Home » বিশেষ নিবন্ধ » মেধাবিনাশী কোটা – দলীয় স্বার্থ আর দুর্নীতি-অনিয়ম

মেধাবিনাশী কোটা – দলীয় স্বার্থ আর দুর্নীতি-অনিয়ম

. আকবর আলি খানের মন্তব্যসহ আমীর খসরু’র প্রতিবেদন

student movementসরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা প্রত্যাহার এবং ৩৪তম বিসিএস পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে দেশজুড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের ন্যায্য, ন্যায়সঙ্গত এবং যৌক্তিক একটি আন্দোলন করলেও তা ক্ষমতাসীনদের পুলিশ আর তাদের পেটোয়াবাহিনী ছাত্রলীগের হাত থেকে রেহাই পায়নি। শুধুমাত্র যে তাদের উপরে আক্রমণ চালানো হয়েছে তাই নয়, শিক্ষার্থীদের একান্ত নিজস্ব দাবিতে, দলনিরপেক্ষ ও ন্যায়সঙ্গত প্রত্যাশা পূরণের আন্দোলনটি যাতে সামনে এগিয়ে যেতে না পারে সে লক্ষ্যে নানা কূটকৌশলের আশ্রয়ও নেয়া হচ্ছে। আন্দোলনে অংশগ্রহণের জন্য মামলা হয়েছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। দলনিরপেক্ষ সব মত পথের ঊর্ধে উঠে সাধারণ শিক্ষার্থীরা যখন নিজেদের জীবন, জীবিকার ভবিষ্যতসহ সার্বিক ভবিষ্যতের কথা চিন্তা ও ভাবনায় এনে বাধ্য হয়ে রাস্তায় নেমেছেন তখন বলা হচ্ছে, এই আন্দোলন যৌক্তিকতাহীন, এর পেছনে রাজনৈতিক ইন্ধনদাতা রয়েছে। অমুক জড়িত, তমুক সম্পৃক্ত। কিন্তু শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবিদাওয়াকে উপেক্ষা করা হচ্ছে, বলা হচ্ছে – ‘এরা স্বাধীনতা বিরোধী, দেশদ্রোহী।’ ভাবখানা এমন যে, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং মুক্তিযুদ্ধের সমস্ত চেতনার পাহারাদার হচ্ছে ক্ষমতাসীনরা এবং এর অঙ্গসংগঠন ছাত্রলীগ। অবশ্য তা হওয়ারই কথা। কারণ পাকিস্তান আমলে ১৯৬২ ছাত্র আন্দোলন থেকে শুরু করে ন্যায়সঙ্গত ও ন্যায্য কোনো আন্দোলন সংগ্রাম হলেই তখন বলা হতো, এর পেছনে কমিউনিস্টরা জড়িত, ইন্ধনদাতা অন্য কোনো শক্তি। কোটা পদ্ধতি নিয়েও এর ব্যতয় এই ধরনের শাসকদের কাছ থেকে পাওয়া যাবে, এমনটা আর কেউ আশা করে না।

কোটা পদ্ধতি বা ব্যবস্থা প্রবর্তন বা গ্রহণ করা হয় পিছিয়ে থাকা অনগ্রসরমান জনগোষ্ঠীকে সমান্তরালে নিয়ে আসার জন্য। কিন্তু সমান্তরালে আনার নামে পুরো ব্যবস্থাটাই এখন মেধাবিনাশী একটি দুষ্ট যন্ত্রে পরিণত হয়েছে। দেশের সংবিধানে পর্যন্ত সরকারি নিয়োগ লাভে সুযোগের সমতার কথা বলা হয়েছে। সংবিধানের মৌলিক অধিকার অর্থাৎ তৃতীয় ভাগের ২৯ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে – ‘() প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদলাভের ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা থাকিবে () কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারীপুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোন নাগরিক প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদলাভের অযোগ্য হইবেন না কিংবা সেই ক্ষেত্রে তাঁহার প্রতি বৈষম্য প্রদর্শন করা যাইবে না।’ তবে এক্ষেত্রে অনগ্রসর অংশ, ধর্মীয় বা উপসম্প্রদায়গত এবং নারী বা পুরুষের পক্ষে বিশেষ সংরক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণের অধিকার রাষ্ট্রকে দেয়া হয়েছে। সংবিধানের ৪০ অনুচ্ছেদে পেশা ও বৃত্তির স্বাধীনতা সম্পর্কে বলা হয়েছে। এতে বলা হয়, ‘আইনের দ্বারা আরোপিত বাধানিষেধসাপেক্ষে কোন পেশা বা বৃত্তি গ্রহণের কিংবা কারবার বা ব্যবসায়পরিচালনার জন্য আইনের দ্বারা কোন যোগ্যতা নির্ধারিত হইয়া থাকিলে অনুরূপ যোগ্যতাসম্পন্ন প্রত্যেক নাগরিকের যে কোন আইনসম্মত পেশা বা বৃত্তি গ্রহণের এবং যে কোন আইনসঙ্গত কারবার বা ব্যবসায় পরিচালনার অধিকার থাকিবে।’

