Home » মতামত » নির্বাচনী আইন সংশোধন কার স্বার্থে?

নির্বাচনী আইন সংশোধন কার স্বার্থে?

আস্থার সঙ্কটে কমিশন

এম সাখাওয়াত হোসেন

election commissionনির্বাচন সময়কালে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও নেতারা দেশব্যাপী নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন, বিদ্রোহী প্রার্থী থাকবে না এবং প্রার্থিতা বাতিল করা ও একক প্রার্থীকে জয়ী ঘোষণার লক্ষ্যে নির্বাচনী আচরণবিধি ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও)-এ পরিবর্তন আনার যে উদ্যোগ নির্বাচন কমিশন নিয়েছে, তাতে এই প্রতিষ্ঠানটি বিতর্কিত হয়ে পড়েছে। এরই প্রেক্ষাপটে সাবেক এই নির্বাচন কমিশনারের বিশ্লেষণ।

সংবিধানে যেভাবে আছে, তার ভিত্তিতে নির্বাচন করতে গেলে জাতীয় সংসদ ও মন্ত্রিসভা বহাল রেখেই নির্বাচন করতে হবে। আর নির্বাচন কমিশনও সংবিধান এবং আইনের বাইরে যেতে পারে না। অবশ্য নির্বাচন কমিশনের বিষয়টি টেকনিক্যাল। তবে নৈতিক বিষয় হলো, সংবিধানের ১৫তম সংশোধনীর পরে যেভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা তা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক আছে, রয়েছে মতদ্বৈততা। এটি একটি অমীমাংসিত বিষয়। এই অবস্থায় কি পরিস্থিতিতে, কিভাবে নির্বাচন হবে তাও কেউ বলতে পারছেন না। যদি একতরফা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তবে নির্বাচন কমিশন নৈতিকভাবে তা অনুষ্ঠান করবেন, না আদৌ নির্বাচন করবেন না এটা সম্পূর্ণভাবে তাদের সিদ্ধান্তের ওপরেই। এই সমস্যা মোকাবেলা করতে হচ্ছে নির্বাচন কমিশনকে। কিন্তুসংবিধান সংশোধনীর পরে নির্বাচন কমিশনকে যদি নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে হয়, তাহলে বর্তমানে যে আরপিও বা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ এবং নির্বাচনী আচরণবিধি আছে তাও পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে।

সে পরিবর্তন আনতে গিয়ে, আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে যা দেখতে পাচ্ছি, তাতে মনে হয়েছে এটা সম্পূর্ণভাবে একপেশে হয়ে যাচ্ছে। যদি ধরেও নেয়া যায়, সব দল নির্বাচনে অংশ নেবে তাহলেও সবার জন্য সমান সুযোগ প্রাপ্তি বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ হচ্ছে না। নির্বাচন কমিশন যদি তেমন একটা ধারণার বশবর্তী হয়ে ওই উদ্যোগ নিয়ে থাকে তবে সে উদ্যোগের কিছু কিছু ধারা পরিবর্তন, সংশোধনের বিষয়টিকে একপেশে মনে হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। আরপিও এবং আচরণবিধি পরিবর্তনের যেসব ধারা পরিবর্তন বা সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে সে সম্পর্কে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, তিনি এ সম্পর্কে কিছুই জানেন না। আবার অন্যদিকে সাংবাদিকরা দাবি করেছেন, তাদের হাতে এর খসড়া কপি রয়েছে। তবে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে, এ ধরণের ব্যবস্থা যখন নেয়া হয়, তা কমিশনের নির্দেশ ছাড়া এর সচিবালয় হাতে নেয় না। কি কি পরিবর্তন, কোথায় কি পরিবর্তন হবে তার ধারণাগত একটা ইঙ্গিত দেয়া হয়ে থাকে। কি করতে হবে তার একটা আউটলাইন দেয়া ছাড়া এটা করা সম্ভব নয়। কাজেই কি কি করতে হবে তার একটা কাঠামোগত নির্দেশনা কমিশন সচিবালয়কে দেয়া হয়েছে নিশ্চয়ই। এটা হচ্ছে আচরণবিধির বিষয়। আচরণবিধিতে যা যা করা হচ্ছে, তাতে অনেক প্রশ্ন থেকে যায়। যেমন দলীয় প্রধান যদি প্রধানমন্ত্রী হন, সেক্ষেত্রে তার নিরাপত্তা ও অন্যান্য সুযোগসুবিধা, প্রটোকল এবং কি যানবাহন ব্যবহার তিনি করবেন, হেলিকপ্টার ব্যবহার করতে পারবেন কি পারবেন না এর কোনো বিশদ ব্যাখ্যা কিন্তু আচরণবিধির পরিবর্তনের ব্যাখ্যায় বলা হয়নি। যে পরিবর্তনের কথা বলা হচ্ছে, অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী ২০ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা নেতা নিয়ে দেশব্যাপী প্রচারপ্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন বা নিয়ে যাবেন, শুধুমাত্র এটুকু বললেই হবে না। তিনি কোন ২০ জনকে নিয়ে যাবেন? নির্বাচন কমিশনকে চিন্তা করতে হবে, দলীয় প্রধান যদি প্রধানমন্ত্রী হন তিনি কাদের নিয়ে যাবেন? এ তালিকায় মন্ত্রিরাও থাকবেন। মন্ত্রীরা যদি প্রার্থী হন? একদিকে বলা হচ্ছে, মন্ত্রীরা নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় যেতে পারবেন, অন্য এলাকায় যেতে পারবেন না। আবার ২০ জনকে প্রধানমন্ত্রী তার সঙ্গে নিচ্ছেন। তাহলে প্রধানমন্ত্রী একটা বিরাট সফরসঙ্গী দল নিয়ে প্রচারণা চালাবেন। এর খরচ কে বহন করবে? এরও কোনো উল্লেখ বা ব্যাখ্যা ওই আচরণবিধি দেয়া নেই। এটা যদি হয়েই থাকে তাহলে সব দলীয় প্রধানকে কি একই সুযোগসুবিধা নির্বাচন কমিশন দিতে পারবে, না পারবে না? কাজেই যে সংশোধনী আনা হচ্ছে, তাতে কিন্তু একটা বিশাল বৈষম্য সৃষ্টি হবে। আর স্বভাবতই জনমনে প্রশ্ন উঠবে, এই সংশোধনী কেন এবং কার উদ্দেশে? নির্বাচন কমিশন যে কাজটি করছে তাতে সুবিধা ও সুযোগের বৈষম্য সৃষ্টির পাশাপাশি সবার জন্য সমান সুযোগ ও ব্যবস্থা বা সমান্তরাল পরিস্থিতি আর থাকছে না। যা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য।

বিশ্বের অন্যান্য দেশে নির্বাচনকালীন অর্ন্তবর্তী সরকার প্রধানকে কিছু বাড়তি নিরাপত্তা ও সুযোগ দেয়া হয়। কিন্তু সেখানে অনেকগুলো বিধিনিষেধ আরোপিত থাকে। তিনি প্রার্থী হলে কিভাবে প্রচারণা চালাবেন সে বিষয়টিও স্পষ্টভাবে বলা হয়ে থাকে। আর ওই ধরণের বাড়তি নিরাপত্তা ও সুযোগ অন্যান্য দল, বিশেষ করে পার্লামেন্টের প্রধান বিরোধী দলটিকেও দিতে হয়।

আরপিও সংশোধন: আরপিওর সংশোধনীর ক্ষেত্রে একটি প্রশ্ন উঠে আসছে বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে। বিদ্রোহী প্রার্থীর সংজ্ঞা কি, কে দিয়েছে এর ব্যাখ্যাবিশ্লেষণ? কেনই বা নির্বাচন কমিশন বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে কথা বলতে গেল? কে বিদ্রোহী প্রার্থী বা বিদ্রোহী প্রার্থী নয়, এটা তো নির্বাচন কমিশনের দেখার বিষয় নয়। সংলাপে গিয়ে ক্ষমতাসীন দল বিদ্রোহী প্রার্থী যাতে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে না পারে, তা নির্বাচন কমিশনকে নিশ্চিত করার জন্য বলা হয়। সেই সুরে কথা বলা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। বর্তমানে আরপিওতে যে বিধান রয়েছে তা না বুঝেই তারা কথা বলছেন, না নতুন কোনো দফা সংযোজিত হয়েছে, সাধারণভাবে তা জানা যাচ্ছে না। আগের আরপিওতে যা ছিল তা হচ্ছে যখন কোনো প্রার্থীকে কোনো দলের পক্ষ থেকে মনোনয়ন দেয়া হবে তখনই দলই একের অধিক প্রার্থীকে দিয়ে থাকে। কারণ বাছাই যখন হয়, তখন যদি একজন বা দুইজন বাদ পড়েও যায়, তাহলে অন্তত একজন প্রার্থী যেন টিকে থাকেএটাই হচ্ছে আসল উদ্দেশ্য। কাজেই বাছাইতে যদি একের অধিক প্রার্থী টিকে যায়, তাহলে প্রশ্ন আসে প্রতীক বরাদ্দের। কিন্তু প্রতীক তো রাজনৈতিক দল একজনকেই দিতে পারে। দল যখন একজনকে প্রতীক দিয়ে দেয়, তখন স্বাভাবিক কারণেই অন্য যিনি বা যারা আছেন তারা কিন্তু অটোমেটিক নির্বাচন করতে পারবেন না। কাজেই বিদ্রোহী বলে কোনো কথা তো আসছে না। নির্বাচন কমিশন অন্য কোনো বিষয় তাহলে চিন্তা করছে কিনা? তবে আমার মনে হয়, এ ধরণের কথা অনভিজ্ঞতার ফসল এবং কোনো সুচিন্তিত মন্তব্য নয়।

সবচেয়ে ভয়ঙ্কর: আরেকটি বিষয় যা নির্বাচন কমিশন পরিবর্তন করতে চাচ্ছে, তা রীতিমতো ভয়ঙ্কর। এ নিয়ে ভবিষ্যতে অন্য রাজনৈতিক দলগুলো লঙ্কাকাণ্ড বাঁধাতে পারে। আরপিওর ৯১ () অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা আছে যে, তারা কোনো প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করতে পারে যদি মনে হয় ওই প্রার্থী এমন কোনো আচরণ করেছেন যা আরপিও’র পরিপন্থী এবং নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির প্রচেষ্টাকারী। আগেও এটা পরিবর্তনে চেষ্টা করা হয়েছিল কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলো এতে রাজি হয়নি। কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়কালে নির্বাচন কমিশন আইনটি সংশোধনের চেষ্টাকালে বিএনপি তাতে বাধা দিয়ে জানায় যে, আইনটির অপপ্রয়োগ হতে পারে। পুরো ধারাটি হচ্ছে, ‘নির্বাচনের কোনো পর্যায়ে যদি প্রার্থী এমন আচরণ করেন, যা নির্বাচনী আইনের পরিপন্থী এবং তাকে প্রার্থী হিসেবে রাখা যায় না। সেক্ষেত্রে একটি তদন্ত কমিটি হবে, সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর বক্তব্য নেয়া হবে, শুনানি হবে। এরপরে নির্বাচন কমিশন যদি মনে করে তবে তার প্রার্থীতা বাতিল করা হবে।’ এরপরে কথা উঠলো, যদি দু’জন প্রার্থীর মধ্যেই নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় এবং একজনের প্রার্থীতা বাতিল হয়ে যায়, তাহলে বিগত নির্বাচন কমিশন আইন করেছিল অন্যজনকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে। কিন্তু এতে তখন আপত্তি উঠলো। কারণ এতে অপপ্রয়োগের সম্ভাবনা আছে এবং নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশ্যকে ভিন্ন ভাবে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করা হবে। পরে ওই নির্বাচন কমিশনই আইনটি সংশোধন করে এবং সংশোধিত আইনে বলা হয়, যদি প্রার্থী একজন হন, সেক্ষেত্রে ওই নির্বাচনী আসনে পুনঃতফসিল ঘোষণা করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট দল আরেকজন প্রার্থী দেবে। এই আইনটিই বর্তমানে বহাল আছে।

এখন বর্তমান নির্বাচন কমিশন চেষ্টা করছে, প্রার্থী একজন থাকলে সে একজনকেই নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে। এর নিহিতার্থ হচ্ছে, এই আইনটির অপপ্রয়োগ হতে পারে। যদি দুটো দলের দুজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, এক্ষেত্রে কমিশন একটি দলকে ফেভার বা পক্ষপাত করতে চায়, তাহলে পদ্ধতির মধ্যদিয়েই একদলের প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করে অন্যদলের প্রার্থীকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে। কিন্তু বিদ্যমান আইনে এর সুযোগ না থাকলেও বর্তমান নির্বাচন কমিশন আইনটি সংশোধন করতে চাচ্ছে। এটা নিয়ে জনমনে সন্দেহ, সংশয়ের উদ্রেক হচ্ছে এ কারণে যে, কি কারণে বর্তমান নির্বাচন কমিশন এটা করতে চাচ্ছে? আইন মন্ত্রণালয়ও কিন্তু এই আইনের খসড়া ফেরত পাঠিয়ে বলেছে, না এটি করা যাবে না। কিন্তু নির্বাচন কমিশন আবার সেটি পাঠাচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন এই যে কর্মকাণ্ড করছে এবং সংবাদপত্রেও এর খবরাখবর প্রকাশিত হচ্ছে, তারা তড়িঘড়ি করে আইন পরিবর্তন করতে চাচ্ছে। মনে রাখতে হবে, এগুলো কিন্তু মৌলিক পরিবর্তন। অতীতে এসব পরিবর্তনের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করা হয়েছিল। এখন এসব আইন পরিবর্তন নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। সন্দেহ দেখা দিচ্ছে। কারণ কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি। নির্বাচন কমিশন বলেও দিয়েছে, তারা আলোচনা করবে না। জনগণ জানে না, নির্বাচন কমিশন আসলে কি করছে? পুরো বিষয়টি একগুয়েমি মনোভাব। যেখানে রাজনৈতিক উত্তপ্ত পরিস্থিতি রয়েছে নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে, সেখানে নির্বাচন কমিশন যদি এমন পথপদ্ধতি ও একলা চলো নীতি গ্রহণ করে, তাহলে সবদলের আশাআকাঙ্খা এবং অংশগ্রহণ তারা কিভাবে আশা করছে?

এক্ষেত্রে আরেকটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন। গেল সপ্তাহে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ডিসিদের সম্মেলনে বলেছেন, ‘আগামী সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে না। আপনারা সেনাবাহিনী ছাড়া নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন।’ এটি তো মন্ত্রীর বক্তব্য হওয়া উচিত নয়। এটি নির্বাচন কমিশনের একান্ত নিজস্ব সিদ্ধান্তের ব্যাপার। কারণ নির্বাচনকালীন সময় অতিরিক্ত ফোর্স লাগবে কি লাগবে বা লাগলে না, অতিরিক্ত ফোর্স কোথা থেকে আসবে তার সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশন যে কর্মকাণ্ড করছে, সে কারণে তারা বিতর্কের মধ্যে পড়ে গেছে।

কাজেই এসব পরিবর্তনের জন্য সব রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত। পাঁচটি সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরেও নির্বাচন কমিশনের ওপরে যে আস্থার সঙ্কট রয়ে গেছে এবং দেখা দিয়েছে, এটি হয়েছে তাদের একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের কারণে। এতে নির্বাচন কমিশনের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়ে যাবে। আর একবার নষ্ট হলে যেকোনো ধরণের নির্বাচন অনুষ্ঠান করা হোক না কেন, তার বিশ্বাসযোগ্যতা কমে যেতে বাধ্য। বিশ্বাসযোগ্যতার বিষয়টি তখনই জোরালো হয়, যখন কর্মকাণ্ডগুলো সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো এবং জনগণ অবহিত থাকে, সামগ্রিক বিষয়টিতে থাকে স্বচ্ছতা। কারণ নির্বাচনের সঙ্গে রাজনৈতিক দল, ভোটার, জনগণ সবাই সম্পৃক্ত। কাজেই এখানে স্বচ্ছতার অভাব থাকা, কাউকে কিছু না জানানো কিংবা একক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সন্দেহ তো দেখা দেবেই। কিন্তু দুঃখের বিষয়, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের যে স্বাধীনতাটুকু রয়েছে তা তারা প্রয়োগ করছেন না বা প্রয়োগ করতে পারছেন না।।