Home » রাজনীতি » প্রধানমন্ত্রীর কি জন-আতঙ্ক না জেল-আতঙ্ক?

প্রধানমন্ত্রীর কি জন-আতঙ্ক না জেল-আতঙ্ক?

শাহাদত হোসেন বাচ্চু

GAZIPUR 1সেই বৃটিশ আমল থেকেই উপমহাদেশে শাসকশোষক শ্রেণীর বিরুদ্ধে সংগ্রামরত রাজনৈতিক নেতাদের কাছে জেলজুলুমহুলিয়া মায় নির্জন কারাবাস ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় উপমহাদেশের কেন, সারা বিশ্বের শোষিত জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে নেতৃবৃন্দ শাসক শ্রেণীর কোন অত্যাচারে মাথা নত করেননি, এরকম নজির রয়েছে ভুরি ভুরি। দক্ষিণ আফ্রিকার অবিসংবাদিত নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা জীবনের অমূল্য চল্লিশটি বছর কাটিয়েছেন জেলে। বাংলাদেশের জাতীয় নেতা শেখ মুজিবর রহমান একাধিকবার জেলে গেছেন। ফাঁসি অথবা মৃত্যুদন্ডের খাঁড়া মাথায় নিয়ে দুইদুইবার জেলে ছিলেন তিনি। গণআন্দোলন এবং সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে জেল থেকে মুক্তি পেয়ে স্বাধীন দেশে জনগণের একচ্ছত্র নেতা হয়েছিলেন তিনি। বামপ্রগতিশীল ধারার রাজনীতিবিদরা সেকালে জেল খাটার পাশাপাশি নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, আন্দামানে কালাপানি দর্শণ করেছেন। জীবনের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় সময় জেলে কাঠিয়ে অকালে বুড়িয়ে গেছেন। তবুও হার মানেননি।

স্বাধীন বাংলাদেশেও ভিন্ন রাজনৈতিক মত ও পথের কারণে অথবা সামরিক শাসনের রোষানলে অনেক রাজনীতিবিদ জেল খেটেছেন, অত্যাচার নির্যাতনের শিকার হয়েছেন আবার জেল থেকে মুক্তি পেয়ে জনগণের নেতায় পরিনত হয়েছেন, এরকম উদাহরনও অনেক রয়েছে। রাজনীতি যারা করেন, তাদের এ বিষয়টি ভালভাবেই জানা রয়েছে যে, যে কোন সময়েই তিনি ক্ষমতাসীনদের রোষানলের শিকার হয়ে জেলে যেতে পারেন। রাজনীতিবিদরা জেলে যাবার বিষয়টি রাজনৈতিক জীবনের অংশ বলে মনে করে থাকেন। ক্ষমতা এবং জেলখানা রাজনৈতিক নেতাদের জন্য পাশাপাশি অবস্থান করে এবং ক্ষমতা হারালে নানা ঘটনাদুর্ঘটনা এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে জেল খাটার অভিজ্ঞতা প্রায় সকল খ্যাতঅখ্যাত রাজনৈতিক নেতাদের রয়েছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশের একটি প্রধান রাজনৈতিক দলের নেত্রী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জেল আতঙ্কে ভুগতে শুরু করেছেন। তাও নিজের জন্য নয়, তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলের নেত্রী খালেদা জিয়ার জন্য। তিনি এ ব্যাপারে এতোটাই সংবেদনশীল হয়ে পড়েছেন যে, বারবার সতর্ক করে দিচ্ছেন খালেদা জিয়াকে এই বলে যে, তত্বাবধায়ক সরকার এলে তাকে জেলে যেতে হবে। এমনকি তিনি এও বলেছেন যে, তত্বাবধায়ক সরকার এলে কেয়ামত পর্যন্ত নির্বাচন হবে না। এটি খুব বিষ্ময়ের ব্যাপার যে, দেশের প্রধান রাজনৈতিক নেত্রীর একজন, দুইদুইবার নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী সহসাই এরকম কথা বলতে শুরু করলেন কেন? যাদের ব্যক্তিগত বা সামাজিক পর্যায়ের সম্পর্ক বলতে কিছুই নেই। একজন আরেকজনের সঙ্গে কথাটুকুও বলেন না। তাদের একজনের হঠাৎ করে মায়া হলো কেন আরেকজনের জন্য? যারা রাজনৈতিকভাবে প্রবল ও তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বী তাদের একজন কেন আরেকজনের ব্যাপারে এমনভাবে চিন্তিত হলেন, কেন হলেন উদ্বিগ্ন? এ নিয়ে বিস্ময় সৃষ্টি হওয়া খুবই স্বাভাবিক।