এখানে অনগ্রসর, ধর্মীয় বা উপসম্প্রদায়গত কিংবা নারীপুরুষের বিশেষ অধিকার সংরক্ষণের নামে বা আইনের দ্বারা আরোপিত বাধানিষেধ সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণের নামে কোটা ব্যবস্থা চালুর মধ্যদিয়ে ভিন্ন কাজটি করে ফেলা হয়েছে। আসলকে বাদ দিয়ে তাদের উদ্দেশ্য সাধনের জন্য সংরক্ষণের ব্যবস্থাটি অন্য অনেকের জন্যই করা হয়েছে ।

১৮৫৩ সালে বৃটিশ সিভিল সার্ভিস চালু হওয়ার পরে তৎকালীন সমাজে অনগ্রসরমান মুসলমানদের জন্য ১৯২৫ সালে কোটা চালু হয়েছিল। ১৯৩৪ সালে সংখ্যালঘুদের জন্য কোটা চালু হয়। আর তা করা হয়েছিল যৌক্তিক কারণে, বাস্তবতার নিরিখে। পাকিস্তান শাসনামলেও অনগ্রসর পূর্ব পাকিস্তানের জন্য সামান্য কোটা ব্যবস্থা চালু হয়েছিল। তবে বৃটিশ এবং পাকিস্তান আমলের ওই কোটা ব্যবস্থা ছিল খুবই সীমিত। আর যোগ্যতার ভিত্তিতে, পরীক্ষা যাচাইবাছাই শেষে কোটা ব্যবস্থার বিধান প্রয়োগ করা হতো।

১৯৭২ সালে নির্বাহী আদেশ বলে কোটা ব্যবস্থা চালু হয় যেখানে মাত্র ২০ শতাংশ রাখা হয়েছিল মেধার ভিত্তিতে। বাকি ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য, ১০ শতাংশ নির্যাতিত বা ক্ষতিগ্রস্ত মহিলাদের জন্য এবং ৪০ শতাংশ নির্ধারিত হয়েছিল জেলা কোটায়। পরে ১৯৭৬ সাল এবং ১৯৮৫ সালে মেধা কোটা বাড়িয়ে ৪৫ শতাংশ করা হয়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে, আগে বিসিএস পরীক্ষায় কোটা পদ্ধতি থাকলেও তা বিবেচনা করা হতো প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে। সেখানেও বৈষম্য ছিল যেমন একজন ৭৫ থেকে ৮০ নম্বর পেয়েও অকৃতকার্য হয়েছেন, আবার এর অনেক নিচে নম্বর পেয়ে একজন হয়েছেন কৃতকার্য। এ নিয়ে বরাবর শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ছিল। কিন্তু এবার পাবলিক সার্ভিস কমিশন এই কোটা পদ্ধতি পুরোটা উল্টে দিয়েছে। তাহলে পরীক্ষা তো আগে থেকেই হয়ে গেছে? পরীক্ষার এই লোক দেখানো কাজটুকু তারা না করলেও পারতেন। ক্ষোভ আগেও ছিল, এখন এই ক্ষোভ আরো বেড়ে শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমে আসতে বাধ্য হয়েছেন।

এ কথা বারবার বিভিন্ন মহল থেকে বলতে শোনা যায়, প্রশাসন গোল্লায় গেছে, মান কমে গেছে, লেখাপড়া উঠে গেছে। মেধাশূন্য করে, মেধাবীদের বিতারণ করে দলীয়করণ, দুর্নীতি ও অন্যান্য সুযোগসুবিধার নামে সরকারি চাকরি দেয়ার যে পথ এবং পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে তাতে এটা অনিবার্য, ওটা হবেই, হতেই থাকবে। এ অবস্থা চললে দিনে দিনে অবস্থার আরো অবনতি হবে।

স্বাধীনতার পরে অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ কমিশন, এটিএম শামসুল হক কমিশনসহ যতোগুলো কমিশন ও কমিটি হয়েছে , তারা কোটা ব্যবস্থা তুলে দেয়ার পক্ষে সুপারিশ করেছেন বেশ জোরালো ভাষায়। কিন্তু কোনো সরকারই তা শোনেনি, কোনো ভ্রূক্ষেপও করেনি।

