Home » রাজনীতি » আগামী চার মাস খুব কঠিন সময়

আগামী চার মাস খুব কঠিন সময়

পীর হাবিবুর রহমান

political-situationচ্যালেঞ্জের পথ নিলেন দুই নেত্রী। অনিশ্চিত সামনের রাজনীতি। দুই নেত্রী বা দুই রাজনৈতিক শক্তির অংশগ্রহনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পর্দা উন্মোচন হচ্ছে কিনা সেদিকেই সবার দৃষ্টি। দেশের মানুষের। আন্তর্জাতিক মহলের। বিরোধী দলের নেত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া সরকারকে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের আলোচনায় বসার আহবান জানালেও সরকার তাতে সাড়াই দিচ্ছে না। সরকার অনঢ়তত্ত্বাবধায়ক নয়, নির্দলীয় অন্তর্বর্তীও নয়, তাদের অধীনেই বিগত দিনগুলোর মত অবাধ গ্রহনযোগ্য নির্বাচন হবে। বিরোধী দল বিএনপি ও তার শরীকরা সরকারের এই হুশিয়ারি মানতে নারাজ। ঈদের পর কঠোর আন্দোলনের পাল্টা ধমক তাদের।

প্রস্তুতিও নিচ্ছে বিরোধী দল। সরকারও জনসমর্থন নিজেদের অনুকূলে আনতে মাঠে নামবে। ইফতার রাজনীতিতে তৎপর এখন দেশের সকল দল। পর্দার অন্তরালে তাই বলে বসেনি রাজনীতির মারপ্যাচের যতসব খেলা। সেই পুরনো ফর্মূলা ঘুরছে পর্দার অন্তরালে। বিএনপিকে প্রয়োজনে বাইরে রেখে এরশাদের নেতৃত্বে হেফাজতে ইসলামসহ নানা গোষ্ঠী ও দলের সমন্বয়ে একটি শক্তিকে ভোটের লড়াইয়ে নামানোর। বিরোধী দল না এলে এরশাদের নেতৃত্বে তারাই বসবে বিরোধী দলের আসনে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে গ্রহনযোগ্য নির্বাচন হলেও সরকারি দলের তরী ডোবার আশঙ্কাই বেশি। তবুও বিএনপি দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহনের আস্থা পাচ্ছে না। বিশ্বাসও নেই। দুই পক্ষের এক পক্ষ সরকারে যেতে চায়, আরেক পক্ষ থাকতে চায়। মাঝখানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যু নিয়ে সামনের দিনগুলোতে নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক ময়দান সংঘাতময় হয়ে ওঠার আশঙ্কা এখনই দেখা দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনে এককালের বিএনপি নেত্রী অধ্যাপিকা জাহানারা বেগমদের বিএনএফ’র নামে নিবন্ধন ও গমের শীষ দিয়ে বিএনপিকে আতঙ্কগ্রস্থ করছে। রাজনীতিতে এ নিয়ে øায়ুচাপ সৃষ্টিসহ দাবার চাল চলছে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ক্ষমতায় থাকতে শাসকদের ভাবনা হয়ে ওঠে রঙিন। ক্ষমতার শিখরে বসে তার রনকৌশলগুলো হয়ে ওঠে নানা বর্ণের। কিন্তু, শেষ পর্যন্ত তাদের অঙ্কের যোগফল মেলে না। অতীত রাজনীতি মনস্ক মানুষদের সেই শিক্ষাই দেয়। কেউ কেউ বলছেন, বিএনপি আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায়ের সামর্থ্য রাখে না। বিএনপিকে বাদ দিয়েই সরকার একটি নির্বাচন সম্পন্ন করে ফেলবে তা প্রশ্নবিদ্ধ হলেও একইসঙ্গে দুইআড়াই বছর ক্ষমতায়ও থেকে যাবে। কিন্তু, অনেকের মতে ২০০৭ সালের বিএনপি’র একতরফা নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ দাবি আদায়ের আন্দোলন উত্তাল করতে না পারলেও সেই ভোট বন্ধ করে দেওয়ার মত পরিস্থিতি রাজপথে তৈরি করতে পেরেছিল। বিএনপি’র নেতাকর্মীদের আস্থা ও আত্মবিশ্বাস পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পর