২০০৭ সালে ১/১১ এর সেনা সমর্থিত অদ্ভুত এক তত্বাবধায়ক সরকারের সময় শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়া, উভয়কেই জেলে যেতে হয়েছিল। তাও আবার নির্জন কারাবাসে। বেশ কিছুকাল জেল খাটার পরে দুজনই মুক্তি পেয়েছিলেন। এই মুক্তির বিষয়ে কিছু শর্ত দেয়া হয়েছিল। সেটি ছিল ‘মাইনাস টু’ থিউরির বাস্তবায়নে তৎপর সে সময়কার তত্বাবধায়ক সরকারের নীল নকশার অন্তর্ভুক্ত। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতৃত্বের একটি প্রভাবশালী অংশের সাথে সরকারের এই থিওরির ঘনিষ্ট যোগাযোগ ছিল। আমাদের জাতীয় রাজনীতির জন্য সৌভাগ্য যে, এরকম একটি রাজনীতি বিনাশী অপতৎপরতা সফল হয়নি।

তত্বাবধায়ক সরকার আসলে নির্বাচন হবে নাপ্রধানমন্ত্রীর এই আশঙ্কা কেন? তাহলে কি কোন একটি জোট নির্বাচনে অংশ নেবে না, এরকম কোন ইঙ্গিত কি প্রধানমন্ত্রী পেয়েছেন? সকলেরই জানা রয়েছে যে, এ দেশের বড় দুটি রাজনৈতিক দল বা জোটের একটি অংশ না নিলে তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে বিশ্বাসযোগ্য ও গ্রহনযোগ্য নির্বাচন করা সম্ভব নয়। সেরকম একটি নজির ২০০৭ সালে জনগণের কাছে রয়েছে। সুতরাং তত্ববধায়ক সরকার এলে নির্বাচন হবে নাদেশের প্রধান নির্বাহীর মুখ নি:সৃত এরকম কথা শুনে জনগণের মধ্যে শঙ্কা তৈরী হয়। আর সে শঙ্কাটি হচ্ছে নির্বাচনমুখী গণতন্ত্র নিয়ে। কারন দলীয় সরকারের অধীনে বিএনপি’র মতো বড় দল অংশ না নিলে নির্বাচন হবে, সে আশা করাই অনেকটা অবান্তর। তারপরেও যদি নির্বাচন হয়, তাহলে কিভাবে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত হবে। নির্বাচনমুখী গনতন্ত্রের যে ধারাটি তৈরী হয়েছে, সেটির অস্তিত্ব বিলুপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেবে।

সম্প্রতি ৫টি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সরকারের অনেক হিসেবকিতেব উল্টে দিয়েছে। সরকার এই নির্বাচনটি নিরপেক্ষ করার মাধ্যমে প্রমান করতে সচেষ্ট ছিল যে, আওয়ামী লীগ’র অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠ ও চাপমৃক্ত হতে পারে। সরকার আশা করেছিল, অন্তত:পক্ষে ৩টি সিটি কর্পোরেশনে তারা বিজয়ী হবে। হেফাজতে ইসলামকে শাপলা চত্বর থেকে হটিয়ে দেবার পরে সরকার শিবিরে যে স্বস্তি দেখা দিয়েছিল সিটি নির্বাচনের পরে তা চূড়ান্ত অস্বস্তিতে রূপ নিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ছিল আসলে জাতীয় নির্বাচনের মহড়া। বিরোধী দল হিসেবে চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হলেও আওয়ামী লীগ’র বিপক্ষের ভোট বিএনপিকে আশাতীতভাবে ৫টিতেই জিতিয়ে দিয়েছে।

মাসাধিককাল ধরে নির্বাচনমুখী রাজনীতিতে বিরোধী দল হিসেবে বিএনপি’র ইতিবাচক কৌশলের কাছে আওয়ামী লীগ হালে পানি পাচ্ছে না। সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় বিএনপি’কে অনেক চাঙ্গা করে তুলেছে। চার বছরে এই প্রথম বিএনপি সংসদ অভিমুখী হয়েছে। নিয়মিত সংসদে যাচ্ছে। তীব্র এবং শানিত ভাষায় সরকারী দলকে মোকাবেলা করছে। সরকারী দলও জবাব দিচ্ছে। এর ফলে সংসদে মাঝেমধ্যেই চরম অসংসদীয় আচরন তৈরী হচ্ছে, উত্তপ্ত হয়ে উঠছে গোটা সংসদ। কিন্তু ইতিবাচক দিকটি হচ্ছে, সংসদ ছাড়ছে না বিএনপি।