অনগ্রসর জনগোষ্ঠী বা পিছিয়ে পড়াদের জন্য কোটা ব্যবস্থা থাকতে পারে, কিন্তু তাও অনন্তকাল ধরে নয়। একটি নির্দিষ্ট সময় পর পর দেখতে হবে, যে জনগোষ্ঠী বা অংশের জন্য কোটা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল, তাদের আর সে সুযোগের প্রয়োজন আছে কিনা। কিন্তু এই ৪০ বছরে তা দেখা যায়নি। মনে হয় ব্যবস্থাটি স্থায়ী এবং অনঢ়। জেলা কোটার এখন আর প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না, নানা জটিলতার কারণে।

শুধুমাত্র আদিবাসী, প্রতিবন্ধী এবং গ্রামীণ এলাকার নারীদের জন্য কোটার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে হয়। এর বাইরে কোটা ব্যবস্থার প্রয়োজন নেই বলেই মনে হচ্ছে। কারণ পুরো সমাজটি যখন অনগ্রসর, পিছিয়ে পড়াসেখানে কোনো নির্দিষ্ট অংশকে উপরে টেনে তোলার নামে বিশেষ সুবিধা প্রদানে রাষ্ট্রীয় বৈষম্যে লুকিয়ে আছে। এক্ষেত্রে এর চাইতেও বেশি যে বিষয়টি কাজ করে তা হচ্ছে, দলীয়করণ এবং আর্থিকসহ নানা সুযোগ সুবিধা। এটা বন্ধ না হলে মেধাবীরা প্রশাসনে বা সরকারি চাকরিতে না এসে করপোরেটদের খপ্পরে পড়তে বাধ্য। রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যয়ে যাদের লেখাপড়া হয়েছে, তাদের রাষ্ট্রের স্বার্থেই নিয়োজিত থাকার কথা ছিল, তারা তাদের সেবা প্রদান করবেন করপোরেটদের এটা কোনোক্রমেই মেনে নেয়া যায় না।

কোটার একটি বড় অংশ চলে যায় মুক্তিযোদ্ধাদের কোটায়। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন আমাদের জাতির জন্য এক মহান অধ্যায়। মুক্তিযোদ্ধারা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে, দেশের টানে, একটি সমতাভিত্তিক, ন্যায়ানুগ সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য কোটার জন্য নয় নিশ্চয়ই, নয় সুযোগসুবিধার জন্য। যে কোনো মুক্তিযোদ্ধাকে যদি এই প্রশ্নটিই করা হয় তাহলে এমন জবাবই মিলবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তারপরেও জাতি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে তাদের কৃতিত্বকে সম্মান দেখানোর জন্য চাকরিতে তাদের জেষ্ঠ্যতা দিয়েছে, ১৯৭২ সাল থেকে প্রথমে তাদের এবং পরে তার সন্তানদের জন্য কোটা ব্যবস্থা চালু করেছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানেরা আলাদাভাবে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বা পিছিয়ে পড়ছেন, তা নয়। দেশের অধিকাংশ মানুষ যেখানে পিছিয়ে আছে এবং পিছিয়ে পড়ছেন, তারই সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানরাও পিছিয়ে পড়ছেন, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক কারণে। মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান হওয়ার কারণে তাদের চাকরি লাভে কোনো বাড়তি বাধা সৃষ্টি হচ্ছে বিষয়টি তেমন নয়। দরিদ্র কিংবা অস্বচ্ছল পরিবার যেমন পিছিয়ে পড়ছে, একই কারণে মুক্তিযোদ্ধারাও তেমনি পিছিয়ে পড়ছেন। কিন্তু কোনো মুক্তিযোদ্ধা যদি সচ্ছল এবং অর্থবিত্তশালী হন, তাহলে কি হবে?

বিভিন্ন সরকারের সময়ে বারবার মুক্তিযোদ্ধা তালিকা তৈরি এবং পরিবর্তন হওয়ার কারণে নানা জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। আবার অনেকে মুক্তিযুদ্ধ করেছেন কিন্তু কোনোদিন তালিকাভুক্ত হননি, সার্টিফিকেট নেননি। সে সময় অসংখ্য বামপন্থী তরুণসহ অনেকেই যুদ্ধ করেছেন। অথচ তাদের স্বাধীনতাত্তোর সরকার বৈধতা দেয়নি রাজনৈতিক কারণে। তাদের ক্ষেত্রে কি হবে? আসলে পুরো বিষয়টিই হচ্ছে, যখন যে সরকার ক্ষমতায় আসে তখন নিজ নিজ দলীয় স্বার্থে এই বিষয়টিকে ব্যবহার করে। এ বিষয়ে অনেকে অনেক কথা বলতে পারেন, কিন্তু এটাই হচ্ছে চরম বাস্তবতা। বিষয় যতো বাস্তবই হোক, এই প্রশ্নে কথা বলতে গেলেই বিশেষ তকমা জুড়ে দেয়া হয়। কিন্তু জাতির ভবিষ্যতের জন্য এ বিষয়গুলোর ভেবে দেখা জরুরি।।

