Home » রাজনীতি » স্ববিরোধী এরশাদ

স্ববিরোধী এরশাদ

জাকির হোসেন

ERSHADমহাজোট গঠন এবং বিগত সাধারণ নির্বাচনের পর থেকেই সাবেক স্বৈরাচারী শাসক এবং বর্তমানে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান ও মনোভাব বিষয়ে বিরামহীনভাবে স্ববিরোধী কথাবার্তা বলে চলেছেন। বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘মোস্ট আনপ্রেডিক্টেবল’ হিসেবে খ্যাত এরশাদ অন্তত তার এই অবস্থানটি বেশ শক্তভাবেই ধরে রেখেছেন। ‘আমি মহাজোটে আছি, মহাজোটেই থাকবো এবং আগামী নির্বাচন মহাজোটবদ্ধ হয়েই করবো’,জাতীয় পার্টি আগামী নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেবে, কোনো জোটে যাবে না’, ‘সরকারের কাছে আমার চাওয়া পাওয়া কিছু নেই’, এবং ‘বুকে বড় জ্বালা নিয়ে মহাজোটে আছি’এ গুলো সাম্প্রতিক সময়ে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের কণ্ঠনিসৃত ‘অমর বানী’। এ কথাগুলো তিনি গত প্রায় সাড়ে চার বছরে কতবার যে বলেছেন এর কোনো সঠিক হিসেবে নেই। কিন্তু কেন তিনি এমন পরস্পর বিরোধী কথা বলছেন, এরশাদের মনের কথা আসলে কোনটিএ বিষয়ে সুনির্দিস্ট করে কিছুই বলতে পারেননি দেশের বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও। অনেকেই তাঁর বিষয়ে কোনো মন্তবই করেননি। আবার কেউ বলেছেন, পৃথিবীতে এমন কোনো ব্যক্তি নেই যিনি এরশাদের রাজনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে মন্তব্য করতে পরেন। এমনকি এরশাদ নিজেও জানেন না তার গন্তব্য কোথায়। তার নীতি বলে কিছুই নেই। তিনি একজন চরম সুবিধাবাদী এবং অনির্ভরযোগ্য। চুড়ান্ত পর্যায়ে এই ধরণের ব্যক্তিদের রাজনৈতিক অবস্থান কী হবে এটা বলার ক্ষমতা কারো নেই। কারণ তিনি হলেন রাজনৈতিক ‘পরগাছা’। পরগাছাদের কোনো চরিত্র থাকে না। এরশাদকে এখন অনেকেই রাজনৈতিক পরগাছা বলছেন কারণে যে, আদালত এরশাদকে অবৈধ ক্ষমতা দখলকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং তার শাস্তির ভার সংসদের উপর ছেড়ে দিয়েছে। ফলে বর্তমান সরকার চাইলেই এরশাদকে অবৈধ ক্ষমতা দখলকারী হিসেবে শাস্তি দিতে পারবে, তেমনি ভবিষতে যারা ক্ষমতায় আসবে তারাও পারবে। তাই এরশাদ অবৈধ ক্ষমতা দখলকারী হিসেবে শাস্তি এড়াতে চাইলে বর্তমান সময়ে যেমন ক্ষমতাসীনদের বশ হয়ে থাকতে হবে, তেমনি আগামীতে যারা ক্ষমতাসীন হবে তাদের সঙ্গেও আপোষ মীমাংসার পথ খোলা রাখতে হবে। জীবনের শেষ সময় এরশাদ আর জেলে যেতে যান না। তাই জেলের ভয়ে ভীত এরশাদ নিজেকে রক্ষায় স্ববিরোধী নানা রকম কথা বার্তা বলছেন।

