ সময় তিনি আবারও দুদককে নখদন্তহীন বাঘের সঙ্গে তুলনা করেন।

গোলাম রহমান নিজের চার বছরের সংক্ষিপ্ত রুপ তুলে ধরে বলেন, ‘না, আমি সফল নই। যদি দুর্নীতির দায়ে দ্রুত বিচার করে অপরাধীদের শাস্তি দিতে পারতাম, তাহলে নিজেকে সফল মনে করতাম। চার বছরে নিজেকে হতাশ মনে হয়েছে। তবে বিষয়টি আমার হাতে নেই। আইনের সীমাবদ্ধতার জন্য কিছুই করা যায় না।’ ২০০৯ সালে দুদকে যোগদানের পর ১৪ অক্টোবর এক সংবাদ সম্মেলনে দুদকের চেয়ারম্যান বলেছিলেন, ‘দুদক এখন একটি দন্তহীন বাঘ। এর সঙ্গে বাঘের সব নখ কেটে দেওয়ার মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানকে ক্ষমতাহীন করার প্রক্রিয়া চলছে।’ চার বছর পর একই বাক্য ফের ব্যবহার করেন তিনি। সর্বোচ্চ আইন সভা জাতীয় সংসদের ভুমিকা এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান গোলম রহমানের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশকে “দুর্নীতির অভয় আশ্রম” ছাড়া আর কিই বা বলা যায়।

গত ১৩ জুন জাতীয় সংসদে সরকার ও সরকারপ্রধানের নিকটাত্মীয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আর্থিক লুটপাটের অভিযোগ এনেছে বিএনপি। এর পাল্টা হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসনের নিকটাত্মীয় এবং বিএনপির নেতাদের আর্থিক দুর্নীতি সম্পর্কে বিভিন্ন সময়ে সংবাদপত্রের প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে জবাব দিয়েছে সরকারি দল।

বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য আসিফা আশরাফী পাপিয়া সংসদে অভিযোগ করেন, ‘তারেক রহমান বিদেশে স্ত্রীসন্তানসহ ভাড়া বাড়িতে থাকেন। আর সজীব ওয়াজেদ জয় আর পুতুল যে থাকছেন, তাঁদের বাড়ির উৎস কী? ২০০৬ সালে ভার্জিনিয়ার একটি শহরে ১০ লাখ ডলারে একটি বাড়ি কিনেছেন জয়। ভার্জিনিয়ার আরেকটি শহর আলেকজান্দ্রিয়ায় ১০ লাখ ডলারে আরেকটি বাড়ি কিনেছেন সজীব ওয়াজেদ। ১ নভেম্বর ২০০৭ সালে ফ্লোরিডায় পাঁচ লাখ ডলার খরচ করে বাড়ি কিনেছেন জয়। ১৬ অক্টোবর ২০০৪ সালে সাড়ে ১০ লাখ ডলার খরচ করে ফ্লোরিডায় আরেকটি বাড়ি কিনেছেন জয়। এ ছাড়া একই অঙ্গরাজ্যে আরও তিনটি বাড়ি আছে তাঁর। ২০০৭ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত কী করেছেন আর করেননি, সেটা পরবর্তীকালে জানানো হবে। বর্তমান সরকারের আমলে ব্যাংক খাতের চিত্র তুলে ধরে আসিফা আশরাফী বলেন, বাহাত্তর থেকে পঁচাত্তরের ব্যাংক ডাকাতের পাল্লায় পড়ে আজকের ব্যাংকগুলো জামানতশূন্য ব্যাংকে পরিণত হয়েছে। ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান ক্ষমতাসীন কর্তাব্যক্তির চাচা পরিচয় দিয়ে, আর সরকারি দলের সাংসদ নামমাত্র সম্পদ দেখিয়ে ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে এক হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন। দুর্নীতির দরবেশ সালমান এফ রহমান বেক্সিমকো গ্রুপের মালিকানাধীন জিএমজি এয়ারলাইনস আর ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের নামে ৫০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন। সাংসদ নসরুল হামিদের হামিদ রিয়েল এস্টেটের কাছে ব্যাংকের পাওনা ১৭০ কোটি টাকা। আওয়ামীবাকশালীদের হরিলুটে ব্যাংকিং খাত আজ পথে বসেছে। বিসমিল্লাহ গ্রুপের ২০০ কোটি টাকা দেখা গেছে প্রিমিয়াম ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান এইচ বি এম ইকবাল সুন্দর করে তুলে নিয়েছেন। ১৬ হাজার কোটি টাকা ব্যাংকগুলো থেকে তুলে সেগুলোকে দেউলিয়া বানিয়েছেন এঁরা।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সমালোচনা করে আসিফা আশরাফী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছেন। সাংবাদিকেরা যখন জানতে চানউনি বলেন, ‘আমার বলার কিছু ছিল না। চেয়ে চেয়ে দেখলাম বাহাত্তরের ব্যাংক ডাকাতেরা ডিজিটাল কায়দায় ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিয়ে গেছে।’ টেলিকম খাতের আইজিডব্লিউ, আইসিএক্স, আইআইজির লাইসেন্স সরকার দলীয় সংসদ সদস্যরা নিজেদের নামে নিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন আসিফা আশরাফী পাপিয়া।