এখন অনেক উচুতে। অন্যদিকে সরকার সমর্থক রাজনৈতিক শক্তি হতাশ। এক্ষেত্রে ঈদের পর বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া মাঠে নামলে তাদের আন্দোলনে নতুন গতি ও পরিবতর্ন আসবে বলে নেতারা মনে করছেন। প্রশাসন ধীরে ধীরে শাসকদলের আজ্ঞাবহতা থেকে সরে যাচ্ছে। সুবিধাবাদীদের লুটেপুটে খাওয়া শেষ। জনমত এখন সরকার বিরোধী শিবিরের দিকে দুলছে। এই সময়ে মহাজোটের প্রধান শরিক জাপার এরশাদও অক্টোবরে মহাসমাবেশ করে মহাজোট ছাড়ার কথা ভাবছেন। ২৫ অক্টোবর সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। অনেকের মতে সেই মাহেন্দ্রক্ষন ঘনিয়ে আসার আগেই বিএনপি এক নতুন রুদ্র মূর্তি নিয়ে মাঠে নামবে। যেমন করে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর বিএনপিজামায়াত শাসনামলে সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের দিন সন্ধ্যা থেকেই আওয়ামী লীগ কর্মীরাও তেজস্বী চেহারায় মাঠে নেমেছিল। তাদের অগ্নিরোষে পতিত অনেক এলাকায় বিএনপি’র এমপিনেতারা দাড়াতে পারেননি, পালিয়েছেন। এবারও সেই অক্টোবর আসতে না আসতেই রাজনীতির দুই শিবিরে নেতাকর্মীরা যার যার অবস্থান থেকে নিজেদের শক্তিতে হাক ছাড়ছেন পরস্পরের দিকে। দুই নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যার যার যুক্তিতে বক্তব্য রেখে ‘পয়েন্ট অব নো রির্টানে’ চলে যাচ্ছেন। দুই শিবিরের নেতাদের বক্তৃতাও পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তুলছে। রমজানের পর আগষ্টে ওয়ার্মআপ, সেপ্টেম্বরে শুরু, অক্টোবরে রাজনীতিতে বিষ্ফোরনের পরিস্থিতি ঘটতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধী দলের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যার যার অবস্থান থেকে চ্যালেঞ্জের পথেই হাটছেন। সমঝোতার পথ নয়, সংলাপের পথ নয়, সংঘাতের পথে গড়াচ্ছে তাদের নেতৃত্বে বহমান দুই স্রোতের রাজনীতি। মানুষকে নির্ঘুম রাখা রাজনীতি সামনে। এক নেত্রী ফের ক্ষমতায় ফিরতে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার দিতে নারাজ। আরেক নেত্রী ক্ষমতায় ফিরতে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের বিকল্প দেখছেন না। উদ্ভুত পরিস্থিতি রাজনীতিকে কঠিন সংঘাতের দিকে টানছে। সেখানেই গুজব, গুঞ্জন ডালপালা মেলে গজিয়ে পড়ছে। দুই নেত্রীর সামনে সমঝোতা না সংঘাত, নির্বাচন না অন্য কিছু এই প্রশ্ন নিয়ে দাড়ালেও তারা নিজেরা যার যার অবস্থান থেকে একচুল নড়তে নারাজ। এক কঠিন চ্যালেঞ্জের পথে হাটছেন দুই নেত্রী। এই চ্যালেঞ্জ শুধু তাদের দাবি পূরনের চ্যালেঞ্জই নয়, এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানেরও।

একটি জাতি, একটি দেশ ও মানুষের তৃষ্ণার্ত হƒদয়ের আকুতি দুই নেত্রীর দিকে। এই মানুষেরা সবার অংশগ্রহনে ভোট চায়, গণতন্ত্র চায়, স্থিতিশীল রাজনীতি, জবাবদিহিমূলক সরকার, কার্যকর সংসদ ও উন্নয়ন চায়। সব চ্যালেঞ্জের মুখেই এখন দুই নেত্রী। প্রশ্ন সবারতারা কি পারবেন এত সব চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণ করে এগিয়ে যেতে? এত সব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে?