Home » আন্তর্জাতিক » করপোরেটের চাপে হায় ’৬০-এর দশক

করপোরেটের চাপে হায় ’৬০-এর দশক

পল স্ট্রিট

অনুবাদ: মোহাম্মদ হাসান শরীফ

60'Sঅতীতকে যে নিয়ন্ত্রণ করে, সে ভবিষ্যতকে নিয়ন্ত্রণ করে। যে বর্তমানকে নিয়ন্ত্রণ করে, সে আসলে অতীতকেও নিয়ন্ত্রণ করে: জর্জ অরওয়েল, ১৯৮৪

আমরা মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রএর প্রবাদপ্রতীম ‘আই হ্যাভ এ্য ড্রিম’ ভাষণের ৫০তম বার্ষিকীর খুব কাছাকাছি রয়েছি। কাছাকাছি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৬০এর দশকে সংঘটিত আরো কিছু যুগান্তকারী ঘটনার অর্ধশত বছর পূর্তি হবে। আলোড়ন সৃষ্টিকারী এসব ঘটনার মধ্যে রয়েছে ফ্রি স্পিচ মুভমেন্ট (১৯৬৪১৯৬৫), সেলমা (১৯৬৫), ওয়াটস (১৯৬৫), নিওয়ার্ক অ্যান্ড ডেট্রয়ট (১৯৬৭), সামার অব লাভ (১৯৬৭), মার্চ অন দ্য পেন্টাগন (২১ অক্টোবর, ১৯৬৭), টেট অফেনসিভ (জানুয়ারি, ১৯৬৭), ভিয়েতনাম সম্পর্কে সিবিএস সংবাদ সম্প্রচারকারী ওয়াল্টার ক্রনকাইটের ‘ব্লাডি স্টলমেন্ট’ মন্তব্য (ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৮), মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের হত্যাকাণ্ড (এপ্রিল, ১৯৬৮), ডেমোক্র্যাটিক পার্টির কনভেনশন এবং শিকাগো পুলিশ দাঙ্গা (আগস্ট, ১৯৬৮), পিপলস পার্কে ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর রোন্যাল্ড রিগ্যানের প্রোটোফ্যাস্টিস্ট হামলা (১৫ মে, ১৯৬৯), স্টোনওয়াল (জুন, ১৯৬৯), উডস্টক (১৫১৮ আগস্ট, ১৯৬৭), দ্য নভেম্বর (১৯৬৯), মবিলাইজেশন টু এন্ড দ্য ওয়ার ইন ভিয়েতনাম, ব্ল্যাক প্যান্থার নেতা ফ্রেড হ্যাম্পটনের প্রাণদণ্ড কার্যকর (৪ ডিসেম্বর, ১৯৬৯), প্রথম ধরনী দিবস (২২ এপ্রিল, ১৯৭০), কম্বোডিয়া ও কেণ্ট রাজ্যে হামলা (১৯৭০)

করপোরেট গণমাধ্যমের বাছাইকৃত স্মৃতিকথাপুষ্ট ’৬০এর দশক সম্পর্কিত সরকারি ভাষ্য নিয়ে নাড়াচাড়া কিছু সময়ের জন্য বিরত থাকুন। ওই সময়ে এবং তারপর থেকে মিডিয়া অব্যাহতভাবে যে আচরণ করে যাচ্ছে, তাতে করে বহুল আলোচিত দশকটির দুটি বিষয়ের কথা মন থেকে মুছে যাওয়ার কথা: () ’৬০এর দশকে আসলে কী ঘটেছিল; () ’৬০এর দশকের ঘটনাবলীর বিকৃতিসাধন এবং সেটাকে নিজের স্বার্থসিদ্ধিতে ব্যবহার করার জন্য মিডিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