. আকবর আলি খান

বিসিএসসহ পুরো সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয় সাবেক মন্ত্রি পরিষদ সচিব, কোটা ব্যবস্থা নিয়ে গঠিত বিশেষ কমিটির প্রধান এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খানের কাছে। আকবর আলি খান আমাদের বুধবারকে বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রফেসর মোজাফফর আহমদ থেকে শুরু করে সবশেষ গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এটিএম শামসুল হকসহ এখন পর্যন্ত যতোগুলো জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন করা হয়েছে, তারা সবাই কোটা ব্যবস্থা তুলে দেয়ার পক্ষে অভিমত ব্যক্ত করেছেন। পাবলিক সার্বিক কমিশনের অনুরোধে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আমি (আকবর আলি খান) এবং কাজী রকিবউদ্দিন আহমেদ একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছিলাম। সেই প্রতিবেদনে মূল বক্তব্য ছিল প্রথমত বাংলাদেশে যে কোটা ব্যবস্থা আছে, তা পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে জটিল কোটা ব্যবস্থা। বিশেষ করে দেখা গেছে, এদেশে আসলে ২৫৭ ধরনের কোটা চালু আছে এবং এটা প্রয়োগ করতে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতি এবং সমস্যা দেখা দিচ্ছে। আর এটা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। ২৫৭ ধরনের কোটা হচ্ছে যেমন ৬৪ জেলার ৬৪টি কোটা তাকে চার ভাগ করা হয়। অর্থাৎ এতে দাড়ায় ২৫৬ এবং মেধা কোটা একটি অর্থাৎ ২৫৭। সুতরাং এটা পরিবর্তন প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, আমরা দেখতে পেয়েছিলাম, যে উদ্দেশে কোটা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল তা আসলে ব্যহত হচ্ছে। ১৯৭২ সালে যখন ১৯টি জেলা ছিল তখন কোটা ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। এখন ৬৪টি জেলা, কাজেই চাকরির সংখ্যা যদি ৬৪টির কম হয় তখন বড় জেলাগুলো চাকরি পায়, ছোট জেলাগুলো পায় না। সুতরাং জেলা কোটায় বড় জেলা লাভবান হয়, ছোট জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমরা পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখেছি, ছোট জেলাগুলো থেকে ভালো ফলাফল করেও বাস্তবে চাকরি চলে যাচ্ছে বড় জেলার প্রার্থীর কাছে। এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে সুপারিশ করেছিলাম, এই ব্যবস্থার সংস্কার করা দরকার। জেলা কোটায় বড় ধরনের সংস্কারের প্রয়োজন আছে। ধরা যাক, নারী কোটা ভালো ভাবে কাজ করছে। কিন্তু এই কোটা আঞ্চলিক ভিত্তিতে না করে জাতীয় ভিত্তিতে করা উচিত। আর মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য যদি কোটা দিতে হয়, তাহলে তা শুধু দরিদ্র মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের জন্য দেয়া উচিত। আমরা স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী সুপারিশ করেছিলাম এবং আমাদের প্রতিবেদন পেশ করেছিলাম। কিন্তু তারপরে শেষ পর্যন্ত ওই সরকার কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।’

আকবর আলি খান বলেন, বিদ্যমান যে কোটা ব্যবস্থা এর মধ্যদিয়ে অনিয়মের সৃষ্টি হচ্ছে, দুর্নীতির সৃষ্টি হচ্ছে। রাজনীতি, দলীয়করণ থেকে বহু অনিয়মের সৃষ্টি হচ্ছে এর মধ্যদিয়ে। যতোগুলো সংস্কার কমিশন হয়েছে (আওয়ামী লীগের সময় দুটো এবং বিএনপি সরকারও কমিশন করেছে)। তারা বলেছে, কোটা পদ্ধতি সম্পূর্ণ তুলে দেয়া উচিত। আর একটি বিষয় লক্ষ্যণীয়, কোটা প্রবর্তনের পরে একটি নির্দিষ্ট সময়ান্তে পরীক্ষা করে দেখা উচিত আর কোটা ব্যবস্থার প্রয়োজন আছে কি নেই? এদেশে কোটার কোনো সময়সীমা নেই। এদেশে যা আছে তাতে মনে হচ্ছে, ‘চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত’ চলছে।।