এই মূহুর্তে বিএনপি’র কৌশল কি? কি পদ্ধতিতে তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার দাবী বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করবে। দেখেশুনে মনে হচ্ছে বিএনপি’র রাজনীতির এখন মূল লক্ষ্য হচ্ছে ভোট। ভোটে জিতে ক্ষমতায় যাওয়া। সেটি অবশ্যই জোটের মাধ্যমে। সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে জয় যে বিএনপি’র সুকৃতির ফসল নয় বরং এটি জনগণের গত চার বছরের ক্রোধক্ষুব্ধতা এবং চরম প্রতিবাদের বহি:প্রকাশ এটি বিএনপি’র বুঝতে অসুবিধা হবার কথা নয়। বিএনপি বিশ্বাস করতে শুরু করেছে যে, সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষুব্ধতার ধারাবাহিকতা যদি বজায় থাকে, তাহলে আগামী নির্বাচনের ফসল ঘরে তোলা যাবে। সে কারণে তাদের মূল লক্ষ্য ভোট এবং ভোটসেটি কিভাবে তাদের পক্ষে আসবে।

পর্যবেক্ষণে মনে হচ্ছে, এ মুহুর্তে বিএনপি আক্রমনাত্মক জঙ্গী কোন কর্মসূচিতে যাচ্ছে না। কারন ৬ জুলাই অনুষ্ঠিত গাজীপুরের নির্বাচন তাদের পক্ষে আসায় আত্মতুষ্টি এখন তুঙ্গে। সামনে রমজান। এ মাসে ইফতার, দোয়া মাহফিল ইত্যাদির মধ্য দিয়ে চলবে রাজনৈতিক জনসংযোগ। সম্ভবত: ঈদের পরে তত্ত্বাবধায়ক সরকার দাবীতে জোরেসোরে মাঠে নামবে বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যেই ঘোষনা দিয়েছেন, ২৫ অক্টোবর সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে নির্বাচনের ঘোষনা দেয়া হবে। বিএনপি’র শীর্ষ নেতৃবৃন্দ মনে করে, ঘোষনাটি প্রধানমন্ত্রী বাস্তবায়িত করবেন না। মেয়াদের শেষ পর্যন্ত তিনি ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করবেন। এ কারণে সেপ্টেম্বর থেকেই তত্ববধায়ক সরকার আন্দোলন জোরদার করার জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করবে বিএনপি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মাঠ গরম রাখা এবং জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর জন্য এটি হবে বিএনপি’র সবচেয়ে বড় কৌশল। সরকার শেষতক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবী মেনে না নিলেও বর্তমান ফরম্যাটে তারা নির্বাাচনে অংশ নিতেও পারে। সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন মহড়ার মধ্য দিয়ে বিএনপি ধারনা পেয়েছে যে, জনগণ এতোই ক্ষুব্ধ যে, তাদের নেতিবাচক ভোটই বিএনপিকে বিপুলভাবে জিতিয়ে দিতে পারে। সুতরাং ধরে নেয়া যায়, তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রশ্নে সরকারের ওপরে তীব্র চাপ প্রয়োগের পাশাপাশি নির্বাচনের প্রস্তুতি বিএনপি নিতে থাকবে। এক্ষেত্রে তার দৃটি লাভ আছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার দাবীর প্রশ্নে সরকার যদি তাদের সাথে আলোচনায় বসে সেটিও তাদের জন্য লাভ অথবা না মেনে একতরফা নির্বাচন ঘোষনা করলেও বিএনপি’র লাভ।

জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের একতরফা ফলাফল আওয়ামী লীগকে দৃশ্যতঃ অসহায় করে তুলেছে। অন্তত: দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা ও মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের কথায় তার প্রতিধ্বনি পাওয়া গেছে। কবুল করেই নিয়েছেন তিনি অহংকার, দাম্ভিকতা এবং জনবিচ্ছিন্নতা আওয়ামী লীগ’র এই পরিনতির জন্য দায়ী। ফলে অনেক উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়ন করলেও ভোটাররা পরিবর্তনের পক্ষেই ভোট দিয়েছেন। মুখে না বললেও আওয়ামী লীগ’র সিনিয়র নেতৃবৃন্দ বুঝেই নিয়েছেন, জাতীয় নির্বাচনে দলের পরিনতি কি হতে যাচ্ছে! জনইস্যুকে পাত্তা না দিয়ে, জনগণের ইচ্ছার কোন মূল্যায়ন না করা আওয়ামী লীগ’র জন্য কতোটা বিপজ্জনক হয়েছে সে হিসেব মিলানোর সময় এসে গেছে।