ইউনিভার্সিটি অব ক্যানসাস প্রেস থেকে ২০১০ সালে প্রকাশিত অ্যাডওয়ার্ড পি মরগ্যানের হোয়াট রিয়েলি হ্যাপেন্ড টু দ্য ১৯৬০’জ: হাউ ম্যাস মিডিয়া কালচার ফেইলড ডেমোক্র্যাসি গ্রন্থটি এই দুটি বিষয়েই অমূল্য পরিমার্জনা করা হয়েছে। মরগ্যান আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছেন, ১৯৬০এর দশকের যুদ্ধ কোনো প্রজন্মগত বিবাদ ছিল না এবং এখনও তা সেটা নয়। অবশ্য মিডিয়ায় বলা হয়ে থাকে, ’৬০ দশকএর যুদ্ধটা ছিল বর্ণবাদ, দারিদ্র, যুদ্ধ, অর্থপূর্ণ শিক্ষা, ইঁদুর দৌড়, যৌনবাদ ও প্রতিবেশগত ধ্বংস সম্পর্কে।’

৬০এর আন্দোলন শুরু হয়েছিল ১৯৫০এর দশকে সূচিত দক্ষিণাঞ্চলীয় কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিক অধিকার সংগ্রামের রেশ ধরে। এই আন্দোলনে দারিদ্র, যুক্তরাষ্ট্রে ইন্দোচিন যুদ্ধ, করপোরেটসামরিক বিশ্ববিদ্যালয়, দূষণ, কায়েমি স্বার্থবাদিদের বিরুদ্ধে তৃণমূল পর্যায়ের সংগ্রামকে আত্মস্থ করে নিয়েছিল। মরগ্যানের বিশ্লেষণে আরো দেখে গেছে, ’৬০এর দশককে সত্যিকার অর্থে মহীয়ান করে তোলা এসব মহান সামাজিক আন্দোলনে দুটি মৌলিক উপাদান ছিল: ) আমেরিকান সমাজ ও এর প্রধান প্রধান প্রতিষ্ঠানকে গণতান্ত্রিকভাবে রূপান্তরিত করা যাবে বলে ব্যাপক অনুধাবন; এবং ২) জাতির এসব সমস্যার মূল কারণ এই সমাজেরই বিদ্যমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক শক্তি কাঠামোএই নিখুঁত অনুধাবন।

মরগ্যান দেখিয়েছেন, ১৯৬০এর দশকের ‘গণতান্ত্রিক চেতনা’ উদ্ভূত হয়েছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধপরবর্তী মার্কিন পুঁজিবাদের জয়োৎসবের মুক্তিকামী ও সাম্যবাদী প্রতিশ্রুতি এবং ওই ব্যবস্থার অধীনে বৈষম্য, অনাচার, নির্বান্ধব, প্রাণহীন, বিচ্ছিন্ন, খাপছাড়া এবং নিস্তরঙ্গ প্রকৃতির জীবনের মধ্যকার অন্তর্নিহিত সংঘাত থেকে। ‘উদার’ গণতান্ত্রিক প্রেসিডেন্টদের জাতির ঘোষিত কল্যাণকামিতা ও গণতান্ত্রিক উদ্দেশ্য সম্পর্কে ভণ্ডামিপূর্ণ বক্তব্যের পাশাপাশি ভিয়েতনামে (এবং লাওস ও কম্বোডিয়ায়) বর্ণবাদী, গণহত্যাপ্রবণ ও সাম্রাজ্যবাদী মার্কিন যুদ্ধও এই দাবানলে কম ইন্ধন দেয়নি।

৬০এর দশক এবং এর পর থেকে ওই দশকের বিদ্রোহে ইন্ধন সৃষ্টিকারী মৌলিক ব্যবস্থাগত ও ঐতিহাসিক শক্তি এবং এর গণআন্দোলনগুলোর সত্যিকারের গণতান্ত্রিক ও সাম্যবাদী প্রকৃতি প্রাধান্য বিস্তারকারী বিষয়ে মার্কিন মিডিয়া বিধিসম্মত সীমা অতিক্রম করেছে। ৬০এর আন্দোলনগুলো সৃষ্টির পেছনে চালিকা শক্তি হিসেবে যেসব সমস্যা কাজ করছিল যেমনপ্রাণহীন করপোরেট শাসন, সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ, ব্যাপক বিস্তৃত দারিদ্র, নিষ্পেষণকারী বর্ণবাদ, বিধ্বংসীমূলক সাংস্কৃতিক সমরূপকরণ, পরিব্যপ্ত যৌনবাদ, পরিবেশগত দূষণ ইত্যাদিওই মিডিয়ায় অরওয়েলের স্মৃতির কথা মনে করিয়ে দেয়। ওগুলোর ঠাঁই হয়েছে সম্মিলিত স্মৃতির নির্জন কোণে কিংবা ওইসব আন্দোলনে অংশ নেওয়া কোটি কোটি মানুষের গণতান্ত্রিক স্বপ্নে। যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম ৬০এর দশক প্রচার করতে গিয়ে আবেগগতভাবে জোরালো তবে উচ্চমাত্রায় কৃত্রিম, ভারিক্কি অবয়ব ফুটিয়ে তুলেছে এবং দশকটির আন্দোলন ও ক্ষোভকে ব্যক্তিত্বকেন্দ্রিক চিত্র হিসেবে তুলে ধরেছে, যাতে মনে হতে পারে এসব আসলে ক্রোধবিদ্রোহ থেকে সামান্য একটু বেশি কিছু এবং সরকারের বিরুদ্ধে ‘অসুস্থ’ তরুণের লড়াই বা এ জাতীয় কিছু।

এর পর থেকে ‘বজ্জাত ৬০এর দশক’ সম্পর্কে এ ধরনের কুৎসিত ও আরোপিত চিত্র ‘রক্ষণশীল’ (ডানপন্থী) সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক স্রোতকে পুষ্ট করছে, বৈষম্য সৃষ্টিকারী ‘নিউ গিল্ডেড এইজ’এর দিকে ধাবিত করতে করপোরেটনিওলিবারেল নীতির সাংস্কৃতিক চাকাকে মসৃণ করছে এবং পরিবেশগত ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। একই সময়ে এবং পরিপূরক পন্থায় মিডিয়া ৬০এর দশক নিয়ে নমনীয় ‘পরিতৃপ্তিবোধ’ ও নিজস্ব পছন্দের ধারণা প্রচার করছে। ‘শীতলতা অনুসন্ধানী’ করপোরেটবাণিজ্য দশকটির বিদ্রোহপ্রবণ সংবেদনশীলমূলক আবেগকে ভোগবাদী সংস্কৃতিতে রূপান্তরিত করেছে।