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরে সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ তার জোটের শরিক এইচ এম এরশাদকে তেমন একটা পাত্তা দেয়নি। বরং এরশাদ আগ বাড়িয়ে একাধিকবার সরকারকে সহযোগিতা করার আহ্বাণ জানিয়েছে। গত প্রায় সারে চার বছর আওয়ামী লীগ তাদের শরিক জাতীয় পার্টির গুরুত্ব না দিলেও জাতীয় পার্টি ক্ষমতার স্বাদ নেয়নি এমনটি বলা যাবে না। জাতীয় পার্টির তৃণমূলের এবং কেন্দ্রীয় ত্যাগী নেতারা কোনো সুযোগ সুবিধা না পেলেও এরশাদসহ কতিপয় নেতা বর্তমান সরকারের আমলে অঢেল সুযোগ সুবিধা পেয়েছেন। বর্তমান সরকারের আমলে ব্যক্তিগতভাবে এরশাদকে তাঁর মামলা নিয়ে খুব একটা ভাবতে হয়নিছিল না জেলে যাওয়ার ভয়, উপরন্তু পেয়েছেন ‘ইউনিয়ন ব্যাংকের অনুমোদন। দলের একজন জেলা সভাপতি পেয়েছেন টেলিভিশনের লাইসেন্স, এরশাদের সহোদর জি এম কাদের সরকারের প্রথম থেকেই মন্ত্রী পরিষদের সদস্য, দলের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা গত কয়েক বছর সরকারের কাছ থেকে নিয়েছেন ব্যাপক ব্যবসায়িক সুবিধা, আর একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা কুয়াকাটায় কয়েকশ’ একর জমি দখল করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অর্থাৎ তৃণমূল নেতার কোনো সুযোগ সুবিধা না পেলেও জাতীয় পার্টি যে বর্তমান মহাজোটের দুঃশাসনের অংশীদার একথা বলার অপেক্ষা রাখে না। যদিও বর্তমান সরকার ক্ষমতা দখলের প্রায় এক বছর পর থেকে এরশাদ লাগাতার বলছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে তিনি এককভাবে নির্বাচন করবেন। আবার সরকারী দলের সঙ্গেও কখনো প্রকাশ্যে আবার কখনো অপ্রকাশ্যে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। ২০১১ সালের ১ অক্টোবর শনিবার রাজশাহীতে তৃণমূল সম্মেলনে নওহাটা কলেজ মাঠে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেন, জাতীয় পার্টি আর টেনিস বল হবে না বা ফুটবল হবে না। যাতে দু’দল আমাদের নিয়ে খেলা করবে। এবার জাতীয় পার্টির নিজেই খেলোয়ার হবে। জাতীয় পার্টি এবার এককভাবে আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে। কোনো জোটে যাবে না। কোনো দলের ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহৃত হবে না। আবার এর পরদিন তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎকালে বলেন, তিনি মহাজোটেই আছেন।

অন্যদিকে, এরশাদ যে জেল এবং ফাঁসির ভয়ে চরম ভীত এ বিষয়টি তিনি একাধিকবার প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে বর্তমান সরকারের আমলে তাকে যে আদালতে হাজিরা দিতে হচ্ছে না এবং এতে যে তিনি ভীষন খুশি এ অভিমতও ব্যক্ত করেছেন। ২০১০ সালের ২২ আগস্ট ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তে আয়োজিত দলের যৌথ সভায় এরশাদ বলেন, ফাঁসির ভয়ে আমি ভীত নই। যদি আমাকে ফাঁসির মঞ্চে যেতেই হয় সম্মানের সঙ্গে যাবো। অনেক দিনতো বাঁচলাম। জীবনে ছয় বছর জেল খেটেছি। তখনতো মৃত্যুর কাছাকাছি গিয়েছিলাম। এখন ফাঁসি হলে হবে। আপনার এ নিয়ে চিন্তা করবেন না। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘দলের অনেক নেতাকর্মী আমাকে প্রশ্ন করেন মহাজোট করে আমি কী পেলাম? আমি তাদের বলি দেওয়ার মালিকতো আল্লাহ। তবে একটা কথা বলতে পারি মহাজোটে যোগ দিয়ে আগের চেয়ে অনেক ভালো আছি। এখন প্রতিদিন মামলার হাজিরা দিতে কোর্টে যেতে হয় না।’

আবার ২৪ জুলাই ২০০৯ তারিখে ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তে আয়োজিত দলের কাউন্সিল অধিবেশনে এরশাদ বলেন, ওয়ান ইলেভেন না হলে আমাকে জেলে যেতে হতো। আমি জেলে গেলে জাতীয় পার্টিও জেলে চলে যেত। কিন্তু আমাকে জেলে যেতে হয়নি। তাই এ জন্য আপনার আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করুন।

শুধু বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নয় বিগত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেও বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের জোট রাজনীতির সমীকরণের বিষয়ে এরশাদ নানামুখী কৌশল নেয়। ওই বছর ২৭ জুলাই রাতে এরশাদের প্রেসিডেন্ট পার্কের বাসভবনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমান এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। নানা রাজনৈতিক বিশ্লেষণের মাধ্যমের পরদিন এরশাদ চারদলীয় জোটে যোগ দেয়ার ঘোষণা দেন। এরপর তিনি বিভিন্ন সভাসমাবেশে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা এবং ১৪ দলের শরিক বিভিন্ন দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে নানারকম কথা বলেন। তিনি শেখ হাসিনাকে দুর্নীতিপরায়ণ হিসেবে অভিহিত করেন এবং তার ওপর নূর হোসেনের খুনের দায় চাপান। একইসঙ্গে তিনি আওয়ামী লীগ এবং ১৪ দলের নীতিআদর্শের কঠোর সমালোচনা করেন। আর বিএনপির রাজনৈতিক আদর্শ এবং দলের তৎকালীন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তবে বছরের শেষদিকে জোট করা নিয়ে আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের নানামুখী চাপে একদিন সন্ধ্যায় আত্মগোপন করেন এরশাদ। প্রায় দু’দিন পর আত্মগোপন থেকে তিনি সরাসরি হাজির হন পন্টনে ১৪ দলের মহাসমাবেশে। সেখানে তিনি মহাজোট গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। বর্তমানে তার দল জাতীয় পার্টি ক্ষমতাসীন মহাজোটের অন্যতম শরিক এবং তার সহোদর ভাই জিএম কাদের বর্তমান সরকারের প্রথম থেকেই একজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী।

এদিকে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে চারদলীয় জোটে যোগ দেয়ার ঘোষণার পর ২০০৬ সালের ১৬ আগস্ট সকালে রাজধানীর হোটেল সুন্দরবনে বৃহত্তর রংপুর জেলা জাতীয় পার্টির তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে নূর হোসেন হত্যাকাণ্ড বিষয়ে এরশাদ বলেন, আমি নূর হোসেনকে হত্যা করিনি। নূর হোসেন লাশের রাজনীতির শিকার হয়েছে। সে সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা একটি লাশ চেয়েছিলেন। সেই লাশের রাজনীতির শিকার হয়ে নূর হোসেন মৃত্যুবরণ করেছিল। হাজার হাজার মানুষের মধ্যে শুধু নূর হোসেনের গায়ে লেখা ছিল ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক’। এর কী উদ্দেশ্য ছিল, সেটা আজ কারও অজানা নয়। সেটা এখন সবার কাছেই স্পস্ট হয়ে গেছে। এদিন তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সৃষ্ট রক্ষীবাহিনী জাসদের একজন কিংবা দু’জন নয়৩০ হাজার নেতাকর্মী হত্যা করেছিল। সেই জাসদ আজ আওয়ামী লীগের আঁচলের নিচে চলে গেছে। এখন তারা আওয়ামী লীগের আশ্রয়ে তাদের পক্ষে বড় বড় কথা বলছে। এর চেয়ে লজ্জার কথা আর কী হতে পারে। তিনি বলেন, জেল থেকে আমি আওয়ামী লীগকে সমর্থন দিয়ে ২১ বছর পর ক্ষমতায় আসার সুযোগ দিয়েছিলাম। এর বিনিময়ে তারা আমার দল ভেঙেছে, আমাকে জেলে দিয়েছে। তাই তাদের সঙ্গে জোট করার কোনো প্রশ্নই আসে না।

২০০৬ সালের ৩১ জুলাই সকালে হোটেল সুন্দরবনে কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং চাঁদপুর জেলা জাতীয় পার্টির তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে এরশাদ বলেছিলেন, শেখ হাসিনা বলেন আমি চোর। আমি চোর কিংবা দুর্নীতিবাজ নই। আমি যদি চোর হতাম, তাহলে আমার রাজপ্রাসাদ থাকত। আমি তো নিজের নামে বঙ্গভবন লিখে নেইনি। মিগ কিনে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি করিনি। কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে মিগ কেনার মাধ্যমে। যে মিগ এখন আকাশে ওড়ে না। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা আমাকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে জেলে নেয়ার কথা বলেছিলেন। সে কথা আমি ভুলে যাইনি। তারা যে রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাস করে, আমরা তা করি না। তারা ক্ষমতায় এলে ’৭২এর সংবিধান কার্যকর করবে। সংবিধান থেকে বিসমিল্লাহির রহমানের রাহিম মুছে ফেলবে। আমরা এটা হতে দিতে পারি না। শেখ হাসিনার উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, তিনি আমাকে খুনি বলেছেন। আমি খুনি বা হত্যাকারী নই। আমার হাতে কোনো রক্তের দাগ নেই। আমার বিবেক পরিষ্কার।