জাতীয় সংসদে উত্থাপিত দুর্নীতি বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া না হয় তাহলে এই সংসদকে আদৌ জনগণের সংসদ বলা যাবে কীএ প্রশ্ন এখন আলোচিত হচ্ছে। আবার এসব দুর্নীতির অভিযোগের যদি কোনো ভিত্তি না থাকে তবে এ ব্যাপারে জবাবদিহির বিষয়টিও নিশ্চিত করা জরুরি। এটা যেমন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের ক্ষেত্রে তেমনি সরকারী দলের ক্ষেত্রেও।

আসিফা আশরাফী’র বক্তব্যের জবাবে দিতে গিয়ে আওয়ামী লীগের সাংসদ আবদুর রহমান বলেন, ‘ক্ষমতা ছাড়ার আগে খালেদা জিয়া দেশের বাইরে দুই হাজার ৮৮২ কোটি টাকা নিয়ে গেছেন। ক্ষমতা ছাড়ার আগে বিদেশ সফরে ৩৭টি সুটকেস খালেদা জিয়ার সফরসঙ্গীর কাছে ছিল। আর তাঁর (খালেদা জিয়া) কাছে আরও ২২টি সুটকেসে ছিল দুই হাজার ৮৮২ কোটি টাকা। ২০০১ সালের নির্বাচনে ক্ষমতায় আসার পর খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান ও তাঁর বন্ধু গিয়াসউদ্দিন আল মামুন শত শত কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম করেছেন। আরাফাত রহমান কোকো বিদেশে টাকা পাচার করেছেন। কোকোর ব্যবসায়িক অংশীদার ছিলেন মোসাদ্দেক আলী ফালু। তিনি প্রভাব খাটিয়ে আইএফআইসি ব্যাংকের শেয়ার কিনেছেন, সাভারে জমি কিনেছেন। তারেক রহমান লন্ডনে থাকেন। ২২ হাজার পাউন্ড মাসে ভাড়া দিয়ে সেখানে থাকেন। যদিও স্বনামেবেনামে ব্রিজটনে আটটি বাড়ি আছে। এই টাকা কোথা থেকে আসে? তিনি কি চাকরি নিয়েছেন? মানি লন্ডারিংয়ের মামলায় তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই সাক্ষ্য দিয়েছে। তারেকের দুই হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থ রয়েছে। দুবাইয়ে দাউদ ইব্রাহিমের সঙ্গে তারেক রহমান বৈঠক করেছেন। তারেকের স্বেচ্ছাচারিতার অনেক নজির বগুড়ায় রয়েছে। তারেকের একটি বাড়ি আর তাঁর স্ত্রীর পাঁচটি। খালেদা জিয়ার নির্দেশে বসুন্ধরার কাছ থেকে ১০০ কোটি টাকা চেয়েছিলেন তারেক।’

সরকারী দলের সংসদ সংসদে এমন অভিযোগ উত্থাপন করা সত্ত্বেও এর বিচার তারা কেন করছেন না। কেন এত বড় বড় দুর্নীতিকে তারা প্রশ্রয় দিচ্ছেনএরও জবাবদিহিতা প্রয়োজন। কারণ সংসদ রাজনীতির খোলা মাঠ নয়। এখানে কোনো অভিযোগ উত্থাপন করতে হলে দায়দায়িত্ব নিয়েই করতে হবে।

তবে এ কথা সত্য যে, সর্বগ্রাসী রূপ নিয়েছে মহাজোট জমানার দুর্নীতি। মন্ত্রণালয়, বিভাগ, ব্যাংকবীমা থেকে শুরু করে শিক্ষাঙ্গন সর্বত্রই দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশের দুর্নীতি এখন এমন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে, শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিকভাবেও এটি এখন আলোচিত বিষয়।

পদ্মা সেতু প্রকল্প, চাঞ্চল্যকর রেলওয়ের ঘুষ বাণিজ্য, ব্যাংকিং খাতের ইতিহাসে এ যাবতকালের সবচেয়ে ভয়ংকর দুর্নীতি সোনালী ব্যাংকের হলমার্ক কেলেঙ্কারির ঘটনা এবং বিমানবন্দরের ৪৩৪ বিঘা জমি ছাড়াও বিদ্যুৎ খাতের কেলেঙ্কারির জন্য নানা নাম এখন ব্যাপকভাবে আলোচিত।

পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির কারণে এরই মধ্যে বিশ্বব্যাংক তাদের ঋণসহায়তা চুক্তি বাতিল করেছে। একই অভিযোগে ওই প্রকল্পের ঋণচুক্তি বাতিল করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও জাইকা। প্রথম দিকে সরকার পদ্মা সেতু প্রকল্পে ঘুষ কেলেঙ্কারির কথা অস্বীকার করলেও দুনিয়াজুড়ে হৈচৈ পড়ে গেলে এক পর্যায়ে সৈয়দ আবুল হোসেনকে যোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে আইসিটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়। একপর্যায়ে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের পরামর্শে সৈয়দ আবুল হোসেন আইসিটি মন্ত্রণালয় থেকেও পদত্যাগ করেছেন।

পদ্মা সেতু নির্মাণে ১২০ কোটি ডলার ঋণসহায়তা দিতে প্রতিশ্রুত হয় বিশ্বব্যাংক। ২০১১ সালের ২৯ জুন চুক্তি বাতিলসংক্রান্ত এক বিবৃতিতে বিশ্বব্যাংক জানায়, পদ্মা সেতু প্রকল্প নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের উচ্চপর্যায়ের দুর্নীতির বিশ্বাসযোগ্য তথ্যপ্রমাণ তাদের কাছে রয়েছে। বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারকে অবহিত করার পরও দুর্নীতি তদন্তে তেমন কোনো সাড়াা না পাওয়ায় এ অর্থচুক্তি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। এত সব ঘটনার পরও সৈয়দ আবুল হোসেন এবং এর সঙ্গে জড়িতদের কোনো বিচার হয়নি। বিশ্ব ব্যাংক আবুল হোসেনের নাম অভিযোগপত্রে না থাকায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে।

পদ্মা সেতু কেলেঙ্কারির আগে দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে রেলওয়ের ঘুষ কেলেঙ্কারি। এ ঘুষ কেলেঙ্কারির অভিযোগ উত্থাপিত হওয়ার পরে তৎকালীন রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত পদত্যাগ করেন। এ অভিযোগের কারণে রেলমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে পদত্যাগের পর আবার তাকে দফতরবিহীন মন্ত্রী করা হয়।

৫৫ বছরের রাজনৈতিক জীবনে প্রথমবারের মতো মন্ত্রী হওয়ার সুযোগ পান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। ২০১১ সালের ২৮ নভেম্বর রেলমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তিনি। ওই বছর ৯ এপ্রিল রাতে সুরঞ্জিতের এপিএস ওমর ফারুক তালুকদারের গাড়িতে বিপুল পরিমাণ অর্থসহ রেলের দুই কর্মকর্তা ধরা পড়েন। প্রথমে বলা হয় বস্তায় ছিল ২০ লাখ টাকা। এরপর বলা হয় ৭০ লাখ। কোনো কোনো সূত্র জানায়, ওই বস্তায় ৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা ছিল।

রেলওয়ের চাঞ্চল্যকর ঘুষ কেলেঙ্কারি নিয়ে দেশজুড়ে হৈচৈ পড়ে গেলে ৬ দিনের মাথায় রেলমন্ত্রীর পদ থেকে সরে যেতে পদত্যাগ করেন মাত্র সাড়ে চার মাস আগে মন্ত্রিত্ব পাওয়া সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। অবশ্য একদিন পর নাটকীয়ভাবে তাকে দফতরবিহীন মন্ত্রী করা হয়।

এদিকে ব্যাংকিং খাতের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় লুটপাটের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দ মোদাচ্ছের আলীর নামও সংবাদ মাধ্যমে এসেছিল। প্রভাব খাটিয়ে হলমার্ককে সোনালী ব্যাংকের রূপসী বাংলা হোটেল শাখা থেকে ২ হাজার ৬৬৮ কোটি ও অন্যান্য নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানকে আরও তিনটি শাখা থেকে ৮০০ কোটি টাকা বেআইনি ঋণ প্রদান করা হয়।

গত বছরের মার্চে এ ঘটনা ঘটলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্তের আগ পর্যন্ত বিষয়টি আড়ালেই থেকে যায়। এদিকে এতবড় দুর্নীতি ব্যাংকের জুনিয়র অফিসারদের ওপর চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা হয়। রাঘববোয়ালদের বাদ দিয়ে জুনিয়রদের কয়েজনকে সাজা দেওয়া হয়। অথচ ঋণ দেয়ার কোনো ক্ষমতাই তাদের ছিল না।।

১টি মন্তব্য

  1. we are foolish voter,why again-n-again khaleda-n-hasina,next time we will not go to vote center.