মরগ্যান দেখিয়েছেন, ’৬০এর দশক সম্পর্কে বহুমুখী ‘গণতান্ত্রিক উত্থান’ সম্পর্কিত করপোরেটঅরলিয়ানের এই বর্ণনা তথাকথিত (করপোরেটপ্রণীত) জনপ্রিয় বিনোদন সংস্কৃতি এবং সেইসঙ্গে সরকারি সংবাদ, সরকারি বিষয়াদি ও ভাষ্যে এ স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। দ্য কসবি শো, ফ্যামেলি টাইস (প্রেসিডেন্ট রিগ্যান যেটাকে ‘আমার প্রিয় টেলিভিশন শো’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন), দ্য ওন্ডার ইয়ার্স (১৯৮৮১৯৯৩) ও ধার্মা অ্যান্ড গ্রেগ (১৯৯৭২০০২) ইত্যাদি জনপ্রিয় টেলিভিশন পণ্যে এবং দ্য বিগ চিল (১৯৮৩), ১৯৬৯ (১৯৮৮), হ্যামবার্গার হিল (যেটিতে ভিয়েতনামে মার্কিন সৈন্যদের দুর্ভোগের জন্য যুদ্ধবিরোধী তরুণ ও নিবন্ধনকারীদের দায়ী করা হয়েছে), দ্য ডিয়ার হান্টার (যেখানে ভিয়েতনামে জঘন্য মার্কিন আগ্রাসনে ভিয়েতনামিদেরই প্রকৃত আগ্রাসী হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে) কামিং হোম, আনকমন ভ্যালর, র‌্যাম্বো: ফার্স্ট ব্লাড, পার্ট ২ এবং ব্লকবাস্টার ফরেস্ট গুম্প (১৯৯৪) ইত্যাদি সিনেমায় ব্যাপকভাবে এটা ব্যবহৃত হয়েছে। ফরেস্ট গুম্পের কয়েকটি ইপিসোডের আলোচনার মাধ্যমে মরগ্যান ’৬০এর দশক সম্পর্কে সরকারি মিডিয়ার বিবর্ণ ও স্তাবকতাপূর্ণ অবস্থান তুলে ধরেছেন। এতে দেখা যায়, ভিয়েতনামে সামরিক অভিযান শেষে দেশে ফিরে ফরেস্ট যুদ্ধবিরোধী সমাবেশে যোগ দেন। সেখানেই তিনি তার শৈশবের প্রেম জেনির সাক্ষাত পান। জেনির পরনে তখন হিপ্পি পোশাক। জেনির বয়ফ্রেন্ড এসডিএস নেতা, উচ্চকণ্ঠে স্লোগান দেওয়া ছাড়া যার আর কোনো যোগ্যতা নেই। তিনি আবার ফরেস্টকে ‘শিশু হত্যাকারী’ হিসেবে ডাকেন, জেনির মুখে আঘাত করেন। এতে ফরেস্টের মেজাজ বিগড়ে যায়, তিনি তাকে আক্রমণ করেন। আবার গণমাধ্যমে ’৬০এর দশক সম্পর্কে যেসব নেতিবাচক ধারণা প্রচার করা হয়েছিল, সেগুলোও দেখা যায় জেনির মধ্যে। পিতার অনাচারে বেড়ে ওঠা জেনি গড্ডালিকাপ্রবাহে ভেসে বেড়ান, মাদক ব্যবহার শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত তিনি এইডসসদৃশ রোগে মারা যান।

১৯৬০এর দশকের ‘গণতান্ত্রিক জাগরণ’এর মাত্রা ও গভীরতা নিয়ে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলতে পারেন। মার্কিন এস্টাবলিশমেন্টের অনেকে ওই সময়ে এবং ’৬০এর অব্যাহতি পর দৃশ্যপটে ছিলেন না। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ১৯৭১ সালের আগস্টে শীর্ষ করপোরেট অ্যটনি লুই পাওয়েল যুক্তরাষ্ট্রের চেম্বার অব কমার্সের পরিচালককে একটি দীর্ঘ ও গুরুত্বপূর্ণ স্মারক লিখেন। এর দুই মাস পর রিচার্ড নিক্সন তাকে সুপ্রিম কোর্টে নিয়োগ করেন। পাওয়েল তার স্মারকে জানিয়েছিলেন, ‘আমেরিকার অর্থনৈতিক ব্যবস্থার’ (পুঁজিবাদ) ওপর ‘ব্যাপকভিত্তিক’ আক্রমণ কেবল চরমপন্থীদের কাছ থেকে আসেনি, বরং ‘সমাজের অত্যন্ত শ্রদ্ধাভাজন অংশ থেকেও এসেছে’। তার ভাষায় এই শ্রদ্ধাভাজন অংশের মধ্যে ছিল কলেজ ক্যাম্পাস, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, মিডিয়া, বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাহিত্য জার্নাল, আর্টস ও সায়েন্সে, এবং রাজনীতিবিদেরা। তিনি রালফ নাদের ও হাবার্ট মারকাসের মতো ব্যক্তিত্বদের বিপজ্জনক ব্যবসাবিরোধী বিদ্রোহের মোকাবিলায় ব্যাপকভিত্তিক পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, পুঁজিবাদের উচিত বিশ্ববিদ্যালয়, প্রকাশনা শিল্প, গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু করা। মরগ্যানের মতে, পলওয়েলের এই আবেদনে ব্যাপক সাড়া পড়েছিল এবং পরবর্তী দশকগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রে পুঁজিবাদের পক্ষে জনমত গড়ে উঠেছিল।