গত সাড়ে চার বছরে দাম্ভিকতার কারণে এই জন বিচ্ছিন্নতা ক্রমশঃ বেড়েছে। পদ্মা সেতু নিয়ে আন্তর্জাতিক দাতাদের দূর্নীতির আশঙ্কা, হলমার্ক কেলেঙ্কারী, ডেসটিনি’র লুটপাট, শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারী, রেল কেলেঙ্কারীর দায় এড়াতে সরকার জনগণের কাছে পরিষ্কার অবস্থান তুলে ধরতে ব্যর্থ হওয়ায় জনগণ দিনকে দিন রৈরী হয়ে উঠছেসরকার এটি হিসেবের মধ্যেই রাখেনি। আড়িয়াল বিলে বিমান বন্দর স্থাপনে জনপ্রতিরোধের মুখে পিছিয়ে আসলেও রামপালে ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়কর কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে পিছ পা হয়নি। এক্ষেত্রে ভূমিহারা জনগণ, পরিবেশবিদ, বিশেষজ্ঞকাউকেই এই সরকার পাত্তা দেয়নি। ফলে প্রশ্ন উঠছে, সরকার জনগণের স্বার্থ রক্ষা করছে নাকি ভারতের স্বার্থ মুখ্য হয়ে উঠেছে? রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা তো বটেই, খোদ আওয়ামী লীগ’র অনেক নেতাকর্মী ভাবতে বাধ্য হচ্ছেন যে, গত সাড়ে চার বছরের জনমানুষের ইচ্ছের প্রতিফলন অনুধাবন না করতে পারায় আওয়ামী লীগ জবাব পেতে শুরু করেছে।

সরকার এবং সরকারী দলের আস্থা যে তলানীতে গিয়ে ঠেকেছে তার প্রমান হচ্ছে, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী এবং কতিপয় মন্ত্রীর কথাবার্তায়। বিরোধী দলীয় নেত্রীর ভবিষ্যত জেলে যাবার আশঙ্কা বা আতঙ্কে ভুগতে থাকেন সরকারের প্রধানমন্ত্রী, তখন জনগণ তো ধরে নিতেই পারে যে, তিনি আসলে জনআতঙ্কে ভুগছেন নাকি বেশি ভুগছেন জেল আতঙ্কে। বার বার কেন তাকে বলতে হচ্ছে, তত্বাবধায়ক সরকার হলে নির্বাচন হবে না। জেলে যেতে হবে তাকে এবং খালেদা জিয়াকে। ক্ষমতার দাপটে এমপিমন্ত্রীরা তোয়াক্কা করেননি জনগণের। তাদের তো আতঙ্কিত হওয়ার কথা। আতঙ্কিত হওয়ার কথা দুর্নীতিবাজদের। সুতরাং তত্ত্বাবধায়ক সরকার কেন, অন্যায় করলে দলীয় সরকারের অধীনেও তো তাদের বিচারের মুখোমুখি হওয়ার কথা। অন্তিমে মূল বিষয় হয়ে দাঁড়ায়, জনগণই ৫ বছর পরে ভোটের ক্ষেত্রে আসল নিয়ামক হবে।

এজন্যই ক্ষমতায় থাকতে অনেক কিছুই টের পাওয়া যায় না, অনুভব করা যায় না জনগণের আবেগইচ্ছে এবং মতামত। কিন্তু আওয়ামী লীগ কি বুঝতে পারছে যে, তাদের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাাচন হলেও ক্ষমতায় ফিরে আসার সম্ভাবনা কতোটুকু? সিটি নির্বাচনে তারা কি শুধু জনগণের ভোট হারিয়েছে? মূলত: তারা হারিয়েছে জনগণের আস্থা এবং জনভিত্তি।

সন্দেহ নেই, ঈদের পরে রাজনীতি হয়ে উঠবে চরম সংঘাতময়। আগামী দিনগুলোতে বিরোধী দলের মোকাবেলায় ক্ষমতাসীনরা আরো বেশি অসহিষ্ণু হয়ে উঠবে তার আভাস ইতিমধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে। সে কারণে আগামী কয়েকমাস রাজনৈতিক অস্থিরতা জনগণকে হতাশার সাগরে নিমজ্জিত করতে পারে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আওয়ামী লীগ’র হাতে খুব বেশি ট্রাম্প কার্ড অবশিষ্ট নেই। চমকেরও তেমন কিছু নেই। ফলে এখন দেখার অপেক্ষা, অনিশ্চিত রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিক ধাবিত হয়।।