৩০ জুলাই (২০০৬) সকালে হোটেল সুন্দরবনে বৃহত্তর সিলেট জেলার তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে এরশাদ জোটবদ্ধ হওয়ার বিষয়ে বলেন, আমরা বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ এবং ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী। এটা আমাদের দলের গঠনতন্ত্রে আছে। তাই এ আদর্শের বাইরে অন্য কারও সঙ্গে জোট করা আমাদের জন্য কঠিন। এ আদর্শের ভিত্তিতে আমরা যদি জোটবদ্ধ হইতবে এতে কারও মাথাব্যথা হওয়ার কারণ নেই। তিনি বলেন, তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর কয়েকটি পত্রিকা আমাকে নিয়ে এমন সমালোচনায় মেতে উঠেছে যে, যেন আমি তার সঙ্গে বৈঠক করে মহা অন্যায় করে ফেলেছি। আমি ১৪ দলে যোগ না দেয়ায় মনে হচ্ছে তাদের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছে। আমি তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করে কোনো ভুল করিনি। দল এবং দলের স্বার্থ বিবেচনা করেই আমি তার সঙ্গে বৈঠক করেছি। তিনি বলেন, চারদলীয় জোটে যোগ দেয়ার সিদ্ধান্তের পর অনেকেই আমাকে ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ হিসেবে অভিহিত করছেন; কিন্তু তাদের জানা উচিত আমি একজন সৈনিকআমরা কখনও আনপ্রেডিক্টেবল থাকি না। আমরা সিদ্ধান্ত নেই এবং তা বাস্তবায়ন করি।

অন্যদিকে এদিন একটি জাতীয় দৈনিকে দেয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান সম্পর্কে এরশাদ বলেন, রাজনীতিতে তারেক নবাগত হলেও রাজনীতিক হিসেবে তাকে আমার অত্যন্ত পরিপকস্ফ বলে মনে হয়েছে। খুব মেপে কথা বলেন। তার কথাবার্তার মধ্যে কোনো অপ্রাসঙ্গিকতা নেই, কারও প্রতি কটূক্তি করেন না। এভাবে এগিয়ে যেতে থাকলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে তিনি স্থান করে নিতে পারবেন। রাজনীতিতে তার একটি সম্ভাবনা আছে। পৃথিবী এখন বদলে গেছে। এখন মানুষ তরুণ নেতৃত্ব চাচ্ছে। আমি মনে করি উনি যদি নিজেকে তৈরি করতে পারেন, তাহলে তিনিই ভবিষ্যতে দেশের নেতৃত্ব দেবেন।

এতকিছুর পরও ওই বছর ৬ নভেম্বর ভোল পাল্টান এরশাদ। এদিন দলীয় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা শেষে তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে চারদলে যোগ দেয়া নিয়ে আমার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল। আজ আমার সেই ভুল ভেঙেছে। তাই আর চার দলে যাচ্ছি না। আপাতত এককভাবে নির্বাচন করার কথা ভাবছি। এরপর জোট করা নিয়ে আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং নিজ দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের নানামুখী চাপে ১৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যার পর থেকে নিখোঁজ হন এরশাদ। এ ব্যাপারে জাতীয় পার্টির শীর্ষস্থানীয় নেতারা জানান, অসুস্থতার কারণে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন; কিন্তু কোন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তা কেউ বলতে পারেননি। প্রায় দু’দিন পর ১৮ ডিসেম্বর তার খোঁজ মেলে। আত্মগোপন থেকে তিনি সরাসরি হাজির হন পল্টনে ১৪ দলের মহাসমাবেশে। সেখানে বক্তৃতায় তিনি বলেন, এতদিন আমি ছিলাম শৃঙ্খলিত। এবার এ সমাবেশে সেই শৃঙ্খল ভেঙে ফেললাম। সমাবেশে জনগণের কাছে তিনি ক্ষমা চান তার কৃতকর্মের জন্য। বলেন, তিনি একজন সৈনিক। তাই মৃত্যুকে ভয় পান না তিনি। সমাবেশে যোগ দিয়ে তিনি মহাজোট গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এই হলো এরশাদের মহাজোটে যোগদানের কাহিনী।

এদিকে ক্ষমতাসীন মহাজোট সরকারের মেয়াদ যতই কমছে ততই জোটের গুরুত্বপূর্ণ শরিক জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান পতিত সামরিক স্বৈরাচারী হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের কদর বাড়ছে। আর এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তার দিকে ধেয়ে আসছে মহাবিপদ। অর্থাৎ সরকারের মেয়াদ যতই শেষ হচ্ছে, নির্বাচনের দিনক্ষণ যতই এগিযে আসছে, ততই এরশাদের জন্য পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে। একদিকে মহাজোটে তাঁর বাড়ছে কদরএকই সঙ্গে অন্যদিকে ঘনীভূত হচ্ছে ‘অবৈধভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলকারী হিসেবে তাঁর বিচারের আশঙ্কা। এ প্রেক্ষিতে ‘ডিগবাজিতে পারঙ্গম’ এরশাদ এই জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতি কিভাবে সামাল দেন এটাই এখন দেখার বিষয়।।

১টি মন্তব্য

  1. arshad sub akhono shomoy ase apner dal n Jamat akshathe hoiya nirbachone attn koren insha allh apnader doizoner doll next govt. hoben. Akbar jachai koira dekhan.