দুই বছর পর ফরেন রিলেশন্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান, চেজ ম্যানহাটন ব্যাংকের প্রধান ডেভিড রকফেলার তার ভাষায় ‘বৃহত্তর আন্তর্জাতিক’ ব্যবস্থা অক্ষুণ্ন রাখার জন্য ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও জাপানের শীর্ষ ব্যবসায়িক ও সরকারি ব্যক্তিত্বদের একটি বৈঠকে আহ্বান করেন। ট্রাইলেটারেল কমিশন নামের ওই এলিটদের সমাবেশ থেকে সমীক্ষার নামে বলা হলো, ১৯৬০এর দশকের আন্দোলনের ফলে ‘গণতন্ত্রের সঙ্কট’ সৃষ্টি হয়েছে। এর মাধ্যমে তারা বলতে চাইলেন, তারা যাকে নির্বাচনকেন্দ্রিক গণতন্ত্র বলেন সেখানে এবং বিশ্বব্যাপী মার্কিন আধিপত্যে বিপদের সৃষ্টি হয়েছে। ওই সমীক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রবিষয়ক অংশে হার্ভাডের রাজনীতি বিজ্ঞানী স্যামুয়েল পি হান্টিংটন উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছিলেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সৃষ্টি হয়েছিল কৃষ্ণাঙ্গ, ভারতীয়, চিক্যানো, শ্বেতাঙ্গ গোষ্ঠীগত গ্রুপ, ছাত্র ও নারীদের মতো জড়ো ও অসংগঠিত গ্রুপগুলোর মাধ্যমে। তার মতে, এসব গ্রুপ সুযোগ, অবস্থান, পুরস্কার ও সুবিধা আদায়ের জন্য জোট বেধেছে। সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক জীবনে এসব গ্রুপের সাম্য প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম হান্টিংটনের কাছে বিপজ্জনক ও অকার্যকর বিবেচিত হয়েছে। কারণ তার মতে এসব আন্দোলন সরকারি সম্পদরাজি ‘প্রতিরক্ষা’ (সামরিকশিল্প কমপ্লেক্স) থেকে শিক্ষা জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তার মতো ‘কল্যাণমুখী’ খাতে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হচ্ছে।

১৯৬০এর দশকের বহুমুখী গণতান্ত্রিক ও সাম্যবাদী গণজাগরণে সত্যিকার অর্থে কী ঘটেছিল? ওই দশকের মহান আন্দোলনগুলোর ব্যাপারে স্থানীয় পর্যায়ে, রাষ্ট্রীয়ভাবে, কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে নানাভাবে হস্তক্ষেপ, অনুপ্রবেশ করা হয়েছিল। এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। এসব হস্তক্ষেপের ফলে আন্দোলনগুলো টিকে থাকতে পারেনি। আর তার পর থেকে গণমাধ্যম রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক কারণে ’৬০এর দশক সম্পর্কে নানা বিকৃতি সাধনে মত্ত হয়েছে। গণতান্ত্রিক ও মানবাধিকারের দিক থেকে যার পরিণাম ছিল ভয়াবহ।

তবে এখন সম্ভবত ’৬০এর দশক নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। ওই দশকটি সম্ভবত এখন আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। পুঁজিবাদ ও গণতন্ত্রের ওই সংগ্রাম মানুষ এবং অন্যান্য সংবেদী সত্তার জন্য জীবনমরণের বিষয়ে পরিণত হয়েছে।।

(লেখাটি অ্যাডওয়ার্ড পি মরগ্যানের হোয়াট রিয়েলি হ্যাপেন্ড টু দ্য ১৯৬০’জ: হাউ ম্যাস মিডিয়া কালচার ফেইলড ডেমোক্র্যাসি গ্রন্থের পর্যালোচনা থেকে নেওয়া। বইটি ২০১০ সালে প্রকাশ করেছে ইউনিভার্সিটি অব ক্যানসাস প্রেস।)