Home » রাজনীতি » জয় রাজনীতিতে এসেছেন না আসছেন?

জয় রাজনীতিতে এসেছেন না আসছেন?

পীর হাবিবুর রহমান

joyশেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার নিয়ে তার পুত্র সজিব ওয়াজেদ জয় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে এসে গেছেন না আসবেন এই প্রশ্ন ফের দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন থেকেই প্রশ্নটি দলের ভেতরেবাইরে অমিমাংসিত। হার্ভাড পড়ুয়া বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র, বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী মরহুম ড. এম ওয়াজেদ মিয়া ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজিব ওয়াজেদ জয় এবার যুবলীগের ইফতার মাহফিলে ‘আমার কাছে তথ্য আছে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসবে’ এমন মন্তব্য করে বিরোধী দলের সমালোচনার মুখে পড়েছেন। অনেকে বলছেন, সজিব ওয়াজেদ বাংলায় বলতে গিয়ে সংক্ষেপে এইভাবে তার কথাটি বলেছেন। আওয়ামী লীগ বলছে, জয় বলতে চেয়েছিলেন বিভিন্ন জরিপ ও তথ্যউপাত্ত সংগ্রহের প্রেক্ষিতে তার কাছে তথ্য আছে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসবে। এই বক্তব্যের পরে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানোর এক পর্যায়ে জয়ের মা এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার পুত্রের স্বপক্ষে সরাসরি অবস্থান গ্রহণ করলেন। এই সময়ের রাজনীতিতে জয়ের মন্তব্য নিয়ে বিএনপি যতোই প্রশ্ন তুলুক তার চেয়ে বড় প্রশ্ন দেশবাসির সামনে রয়ে গেছে জয় রাজনীতিতে আসবেন কিনা। বিগত জাতীয় নির্বাচনের আগেও এই প্রশ্ন বড় হয়ে দেখা দিয়েছিল। রংপুরে জনসভায় বক্তৃতা করলেও সজিব ওয়াজেদ জয় দলের খাতায় বা আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে আনুষ্ঠানিক অভিষেক ঘটাননি। তবে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বা দলের নীতি নির্ধারকদের সঙ্গে তার সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য রয়েছে। রাজনীতিতে আসা, না আসার ব্যাপারটি যতোই না কৌতুহলের তারচেয়ে বড় সত্য হচ্ছে তিনি তার মা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সহযোগি হয়ে কাজ করছেন নেপথ্যে। এমনকি বিগত জাতীয় নির্বাচনের আগে দিন বদলের সনদ বা ডিজিটাল বাংলাদেশের যে স্লোগান আওয়ামী লীগ তুলেছিল সেখানে তথ্য প্রযুক্তিখাতের উন্নয়নসহ নানা পরিকল্পনা সজিব ওয়াজেদ জয় দিয়েছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসি ক্রিস্টিনা ওভারমায়ের কে বিয়ে করে দেশে ফেরার পরও দলের নেতাকর্মীরা তাকে উষ্ণ অভিবাদন জানিয়েছিলেন। যখনই দেশে আসেন, দলের তরুন নেতারা তার সঙ্গে বসেন। এই রমজানে যুবলীগের ইফতার মাহফিল ছাড়াও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তিনি আরেকটি ইফতার করছেন। অটিস্টিক শিশুদের কল্যানে তার বোন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল দীর্ঘদিন থেকে কাজ করছেন। ঢাকায় আন্তর্জাতিক সম্মেলন করে ভারতের গণতন্ত্রের নেত্রী সোনিয়া গান্ধীকেও এনেছিলেন। জয়ের আনুষ্ঠানিক অভিষেক না ঘটায় অনেকের মধ্যে আলোচনা রয়েছে যে, শেষ পর্যন্ত হয়ত পুতুলই তার মায়ের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারিত্ব গ্রহন করবেন। আবার দলীয় নেতাদের সঙ্গে বিশেষ করে ওয়ানইলেভেনে শেখ হাসিনা যখন কারাগার ও তখন লন্ডনে বসে নেপথ্যে হাল ধরা ছোট বোন শেখ রেহানাও রাজনীতিতে আসবেন এই গুঞ্জন দীর্ঘদিন থেকে চললেও এখনো ফুরিয়ে যায়নি।

এই উপমহাদেশে উত্তরাধিকারের রাজনীতি মানুষের মধ্যে একদিকে গ্রহনযোগ্য হয়েছে, অন্যদিকে মানুষ বাধ্য হয়েছেন এটা মেনে নিতে। আর এ কারণে উত্তরাধিকারের রাজনীতি রীতিমত রীতিতে পরিণত হয়েছে। পাকিস্তানে পিপলস পার্টির নেতৃত্বে এসেছেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টো কন্যা বেনজির ভুট্টোর উত্তরাধিকার নিয়ে পুত্র বিলওয়াল। ভারতের গণতন্ত্রের ভিত্তি মজবুত থাকার কারণে অথবা কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী ইতালীয় বংশোদ্ভূত হওয়ার কারণে তার পুত্র রাহুল গান্ধীকে দীর্ঘপথ হেটে রাজনীতিতে আসতে হচ্ছে। কংগ্রেসের অন্যতম সাধারন সম্পাদক হয়ে গোটা ভারতবর্ষ চষে বেড়িয়ে উঠে আসছেন। তবে রাহুলই যে গান্ধী পরিবারের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার তা নিশ্চিত হয়ে গেছে।

বাংলাদেশে বিএনপি’র রাজনীতিতে বিএনপিজামায়াত শাসনামলেই তারেক রহমানের অভিষেক ঘটে গেছে। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার উত্তরাধিকার নিয়ে বিএনপিতে তারেক রহমানের অবস্থান। লন্ডনে নির্বাসিত থাকা অবস্থায় ওয়ানইলেভেন উত্তর দলের কাউন্সিলে তাকে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত করে ওই কাউন্সিলকে কার্যত তার অভিষেক অনুষ্ঠানে পরিনত করা হয়। অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক তখন প্রশ্ন উত্থাপন করেছিলেন, এটা কি কাউন্সিল না তারেকের অভিষেক। ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে হাওয়া ভবনে বসে নির্বাচন পরিচালনা করেছিলেন। বিএনপি শাসনামল তাকে ব্যাপক বিতর্কের কাঠগড়ায় দাড় করায়। সেনাসমর্থিত ওয়ানইলেভেন তার উপর নির্যাতন চালানো হয়। সম্প্রতি দীর্ঘ নিরবতার পর লন্ডনে দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে সভাসমাবেশ করছেন এবং রাজনৈতিক বক্তৃতা দিচ্ছেন। তারেককে নিয়ে এখানে শাসক দল বিতর্কের ঝড় তুলছে নতুন করে।

মহাজোটের প্রধান শরিক জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ একবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বলেছিলেন, খারাপ হোক, ভালো হোক বিএনপি তার ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব চুড়ান্ত করে ফেলেছে। আপনি করছেন না কেন? হাসতে হাসতে এরশাদ জানতে চেয়েছিলেন নাকি আমাদের রংপুরের ‘ছাওয়াল’ বলে করছেন না। শেখ হাসিনা জবাব দিয়েছিলেন তিনি সন্তানদের উপর কোন সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে চান না। রেহানাকন্যা টিউলিপ সিদ্দিকী লন্ডনে ইংলিশ অধ্যুষিত এলাকায় লেবার দলের কাউন্সিলর হয়েছেন। নিজের যোগ্যতা, মেধা ও জনপ্রিয়তায় লেবার দলের মনোনিত সামনের এমপি প্রার্থী। বিলেতের মূলধারার রাজনীতিতে টিউলিপ হেটে যাচ্ছেন। প্রশ্ন এখন দেশের রাজনীতিতে উপমহাদেশের প্রাচীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগে শেখ হাসিনার উত্তরাধিকার নিয়ে কে আসছেন? সজিব ওয়াজেদ জয় এসে গেছেন না আসছেন?